আমরা শোকাহত

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামা গতকাল রাতে কাতারের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্নালিল্লাহে রাজেউন।

যুদ্ধাপরাধী কসাই কাদের মোল্লার যুদ্ধাপরাধ মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী ছিলেন, শহীদুল হক মামা। চরম হুমকি ও প্রলোভনের মুখেও অনড় থেকে কাদের মোল্লার মিথ্যাচার ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপনের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে আদালতে হাজির হন তিনি।কাদের মোল্লা যখন নিজেকে প্রকৃত কাদের মোল্লা না, এবং নির্দোষ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টায় প্রায় সফল হচ্ছিল, ঠিক তখনই শহীদ মামা দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হয়ে তাকে কুখ্যাত গোলাম আযমের সহচর, কবি মেহেরুন্নেসা, তার মা ও দুই ভাইকে ২৭ মার্চ , ১৯৭১ সালে সহযোগী হাসিব হাশমী,আব্বাস চেয়ারম্যান, আখতার গুন্ডা, নেহাল ও প্রমুখদের নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা ও টুকরো টুকরো করার কসাই হিসেবে সনাক্ত করেন।

স্বাধীনতার শত্রু বিহারিদের দখলে থাকা দুর্ভেদ্য ঘাঁটি মিরপুরের মুক্তিযুদ্ধে তিনি অসামান্য ভূমিকা রাখেন ৩১ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে। মিরপুর-মোহাম্মদপুরকে শত্রুমুক্ত করতে, শহীদুল হক মামার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল দুর্ধর্ষ গেরিলা গ্রুপ ‘মামা বাহিনী’। হানাদার-বিহারীদের আতঙ্ক এই ‘মামা বাহিনী’র কমান্ডার শহীদুল হক মামা রায়েরবাজার থেকে উদ্ধার করেছিলেন বাজারের ব্যাগভর্তি মানুষের চোখ।

জীবনের প্রতিটি পদে পদে বহু ভয়াবহ হুমকি, আক্রমণ ও প্রলোভনের মুখেও তিনি ছিলেন অকুতোভয় ও নির্ভীক । মাথা নত করেননি কোন প্রলোভনের কাছে। সৎ, নির্মোহ ও পরীক্ষিত আদর্শের এই লড়াকু সৈনিক । অতুলনীয় অতিথিপরায়ণ, সদালাপী, বিনয়ী, বন্ধুবৎসল, নিরহংকার, পরোপকারী মহানুভব মানুষ শহীদুল হক মামার মতো আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের নজির সমাজে তুলনাহীন।

রক্তবীজ  পপরেবারের পক্ষ থেকে পরম করুণাময়ের কাছে তাঁর আত্মার চিরশান্তি প্রার্থনা করছি। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এই তীব্র শোকের মুহূর্তে আমরা তাঁদের পাশে আছি।

 

একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীত গবেষক ড. করুণাময় গোস্বামী মারা গেছেন।

একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীত গবেষক ড. করুণাময় গোস্বামী
একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীত গবেষক ড. করুণাময় গোস্বামী


শুক্রবার রাত পৌনে ১২টায় বারিধারা ডিওএইচএসে নিজের বাসায় তাঁর মৃত্যৃ হয়।

তিনি বৃহস্পতিবার থেকে জ্বরে ভুগছিলেন।

করুণাময় গোস্বামীর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তার মরদেহ শমরিতা হাসপাতালের হিমঘরে রাখা আছে।

আমেরিকা ও কানাডাপ্রবাসী দুই সন্তান ফিরলে তার শেষকৃত্য হবে।

১৯৪২ সালের ১১ মার্চ জন্ম নেওয়া করুণাময় গোস্বামী বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘সংগীত কোষ’র রচয়িতা। সঙ্গীত নিয়ে তার অনেকগুলো বই রয়েছে তাঁর।

মাত্র একমাস আগে ড করুণাময় গোস্বামী‌র লেকা বৃহদাতয়ন বই ‘লা‌হো‌রের র‌হিম খের’ এর প্রকাশনা অনুষ্ঠা‌ন হয় বাংলা একাডেমীতে।  অসাধারণ বাগ্মী ছি‌লেন তি‌নি! কথা বলার সময় মৃদু হা‌সি‌তে উদ্ভা‌সিত থাকতো তাঁর মুখ। একটানা ব‌লে যে‌তেন সুর‌চিত সু‌বিন্যস্ত কথা। সে‌দিন বর্ণনা‌ কর‌ছি‌লেন উপন্যাস‌টি র‌চিত হওয়ার প্রেক্ষাপট ও সং‌শ্লিষ্ট গ‌বেষণার কথা! জীব‌নের প্র‌তি‌টি মুহূর্ত‌কে তি‌নি ব্যয় ক‌রেছেন মনন চর্চায় আর সৃজনশীলতায়। উপমহা‌দেশের অন্যতম সংগীত গ‌বেষক ও বি‌শ্লেষক, গ‌বেষক, প্রাব‌ন্ধিক, ঔপন্যা‌সিক ড. করুণাময় গোস্বামীর এই আক‌স্মিক প্রয়াণ বাংলা‌দেশের শিল্প সা‌হি‌ত্যের জগ‌তে একটা বিরাট শূন্যতা সৃ‌ষ্টি ক‌রে দিল।

রক্তবীজ পরিবারের পক্ষ থেকে এই জ্ঞানবান গুণবান প্র‌তিভাবান মানুষ‌টির বি‌দেহী আত্মার চিরশা‌ন্তি কামনা ক‌রছি।

 

প্রধানমন্ত্রীর শোক

সঙ্গীত গবেষক করুণাময় গোস্বামীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক শোকবার্তায় তিনি শিল্প, সাহিত্য ও সংগীতে করুণাময় গোস্বামীর অবদানের কথা স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

 

 

মারা গেছেন ভাষাসৈনিক মুক্তিযোদ্ধা কে এফ ‍সুফিয়া বেগম বুলবুল

দুই বোন আর নিকটাত্মীয়দের সাথে নেপালে বেড়াতে গিয়ে ২৭ জুন শেষরাতে আকস্মিকভাবে ঘুমের মধ্যে মারা যান  কে এফ সুফিযা বেগম বুলবুল ( ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্নালিল্লাহে রাজেউন।। তিনি মহান ভাষা আন্দোলনের একজন সৈনিক,  মুক্তিযোদ্ধা ও একজন অবসরপ্রাপ্ত পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। অসম্ভব রকম মানবদরদী এই মানুষটি সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তাই কর্মক্ষেত্র, জন্মস্থান, শ্বশুরালয়সহ সর্বস্তরের জনগণের কাছে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তাঁর এই অকালমুত্যুতে জন্মস্থান নড়াইল, শ্বশুরালয় টাঙ্গইলসহ সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে ।

 

সুফিয়া বেগম বুলবুল তেভাগা আন্দোলনের আইন পরামর্শক, ভাষা আন্দোলনে নড়াইল মহকুম সর্বদলীয় ভাষা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ভাষাসৈনিক এবং বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিক এডভোকেট অাফসার উদ্দীন আহমেদ ও বেগম মতিয়া আহমেদের জ্যেষ্ঠ সন্তান। একা্ত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত শহীদ এস বি এম মিজানুর রহমান এবং রক্তবীজ ওয়েব পোর্টালের সম্পাদক প্রকাশক লেখক আফরোজা পারভীনের বড়বোন।

মৃত্যুকালে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত দুই পুত্র, দুই পুত্র বধু, চার নাতি, চার ভাইবোন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রক্তবীজ পরিবারের পক্ষ থেকে এই মানবদরদী মানুষটির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন  করছি ও তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।  

 

Author: রক্তবীজ ডেস্ক

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment