আমার আমি -১

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

০১ জানুয়ারি ১৯৮০ ইং, মঙ্গলবার আমার জন্ম। তিন বোনের পরে চতুর্থ সন্তান হিসেবে আমি আমার মায়ের কোল আলোকিত করি। আলোকিত করি বলছি  এই জন্য যে,  আমার চাচিদের ধারনা ছিল এবারও কন্যা সন্তান হবে।আমার মা খুব মন খারাপ করতেন, হয়ত কাঁদতেনও । তো একদিন রাতে মা স্বপ্নে দেখলেন আমার দাদ, মাকে বলছেন, আমি আসছি তোমার ঘরে। আর সত্যি যখন আমি দুনিয়াতে আসলাম মায়ের মন নিশ্চয়ই খুশিতে ভরে উঠেছিল কারণ ছেলে সন্তান বলে কথা। অপরিসীম আদরের সন্তান আমি তাই  আমার নাকটা একটু বেশি বড় । মার কাছে শুনেছি, সবাই এত চুমা দিত আর নাক ঘষতো তাই আমার নাকটা মোটা হয়ে গেছে। আমাদের বাড়িতে বেবী নামে এক ভাগনি থাকতো সেই আমাকে দেখাশুনা করতো তার নাকটাও নাকি মোটা ছিল। সবার ধারণা আমার নাক মোটার কারণ সঙ্গদোষও হতে পারে। নাক মোটা নিয়ে আমারও মন খারাপ হত কিন্তু আমার বড় আপার শ্বশুর একদিন আমাকে বললন, ‘পুত্রা তুমি কি জান তুমি অনেক সুন্দর একটা বউ পাবে’। আমি কারণ জানতে চাইলে উনি বললন, ‘তোমার নাক মোটা তো তাই।’ তো মোটা নাক নিয়ে আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম । অপেক্ষা অনেক কঠিন তবে মধুর আর আমার অপেক্ষা সত্যিই দারণন। মুরব্বিদের কথা সত্যি হয় আমিই তার প্রমাণ। অতি আদরের সন্তান আমি তাই ভালকিছু রান্না হলে আমার ভাগে সব সময়ই বেশি পড়ত যেটা অন্য ভাইবোনদের ঈর্ষার কারণ হয়ত হতে পারত কিন্তু তারা সেটা সাদরেই গ্রহণ করতো। বাড়িতে পিঠাপুলির উৎসবের উদ্বোধন আমিই করতাম। পাঁচ ভাইবোন একই খাটে ঘুমাতাম এবং গরমের দিনে পালাক্রমে সবাই মিলে একে অন্যকে বাতাস করতাম।

আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, আমি কোন বিখ্যাত ব্যক্তি নই তবুও কেন আমার জীবনী লিখছি। এর একটাই কারণ । প্রত্যেক মানুষের জীবনের গল্প থাকে সেটা সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার । আমি হয়ত এর কোনটার মধ্যে পড়ি না তবু আমার নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা লিখে রাখতে চাই। পাঠক যদি কাউকে না পাই তো মাঝে মাঝে নিজেই পাঠক হয়ে আমার আমিতে ডুব দিব । হয়ত অবসরে সময় কাটানোর একটা উপলক্ষও পেয়ে গেলাম। আমি অনেককেই দেখেছি পুরাতন পেপার পড়তে। আমার কাছে যেটা পুরান তার কাছে হয়ত সেটা নতুন এবং সে আজকেই জানতে পারলো যে পদ্মা সেতুর ৫০ ভাগ কাজ শেষ। তাই পড়াটা দোষের কিছু নয় বরং শেখার। আমার জীবনী পড়ে যদি কেউ আমাকে জানতে পারে বা নিজের জীবনী লিখতে বসে সেটাও হতে পারে আমার সার্থকতা।

(চলবে)

ফিরোজ শ্রাবন​
ফিরোজ শ্রাবন

 

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment