গ্রেটওয়ালের দেশে- পর্ব ১১

Soho Market

(পূর্ব প্রকাশিতর পর)

২৭ নভেম্বর দুহাজার ষোল। রোববার। আজ আমাদের একটি ভিলেজে যাবার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল তিয়ানজিন সফরের ক্লান্তি অনেকেই কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাই আজ দুপুর পর্যন্ত বিশ্রাম। বেলা সাড়ে বারোটায় বাসে করে করে আমরা গেলাম SOHO 2 মার্কেটে। এখানে রয়েছে ইণ্ডিয়ান রেস্টুরেন্টগতকাল পাকিস্তানী রেস্তোঁরায় খাবার পর আমাদের অনেকেই নো ইস্ট নো ওয়েস্ট এর মত ব্যালান্স করার জন্য ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে খেতে চাইলো। রেস্টুরেন্টটির নাম 3 Lotus Indian Restaurantরেস্টুরেন্টটির গেটে দুজন সর্দারজির মূর্তি রাখা হয়েছে যেন তারা আমাদের রেস্টুরেন্টে স্বাগত জানাচ্ছে। রেস্টুরেন্টের ভেতরে দুটো টিভি স্ক্রিনে বলিউডের সিনেমার সিডি চলছে অল্প আওয়াজে। শাহরুখ খান –রানি মুখার্জির নাচানাচি। ইণ্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট শুনে আমরা অনেকেই ভেবেছিলাম হয়ত বাঙালি স্টাইলের হলেও হতে পারেকিন্তু রান্নাটা বাঙালি স্টাইলের নয়।ভাতটা বাঁশমতি চালের কিন্তু চিকেন ও ফিশ দুটোই সাব-স্ট্যাণ্ডার্ড। খাবারের দাম বেশি কিন্তু কোয়ালিটি পুওর। খানবাবায় এর চেয়ে ভাল মানের হলেও দাম ছিল মাথাপিছু ষাট আরএমবি আর এখানে মাথা পিছু আশি আরএমবি। উত্তরাখণ্ডের  মিঃ বিক্রম সিং রেস্তোঁরা পরিচালনায় আনাড়ি মনে হলো। কারণ বুফের কিউতে লাইন ধরে খাবার নিতে গিয়ে খাবার শেষ, তারপর দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে খাবারের পরবর্তী চালান রান্নাঘর থেকে আসতে। অথচ এদেরকে আগে থেকেই বলা ছিল আজ দুপুরে আমরা এতজন লাঞ্চ করব।

 

যাহোক, খেয়ে দেয়ে আমরা চললাম বেইজিং এর বিখ্যাত হংসিয়াও পার্ল মার্কেটে। নাম পার্ল মার্কেট হলেও এ মার্কেটে পার্লের অলঙ্কার পাওয়া যায় সামান্যই। এর পাশের মার্কেটটি পার্লের জন্য বিখ্যাত।  তবে এই মার্কেটে ইলেক্ট্রনিক্স দ্রব্য, কাপড় চোপড়, ঘড়ি, চশমা, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য, খেলনা, ব্যাগসহ অনেক কিছু পাওয়া যায়বার্গেইনিং করে কম দামে কেনা যায় বলে এখানে বিদেশি ক্রেতাদের ভীড় বেশি। তবে এখানকার বিক্রেতারা সিল্ক স্টৃটের দোকানিদের মত নিচু দরের ব্যবহার করে না।

 

আটাশ নভেম্বর দুহাজার ষোল।

আজ ক্লাস শেষে হোটলে ফিরে এসে ঘুম দিলাম। এর মধ্যে আসর ও মাগরিবও পড়েছি,ক্লাসেই জোহরের নামাজ পড়ে এসেছি। আমাদের সাথে তাবলীগের দুজন ইঞ্জিনিয়ার আছেন। দুজনই সিরাজগঞ্জের মানুষ। ট্রেনিং এ এসেছে পাঞ্জাবী পাজামা স্যাণ্ডেল পরে এই শীতের মধ্যে। অবশ্য পাঞ্জাবীর ওপরে মোটা লম্বা জ্যাকেট পরেছে। ওদের দেখাদেখি ওদের সাথে ফাঁক মত নামাজ পড়ে নেই। এটা আমার জন্য একটু সুববিধেজনক হয়েছে। নামাজের সময় হলেই যেখানে সেখানে একাকী নামাজ পড়ার মত ঈমানের জোর আমার নেই। বিকেলে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী ও মেয়েদের সাথে কথা বলেছি ইমোতে। ছেলে স্কুলে ছিল, তাই ওর সাথে কথা বলতে পারিনি।

ডিনারের পর রুমে এসে ইউকু-তে পুরনো ম্যুভি সিআইডি দেখলাম। দেব আনন্দ হিরো। পুরনো ছবিগুলো দেখতে খুব ভাল লাগে। যেমন গান তেমন সুর।

 

ঊনত্রিশ নভেম্বর দুহাজার ষোল।

আজও ক্লাস থেকে ফিরে লাঞ্চ সেরে হোটেল রুমেই রয়ে গেলাম। আমার রুম নং ৮৭২১। সাততলার ৭২১ আর ৮ হলো কমন প্রিফিক্স। আজ সন্ধ্যেবেলা শীলা, সালওয়া, নাজওয়া, গালিব এবং বড় দুলাভাই (ভায়রা) এর সাথে উইচ্যাটে কথা বললাম। আপা-দুলাভাই বেড়াতে এসেছেন আমার বাসায়। রাত দশটায় পাশের রুম থেকে নারী কণ্ঠের গান ভেসে আসছে। বুঝতে পারছি না এটা মালয় না চীনা ভাষার গান। হোটেলটিতে সব সময় মালয়েশীয়  গেস্ট থাকে। মালয়েশিয়ান সব মহিলাই দেখি মাথায় স্কার্ফ পরা। বর্তমানে কুয়ালালামপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা এসেছে , সাথে ক’জন শিক্ষক-শিক্ষিকাও আছেন।

 

ত্রিশ নভেম্বর দুহাজার ষোল।

আজ বুধবার।ক্লাসে আজ মিঃ পাওলো এসেছিল। পাওলো এলে সবাই খুশি হয়। কারণ সে আসে পার-ডিয়েম নিয়ে। যা হোক, আজও ক্লাস শেষে হোটেলে ফিরে ঘুম দেই। ঘুম থেকে জেগে দেখি বিকেল চারটা বায়ান্ন। চারটা সাতান্ন মিনিটে  সূর্যাস্ত। ওজু করে মাগরিব আসর একসাথে আদায় করলাম। তারপর সালাউদ্দিন, আবুবকর ও আরো কয়েকজন মিলে কাছাকাছি তাই ইয়ান লু মার্কেটে গেলাম। সালাউদ্দিন দুটো গ্যাবার্ডিন প্যান্ট কিনেছে এখান থেকে। আমি দুটো ট্রায়াল দিয়ে দেখলাম ভাল ফিটিং হচ্ছে না, ভালও লাগছে না। তাই আমার প্যান্ট কেনার আশা বাদ দিলাম। সালাউদ্দিন একটি জ্যাকেটও কিনলো। এটা খুব বার্গেইনিং মার্কেট নয়। তবুও ৫৬০ আরএমবি লেখা জ্যাকেট দামাদামি করে ২৫০ আরএমবিতে কিনতে পারলো। কাস্টমার খুব কমবেচাকেনা তাই কম। এখান থেকে বেরিয়ে কাছাকাছি মেট্রো শপিং মলে গেলাম। সবকিছুর দাম বেশি মনে হলো, তাই কেনা হলো না কিছু। তবে সালাউদ্দিন লটকনের মত দেখতে একধরনের ফল কিনলো। লটকন টক আর এ ফল মিষ্টি। আমি লালরঙের একটি ফল কিনলাম। বরই এর মত সাইজ, কিন্তু বরই নয়। টকস্বাদের ফলটির ভেতর ছোট ছোট তিন-চারটি বিচি থাকে।

ডিনারের পর হোটলের পাশের দোকান থেকে একটি ডাইরি আর একটি কলম কিনলাম।

(চলবে)

শরীফ রুহুল আমীন
শরীফ রুহুল আমীন

Author: শরীফ রুহুল আমীন

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment