জীবন কেনো এমন হলো

জীবন কেনো এমন  হলো?

এই জীবনের জন্যে আমি

সবটুকুই কি দায়ী বলো?

শিশুকালে স্বপ্নে দেখা

সেই জীবন কি পাবো সখা?

কে হবে আর সেই দরদি,

বুকের কাছে তিতাস নদী

ভালোবেসে ফিরিয়ে দেবে?

এই যে জীবন যাপন করি

অন্ধকারে হাতড়ে ফিরি

কী খুঁজি বা কাকে রাজি

করতে সদাই প্রদীপ জ্বালাই

খুব গভীরে মনের বালাই

দূর করা তাই আর হলোনা,

নিজের কাছেই নিজের জীবন

খুব অচেনা লাগছে এখন!

রূপকথার এক রাজ্য ছিলো

কী সুন্দর সে বাল্যকালে,

রাজকুমারের মতো আমার

কাটতো জীবন হেলেদুলে।

আকাশের ঐ চাঁদটি যেন

নেমে আসতো দোরের কাছে,

স্বপ্ন দেখা জীবন আমার

কেটে যেতো কী উল্লাসে!

মায়ের-বোনের মায়া ছিলো,

যখন আমার বয়স হলো

তখন আবার জায়া হলো।

ঘরের মায়া ভুলিয়ে দিয়ে

কাছে থেকে হাত বাড়িয়ে

ফুলের গন্ধে ঘুম পাড়িয়ে

চোখ ধাঁধিয়ে পরীর দেশে

অবশেষে নিয়ে গেলো।

ঘুম ভেঙে আজ জেগে দেখি-

সব কিছু যে ছিলো ফাঁকি,

আমায় সহজ-সরল পেয়ে

পরীরা সব যায় পালিয়ে,

তবু আমি শূন্য পথে

দিনে কিবা রাত-বিরেতে

বাঁসি ফুলের গন্ধ পেতে

কী নিদারুণ খেলায় মাতি!

লকলকে এক জিহ্বা তুলে

কালনাগিনী ছোবল মেরে

করালগ্রাসে গিলে ফেলে

উগরে দিলো অবশেষে।

সর্বাঙ্গে বিষের জ্বালায়

আমি এখন জরজর,

বিষ ঝারাতে পথে-পথে

খুঁজে ফিরি বিষহরী ।

স্বপ্ন দেখা রাজ্যে এখন

দৈত্যদানব শ্বাপদ পাখি,

আমার এখন রক্তচোষা

বাদুড় এবং সর্প মেরে-

রাত কেটে যায় কী নির্ঘুমে।

আমি এখন খুব একাকী

একা একা স্বপ্ন দেখি-

পূরণ হয়না এই জীবনে।

স্বপ্ন ভেঙে জেগে থাকি

ঘুম আসেনা এই দুচোখে।

বোবা যেমন স্বপন দেখে

আকুল হয়ে বলতে চেয়ে

ফুটে ওঠে চোখে-মুখে,

আমার এখন বোবার মতো

স্বপ্ন দেখে দিন কেটে যায়,

রাত কেটে যায় কী নির্ঘুমে!

জহির আহমেদ
জহির আহমেদ

 

Author: জহির আহমেদ

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment