ক্যাপ্টেন

ফিরে এসো এই অন্তরে, ফিরে এসো এই বন্দরে। আমি বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের অধিনায়ককে বলছি। ক্রিকেই খেলা বোঝেনা এমন মানুষ বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া  মুস্কিল । যেখানে বাংলাদেশ যখন কোন ম্যাচ জিতে যায় তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানায়, সেখানে সাধারণ মানুষের আবেগের কথা নাই বা বললাম। আর ক্যাপ্টেন যদি হয় মাশরাফি তখন আবেগ যেন আরো একটু বেশি উথলে ওঠে।  অনেকেই তাঁকে আবার ভালবেসে ‘পাগলা’ বলে ডাকে। তার ‘ধরে দিবানি’ ডায়লড-টা লোক মুখে চাউর। আজকে মুস্তাফিজকে  দেখে যারা অবাক তারা অনেকেই হয়ত জানেন না যে, বাংলাদেশে এক নতুন বোলার এর অভিষেক হয়েছে। কি দুর্দান্ত তার বলের গতি! তার নাম ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। এই নড়াইল এক্সপ্রেসের বোলিং যেন পাকিস্তানের শোয়েব আকতার এর প্রতিচ্ছবি।

চৌধূরী জাফর উল্লাহ সরাফত এর ভাষায় বলতে হয়, ‘নয়নাভিরাম বোলিং, চোখ চেয়ে দেখার মত বোলিং করছেন ওই মাশরাফি বিন মর্তুজা।’ এমন গতির বোলিং বাংলাদেশের হয়ে তাঁর পূর্বে কেউ করেছে বলে আমার জানা নেই। আগমন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটে যত অগ্রগতি হয়েছে তার কালের সাক্ষী এই মাশরাফি বিন মর্তুজা। দলে থেকে  অথবা ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থেকেও সে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন জয়ের স্বাদ নিতে ভুলতে বসেছে তখন দ্বিতীয় এবং হয়ত ব্যক্তিগত শেষবারের মত দলের দায়িত্ব নিলেন আজকের বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন। শেষবারের মত কেন বলছি? কারণ ইতোমধ্যে তিনি টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষনা দিয়েছেন। এখন রইল বাকি শুধু একদিনের ক্রিকেটের অধিনায়কত্ব।

ব্যক্তিগতভাবে জাতীয় দলে ক্রিকেট খেলে অনেকেই অনেক লাভবান এবং সন্মানিত হয়েছেন। কিন্তু আমাদের মাশরাফিকে এখনও ব্যক্তিগত বাড়ি করার টাকার জোগাড় নিয়ে ভাবতে হয়। তাঁর এই ভাবনাকে যদি জাতীয় ভাবনা হিসেবে ধরা হয়, তো জাতি হিসেবে আমাদের কিছুটা দায়মুক্তি হয় কিনা তা আমি দেশরত্ন, জননেত্রী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয়ে জানতে চাই। আমি দ্ব্যর্থহীন ভাবে বলতে চাই, নিজের পায়ের কথা না ভেবে ভবিষ্যতে পঙ্গুত্বকে বরন করার সম্ভাবনা  সত্ত্বেও দেশের কথা ভেবে সে জীবন বাজি রেখে ফিল্ডিং , বোলিং করে যাচ্ছে। দলকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিণত করছে। ওকে কি দেশপ্রেমিক হিসেবে আমারা স্যালুট দিতে পারি না? আমরা কি পারি না তাঁর মত করে দেশকে ভালবাসতে?

নাকি সময়ের অতল গহিনে সেও একদিন হারিয়ে যাবে ! সময় বড় কঠিন বাস্তব। এই সময় এমন, যে চেয়ারে বসে একজন কেরানী সারা জীবন পার করল আজ পেনশন এর টাকার জন্য সেই চেয়ারের মালিকের কাছে তাকে প্রতিনিয়ত তাকে ধরনা দিতে হচ্ছে। মাশরাফিকে নিয়ে যারা কবিতা, গান, খবর তৈরি করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, দয়া করে আমাদের মাশরাফির আঙিনা  ছেড়ে যাবেন না। তার দেশ্রপমকে খবরের কাগজে না লিখে মনের খাতায় লিখে রাখবেন । তাহলেই আমাদের মাশরাফি সার্থক হবে। আর মাশরাফিকে বলি, প্রতিনিয়ত ”ফিরে এসো এই অন্তরে ফিরে এসো এই বন্দরে।”

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts