কালরাতের বিভীষিকা ও স্বাধীনতা

কালরাতের বিভীষিকা ও স্বাধীনতা অনুপা দেওয়ানজী

১৯৭১ এর ২৫শে মার্চ বা কালরাত্রি যাকে এখন গণহত্যা দিবস বলে আমরা জানি সেদিন আমি স্বামীর সাথে চট্টগ্রাম থেকে রাতের মেলে সিলেট যাবো বলে সব কিছু গুছিয়ে নিয়েছি। বিকেলে বাবা বললেন,

তোরা তো যেতে পারবি না রেল লাইন উপড়ে ফেলা হয়েছে।
অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়ে ভাবছিলাম কি করবো।

আর সে রাতেই শুরু হল‘ অপারেশন সার্চ লাইটের’ নামে গণহত্যা।ঠিক মধ্যরাতে কামানের বিকট গর্জনে কেঁপে উঠলো ঢাকা শহর ।বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক, নিরীহ ছাত্র, পুলিশ, পবিত্র শহীদ মিনার , জনতা কেউ তাদের হাত থেকে সেদিন রেহাই পায়নি।
গুলির শব্দে, কুকুরের চিৎকারে, মানুষের আর্তনাদে সে এক নারকীয় দৃশ্।

আজ থেকে ৪৭ বছর আগের কথা।  
এই স্মৃতিচারণ করার মতো মানুষ এখন কমে আসছে। যারা আছেন তাঁদের মধ্যে আমিও একজন।

৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পরে সবাই তখন দেশের পরিস্থিতি নিয়ে হাটে, মাঠে, বাটে সারাক্ষ ণশুধু একটাই আলোচনা সবার মুখে মুখে।
পাকিস্তান একটা দাঁতভাঙ্গা জবাব পাবেই।
সবার ঘরে ঘরে তখন বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে।রেডিওতে সারাক্ষণ দেশের গান।
কারও মনে আসেনি যে পাকিস্তান অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা করছিলো।

পরদিন যে যেভাবে পারে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যে বাড়ি ঘর ফেলে ছুটছে।

২৭শে মার্চ মেজর জিয়া কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বঙ্গবন্ধুর পক্ষে পাঠ করলেন।
পরিস্থিতি ক্রমে  আরো ভয়ংকর হয়ে উঠলো। আর সেই ভয়ংকর পরিস্থিতির ভিতরেই শুরু হোল মুক্তিযুদ্ধ।
যে ইতিহাস হচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।
দীর্ঘ নয়মাসের এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পরে আমরা পেলাম স্বাধীনতা।

জয়তু স্বাধীনতা দিবস।
জয় বাংলা

অনুপা দেওয়ানজী
অনুপা দেওয়ানজী

 

Author: অনুপা দেওয়ানজী

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts