জাতির জনকরে গ্রেফতার, রর্বাট ফ্রস্ট ও র্পূবাপর

২৫ র্মাচ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রফেতার করা হয়। এর আগে ২৪ মার্চ সকাল থেকে অগণিত মানুষের ঢল নামে শেখ মুজিবের বাসভবনের সামনে। একের পর এক জঙ্গি মিছিল এসে জড়ো হতে থাকে। লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পরে তিনি মুক্তিপাগল জনতার সামনে এসে দাঁড়ান। তিনি তাদের বলেন:

আমি জানি না সংগ্রামকে সুতীব্র করতে আমি আপনাদের আদেশ দেবার জন্যে বেঁচে থাকবো কীনা, অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। (বাংলাদেশ ডকুমেন্টস: প্রথম খুন্ড, পৃষ্ঠা-২৬৭)

হামলা পরিকল্পনা, যার নামকরণ করা হয় ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ অনুমোদন দিয়ে সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট হাউস থেকে হোটেলে ফিরে সাংবাদিকদের সামনে ইয়াহিয়া বললেন:

আমরা কিছুটা এগিয়েছি। পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি মর্মান্তিক ও দুর্ভাগ্যজনক। (বাংলাদেশ ডকুমেন্টস: প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা ২৬৪)

সন্ধ্যায় ভুট্টো যখন ইয়াহিয়ার সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, তার ঘন্টাখানেক আগে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে তিনটে হেলিকপ্টার আকাশে উড়ল। দু’টার যাত্রী দু’জন জেনারেল, তৃতীয়টির তিনজন সিনিয়র অফিসার। একটা যাবে যশোর, যাত্রী মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। তিনি যশোর সেনানিবাস অধিনায়ককে অপারেশন সার্চ লাইট সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন এবং করণীয় সম্পর্কে নির্দেশ দেবেন। একই উদ্দেশ্যে কুমিল্লা সেনানিবাসে নামলো মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজার হেলিকপ্টার, কাজ শেষ করে যাবেন চট্টগ্রাম। সেখানকার সিনিয়র বাঙালি অফিসার ব্রিগেডিয়ার মজুমদারকে ঢাকায় এনে চিরকালের মতো পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া হবে। তৃতীয় হেলিকপ্টারটি প্রথমে যাবে সিলেট, সেখান থেকে রাজশাহী এবং রংপুর ক্যান্টনমেন্ট। তারপর নির্দেশ আসামাত্র বন্য হিংস্রতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

২৫ মার্চ​। মিছিলের পর মিছিল আসছে পড়ছে ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরে। তাদের উদ্দেশ্যে শেখ মুজিব বললেন:

আমাদের দাবি ন্যায্য এবং পরিষ্কার। দাবি হুবহু মেনে নেয়া ছাড়া ভিন্ন কোন পথ নেই।

এক বিবৃতিতে তিনি সৈয়দপুর, রংপুর জয়দেবপুরে সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে সারা বাংলাদেশে ২৭ মার্চ হরতালের ডাক দিলেন।

সন্ধ্যা সাতটায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান করাচিগামী বিমানে চড়ার জন্যে তেজগাঁও বিমান বন্দরে পৌঁছলেন। তিনি আদেশ দিয়ে যান, তার বিমান পশ্চিম পাকিস্তানের আকাশসীমা স্পর্শ না করা পর্যন্ত হামলা শুরু হবে না। কিন্তু বিমানে ওঠার সিঁড়িতে তার পা পড়ার আগেই খবর পৌঁছে যায় শেখ মুজিবের কাছে। জেনে যান আর আর নেতারা। এবং সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হতেই শহর যেন এক উথাল পাথাল অস্থিরতায় টালমাটাল হয়ে ওঠে। শহরে সেনাবাহিনীর প্রবেশ রোধে রাস্তায় ব্যারিকেড পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে মানুষ ছুটতে শুরু করে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে। শুধু একমাত্র মুজিব-শেখ মুজিব রইলেন স্থির, অবিচল। তিনি নড়বেন না কোথাও। ঘরেই থাকবেন। গ্রেফতার বরণ করবেন। ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাবার জন্য তার কাছে অনুরোধ-উপরোধ এলো। ‘র’ তাকে অনুরোধ জানায় হামলা শুরু হবার বার ঘন্টা আগে। অশোক রায়না জানাচ্ছেন:

চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী নেমে পড়ার পর পর ‘র’- এর এজেন্টরা যে বার্তা পায়, তা তাঁকে মেনে নেয়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। গত ১২ ঘন্টা যাবৎ তারা মুজিবকে ঢাকা ত্যাগের জন্য রাজী করানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু মুজিব দৃঢ়তার সাথে অসম্মতি জানান। (অশোক রায়না: ইনসাইড র, পৃষ্ঠা ৫৪)

এ বিষয়ে পশ্চিম বাংলার সাংবাদিক জ্যোতি সেনগুপ্ত বলেন:

আগের রাতে, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ গোয়েন্দা সূত্র আওয়ামী লীগকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হামলার কথা জানিয়ে দেয়। জেনারেল ওসমানী ধানমন্ডির বাসভবনে আসেন শেখের সঙ্গে দেখা করতে এবং তিনি তাঁকে একই খবর দেন। ২৫ মার্চ শেষ রাত পর্যন্ত করণীয় নিয়ে তাঁরা আলোচনা করলেন। সিদ্ধান্ত নেয়া হলো তারা আত্মগোপন করবেন এবং পালিয়ে ভারতে চলে যাবেন। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তাজউদ্দিন এসে দেখেন তিনি তাঁর বিছানাপত্র গুছিয়ে তৈরি হয়ে আছেন। মুজিব তাকে বললেন যে, তিনি থেকে যাবেন-গ্রেফতার বরণ করবেন। (জ্যোতি সেনগুপ্ত: ইন ব্লাড অ্যান্ড টিয়ারস, পৃষ্ঠা-৩৬-৩৭)

১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাস শেষ হবার দিন চারেক আগে শেখ মুজিবকে লায়ালপুর জেল থেকে রাওয়ালপিন্ডির বি এফ এল এ ভবনে আনা হয়। কড়া প্রহরাবেষ্টিত এই ভবনে এলেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। ২০ ডিসেম্বর তিনি খন্ডিত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। মুজিবের সঙ্গে আলাপ করার জন্য তিনি দুদিন আসেন এ ভবনে। তাদের আলাপচারিতার পুরোটাই টেপবদ্ধ হয়ে যায়। মুজিব বলছিলেন ভুট্টোকে:

আমি বাড়িতেই ছিলাম। যা ঘটছিল তার সবই জানতে পারছিলাম কিন্তু আমি পালাইনি। কী জন্যে? কেবলমাত্র দেশকে রক্ষার জন্যে। কোন হিংস্রতা নয়। আমি আঘাত হানতে পারতাম কিন্তু হানিনি। প্রচুর লোক মারা যেত। কিন্তু আমার কোন সন্দেহ ছিল না যে, ইয়াহিয়া আমাকে গ্রেফতার করতে চাইছেন…আমার গ্রেফতারের পূর্বে সকল রাজনৈতিক নেতাদের আমার বাড়ি থেকে চলে যেতে বলি। আমি গ্রেফতার বরণ করি, কেননা এটা আমার দেশ।”(স্ট্যানলী উলপার্ট: জুলফি ভুট্টো অব পাকিস্তান, পৃষ্ঠা-১৫৬।)

শেখ মুজিব কেন গ্রেফতার বরণ করলেন এ সম্পর্কে তিনি ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেনঃ

ফ্রস্ট: তখন ৮টা বাজে, আপনি আপনার বাড়িতেই ছিলেন, ওই রাতেই আপনাকে আটক করা হয় এবং আমার বিশ্বাস আপনি একটি হুশিয়াঁরি পান টেলিফোনে যে, সেনাবাহিনী আসছে। আপনি বাড়িতে থেকে যাবার এবং গ্রেফতার বরণের সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?

শেখু মুজিব: দেখুন: এ বিষয়ে বেশ মজার গল্প রয়েছে। ওই সন্ধ্যায় কমান্ডোরা আমার গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং তারা আমাকে হত্যা করতে চাইছিল। যদি আমি বাড়ির বাইরে আসতাম, আমার লোকদের নাম জড়িত করতো এবং বলতো যে, মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছে বাংলাদেশের চরমপন্থীরা। এর পরই তারা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নি নিতো।  বিশ্বকে বলতো যে, আমরা মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম কিন্তু চরমপন্থীরা মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া ইয়াহিয়া খানের বিকল্প আর কিছু নেই। এটা ছিল তাদের প্রথম অভিপ্রায়। আমি জানি তারা পশুবৎ বর্বর। তারা আমার সমগ্র জনগণকে হত্যা করবে। তারা একটা হত্যাযজ্ঞ ঘটাবে। আমি ভাবলাম, আমার মরে যাওয়াই শ্রেয় এবং অন্তত রক্ষা করি আমার জনগণকে যারা আমাকে অত্যন্ত ভালবাসে।

ফ্রস্ট: আপনি সম্ভবত কলকাতায় যেতে পারতেন?

শেখ মুজিবুর: যদি আমি যাবার জন্য প্রস্তুত থাকতাম, আমি যে কোন জায়গায় যেতে পারতাম, কিন্তু কীভাবে আমি আমার জনগণকে ছেড়ে যেতে পারি? আমি জাতির নেতা। আমি লড়তে এবং মৃত্যুবরণ করতে পারি কিন্তু আমি আমার জনগণকে প্রতিরোধ করতে বলেছিলাম। (বাংলাদেশ ডকুমেন্টস: দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৬১৪-৬১৫)

ফ্রস্ট: আপনাকে তারা ঠিক কিভাবে আটক করলো। রাত তখন ১ টা ৩০ মিনিট। ঠিক কী ঘটেছিল?

শেখ মুজিবুর: তারা প্রথমে আমার বাড়িতে মেশিনগানের গুলি চালায়।

ফ্রস্ট: তারা যখন আসে তখন আপনি কোথায় ছিলেন?

শেখ মুজিবুর: আমি আমার শোবার ঘরে বসেছিলাম-এই হচ্ছে আমার শোবার ঘর। ওই দিক থেকে তারা মেশিনগানের গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। কয়েকটি মেশিনগান এই দিকে ছিল এবং ওই দিক থেকে তারা জানালায় গুলি শুরু করে।

ফ্রস্ট: এগুলো সবই ধ্বংস হয়েছিল?

শেখ মুজিবুর: সবই ধ্বংস হয়েছিল। আমি আমার পরিবারের সঙ্গে ছিলাম। একটি গুলি শোবার ঘরে চলে আসে। বিছানায় আমার ছ’বছরের শিশু ঘুমাচ্ছিল। আমার স্ত্রী দু’সন্তানকে নিয়ে এখানে ছিলেন।

ফ্রস্ট: পাকিস্তানি সৈন্যরা কোন দিক দিয়ে আসে?

শেখ মুজিবুর: সব দিক দিয়ে এবং তারা জানালা লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া শুরু করে। তখন আমার স্ত্রীকে দু’সন্তান নিয়ে এখানে বসতে বললাম। স্ত্রীকে রেখে ঘরের বাইরে চলে এলাম।

ফ্রস্ট: তিনি কি বললেন?

শেখ মুজিবুর: একটি কথাও বললেন না। আমি তাঁকে একটি বিদায় চুম্বন দিলাম। আমি দরোজা খুলে বাইরে এলাম এবং তাদেরকে গুলি ছোঁড়া বন্ধ করতে বললাম। আমি বললাম, ‘বন্ধ করো গুলি। এই তো আমি এখানে। কেন গুলি ছুঁড়ছো তোমরা, কী জন্যে? ’ তখন চারদিক থেকে সৈন্যরা অস্ত্র উঁচিয়ে ধেয়ে আসে আমাকে আক্রমণ করার জন্য। একজন অফিসার ছিল এখানে। যে আমাকে জাপটে ধরলো এইভাবে, বললো, ‘মেরো না তাঁকে।’

ফ্রস্ট: কেবলমাত্র একজন অফিসার তাদের ঠেকালো?

শেখ মুজিবুর: হ্যাঁ। তারপর তারা আমাকে সেখান থেকে টেনে বের করে নিয়ে যেতে থাকলো এবং পেছন থেকে আমার পায়ের ওপর আঘাত করতে লাগলো। এখানে সেখানে বন্দুকের কুঁদো দিয়ে ঠেলতে থাকে। আফিসার আমাকে আগলে রাখে কিন্তু তারপরও তারা আমাকে ঠেলতে থাকে। এবং টেনেহিঁচড়ে নিচে নিয়ে আসে। আমি বললাম, ‘আমাকে টানছো কেন? আমাকে আমার পাইপ আর তামাক আনতে দাও। অথবা আমার স্ত্রীর কাছ থেকে নিয়ে এসো। পাইপের আমার দরকার।’ এরপর আমি আবার উপরে চলে এলাম এবং দেখলাম দু’সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তারা আমার পাইপ এবং একটা ছোট সুটকেস এনে দিল। আমি চলে এলাম। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম চারদিকে আগুন জ্বলছে। তারা আমাকে এখান থেকে নিয়ে গেল’। (বাংলাদেশ ডকুমেন্টস- দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৬১৫-৬১৬)

শেখ মুজিবকে গ্রেফতারের সময় সেখানে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানের জনসংযোগ অফিসার মিঃ সিদ্দিক সালিক। তিনি লিখেছেন:

হামলাকারি প্লাটুনের সঙ্গে ছিলেন কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জেড এ খান ও কোম্পানি কমান্ডার মেজর বিল্লাল। কমান্ডোরা মুজিবের বাড়ির কাছাকাছি হলে গেটে অবস্থানরত সশস্ত্র প্রহরীদের গুলিবর্ষণের মুখোমুখি হলো। প্রহরীদের দ্রুত অকেজো করে ফেলা হলো এবং মুহূর্তে পঞ্চাশ জন শক্তিধর সৈন্য দৌড়ে চারফুট উঁচু বাড়ির ঘেরা দেয়াল ডিঙিয়ে ভেতরের চত্বরে নামলো। স্টেনগানের ব্রাশ ফায়ারের মাধ্যমে তারা তাদের উপস্থিতি ঘোষণা করলো এবং চিৎকার করে শেখ মুজিবকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানালো। কিন্তু কোন সাড়া এলো না। তারপর দুপদাপ শব্দ তুলে হুড়োহুড়ি করে বারান্দায় উঠলো তারা। এরপর দোতলায়। অবশেষে মুজিবের শোবার ঘর খুঁজে বের করলো। দরজা বাইরে থেকে তালা মারা ছিল। একটি বুলেট ঝুলন্ত ইস্পাত খন্ড বিদীর্ণ করলে মুহূর্তে সেটা খুলে নিচে পড়ে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে মুজিব রুম থেকে বেরিয়ে এলেন। গ্রেফতারের জন্যে নিজেকে সোপর্দ করলেন। মনে হল, তিনি এর জন্যেই অপেক্ষা করছিলেন। ….পরবর্তীতে আমার বন্ধু মেজর বিল্লালের কাছে জানতে চেয়েছিলাম কেন তিনি সে সময় উত্তেনার মুহূর্তে মুজিবকে শেষ করে দিলেন না। তিনি বললেন, ‘মুজিবকে জীবন্ত গ্রেফতারের জন্য জেনারেল মিঠঠি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন”। (লেখক মাসুদুল হক অনুদিত সিদ্দিক সালিকের নিয়াজির আত্মসমর্পণের দলিল, পৃষ্ঠা ৮৬)

হামলা শুরু হবার পরপর ২৬ মার্চ পড়ে গেছে, শেখ মুজিবের কন্ঠ ভেসে ওঠে একটি বেতার তরঙ্গে। ওই তরঙ্গে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সিদ্দিক সালিকও তার পুস্তকে বলেছেন ওই একই সময়ে রেডিও পাকিস্তানের সরকারি তরঙ্গের কাছাকাছি একটি বেতার তরঙ্গ থেকে শেখ মুজিবের ক্ষীণ কণ্ঠ ভেসে আসে এবং সে কন্ঠে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়। সিদ্দিক সালিক লিখেছিলেন, তার ধারণা ওই বাণী আগেই রেকর্ড করে রাখা হয়। তবে এও বলেছেন, তিনি স্বকর্ণে শোনেননি সে ঘোষণা। (লেখক মাসুদুল হক অনুদিত সিদ্দিক সালিকের নিয়াজির আত্মসমর্পণের দলিল, পৃষ্ঠা ৮৬।) তিনি তথ্যটি পরিবেশন করেন ডেইলি টেলিগ্রাফের দক্ষিণ এশীয় সংবাদদাতা ডেভিড লোসাকের ‘পাকিস্তান ক্রাইসিস’ (লন্ডন, ১৯৭১, পৃষ্ঠা ৯৮,৯৯) পুস্তকের বরাত দিয়ে। আর নিজের লেখা বইতে তিনি সে ঘোষণাটির অংশ বিশেষ তুলে দিয়েছেন ভারতের তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডকুমেন্টস’ এর প্রথম খন্ড থেকে। সিদ্দিক সালিকের কাছ থেকেই কেবল নয়, এই ঘোষণার কথা আমরা জানতে পারি ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল নির্মিত স্বাধীনতার ফরমান থেকে, যা ১৭ এপ্রিল ঘোষিত হয় মুজিবনগর থেকে-তাতে বলা হয়:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি জনগণের অনিসম্বাদিত নেতা… যথা সময়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। (বাংলাদেশ ডকুমেন্টস: প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা ২৮১,২৮২)

আফরোজা পারভীন​

Author: আফরোজা পারভীন

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts