গতানুগতিক/আহমেদ শরীফ শুভ

টিভিটা ছাড়াই ছিল সংবাদে কান যেতেই নাইমা’র মনোযোগে চিঁড় ধরলো তার দৃষ্টি ছিল অরুণের চোখে মনোযোগ ছিল তার জামার বোতামে এই ব্যাপারে নাইমা আর পাঁচটা মেয়ের মতো নয় ওর কথা শুনে শিউলি অবাক হয়েছিল

 

তুই সত্যি একটা যা তা কী যে বলিস!

 

কেন আমি কি চুরি করছি, নাকি অন্য কোন অপরাধ করছি? চোখ বন্ধ করে রাখবোই বা কেন, নিচের দিকেইবা তাকিয়ে থাকবো কেন?

 

তোর লজ্জা করে না বুঝি!

 

ধুর গাধী! কলেমাও পড়েছি, কাগজেও সই করেছি লজ্জা করবে কেন? জামাই বলে কথা আমি যা কিছু করি ওর চোখে চোখ রেখে করতেই পছন্দ করি অরুণও এটাই পছন্দ করে

 

আজো তাই করছিল রাগিব ঘুমিয়েছে আগেই অরুণের ফিরতে দেরি হয়েছে তাতে কি! আজতো বৃহস্পতিবার ।কাল সকালে উঠেই দৌড়াবার তাড়া নেই কারো আজ দেরি করে ঘুমাবে অন্য সব বৃহস্পতিবারের মতো সোফায় বসে আছে দু’জন টিভি দেখছে আসলে টিভি দেখছে না একে অপরকে দেখছে নাইমা অরুণের জামার বোতাম খুলে দিচ্ছিল দু’জনই এই ব্যাপারটা খুব উপভোগ করে জামার বোতাম খোলা যে একটা শিল্পকর্ম তা অরুণের আগে জানা ছিল না

 

সংবাদে চৌগাছার তানভীর হোসেন নামটা শুনতেই অরুণের জামা থেকে নাইমা’র মনোযোগ চলে যায় টিভির পর্দায় ‘ওহ মাই গড’ বলে একটা চিৎকার করে অরুণকে জড়িয়ে ধরে কাঁপতে থাকে অরুণ কিছুই বুঝে উঠতে পারে না

 

খবরটিতে নতুনত্ব তেমন কিছুই নেই এই গতানুগতিক গল্পটিতে এমন কী আছে অরুণ তা বুঝতে পারেনা এতো নৈমিত্তিক ব্যাপার এটাকে সংবাদ না বলে গল্প বলাই ভালো একই গল্পের পুনরাবৃত্তি যশোহরের চৌগাছা উপজেলার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও বিপ্লবী জনমুক্তি পার্টির সেকেন্ড ইন কামান্ড তানভীর হোসেন গত রাতে আইন শৃংখলা বাহিনীর সাথে এক বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে জানা গেছে কুখ্যাত সন্ত্রাসী তানভীর তার কয়েকজন সহযোগীসহ ভোর রাত তিনিটায় সুখপুকুরিয়া গ্রামের একটি জঙ্গলে গোপন বৈঠক করছিল গোপনসূত্রে খবর পেয়ে স্থানীয় আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল সেই জঙ্গল ঘেরাও করে হামলা চালায় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তানভীর ও তার সহযোগিরাও পাল্টা গুলি চালায় দুই পক্ষের বন্দুক যুদ্ধে কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীর ওরফে টেরর তানভীর ঘটনাস্থলে নিহত হয় তবে তার সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় আইন শৃংখলা বাহিনী সেখান থেকে একটি একে ৪৭ এবং একটি কাটা রাইফেল উদ্ধার করে জানা গেছে নিহত তানভীরের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় খুন, রাহাজানি, অপহরনণ চোরাচালান এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা সহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে সংবাদে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উবু হয়ে পড়ে থাকা তানভীরের লাশের ছবিও দেখানো হয়েছে বীভৎস!

 

অরুণের তবুও হাসি পায় এক গল্প আর কতোবার শোনা যায়! সরকারী বাহিনীর গণসংযোগ কর্মকর্তার উপর অরুণের করুণা হয় ওরা কি একবারও গল্পটা ঢেলে সাজাতে পারে না! এক গল্প মানুষ আর কতো খাবে! এক সময় লেখালেখির কিছু অভ্যাস ছিল কতোবার ভেবেছে এই সব কথিত সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্যে কোন পত্রিকায় একটা খোলা চিঠি পাঠাবে মনে মনে চিঠির একটা ড্রাফটও করেছিল

 

‘প্রিয় সন্ত্রাসী ভাইয়েরা, আপনারা যদি সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন তা কেবল আপনাদের নিজের জন্যই নয়, আপনাদের পরিবার পরিজন, দেশ ও সমাজ সবার জন্যই মঙ্গলজনক আপনারা সত্যিই জনগণের মুক্তি চান কীনা সে ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে যদি চেয়েই থাকেন তবে আপনাদের কেউ কেউ যেই পথে জনগণের মুক্তি চান, জনগণ সেই পথে নিজেদের মুক্তি চায় না যদি কোন অনিবার্য কারণে আপনাদের পক্ষে সন্ত্রাসের পথ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব নাও হয় তবে দয়া করে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলুন যদি আপনাদের মধ্যে কোন গোপন বৈঠকের প্রয়োজন হয় তবে তা দিনের বেলায় সারবেন যদি মাঝরাতে বা ভোররাতে বৈঠক করতেই হয় তাহলে দয়া করে তা আপনাদের কোন বিশ্বস্ত স্থানে সারবেন, যেমন ধরুন কারো বাসায় ভোররাতে গ্রামের জঙ্গল ছাড়া কি বৈঠক করার আপনাদের আর কোন জায়গা নেই? আর যদি তা করতেই হয় তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের প্রতি গুলি ছুঁড়তে যাবেন না প্লিজ কারণ তাহলে অনিবার্যভাবেই তাদের ছোঁড়া পালটা গুলিতে আপনাদের দলপতির মৃত্যু হবে আচ্ছা, আপনারা কি অপেক্ষাকৃত বোকা কাউকে দলপতি নির্বাচন করেন? না হয় সব সময় এমন হয় কেন যে কেবল আপনাদের দলপতিই মারা যান, আর আপনারা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পারেন? দয়া করে আপনাদের কৌশল পরিবর্তন করুন আমরা আম জনতা আপনাদের বোকামীর একই গল্প শুনতে শুনতে টায়ার্ড’

 

এই ড্রাফটের কথা নাইমাকে বলায় দু’জনই হেসেছিল প্রাণ খুলে সত্যিইতো, আমরা নির্লজ্জতার কোন পর্যায়ে পৌঁছে গেছি! মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য  জেনেও আমরা একই গল্প বলে যাচ্ছি বারবার

 

প্রবোধ না মানা ছোট্ট মেয়ের মতো কিছুক্ষণ কাঁদলো নাইমা অরুণ ওকে বুকে ধরে রাখে চোখের জল মুছে দেয় টিস্যু পেপার দিয়ে

 

কী হয়েছে নাইমা? ওই ছেলেটাতো দেখছি চৌগাছার তোমার পরিচিত কেউ?

 

নাইমা মাথা নাড়ে বাথরুমে গিয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে ফ্রেস হয়ে আসে

 

বাবাকে একটা ফোন করবো এটা কেন হলো বুঝতে পারছি না!

আমাকে আগে বলোই না আমিতো কিছুই বুঝতে পারছি না তোমার পরিচিত কেউ? তোমাদের আত্মীয়? নাকী তোমার বাবার কোন কর্মী? কিন্তু উনিতো কোন গোপন সংগঠনের সাথে যুক্ত না

 

তোমাকে বলবো মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো দাঁড়াও, আগে বাবাকে একটা ফোন করে নেই

 

আজিজ চেয়ারম্যান জানালেন তিনি কিছুই জানেন না তিনিও টিভিতেই সংবাদটা দেখেছেন নাইমা বিশ্বাস করতে পারলো না কিন্তু তার কীইবা করার আছে! তানভীরের কারণেই বাবার প্রতি একবার তার ঘৃণ্ জন্মেছিল সেতো বেশ কয়েক বছর আগের কথা আজিজ চেয়ারম্যান বলেছিলেন, ‘আমার জায়গায় তুই বাবা হলেও এমনটিই করতি’ তবু সেদিন ভেবেছিল বাবাকে সে কোন দিনই ক্ষমা করতে পারবেনা কিন্তু সে ক্ষমা করে দিয়েছিল যদিও সেই কৃতিত্ব অরুণ আর রাগিবের অরুণ ভীষণ রকমের কেয়ারিং একটা ছেলে নিমিষেই অন্য কারো ভালোবাসা ভুলিয়ে দিতে পারে মেয়েরা মা হয়ে গেলে নাকি স্বামীরা তাদের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে নাইমার তা মনে হয় না রাগিবের জন্মের পর অরুণতো তার প্রতি আরো বেশি মনোযোগী  হয়েছে শিউলি বলেছে, ‘এটা ইলেকট্রা-ইডিপাস কমপ্লেক্সের ভয়’

 

কেমন?

 

তোর ভালোবাসাতো স্বামী আর সন্তানে ভাগ হয়ে গেছে তাই নিজেরটা যাতে কম না পড়ে সে জন্য তোর দিকে মনোযোগ বেশি দিচ্ছে’

 

তুই সোজা জিনিষস এতো প্যাচাতে পারিস! কী সব যা তা বলছিস নাকী তোর হিংসা হচ্ছে?

 

আমার বয়েই গেছে পাঁচ বছরের পুরোনো জামাইয়ের সাথে নাক ডুবিয়ে প্রেম কর আমি কী না করেছি ও আচ্ছা! নাক ডোবানোর ব্যাপারতো উনার তা এখনো কি আগের মতোই ডোবাচ্ছেন?

 

একদম বাজে কথা বলবি না তোর ভালগার কথা বলার অভ্যাস এখনো গেল না!

 

বাহ রে! ওনারা ভালগার কাজ করবেন তা দোষের না আমি বললেই দোষ!

 

সত্যিই বাবাকে ক্ষমা করে দিয়েছিল নাইমা এরেঞ্জড মেরেজও যে সুখের হতে পারে, প্রেমময় হতে পারে তাআগে জানা ছিল না তার কিন্তু আজ আবার নতুন করে অভিশাপ দিতে ইচ্ছে হলো কেন যেন মনে হচ্ছে কাজটায় আজিজ চেয়ারম্যানের হাত আছে যদি তাই হয় বাবাকে আর কোনদিন ক্ষমা করবেনা সে

 

কী যা তা ভাবছে! না জেনে কাউকে সন্দেহ করা বা দোষারোপ করা কি ঠিক! কিন্তু সে জানবেই বা কীভাবে? আর একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসীর মৃত্যুরহস্য ভেদ করা কি এতোই জরুরী? নাইমার তবুও জানতে ইচ্ছে হয় ভাবনাগুলো অরুণের সাথে শেয়ার করতে হবে অরুণ আর শিউলি ছাড়াতো নিজের সব কথা বলতে পারে এমন কোন বন্ধু নেই তার

 

কিভাবে শুরু করবে ভেবে পায় না নাইমা কান্না আটকে রাখাও কঠিন হচ্ছে পুরোনো দু’ একটা স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে চমৎকার গানের গলা ছিল তানভীরের সেই প্রথম দিন শোনানো গান, ‘আহা একটি মেয়ে আমি দেখেছি সেদিন/ এলোচুলে জানালায় দাঁড়িয়ে ছিল…’ পরক্ষণেই গানের ভাবনা থামিয়ে দেয় ওড়নাটা কোথায় কে জানে! মাথায় ঘোমটা টেনে কিছু দোয়া পড়া দরকার না! হঠাৎ সায়রার কথা মনে হলো কতো দিন  দেখা নেই ইন্টারমেডিয়েট পাশের পর নাইমা ভর্তি হয়েছিল ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে শুরু করেছিল শামসুন্নাহার হলের জীবন সায়রার রেজাল্ট ভালো হয়নি বাবার অবস্থাও তেমন ছিল না চৌগাছা ডিগ্রী কলেজই ভরসা দু’জনের বন্ধুত্ব ছিল আবার হিংসাও ছিল তানভীরের সাথে নাইমার প্রেম হওয়ার পর থেকেই সায়রা অনেকটা মুষড়ে পড়েছিল তবুও তানভীরকে বলেছে, ‘যদি কোন দিন ফিরে আসেন বা ফিরে আসতে হয়, আমি আপনার জন্য অপেক্ষা করবো’ সায়রা কথা রেখেছিল নাইমাকে হারিয়ে তানভীর যখন উদভ্রান্ত, প্যাথেডিন, ফেনসিডিল, গাঁজা আর মদে আকন্ঠ নিমজ্জিত তখন সায়রাই তাকে ফিরিয়ে এনেছে নিজের কাছে ও তখন একটা স্থানীয় এনজিওতে ঢুকেছে বিয়ে ঠিক হয়েছিল এক ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে সেই বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে একদিন বাড়ির সবার অমতে তানভীরের সাথে কাজির অফিসে গিয়ে বিয়ে সেরে ফেললো যোগাযোগ না থাকলেও নাইমা নিয়মিতই খবর পেত আহারে! মেয়েটার আজ কী অবস্থা কে জানে! বাচ্চাকাচ্চাদের কী অবস্থা ভাবতেই নাইমার চোখ দিয়ে পানি নেমে আসে

 

অরুণের অস্বস্তি লাগে এদিক সেদিক তাকায় কী করবে বুঝে উঠতে পারে না

 

কি হয়েছে সোনা? আমাকে না বললেতো বুঝতে পারবো না ছেলেটা কি তোমার অনেক পরিচিত? ক্লোজ কেউ? কই আমাকেতো আগে কখনো ওর কথা বলোনি! প্লিজ, খুলে বলো

 

টিভিটা বন্ধ করে দেয় অরুণ আলতো করে নাইমা’র চুলে বিলি কেটে দেয় হঠাৎ করেই অরুণের বোতাম-খোলা জামা পেরিয়ে ওর লোমশ বুকে মুখ আর নাক ডুবিয়ে দেয় নাইমা

 

আগে বলো, তুমি আমাকে মাফ করে দেবে দেবে না?

 

আগে বলোই না কী হয়েছে? ওই ছেলেটা কি তোমার বয়ফ্রেন্ড ছিল?

 

আগে বলো তুমি আমাকে মাফ করবে কিনা?

 

‘আমার সাথে তোমার বিয়ে হওয়ার আগে যদি সে তোমার বয়ফ্রেন্ড হয়ে থাকে তাহলেতো তা অতীত তা নিয়ে বসে থাকলে চলবে কেন! তবে যদি বিয়ের পরেও চালিয়ে থাকো তাইলে ভিন্নকথা’ অরুণ মৃদু হাসে

 

সে কী বিয়ের পরও তোমার বয়ফ্রেন্ড ছিল না কি?

 

ধুর! তা কেন হবে?

 

তাইলে আর প্রবলেম কী! কলেজ লাইফে এমন বয়ফ্রেন্ড অনেকেরই থাকতে পারে বিয়ের পর ভুলে গেলেই হলো

 

কিন্তু আমিতো তোমাকে আগে বলিনি

 

প্রসঙ্গ আসেনি তাই বলোনি তা ছাড়া আমিওতো তোমাকে কখনো জিজ্ঞেস করিনি যে তোমার বয়ফ্রেন্ড ছিল কিনা আচ্ছা, শুধুই কি প্রেম ছিল, নাকি অন্য কিছুও করেছো?

 

মানে কি?

 

এই ধরো আদর টাদর, জামার বোতাম খোলা ইত্যাদি……..

 

ধুর! কী যে বলো! সেই কবেকার কথা তখন কি আর আজকের মতো ছিল? তাছাড়া ওটাতো পুরোপুরি প্রেম ছিল না ছিল আধো আধো প্রেম আচ্ছা বলো না সোনা আমাকে মাফ করেছো কিনা?

মাফ করতে পারি এক শর্তে

 

কী শর্ত?

 

আগে এই আধো আধো প্রেম কি জিনিস তা বলো আর টেরর তানভীরের বিষয়টা পুরো বুঝিয়ে বলো

 

ছেলেটা মোটেও এমন ছিল না বাবাই তাকে টেরর বানিয়েছে আসলে আমার জন্যই তার জীবনটা ওলোট পালট হয়ে গেছে তুমি প্লিজ অন্য ভাবে নিও না তুমি আমার জীবনে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য তোমাকে না পেলে আমার জীবনে অনেক কিছুই অপূর্ণ থেকে যেতো তানভীরের সাথে বিয়ে হলে আমার জীবনে তোমার মতো শ্রেষ্ঠ সম্পদ না পাওয়াই থেকে যেতো তবুও ছেলেটার জন্য আমার মনে একটা অপরাধবোধ কাজ করে কিন্তু জানো, বাবাই বড় কালপ্রিট আমার সাথে ছাড়াছাড়ি করিয়েছেন তাতে কোন দুঃখ নেই এখন কারণ, আমি তোমাকে পেয়েছি বলেছিতো, তানভীরকে পেলে আমার তোমার মতো একজনকে পাওয়া হতো না কিন্তু বাবাই ওকে এই পথে নামিয়েছে বাবার জন্যই ও ‘টেরর ভানভীর’ হয়েছে আমি নিশ্চিত ওর ক্রসফায়ারের পেছনে বাবার হাত আছে আমি কিছুতেই ক্ষমা করবো না ,কিছুতেই না

 

নাইমার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে ঠোঁট ভিজে যায় অরুণ সেই ভেজা ঠোঁটে আলতো করে চুমু খায় নাইমা তানভীরের গল্প বলতে শুরু করে

 

চৌগাছা উপজেলা শহরটি আর কতোইবা বড় সবাই সবাইকে চিনে তাছাড়া ওদের দুই পরিবারের আদি বাড়িই সুখপুকুরিয়ায় কিন্তু থাকে চৌগাছায় তানভীরের বাবা ইসহাক স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তো নাইমা ও যখন ক্লাস নাইনে তখন থেকেই তানভীর পিছু নিয়েছে প্রথম দিকে তেমন পাত্তা দেয়নি কিন্তু ছেলেটি প্রেমের ব্যাপারে ভীষনণ অধ্যবসায়ী কতো আর ফেরানো যায়! বছর খানেক পর একদিন নাইমার মনে হলো সেও একটু একটু ভালোবাসতে শুরু করেছে তানভীরকে আট দশ বছর আগের উপজেলা শহরের ভালোবাসা। প্রকাশ দশ ভাগ। মনে মনে বাকি নব্বই ভাগ। কুসুম কুসুম প্রেম। নিয়মিত চিঠি পত্র আদান প্রদান, সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে এখানে সেখানে একটু আধটু দেখা। মাঝে মাঝে যে হাত ধরেনি এমন নয়। চুমুও খেয়েছে  দু’ এক দিন আলতো করে, ভয়ে ভয়ে। একদিন মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে রিক্সার হুড উঠিয়ে আর পর্দা লাগিয়ে দু’জন ঘুরেছে পাকা দুই ঘন্টা। পাশ থেকে বৃষ্টির ছাঁট লেগে ভিজেছে দুই জন। তানভীর সেদিন ভীষণ সাহসী ছিল। হাত গিয়েছে এদিক সেদিক। নাইমার যে ভালো লাগেনি তা নয়। কিন্তু সরিয়ে দিয়েছে লজ্জায়, ভয়ে। এই রিক্সায় করে ঘোরার কথা অবশ্য নাইমা অরুণকে বলে না। শুধু এইটুকুই গোপন করে।

 

ছোট্ট উপজেলা শহর। সবাই সবাইকে চেনে। এক কান দু’ কান করে একদিন জানাজানি হয়ে যায়। ততোদিনে নাইমা চলে গেছে ঢাকায় ভর্তি হয়ে। আজিজ চেয়ারম্যান শহরের কানাঘুষা কিছু শুনেছিলেন। কিন্তু চাক্ষুস দেখেননি কিছুই। তাছাড়া নাইমাতো চৌগাছা ছেড়েই গেছে। তিনি কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই তানভীর কয়েকবার ঢাকায় গিয়ে দেখা করেছে। অভিসার টভিসার কিছু না। কেবলমাত্র দেখা। শামসুন্নাহার হলের গেটে, সেখান থেকে কফিশপে গিয়ে ঘন্টা দুই সময় কাটানো, ফিরতি বাসে আবার চৌগাছা। ছুটিতে বাড়িতে গেলে সবার দৃষ্টি এড়িয়ে সময় কাটানো গেছে মাঝে মাঝে। মা জানতেন। তার সম্মতি থাকুক আর না থাকুক বাধা দেননি কখনো। শুধু একদিন বলেছিলেন ,স্বামী যদি জেনে যান তাহলে তিনি সামলাতে পারবেন না।

 

আজিজ সরকার সুখপুকুরিয়ার চেয়ারম্যান হয়েছেন তিন মেয়াদে। প্রধানমন্ত্রী যায় প্রধানমন্ত্রী আসে। তার কিছুই যায় আসেনা। তার যাওয়া আসা করতে হয় না। তিনি বরাবরই চেয়ারম্যান থাকেন। শুধু সুখপুকুরিয়া নয়, পুরো চৌগাছাই তার নখদর্পণে। সমাজ সংসারের কিছুই তার অগোচরে ঘটবে তার উপায় নেই। নাইমা আর তানভীর তার চোখকে ফাঁকি দিতে পারলেও কানকে ফাঁকি দিতে পারে না। তিনি চাল চুলোহীন স্কুল মাষ্টারের ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দেবেন না। ছেলেটা যদি নিজে প্রতিষ্ঠিত হতো তাহলেও একটা কথা ছিল। তিনি নাইমার বিয়ের তোড়জোড় করতে থাকেন। ছুটিতে বাড়িতে এসে নাইমার  পাত্রীর ভূমিকায় নামতে হয়েছে তিনবার। ডাক্তার, আইনজীবি আর বিদেশি কোম্পানীর কর্মকর্তা। নাইমা অনেক কান্নাকাটি করেছে মায়ের কাছে। কাজ হয়নি। আজিজ চেয়ারম্যানকে রাগাবেন এমন সাহস শাফিয়া বেগমের নেই। অনোন্যপায় হয়ে নাইমা বলেছে সে বাবার পছন্দেই বিয়ে করবে। তবে এই তিনজনের কাউকেই তার পছন্দ হয়নি। বাবা যাতে অন্য কারো সাথে সম্বন্ধ দেখে। নাইমা এবং আজিজ চেয়ারম্যান দু’জনই জানে এটা সময় ক্ষেপণের চেষ্টামাত্র। বাবা মেয়ের জন্য পাত্র খুঁজতে থাকেন। আর মেয়ে তার প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার গোপন পরিকল্পনা করতে থাকে। অনার্সটা শেষ করতে পারলেই তানভীরের মামা ওকে একটা এনজিওতে ঢুকিয়ে দিতে পারবেন বলেছেন। আরতো মাত্র ক’টা মাস।

 

সায়রাই প্রথমে ফোন করে খবরটা দেয়। অনেক দিন পর সায়রার ফোন। তানভীরকে কেন্দ্র করে ওদের বন্ধুত্বের ভাটা পড়েছিল অনেক আগেই। দু’জন দু’জনকে সযত্নে এড়িয়ে চলে। চৌগাছা এলেও দেখা হয় না। কিন্তু নাইমারতো কোন দোষ নেই। সেতো তানভীরকে ছিনিয়ে আনেনি। তানভীরই ওর প্রেমে পড়েছিল। আর সায়রার ছিল তানভীরের প্রতি একতরফা প্রেম। নাইমার তাই কোন অপরাধবোধ ছিল না। তবুও সায়রার মুখোমুখি হতে কেমন একটা অস্বস্তিবোধ হত।

 

ফোনে খবরটা শুনে নাইমা স্তম্ভিত। অবৈধ অস্ত্রসহ তানভীর পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। গভীররাতে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধানে পুলিশ ইসহাক মাষ্টারের বাড়ি ঘেরাও করেছিল। তানভীরের বিছানার নিচে পাওয়া গেছে একটি লাইসেন্সবিহীন পিস্তল। এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে ছিনতাই, রাহাজানি বেড়ে গিয়েছিল। পুলিশ সন্দেহজনক বিভিন্ন বাড়ি ও স্থাপনায় রুটিন তল্লাশি চালিয়ে আসছিল। কিন্তু তাই বলে ইসহাক স্যারের বাড়ি! এলাকাবাসীও হতভম্ব। ইসহাক মাষ্টার অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। কারো সাতে পাঁচে নেই। তানভীর ছাত্র হিসাবে কখনো ভালো ছিল না বটে, কিন্তু তাকেতো কেউ বখাটে হিসাবে জানে না। চৌগাছা ডিগ্রী কলেজে ইসলামের ইতিহাস নিয়ে অনার্স পড়ছিল। বন্ধুবান্ধবদের সাথে আড্ডা দেয়া আর গান গেয়ে বেড়ানো ছাড়া অন্য কোন কাজে কেউ তাকে কখনো দেখেনি। অথচ……

 

অবাক হওয়া ছাড়া পাড়া প্রতিবেশীদের আর কীইবা করার ছিল! পুলিশতো তানভীরের বিছানার নিচেই অস্ত্র পেয়েছে। ইসহাক মাষ্টারের পরিবারের কেউই বিশ্বাস করেনি যে তানভীর অস্ত্র রাখতে পারে। অস্ত্র দিয়ে সে করবে কী? আর যদি তার কাছে পিস্তলই থাকবে তাহলে তা বিছানার নিচে কেন রাখবে? আর সেইবা বাসায় এমন নিশ্চিন্ত ঘুমাচ্ছিল কীভাবে? পুলিশের দরজা ধাক্কানোতে ঘুম ভেঙ্গেতো তানভীর নিজেই অবাক হয়েছিল। কিন্তু এসব ভাবনায় কী হবে! পুলিশের কাছেতো প্রমাণ আছে।  সায়রা কোন হিসাব মেলাতে পারে না। তার কন্ঠ ভারী হয়ে আসে।

 

নাইমা কোন রকমে কান্না চেপে ফোনে কথা শেষ করে। দু’য়ে দু’য়ে চার মেলানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বাবা কি এতোটা নিচে নামবে? এতো বড় শাস্তি? পুলিশ কি তাহলে নিজেরাই তানভীরের বিছানার নিচে পিস্তল রেখে নাটক সাজিয়েছে? আজিজ চেয়ারম্যানের পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয় নাইমা তা জানে। কিন্তু তাই বলে এতোটা নিচে?

 

ইসহাক মাষ্টার এবং পাড়ার অন্যান্য গণ্যমান্যদের দৌড় ঝাঁপ সত্ত্বেও মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মামলার রায় হয়ে গেল। চার বছরের জেল। জানা গেছে শুধু অবৈধ অস্ত্রই নয়, তানভীরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং ভারতীয় পণ্য চোরাচালানীর অভিযোগও রয়েছে। ইসহাক মাষ্টার কয়েকবার এসেছিলেন আজিজ চেয়ারম্যানের কাছে। তিনিই বলেছেন, ‘আপনি শুধু এই এলাকার একজন সম্মানিত শিক্ষকই নন, আমার ছেলেমেয়েদেরও শিক্ষক। পারলে অবশ্যই আপনাকে সাহায্য করতাম। কিন্তু আইন আদালতের উপরতো আমার কোন হাত নেই স্যার। সাজা যদি হয়েই যায় উকিলকে বলবেন আপিল করতে। দেখা যাক তখন যদি কিছু করতে পারি। টাকা পয়সা লাগলে চাইতে সংকোচ করবেন না’।

 

নাইমার পৃথিবী ওলট পালট হয়ে যায়। তানভীরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে না। চার বছরের জেল দীর্ঘ সময়। আর চার বছর না হয়ে চার মাস হলেইবা কী! বাবা কি জেল খাটা কারো সাথে মেয়ের বিয়ে দেবেন? অসম্ভব! পরিস্থিতি মেনে নেয়া ছাড়া নাইমার আর কোন উপায় থাকে না। তানভীরের জেল হওয়ার সাড়ে তিন মাসের মাথায় অরুণের সাথে তার বিয়ে হয়ে যায়। বাবার উপর রাগ, মন খারাপ হয়ে থাকা এই সব আস্তে আস্তে ফিকে হয়ে আসে। অরুণের মতো ছেলেকে ভালো না বেসে পারা যায় না। এমনকি যদি নাইমা আগে পাঁচটা প্রেমও করতো তবুও অরুণকে ভালোবাসতে তার একটুও কষ্ট হতো না।  কিন্তু তাই বলে তানভীরের প্রতি তার প্রেম যে কর্পূরের মতো উবে গিয়েছিল তাও নয়। নাইমার কাছে আসলে এর কোন মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা নেই।

 

যশোর জেলে তানভীরের উদ্ভ্রান্ত জীবন কাটতে থাকে। ছিঁচকে চোর, পকেটমার, চোরাকারবারী এবং আরো দু’ একজন সন্ত্রাসীর সাথে শেয়ার করা সেলে দিন কাটে। মা আর ছোটবোন কুসুম মাসে একবার দেখতে আসে। ইসহাক স্যার এসেছিলেন একবার। কারোই হিসাব মেলে না। সবাই বিভ্রান্ত। তানভীর যে কাজটি করেনি তা সে যেমন জানে, পরিবারের অন্যরাও তেমন জানে। কিন্তু সমাজ তা মানবে কেন! ইসহাক স্যার লজ্জায় ইদানীং বাসা থেকে খুব একটা বের হন  না। তার টিউশানিতেও ভাটা পড়েছে। কুসুমকে দিয়ে সায়রা একটা চিঠি পাচার করেছিল। তানভীর সেই চিঠিতেই নাইমার বিয়ের খবর জেনেছে। বলেছে, সে জানে এটা সব সাজানো নাটক। তার সন্দেহ নাইমার সাথে প্রেম করার অপরাধে আজিজ চেয়ারম্যানই তাকে ফাসিয়েছে। সায়রা আরো লিখেছে, সে তানভীরকে আগের মতোই ভালোবাসে। প্রয়োজনে চার বছর অপেক্ষা করবে। পুরোনো কথা ভেবে আর লাভ কী! নাইমাতো এখন অন্য নারী।

 

তানভীর অবাক হয়নি। এমনটা হবে এটাই স্বাভাবিক। সত্যিই যদি এই ঘটনার পেছনে আজিজ চেয়ারম্যান থাকে তাহলেতো সে নাইমাকে অন্য কোথাও বিয়ে দেয়ার জন্যই এমনটা করেছে। হাপিত্যেস করে লাভ কি! সায়রাকে তানভীর কখনো প্রেমিকা ভাবতে পারেনি। আর জেলে বসে সে ভাবনা ভেবেই কী! মেয়েটা হয়তো আবেগতাড়িত হয়ে লিখেছে। তার এখন বড় ভাবনা এই চোর আর সন্ত্রাসীদের সাথে চার বছর কাটানো। এই চার মাসকেইতো মনে হয়েছে চার বছরের চেয়েও দীর্ঘ।

 

তানভীর আস্তে আস্তে জেলখানার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। চোর বাটপাড়দের সাথে থাকতে থাকতে নিজের মধ্যেও চোর বাটপাড়ে ট্রান্সফরমেশনের বোধ হয়। সেন্ট্রিকে হাত করে চোরা পথে আনা গাঁজায় দম দিতে শুরু করে। সেন্ট্রি একদিন ইশারায় জানিয়ে গেছে পাশের সেলে একটা আঠারো বছরের কয়েদী আছে, সফিক নাম। দেখলে মনে হয় পনেরো। তানভীর চাইলেই মাঝে মাঝে তাকে পেতে পারে। ছেলেটা নাকি খেলে ভালো। অবশ্য সেন্ট্রিকে খুশি করতে হবে সে জন্য। পাঁচশ হলেই হবে। সফিকের দু’শ আর বাকিটা তার। তানভীর হয়তো নিচে নামার সিঁড়িতে পা রেখেছে, কিন্তু তাই বলে…। অনেক কষ্টে বমি আটকে রাখে সে।

 

এর মধ্যে জেলে এসে আজিজ চেয়ারম্যান কয়েক দফা দেখা করে গেছে তানভীরের সাথে। এই ভিজিটের সময় কেউই সাথে থাকে না। এমনকি কোন প্রহরীও নয়। তার পর হঠাৎ করেই তার আপীলের শুনানীর খুব দ্রুত তারিখ পড়ে। কাগজপত্র এগুতে থাকে পরিকল্পনামতো। আপীলে তানভীরের সাজা মওকুফ হয়ে যায়। সাত মাসের মাথায় তার জেল জীবনের অবসান ঘটে। এবারে হিসাব মিলে যায় সবার। লজ্জায়, ঘৃণায়, অপমানে ইসহাক মাষ্টার স্বেচ্ছাগৃহবন্দী হয়ে যান। তানভীরকে দেখা যায় আজিজ চেয়ারম্যানের ছায়াসঙ্গী হিসেবে। শুধু নাইমার চৌগাছা আসার কথা থাকলেই তাকে কোন কাজে পাঠানো হয় কুষ্টিয়া, যশোর কিংবা মেহেরপুরে। তানভীর বুঝেও না বোঝার ভান করে। সে এখন আজিজ চেয়ারম্যানের ডানহাত। বসের বিবাহিতা কন্যার প্রতি তার আকর্ষণ থাকবে কেন! তার চেয়ে মদ, গাঁজা আর ফেনসিডিলেই পরম শান্তি। চেয়ারম্যান মনিব হিসেবে ভালো। যখন যা লাগে টাকা পয়সার কমতি করে না। বলেছে সামাদ, আতিক, মজনু ওদের নিয়ে যতো আমোদ ফূর্তি করতে চায় করতে পারে। তবে মেয়েঘটিত কিছু হলে যাতে চৌগাছায় না করে যশোহ বা কুষ্টিয়া গিয়ে করে।

 

এর মধ্যে আবার সায়রাও পেছনে লেগে থাকে। এতো কিছুর পরও মেয়েটা যদি এভাবে লেগে থাকে তাহলে ফেরাবে আর কী করে। আর যাই হোক মেয়েটাতো তাকে মদ, গাঁজা আর ফেনসিডিল ছাড়াতে পেরেছে। পালিয়ে বিয়ে করার পর আজিজ চেয়ারম্যানই ওদের আশ্রয় দিয়েছে। কাশেম আলীর সাধ্য নেই চেয়ারম্যানের সাথে সংঘাতে জাড়ায়। মেয়ে যদি নিজের কপাল পুড়তে চায় তা ঠেকাতে পারবে কে!

 

নাইমা গল্পের এইটুকুই জানে। সে অরুণের বুকে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। গল্পের বাকি অংশ তার জানা নেই।

 

নাইমার জানা ছিল না তানভীর কী ভীষণ  জিঘাংসায় প্রতিশোধ স্পৃহা বুকে পুষে রেখেছিল। তার ধারণা ছিল একদিন তার সময় আসবে। এসেও পড়েছিল প্রায়। চোরাচালানের সবগুলো ফেনসিডিল যেদিন সীমান্ত অতিক্রম করার কথা তার আগের রাতে মাসুদকে থানায় সংবাদটা পৌঁছে দিতে পাঠিয়েছিল। রাত তখন ১১টা। ১টা অবধি অপেক্ষা করে। মাসুদ ফিরে না আসায় তানভীর অস্থির হয়ে পড়ে। মোবাইলে ফোন করে বন্ধ পায়। মাসুদ কি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে? নাকি……

 

সর্বনাশ! দাবার চালে যে ভুল হয়ে গেছে তা বুঝতে দেরি হয়ে গেছে তানভীরের। ততক্ষণে পুলিশ তার বাড়ি ঘিরে ফেলেছে। আসিফ আর ময়না তখন ঘুমে। সায়রা ভয়ে কাঁপতে থাকে। তানভীরের মোবাইল বেজে উঠে। চেয়ারম্যানের ফোন।

 

শুয়োরের বাচ্চা, এতোদিন ঘুঘু দেখেছিলি এবার ফাঁদ দেখে নে। ফেনসিডিল এখন তোর পাছায় ঢুকাবো।

 

গল্পের বাকি অংশ গতানুগতিক। পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে শির্ষ সন্ত্রাসী টেরর তানভীর নিহত। নাইমা গল্পের এই অংশটুকু পুরোপুরি না জানলেও আঁচ করতে পারে। সে বাবাকে মাফ করে দিয়েছিল। কিন্তু আজ আর মাফ করতে পারবে না।

আহমেদ শরীফ শুভ

Author: Ahmed Shubho

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts