জল ছুঁয়ে

জল ছুঁয়ে

তোমার হাত দেখি। মেহেদি দাওনি কেন?

আর নেলপলিশ? নাই বুঝি?

আরে থাকবেনা কেন, ঝামেলা লাগে দিতে অনন্ত।

রোজ রোজ নখ নিয়ে ঘষা ঘষি ভাল লাগেনা। আমার যে দেখতে ভাললাগে তার কোন মূল্য নেই বুঝি?

আচ্ছা বাবা ঠিক আছে, লাগিয়ে নিচ্ছি এখুনি। আমি তো নেলপলিশ লাগিয়ে নিচ্ছি ঠিকই আর তোমার কি অবস্থা শুনি?

দেখি মুখ এমন খসখসে

কেন। ইস; কি বিচ্ছিরি অবস্থা। দাড়াও, ক্রিম লাগিয়ে দিচ্ছি। চাষাড়ে হয়েছে

কেমন দেখ!

শ্রাবনী অনন্তকে ধরে ভাল করে ক্রিম ডলে দিল মুখে। গায়ে লাগিয়ে দিল অলিভওয়েল।

খসখসে ভাবটা গেলে শ্রাবনী হেসে নিল খানিকটা। এভাবে নেলপালিশ, ক্রিম, টাই,

ভ্যানিটি ব্যাগ আরও অনেক কিছুর সংমিশ্রনে যে মন্ডটা তৈরি হচ্ছিল বা হয়েছিল

সেটাই যে ভালবাসা সেটুকু বোঝার মত মেধার ঘাটতি ছিল না শ্রাবনী আর

অনন্তর।

ভালবাসা শব্দটা যতভাবে পড়া ও শোনা ছিল, তেমনভাবে মানেটা বোঝা ছিলনা। তবে

যখন থেকে মানেটা বুঝতে হবে ভাবনাটা শুরু হলো তারপরও তিনবছরের মত লেগে

গিয়েছিল শ্রাবনীর। একজনকে এমনভাবে ভালবাসা যায় সেটা বুঝতে সত্যিই তার

বছর তিনেকের মত লেগেছিল। কে প্রথম ভালবেসেছি- প্রথম কে কাছে এসেছি

এই রকম দোটানায় পড়তে হয়নি তাদের। রানী মৌমাছিকে কেন্দ্র করে যেমন মধু

জমা হয় তেমনি করে তারা দুজনেই একটু একটু ভালবাসা জমা করছিল।

বিয়ের প্রথম রাতে পাশাপাশি যখন শুতে হলো, উফ; কি বিরক্তি! সে রাতে অনন্ত বেশ

নাজেহাল হয়েছিল।

বেশ সময় লেগেছিল বিষয়টা সয়ে নিতে শ্রাবনীর। অন্যদের খবর সে জানে না কিন্তু

তার বেলাতে এরকমই হয়েছিল।

এইতো সেদিনের কথা। কত দ্রুত চলে গেল সময়গুলো। কত দ্রুত! কি প্রগাঢ় সম্পর্ক

হয়েছিল দুজনের। এতো নিবিড় সম্পর্ক কি ভাবে গড়াচ্ছিল নিজেরাও জানেনা।

অনেকেই জিজ্ঞেস করতো শ্রাবনীকে, সিক্রেটটা কি?

কিসের সিক্রেট?

তোমাদের এরকম মারাত্বক প্রেমের ফ্লেভার হলো কি করে?

ফ্লেভার টের পাওয়া যায়?

শুধু যায়? ঈর্ষা হয় যে!

হতেই পারে। কোনদিন অনন্তকে একা রেখে বাবার বাড়ি যায়নি শ্রাবনী। কেন

যাবে? সে অনন্তকে একা ফেলে বাবার বাড়ী গেলে অনন্তর কষ্ট হবে। শুনেছে শুধু,

ঝগড়া করে মেয়েরা বাপের বাড়িতে গিয়ে থাকে। অনন্ত আর শ্রাবনীর মধ্যেও এটা

ওটা নিয়ে টুকটাক ঝামেলা হয়েছে, তাই বলে সুটকেস হাতে বাপের বাড়ীতে

গিয়ে আশ্রয় নিতে হয় নি কখনোই। সমস্যা হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি দিয়ে সমাধান

করে নিয়েছে।

এইসব মিলিয়ে ভালবাসার যে রসায়নটা হলো তাতে দুজনে কখনোই নিজেদেরকে

অসুখিভাবার সুযোগ পায়নি। অনন্ত হ্যান্ডসাম। শ্রাবনীর তেমন কোন আলগা

চটকই নেই, তবুও কি যেন আছে। কি যেন আছে। এই কি যেনটাই বোধহয়

ভালবাসা। শ্রাবনীর সারা অবয়বেই ভালবাসা দিয়ে মাখানো। টুপ টাপ করে ভালবাসা

বকুল ফুলের মত ঝরে পরে, কুড়িয়ে নিলেই চমৎকার মালা!

ট্রেনিংয়ে গেল অনন্ত জামার্নি, অফিস থেকে। দুমাসের জন্য। তিরিশটা চিঠি

লিখেছিল শ্রাবনীকে। একটা চিঠিতে অনন্ত লিখেছিল — কাজ শেষে হোটেলে শুয়ে

আছি। আমার সিনিয়র কলিগ এসে বললেন, আরে ইয়ংম্যান, এটা শুয়ে থাকার সময়?

বাইরের লবিতে গিয়ে দেখেন, সুন্দরী সব মহিলারা কেমন টুক টুক করে হেঁটে

বেড়াচ্ছে। আমি ওঁর কথার কোন উত্তর না দিয়ে মনে মনে হাসলাম। হাসলাম কেন

জান? জান না। তোমাকে জানাই শ্রাবনী -আমার সামনে যদি এখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ

সুন্দরী মেয়েটিকেও হাজির করা হয়, আমার কিছুই আসে যায়না। আমি আমার

শ্যামলা বরণ শ্রাবনীকেই দেখতে চাই। সত্যি বলছি, একটুও মিথ্যে করে বলছিনা

গো। পৃথিবীর সব সুখ, সব আনন্দ সব মায়া শ্রাবনী নামের মেয়েটি ধারন করে

আছে, চোখ সরালে নিজের কাছেই ছোট হতে হবে যে! কি করে সরাই বলো?

এই হলো ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার, অনন্ত রায়হান। এমএ পাশ শ্রাবনীর সাথে

বিয়ের আগে সামান্য পরিচয় ছিল। আলতো একটু প্রেমের ছোঁয়া, ব্যাস। কিন্তু

বিয়ের পর অনন্তর প্রেমে এমন করেই ডুবে যাচ্ছিল যে নিজের কেরিয়ার গড়ার কথা

ভাবারও সময় পায়নি শ্রাবনী। এরকমও হয়? হয়েছে তো!

অফিস থেকে এসে তোমাকে না দেখলে আমার পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায় শ্রাবনী।

মনে হয় কি যেন নেই, আমার ভেতরের আমিটা নেই, সব কিছু শূন্য লাগছিল। সত্যি

বলছি।

একদিন কি কাজে যেন শ্রাবনী বাইরে গিয়ে ফিরতে একটু দেরি  করেছিল।

অনন্ত অফিস থেকে এসে তিনবার বেল বাজিয়েও কোন সাড়া না পেয়ে নিজের

কাছে থাকা চাবি দিয়ে দরজা খুলেছিল। শ্রাবনী ফিরলে ঠিক এভাবেই বলেছিল

অনন্ত। অনন্তর চোখে যে ব্যথা আর আকুতি দেখেছিল সেদিন, বুকটা মোচড়

দিয়ে উঠেছিল শ্রাবনীর। চোখ দেখে এত ব্যথা বোঝা যায়? হ্যা যায়। যায় বলেই ঐ

সময়টাতে কখনোই সে আর বাইরে থাকেনি। অনন্ত এলে হাসি মুখে দরজা ধরে

 

দাড়িয়েছে।

 

মাসের বেতনের টাকাটা এনে শ্রাবনীর হাতে ধরিয়ে দিয়েছে অনন্ত। কখনোই

নিজের কাছে রাখতে চায়নি। তার এক কথা, তুমি আমার হোম ম্যানেজার, তাহলে

আমি দেখব কেন এসব?

তুমি আসলে ভীষণ চালাক অনন্ত। চালাকি করে দায়িত্ব দিয়ে দিচ্ছ।

চালাকির কি আছে সোনা। এটা তোমারই দায়িত্ব, আমার না।

তোমার কাছে কিছু টাকা অন্তত রাখ।

দরকার কি? লাগলে তোমার কাছ থেকে চেয়ে নেব।

চাইতে তোমার লজ্জা করবে না?

নিজের বউ, চাইতে লজ্জা করবে কেন? তুমি আমার লক্ষী বউ, সব কেমন ম্যানেজ করে

নিয়েছ। এই সামান্য টাকায় আমি এত সুন্দর করে চালাতে পারতাম না।

এর চেয়েও কম টাকায় মানুষ সুন্দর করে সংসার চালায় অনন্ত।

সংসার চালায় ঠিকই কিন্তু তোমার মত সুন্দর করে নয়।

একটুকু ছোঁয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি। ভালাবাসার জন্য এসবও ছিল উপাদান।

খুব বেশি কিছু তো লাগেনা, এইটুকু হলেই প্রান ভরে থাকে।

আমার কি ইচ্ছে করে জান অনন্ত, হাসতে পারবে না কিন্তু।

না হাসব না, কাঁদব, ঠিক আছে?

ঠিক আছে বাবা। আমার ইচ্ছে করে তোমাকে আমার বুকের ভেতর, এই যে দেখ,

এইখানে রেখেদি।

আমার কিন্তু সত্যি কাঁদতে ইচ্ছে করছে শ্রাবনী। এইখানে রেখে দিলে আমি

তোমাকে চুমু খাব কেমন করে, আদর করব কেমন করেরে বোকা মেয়েটা।

তাইতো, এটা তো ভেবে দেখিনি। শ্রাবনী তার দুষ্টু দুষ্টু চোখে হাসির ঝিলিক তোলে।

চুমু ছাড়া কি করে ঘুমাব। একটা চুমু অন্তত চাই, না হলে যে ঘুমাতে

পারব না। ঠোঁট কামড়ে গালে হাত দিয়ে শ্রাবনী গম্ভীর হওয়ার ভান করেছে।

জ্বর হলো একবার অনন্তর। সারা রাত জেগে থাকল শ্রাবনী। যতক্ষন না জ্বর কমলো মাথার

কাছে বসে হাত বুলালো। ভোরের দিকে শ্রাবনী ঘুমালে অনন্ত অনেকক্ষণ তাকিয়ে

দেখল তার বউকে। সত্যিই এই মেয়েটা আমার বউ! ওকি সাধনা করেছিল এরকম

একটা বউ পাওয়ার জন্য? সাধনা করেনি সত্য, কিন্তু ভেবেছিল নিশ্চয়ই। অথবা ভাবনার

বাইরেও তো অলৌকিক কত কিছু ঘটে যাচ্ছে, সেরকমই হবে হয়ত। কারণ জ্বর হলে

বউ সারা রাত মাথার কাছে বসে থাকতে পারে, এরকম ভাবনা কখনোই সে ভাবেনি

বোধহয়। আবার ভেবেও থাকতে পারে।

রান্না ঘরে টুক টাক কাজ করছিল শ্রাবনী। শুক্রবার বলে এই সময়টাতে অনন্ত

বিছানায় শুয়ে শুয়ে বই পড়ছিল। শ্রাবনী শুনল অনন্ত তাকে ডাকছে। কি বলছে

ঠিকমত শোনার জন্যই হাতটা ধুয়ে ঘরের দিকে এগোলো শ্রাবনী।

শ্রাবনী শুনে যাও, শীগগীর এস,এক্ষুণি না এলে আমি মরে যাব।

এটা কি ধরনের কথা অনন্ত! হাত মুছতে মুছতে কাছে আসে শ্রাবনী।

এক ঝটকায় বুকের মধ্যে টেনে নেয়,মাথাটা। বুকের কাছে চেপে ধরে বলে অনন্ত,

চুপ করে থাক শ্রাবনী। কোন কথা বল না এখন। আমার বুকের মধ্যে তোমার জন্য হঠাৎ

করে কেমন জানি করে উঠল। মনে হলো এই মুহূর্তে তোমাকে জড়িয়ে না ধরলে,

বুকের মধ্যে না ধরলে মরেই যাব। সত্যি বলছি। মরেই যাব।

না কোন কথাই বলেনি শ্রাবনী। মাথাটা অনন্তর বুকের মধ্যে রেখে চুপ করেছিল।

ধুকধুক ধুকধুক শুনতে পাচ্ছিল বুকের ভেতর থেকে।

এখন যাই? মাথাটা একটু আলগা করে বলেছিল শ্রাবনী। যদিও তার ইচ্ছে করছিলনা

বলতে কথাটা তারপরও বলতে হয়েছিল কাজের কথাটা মনে করে।

উহু, আরও পাঁচমিনিট। আমার ছুটির দিন তুমি রান্নাঘরে কোন কাজ করবে না

শ্রাবনী। যেটুকু না হলেই চলে না ততটুকুই, ব্যাস। আমার চোখের সামনে থাকবে

শুধু। ঘুরঘুর করবে ভ্রমরের মত, কাছে আসবে ছুঁয়ে দিয়ে আবার ঘুরবে, হা হা হা।

সময় যে কত সুন্দর ভাবে কাটে প্রতি মুহূর্তে অনুভব করত শ্রাবনী। তার জীবনের

প্রতিটি দিনকে মনে হতো তাজা গোলাপ, সবুজ সবুজ কচিপাতা, রেলিং বেয়ে

বেড়ে উঠা গুল্মলতার ডগা। যাদের দিকে তাকালে ভাললাগা ছাড়া আর অন্যকিছু

অনুভূত হয় না।

তোমার বোরিং লাগে না শ্রাবনী, মনে হয়না একঘেয়ে এই জীবন।

তোমার লাগে অনন্ত?

না, আমার লাগে না।

তাহলে কেন এই প্রশ্ন করলে?

করলাম। প্রশ্নটা এল, তাই করলাম। তাছাড়া সব কেনর তো উত্তর নেই।

সত্যিই বোরিং লাগেনা। আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই অনন্ত, একটা শিক্ষিত

মেয়ে হয়ে আমি কি করে শুধু ঘরে বসে কাটিয়ে দিচ্ছি। তবে সব কিছু সম্ভব

হয়েছে তোমার ভালবাসার জন্য অনন্ত। বিলিভ মি।

এইভাবেই তাদের ভালবাসার মধু তৈরি হয়েছিল বিন্দু বিন্দু করে। বিন্দু বিন্দু দিয়ে

সিন্ধু!

কিন্তু এই সিন্ধু আক্রান্ত হলো।

রাতে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক হলো। হসপিটাল নিয়ে যেতে যেতে সিন্ধু শুকিয়ে

গেল। কি করে সম্ভব? চমৎকার স্বাস্থ্য ছিল অনন্তর। কোন কমপ্লেইন করেনি কখনো।

তাহলে কি করে চলে গেল সে এত কম সময়ের নোটিশে? কিন্তু গেলতো!

বোবা হয়ে যায়নি শ্রাবনী। চিৎকার করে করে কেঁদেছিল। একদম গলা ছেড়ে। ইউ

কান্ট লিভ মি অনন্ত, ইউ কান্ট। চিৎকারের মধ্যে এই বাক্যটাই বোধহয় বেশি

বলেছিল সে। শুনতে পেয়েছিল কি অনন্ত? নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে

কি সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়? জানে না শ্রাবনী। তবে তার চিৎকার শুনতে পেলে

কোনভাবেই অনন্ত নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না, এই বিশ্বাস তার আছে। নিশ্চয়ই

অনন্ত শুনতে পায়নি। ঈশ্বরকে অভিসম্পাত করেছিল শ্রাবনী। হ্যা, করেছিল। তাদের

প্রেম দেখে ঈশ্বর ঈর্ষান্বিত। চিৎকার করে বলেছিল সেসব।

মারকুটে সব স্বামী স্ত্রীরা দিব্বি যেখানে এক ছাদের নীচে থেকেও বছরের পর বছর

কথা বার্তা না বলেও সংসার করছে, সেখানে এমন একটি মধুর সম্পর্ক থেকে কি

করে একজনকে ঈশ্বর ছিনিয়ে নিতে পারেন শ্রাবনী বোঝে না। ধার্মিক মহিলারা

তাকে ধর্ম দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছে, দার্শনিক মানুষেরা তাকে দর্শন দিয়ে

বোঝানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু শ্রাবনীর মনকে ধর্ম, দর্শন কোনটাতেই শান্ত করা

যাচ্ছে না।

তিন বছর হতে চলেছে অনন্তর জন্য দরজা খুলে দাঁড়াতে হয় না। অনন্ত ডাকলেই তো

শ্রাবনী কাজ ফেলে দৌড়ে এসেছে তবে কেন সে চলে গেল? তার কি একটু দেরি

হয়ে যেত আসতে? উহু, কখনোই হয়নি, তবে? ঈশ্বর কি জওয়াব দেবেন! এত

ভালবাসা দিয়ে মানুষকে না পাঠালেও তো হতো? দশবছরের বিবাহিত জীবনে অনন্ত

ছাড়া যে তার কেউ নেই! সে কথাও কি একবারও ভেবেছেন ঈশ্বর! শ্রাবনী জানেনা।

নাকে তুলো গুঁজে দেওয়া অনন্তর শুয়ে থাকার দৃশ্য ভুলতে তাকে কি করতে হবে সে

ভেবে পায় না। এই দৃশ্য দেখে সে চিৎকার করে আকাশের দিকে দুহাত তুলেছিল, তুমি

কি লুকিয়ে রয়েছ ঈশ্বর?

শ্রাবনীর এই চিৎকার ঈশ্বর সহ্য করেছিল কেমন করে?

শ্রাবনী যদি এখন কোনো উল্টোপাল্টা কাজ করে তাহলে এর দায়ভার কে নেবে?

একেক সময় ভাবে শ্রাবনী তার সব স্মৃতিশক্তি কেন নষ্ট হয়ে যায় না! সব কিছু ভেঙ্গে

খান খান করে দিতে ইচ্ছে করে। দাঁতে দাঁত চেপে শ্রাবনী নিজেকে ব্যালেন্স করার

চেষ্টা করে। কত স্বপ্ন ছিল অনন্তর। এটা করবে সেটা করবে, এখানে যাবে, ওখানে

যাবে, কত স্বপ্ন! এসব কি শ্রাবনীর জন্য রেখে গেছে? এই এতসব স্বপ্নগুলো কি

শ্রাবনী পুরন করতে পারবে? এত শক্তি তো তার নেই। সে যে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে!

আর তার নিজের তো কোন স্বপ্ন ছিল না। অনন্তর এত স্বপ্ন ছিল যে শ্রাবনীর

স্বপ্নগুলো তার সাথে প্যারালাল হয়ে যেত।

তাই প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ শ্রাবনী প্রার্থনা করে অনন্ত যে জায়গায় চলে গেছে

সে জায়গায় যেন ঈশ্বর তাকেও নিয়ে যেতে দ্বিধা না করেন। রোজই প্রার্থনা করে

শ্রাবনী। উঠতে বসতে, খেতে শুতে, বলতে গেলে প্রতি মুহূর্ত।  তবে তার শ্রেষ্ঠ

জায়গা এবং সময় হলো স্নানের সময়। এসময় সে একা, একদম একা। সে,

স্নানঘর আর ঈশ্বর। ঈশ্বরের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে শাওয়ার ছেড়ে দিয়ে চিৎকার করে

প্রার্থনা করে শ্রাবনী। পানির ধারার সাথে তার কান্নার জলগুলো একাকার হয়ে নেমে

যায়। সে তখন ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ে। বসে হাটুতে মুখ গুজে পানি ও জলের ধারায়

সিক্ত হয়। প্রতিদিন, প্রতিদিন। ঈশ্বর, আমাকে অনন্তর কাছে পৌছে দাও!

আমাকে অনন্তর কাছে পৌছে দাও। ইশ্বরের কি বোধোদয় হয়? কিংবা লজ্জিত! কারণ

শ্রাবনীর এই বুক নিংড়ানো প্রার্থনা থেমে থাকে না। স্নানঘর, জলের ধারা আর ঈশ্বরের

প্রতি অভিমান অব্যাহত থাকে অনন্তকাল।

 

আনোয়ারা আজাদ
আনোয়ারা আজাদ

Author: আনোয়ারা আজাদ

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment