আমার মা

ঝিরিঝিরি করে লাউ কুটতো মা

ভারি সুন্দর করে

চুড়ি গুলি তাঁর বাজতো তখন

রিনিরিনি মিঠে সুরে ।

কান পেতে আমি শুনতাম আর

শুনতাম সেই সুর

মনে হোতো যেন বাজতো সেতার

একটানা সুমধুর ।

স্নান সমাপন হয়ে যেতো

মার সূর্যোদয়ের ভোরে

ছোটো এক পিঁড়ি পেতে বসতেন

ভেজা কুন্তল ছেড়ে।

লাল টুকটুকে শাড়ির পাড়টি

আধো ঘোমটায় ঢাকা

সূর্যোদয়ের মতোই থাকতো

সিঁদুর টিপটি আঁকা।

ভোরের আলোর সুর্যকিরণ

খেলতো শরীর বাঁকে

ভারি সুন্দর, ভারি অপরূপ

লাগতো আমার মাকে।।

চোখ বুজলেই আমি সেই ছবিখানি

দেখি যেন বারবার-

মার চুড়িগুলি রিনিরিনিরিনি

তোলে মধু ঝংকার।

আজ শুধু ভাবি ওই হাত দুটি

বাজাতো যদি বা সেতার

বাজাতো বেহাগ, ভীমপলশ্রী,

কি মেঘমল্লার।

ওই দুটি হাতে স্বামী, সংসার

সামলে গেছেন তিনি

দশভূজারুপে আমি যে আমার

দ্বিভূজা মাকেই চিনি।

জন্মান্তর বলে যদি কিছু থাকে

তবে মোর সাধ বড়ো

আর জন্মে মা সেতার শিল্পী

রুপেই নিজেকে গোড়ো।

অনুপা দেওয়ানজী

Author: অনুপা দেওয়ানজী

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts