খনার বচন সহজে চেনার উপায়

Khonar Bochon খনার বচন

আজ থেকে ১৫০০ বছর পূর্বে জন্ম নেওয়া ইতিহাসের এককিংবদন্তি খনা বা ক্ষণা কো এক শুভক্ষণে তার জন্মবলে নাম দেওয়া হয় ক্ষণা আরক্ষণাথেকেইখনানামের উৎপত্তি বলে মনে করা হয় খনা ছিলেন সিংহলরাজার কন্যা কথিত আছে, খনার আসল নাম লীলাবতীতিনি ছিলেন জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী তাঁর রচিতভবিষ্যতবাণীগুলোই মূলতখনার বচননামে আমরা জানি

বাংলা ভারতে প্রচলিত কিছু কিছু বচনকে সহজেই খনার বচন হিসেবে চেনা যায়। কেননা বচনগুলোর গঠনরীতির মধ্যেই খনা নামটি উৎকীর্ণ থাকে। খনা তার বচনসমুহ যাতে অন্যরা দাবি করতে না পারে সে জন্য সে বচনের আগে বা পরে নিজের নামও ছন্দাকারে সাজিয়ে দিয়ে গেছেন। যেমন-

ধানের গাছে শামুক পা, বন বিড়ালী করে রা।

ডাক দিয়ে বলে মিহিরের স্ত্রী, শোন পতির পিতা, ভাদ্র মাসে জলের মধ্যে নড়েন বসুমাতা। রাজ্য নাশে, গো নাশে, হয় অগাধ বান, হাটে কাটা গৃহী ফেরে কিনতে না পান ধান।

ষোল চাষে মূলা, তার অর্ধেক তুলা, তার অর্ধেক ধান, বিনা চাষে পান। খনার বচন, মিথ্যা হয় না কদাচন।

মাঘ মাসে বর্ষে দেবা, রাজায় ছাড়ে প্রজার সেবা। খনার বাণী, মিথ্যা না হয় জানি।

খনা বলে, শুন কৃষকগণ হাল লয়ে মাঠে বেরুবে যখন শুভ দেখে করবে যাত্রা না শুনে কানে অশুভ বার্তা। ক্ষেতে গিয়ে কর দিক নিরূপণ পূর্ব দিক হতে হাল চালন নাহিক সংশয় হবে ফলন।

খনা বলে শুনে যাও, নারিকেল মূলে চিটা দাও। গাছ হয় তাজা মোটা, তাড়াতাড়ি ধরে গোটা।

পূর্ণিমা অমাবস্যায় যে ধরে হাল, তার দুঃখ হয় চিরকাল। তার বলদের হয় বাত, তার ঘরে না থাকে ভাত। খনা বলে আমার বাণী, যে চষে তার হবে জানি।

খনা বলে চাষার পো, শরতের শেষে সরিষা রো।

বৎসরের প্রথম ঈষাণে বয়, সে বৎসর বর্ষা হবে খনা কয়।
উঠান ভরা লাউ শসা, খনা বলে লক্ষ্মীর দশা।

খনা ডাকিয়া কন, রোদে ধান ছায়ায় পান।

কচু বনে ছড়ালে ছাই, খনা বলে তার সংখ্যা নাই।

যে গুটিকাপাত হয় সাগরের তীরেতে, সর্বদা মঙ্গল হয় কহে জ্যোতিষেতে। নানা শস্যে পরিপূর্ণ বসুন্ধরা হয়, খনা কহে মিহিরকে, নাহিক সংশয়।

Author: রক্তবীজ ডেস্ক

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts