আতেলেকচ্যুয়াল

যাচ্ছ কোথায়?

বহুদূর…….।

কি কাজে?

এমনি ঘুরে বেড়াচ্ছি।

ভালো লাগে না !

আমিও তোমার মতোন।

চল এক সাথে-কেমন?

Okay-fine.

(সময়: নাইনটিন সিক্সটি-নাইন)

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরী।

কি ব্যস্ততা!

শীতের রাতে-আমাদের বাড়ির খোলা জায়গাটায়। ওহ! কি Panoramic viwe চারদিকে।

সবশেষ!….মানুষের জন্য।

অল স্টুডেন্ট-ইস্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি….।

সেদিন তুমি ছোট্টবেলাকার এক গল্প শুনিয়েছিলে।

ক্লাসিক টাইপের।

‘আব্বুর পোস্টিং ঢাকার বাইরে এক মফঃস্বল শহরে। বড় মামা ঢাকা থেকে বেড়াতে এসেছে।

সাথে করে এনেছে আমাদের জন্য ক্রিকেট খেলার সবকিছু- একসেট আরও রয়েছে নানা

বাড়ির তৈরি শীতের পিঠা, মুড়ি-মোয়া- নাড়ু– আর মজাদার খানা হাসের মাংস।

-কনকনে শীতের রাতে সকলে মেঝেতে পাতা বিছানায় কেহ পা দু’খানা লেপের ভেতর কেহ বা

উলেন-চাদর গায়ে জড়িয়ে আর ছোট মনিরা পুলওভার সোয়েটার। মধ্যখানে বিছানার

খানিকটায় নানা পদের খাবার। যে যার পছন্দ মতোন করে খাও। কেরোসিনের স্টোভ শোঁ শোঁ

করে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। গরম-গরম চা।

আমি ট্রে’ তে চা এর কাপ সাজিয়ে এক এক করে সবাইর কাছে নিয়ে একটু ফান করে বলছিলাম।

‘চা গরেম। এ্যা-ঈ চা গরেম। আমার বড় বোন আমাকে ক্ষেপানোর জন্য টিজ করে বলেছিল….

‘ইস ইস্টিশনের চা’ওয়ালারে। ও’র এ’কথাটি শুনে আমার ভীষণ জেদ উঠেছিল। ঝগড়ার মত….।।

বড় মামা দু’জনকে বুঝিয়ে থামিয়ে দিলেন। বলেন- দেখ রেলস্টেশনে কত হকার কত কিছু

বিক্রয় করে সংসার এর খরচ চালাচ্ছে, কিশোর তরুণ বয়সে। আমাদের কর্তব্য ঐ সকল

ফ্যামিলির লিস্ট তৈরি করে আয় রুজির ব্যবস্থা করে দেয়া এবং ঐ সব কিশোর তরুণদের ইস্কুলে

পাঠান নিয়মিত করা। যেন কোন কালেই ইস্কুল ড্রপ না হয়।

আচ্ছা মামা, শীতের রাতে কুকুর একটানা ঘেউ ঘেউ কেন করে?

এতে করে ও’র শরীর এর তাপ বাড়ে ফলে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পায়।

বুঝি না…..

ক্ষণে ক্ষণে ঘেউ ঘেউ করে ডাকলে ও’র সারা দেহ ঝুঁকুনি মানে কম্পনের সৃষ্টি হতে থাকে

আর কোন কিছু কম্পন মানেইতো উত্তাপ বৃদ্ধি পাওয়া। বুঝেছো এবার কিøয়ার?

বড়’রাও অনেকে এটা জানে না…..

খালি গল্প আর গল্প।

কেহ তোমার কথা শুনছে না!

হঠাৎ করে তোমার খেয়াল হ’ল।

‘আমি কাল রাতে স্বপ্ন দেখেছি একটি।’

বড় মামা শুনেন….এই মামা শুনেন না।

হ্যাঁ মামা এবার তোমারটি অবশ্যই শুনব আমরা সকলে।

বলি তা হলে। বলবো? বলবো?

না থাক।

লজ্জা পাচ্ছো? এখানে তো’ আমরা নিজেরাই।

বলি তা’হলে মামা মামা কাল রাতে আমি না স্বপ্নে দেখি কি

গরুর গাড়িতে করে খড় নিয়ে যাচ্ছে।

খড় কি! খড় না হয় নাড়া বলবে।

(সবাইর হলাবোল….)

যাক গে’ ভাল দেখেছে-সুন্দর।

মামা ও’ ছোট্টবেলা নাসপাতিকে সেনাপতি বলতো। আর তেজপাতাকে বলতো…. থাক ওটা

বলা যাবে না।

ওকে ক্ষেপিও না।

আচ্ছা তোমাদের ওপাশে সিরাজগঞ্জের দা’দুরা কি আছে?

হ্যাঁ আছে এখনও। ওরা ভাল।

দাদু মাসে ২বার সিরাজগঞ্জ দেশের বাড়ি হতে শাড়ি-লুঙ্গি চাদর নিয়ে আসে। সব বিক্রি

হয়ে যায়। দাদু খুউব ভাল মানুষ ইয়া উচা। লম্বা লম্বা পা ফেলে চলে….। গায়ে যা শক্তি! এ

বয়সেও কাপড়ের গাইট কাঁধে করে রেলস্টেশন থেকে পায়ে হেঁটে চলে আসে রকিবদের বাসায়।

মুলি বাঁশের বেড়া দিয়ে পার্টিশন। ওদের অনেক কথা আমরা শুনতে পাই আবার আমাদেরটাও

ওরা….।

শীতের দিনগুলোতে রকিবরা বাইরে রান্না করে লাকড়ির চুলায়।

ও’র বড় বোন পিড়ি আর বেলন দিয়ে রুটি বেলে দিচ্ছে আর আম্মু তাওয়ায় সেঁকছে।

সকালের নাস্তা তৈরি হওয়ার পর বড়বোন বলে। রকিব, এবার দাদুকে ডাক।”

রকিব এভাবে ডাকছিল একদিন

‘দাদা ভাই য়্যু

নাস্তা খাইয়া যা ইয়্যু….”

আমরা সকলে শুনে যা মজা করছিলাম না। ও’পাশে রকিব আমাদের হাসি ঠাট্টা শুনে রেগে

মেগে বলে।

“এ্যাম-মু (আম্মু) ওরা এমন করে কেন!!”

আমি ভাঙ্গাবেড়া আর একটু ফাক করে বলি কি

রকিব বড় হয়ে তুমি না’ নামকরা এক ছড়াকার হবে।

ওর দাদু আমাদের কথা শুনে বলেছিল “ তোমাদের মুখে ফুল চন্দন পড়ুক।”

আরও বলেছিল এসো সবাই মিলে দেশের পিঠা খাই।”

গল্প শেষ।

এখন 3rd April ১৯৭১ সেই নদীর পাড় যাবেন কি? ….‘দুই ধার উঁচু তার ঢালু তার পাড়ি….’।

হ্যাঁ মনে পড়ে সেসব ছিপ নৌকায় পাব হয়েছিলাম। ও’র প্রায় অর্ধেকটাই ডাঙ্গায়

উঠে গিয়েছিল। চিক চিক করে বালু কোথাও নেই কাদা’ আর কাজল নদীর স্বচ্ছ-টলটলে

জলে টাটকীনি মাছের ঝাক দেখেছিলাম। কিছুটা এগিয়ে সারি সারি শিমুল গাছ

ফুটে ছিল লাল ফুল।

আমার প্রায়ই মনে পড়ে সেই বড় ভাই এর কথা। ‘রাত জেগে জেগে চাকুরি।’ লিডার,

ওনাকে কখনো জুতো পরতে দেখিনি। পাঁচ সিকা দামের টায়ারের স্যান্ডেল। হাতে স্টার

সিগারেট। পুড়তে পুড়তে প্রায় শেষ তবুও ফেলে না। যার জন্য ডান হাতের দু’টো আঙ্গুল

বাদামী রং হয়ে গেছে। এ নেচারের বাম-ঘেঁষা রাজনীতিকগণ বৌকে খালি বলে “তুমি

কি বুঝ! কি বুঝ কি বুঝ চুপ কর। (ধমকের সুরে)!!

সেকালে আমরা একটু দুরে দুরে থাকতাম বড়’রা যখন কথা বলতো।

বড় ভাই বলেন, যেও না শহরে।

বাড়ি ফিরে যাও এ সময় ঘরের বাইরে না যাওয়াটাই সঠিক।

উনি একটা হাসির কথা বলে ছিলেন “জেনারেল ইয়াহিয়া গ্রেট Warrior।”

কি স্টুপিডের মতো বলছেন??

বাঙালি তার ন্যায্য পাওনা ও স্বাধিকার আদায়ের জন্য লড়ে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু দ্য গ্রেট লীডার এর বজ্রকন্ঠ। ‘এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

আমাদেরটা ছিল ন্যায়ের যুদ্ধ।

ইয়াহিয়া রাতের আঁধারে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর কাপুরুষের মত

ও কিসের Warrior ইয়াহিয়া এক সিপাহী। জানোয়ার।

মর্টার সেল মাইরা ঢাকা তামা কইরা ফালাইছে।

ভাল তামা ও mean copper এটা Valuable metal আমাদের বাহির থেকে আমদানি করতে হয়

প্রচুর Foreign exchange প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

আমাদের তরুণদের কথা শুনে উনি ক্ষেপে গিয়ে বলেন,

বেয়াদব। কারা ওরা!

আপনি না’ বাম রাজনীতি করতেন….??

বাদ দাও

সে এক কিছিমের আতেলেকচ্যুয়াল।।

আজ পর্যন্ত ও’র মুখে ভাল কিছুর প্রশংসা শুনি নাই।।

Author: কাজী হেদায়েতুল ইসলাম

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts