আড্ডার ট্র্যাশি আলাপ

নাহ্ধসঢ়; বাড়ি যেতে হবে, আর বসা যাবে না, আমার সালমান খান রেগে বুম্বা হবে।

জানোতো মেয়েটাও হয়েছে বাবার মতো, আমি সামনে না থাকলে খেতেই চায় না।

ওহ্ধসঢ়; নো, শোনো ক.. বন্ধুদের সাথে যখন আড্ডা দিতে আসবে, তখন মেয়ে আর

মেয়ের বাবার চিন্তা বাসায় রেখে আসবে। আড্ডায় এসব শুনতে ভালো লাগে না।

আসি একটু রিফ্রেশ হওয়ার জন্য, না যতসব ট্র্যাশি কথাবার্তা..।

ট্র্যাশি কথাবার্তা মানে? হোয়াট ডু ইউ মিন খ..! ক’র চোখ দ্রুত ছোট হয়।

খ কেন ক্ষেপে এভাবে রিঅ্যাক্ট করলো সবাই না বুঝলেও গ বুঝতে পারলো। কারণ খ আর

তার সিচ্যুয়েশন একই রকম। নো বাবা, নো মেয়ে।

খুব জমে উঠেছিল আড্ডা। বুধবার ট যখন সবাইকে তার বাসায় শনিবারের আড্ডার

কথাটা জানালো হৈ হৈ করে উঠলো বন্ধুরা।

অ্যাই কে কে আসবে? কাকে কাকে বলেছো?

দেখাই যাক না কে কে আসে। বলেছি কয়েকজনকে।

ইচ্ছে করেই ট নামগুলো বলেনি। বললে সচরাচর যা হয় তাই হতো। এর নাম শুনলে ও

অনুপস্থিত, ওর নাম শুনলে এ অনুপস্থিত। কেউ পরচর্চা বেশি করে, কেউ পরনিন্দা।

পরচর্চা গ্রহণযোগ্য বাট নট পরনিন্দা। পরনিন্দা হলেই আসরটা বিষাক্ত হয়ে যায়,

গেঁয়ো হয়ে যায়। মনে হয় পঞ্চাশ বছর পেছনে চলে যাওয়া। আরও আছে, নিজেকে

বড় করে তোলার জন্য কেউ কেউ আবার…! রবিঠাকুর কি এরা পড়ে না! ..নিজেরে

করিতে গৌরব দান নিজেরে কেবলই করি অপমান…। আড্ডায় মন খুলে কথা বল ঠিক

আছে, তাই বলে মন খুলে পরনিন্দা! ওহ নো। বিষয়গুলো কিভাবে এড়ানো যায় আড্ডায়

আসার আগে যদি একটু হোমওয়ার্ক করে নেওয়া যায় তাহলে ফল খারাপ হবে না। এ

প্লাস পাওয়া যাবে! শিক্ষিত মানুষের আড্ডা বলে কথা !

একজন একজন করে সবাই মোটামুটি উপস্থিত হওয়ার পর বেশ চলছিল। ট্যাবু নিয়ে

আলোচনাটা বেশ উপভোগ্যই মনে হচ্ছিল সবার কাছে। নতুন কিছু শোনার জন্য

সবারই চোখের তারা একবার স্থির একবার চঞ্চল।

জানো তো, গ্রামে কিছু মাস্তান থাকে তারা একটা হট্টগোল বাধিঁয়েই

সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করে, লুটপাট করে, রেপ করে..।

অবজেকশন। কে বলেছে তোমাকে এই তথ্য?

অফিসিয়ালি এসব জানা যায় না, কিন্তু আমরা এসব জানি।

শোনো, কিছু কিছু সাংবাদিক আছে এসব বেশি বেশি করে লিখে ফায়দা নেয়,

গভমেন্টকে বিপদে ফেলার রাস্তা খোঁজে, আর কিছু রাইটার আছে যারা এসব

বিষয়কে পুঁজি করে লেখার কাটতি বাড়ায়। লুটপাটের কথা যে বললে, কি লুটপাট করে

মাস্তানরা? গরীব মানুষগুলোর বাড়িতে থাকেই বা কি! আর রেপের কথা যদি বলো,

মেয়েরা কেন রেপ প্রটেস্ট করার মতো মনোবল ও সাহস সঞ্চয় করে না? কেন শেখে না

এসব! শুধু শেখে নালিশ করতে!

না না তুমি এই কথাটা একদম ঠিক বললে না ম।

আমি একমত ম এর সাথে। ল বলে।

তোমরাই বলো পুরোনো কথা কতদিন চলবে? নতুন কিছু শেখ। প্রতিহত করার

কৌশল শেখ। তা না যত্তসব, আমার তো রাগ লাগে এসব শুনলে। মেয়েরা নিজেদের

মর্যাদা কী করে বাড়াতে হয় সেটাই শিখছে না। কেন দূর্ঘটনাগুলো ঘটছে,

কোন পরিস্থিতির ওপর ঘটছে এসব নিয়ে ভাবতে হবে। দূর্ঘটনাগুলো কী করে

এড়ানো যায় সে সব বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। রেপ হলে মানববন্ধন করলেই

চলবে? সমাজটা কোন অবস্থানে আছে সেগুলো বিবেচনায় আনতে হবে।

দূর্ঘটনা কোন দেশে ঘটে না শুনি?

শোনো ম ঢাকা শহরে বসে এসব লেকচার মানায়। আমার পোস্টিং যখন মাদারিপুরে ছিল তখন ভয়ানক ভয়ানক রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। ভয়ানক রিপোর্ট তো পেয়েছো, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর কোনো

রিপোর্ট কি তোমার কাছে আছে শুনি?

অ্যাই চল চল খাবার রেডি। ট শোয়া বসা সবাইকে ঠেলে ওঠায়। আড্ডাটা জমেছিল

ট এর রিডিংরুমে। কেউ একফালি বিছানাটায় শুয়েছিল, কেউ চেয়ারে বসা। ম শুয়ে

শুয়েই গলা ফাটাচ্ছিল। উঠে বসার পর টের পেল গলার রগে টান ধরেছে।

খাওয়া দাওয়া হয়ে গেলে ফটোসেশন চললো বেশ। এ ওর গলা জড়িয়ে ধরলো, কোমর

জড়িয়ে ধরলো, চামচে করে খাইয়ে দেওয়ারও ছবি তুললো। এখান থেকে বাছাই করে

ফেসবুকে চলে যাবে সব। ছবি রাখার ওটাই হলো এখন আসল জায়গা। সেই ছবি

দেখে যাদের বলা হয়নি তারা রাগে কড়কড় করবে, দুএকটা চুলও ছিঁড়তে পারে। যাতা

কথা বলে স্ট্যাটাস দিবে; চাইকি মনে মনে শত্রুও তৈরি হয়ে যাবে। আর যারা সাদা

চোখে দেখবে তারা টেবিলে খাবারের ছবি দেখে ন্যাকা ন্যাকা কথা লিখবে যেন

ওসব খাবার জীবনে খায় নাই! ওমা, মোরগ পোলাও!

ট্র্যাশি শব্দটা শোনার পর’ই ক’র মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে বুঝতে পেরে ট

তাড়াতাড়ি বলে, অ্যাই গ, গান গাওতো, এসব ভালো লাগছে না আর।

এসো শ্যামল সুন্দর আনো তব তাপহারা…। দ্বিতীয়বার বলার আগেই গ গান ধরে, তার

সাথে যোগ দেয় ল। এরপর সবাই।

পুরো পরিবেশটাই রিনিরিনি হয়ে যায়।

যাই বল রবীন্দ্র সঙ্গীতের ব্যাপারই আলাদা।

কেন, নজরুলের গানের ব্যাপার আলাদা নয় কেন? ক বলে।

প মুখ খোলার আগেই গ বলে ওঠে, আচ্ছা নার্গিসের সাথে নজরুলের পুরো বিষয়টা

কেউ জানো নাকি, একটু বলবে। আমি ইদানিং নজরুল সম্পর্কে একটু আগ্রহী হয়ে উঠেছি।

এতদিন কোথায় ছিলেন.. ইদানিং কেন আগ্রহী হলেন ম্যাডাম? কোথায় এখন

লাইভ প্রেমের গপ্প শুনবো, তা না, এতদিন পর নজরুলের প্রেম নিয়ে…। বই ঘাটো,

ইন্টারনেট সার্চ দাও।

তুমি করছো নাকি নতুন প্রেম..!

চাচ্ছি তো.. হচ্ছে কই। হা হা হা।

সবাই একসাথে হেসে উঠলে গোলাপের পাপড়িতে ছেয়ে যায় ঘর বিছানা।

জানোতো আমার অফিসের এক ছেলে খুব পিছে লেগেছে।

ওহ হো, তা তুমি যে বিবাহিত সে জানে না?

খুব জানে, সেও বিবাহিত।

তাহলে আর কি, নতুন কিছু লেখার জন্য শুরু করে দাও। শুধুই প্রেম..। তুমি তো আবার কবি!

আচ্ছা কবিরা যা লিখে তা কি তারা বিশ্বাস করে? অনেষ্টলি বলবে।

আর যারা গল্প লিখে?

ঐ একই, সব বানিয়ে বানিয়ে কাহিনী ফাঁদা। হা হা হা।

না না আমার আর বসা চলবে না। উঠতে হবে। তোমরা আড্ডা দাও। আমি উঠি।

কসহ আরও তিনজন একসাথে বের হয়। খ, গ, ল এতক্ষণ চেয়ারে বসা ছিল, জায়গা খালি হলে এবারে বিছানায় উঠেই গেয়ে ওঠে… বুলবুলি নিরব নার্গিস বনে…।

আনোয়ারা আজাদ

 

 

Author: আনোয়ারা আজাদ

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment