ক্লিওপেট্রা এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ক্লিওপেট্রা পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন মাত্র ৩৯ বছর। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় তাঁর মত আলোড়ন আর জন তুলতে পেরেছে? তিনি একাই ইতিহাস কাঁপিয়েছেন। তাঁর নামের সঙ্গে মিশে আছে সৌন্দর্য, মোহনীয়তা, ক্ষমতা আর উচ্চাভিলাস। এবার আসুন সংক্ষেপে জানা যাক তাঁর জীবন কাহিনী।মহাবীর আলেকজান্দার মিসর জয় করার পর নাম রাখেন আলেকজান্দ্রিয়া। টলেমিক বংশ নগর শাসন শুরু করেন। বংশের ইরিয়াকের কন্যা ক্লিওপেট্রা যিনি পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নারী শাসক। ইরিয়াকের মৃত্যুর পর রাজ্যের ভার পড়ে ক্লিওপেট্রার উপর। তৎকালিন মিশরীয় রীতি অনুযায়ী ক্লিওপেট্রার একজন সঙ্গী থাকা বাধ্যতা মূলক। রাজ রক্ত রক্ষায় ১৮বছর বয়সী ক্লিওপেট্রা বিয়ে করেন ১২ বছর বয়সী আপন ছোট ভাই টলেমিকে। ক্লিওপেট্রা তাঁর স্বামী ছোটভাই টলেমি যৌথ ভাবে মিসরের দায়িত্ব পেলেও সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন ক্লিওপেট্রা।রাজ্য শত্রু ফারসালুসের সাথে যুদ্ধে ক্লিওপেট্রার সেনাপতি পম্পে পরাজিত নিহত হন। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালাতে গিয়ে নিহত হন ক্লিওপেট্রার স্বামী ভাই টলেমি। ক্ষমতার পেয়ালা পুরোটা হাতে এসে যায় ক্লিওপেট্রার। তাঁর জীবনে আসতে থাকে নব নব কাহিনী।ক্লিওপেট্রার বুদ্ধিমত্তা আর সৌন্দর্যের মিথ শুনে তাঁর দরবারে হাজির হন রোমান বীর মার্ক এ্যান্টনি। প্রেমের আগুনে পুড়ছেন তখন দুজনই। ক্লিওপেট্রা শুধু প্রেমই পেলেন না, পেলেন রাজ্য রক্ষায় এক পরাক্রমশালী বীরের সমর্থন। অ্যান্টনি ছিলেন বিবাহিত। তার স্ত্রী ফুলবিয়ার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে এবং রোমে গৃহযুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। ফিরে যান মার্ক অ্যান্টনি রোমে। এরপর গল্পে আরো ভিন্নমাত্রা যোগ হয়।ক্লিওপেট্রার জীবনে আবির্ভাব ঘটে মধ্যবয়সী আরেকজনের। যিনি সম সাময়িক কালের খ্যাতিমান বীর জুলিয়াস সিজার। নিজ ক্ষমতা রাজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য ক্লিওপেট্রা সিজারকে আঁকড়ে ধরেন। কিন্তু তাতেও ক্লিওপে্ট্রার শেষ রক্ষা হয়নি। দুঃসময়ে ছেড়ে চলে যান জুলিয়াস সিজার। ওদিকে মার্ক অ্যান্টনিও অসহায় হয়ে আত্মহত্যা করেন। রাজ্য ক্ষমতা রক্ষার সব আশা শেষ হয়ে যায়। হতাশায় মুষড়ে পড়েন ক্লিওপেট্রা। মৃ্ত্যুকে বেছে নেন তিনি। ঐতিহাসিকদের মতে বিষধর সাপের দংশন খেয়ে আত্মহত্যা করেন ক্লিওপেট্রা। ক্লিওপেট্রা, তাঁর প্রেম শাসন পদ্ধতি সবই ছিল রহস্যময়। তাঁকে নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই আজও

Author: মধুছন্দা

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment