দরজা খোলাই আছে, চলে এস

শীতের ঠান্ডায় গলা বসে গেছে মটকু  ভাইয়ের, শরীরটাও জ্বর-জ্বর। তাই একটু আগে ভাগেই ছুটি নিয়ে বাড়িতে বিশ্রাম করতে এলেন। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর নাম ধরে ডাকতে গিয়ে দেখেন, গলা একেবারে বসে গেছে। তাই অনন্যোপায় হয়ে পাঁচিল টপকে স্ত্রীর ঘরের জানালায় টোকা দিতে দিতে ঝাপসা গলায় বললেন, দরজা খোল।

প্রায় সঙ্গে-সঙ্গে স্ত্রীর চাপা গলা শোনা গেল, দরজা খোলাই আছে, চলে এস। মটকু ভাই ফিরে গেলেন অফিসে।

 

মটকু  ভাইয়ের সাথে তার স্ত্রীর কথা বন্ধ। দুপক্ষের মধ্যে স্লিপ চালাচালি চলছে ছোট ছেলের মাধ্যমে। ভোরে ট্রেন ধরতে হবে, তাই মটকু ভাই লিখলেন- ভোর সাড়ে তিনটায় জাগিয়ে দিও।

যথারীতি ছোট ছেলের মাধ্যমে স্লিপ পৌঁছাল স্ত্রীর হাতে।

পরদিন ঘুম যখন ভাঙল, তখন সাতটা। মটকু ভাই ধড়মড় করে উঠে দেখেন মাথার কাছে স্ত্রীর স্লিপ পড়ে রয়েছে। তাতে লেখা- এখন সাড়ে তিনটা বাজে। উঠে ট্রেন ধরতে যাও।

 

সকালে চায়ের টেবিলে একখানা ডিটেকটিভ বই ফেলে দিয়ে মটকু  ভাই স্ত্রীকে বলল, দারুণ বই, আমি কাল রাত দুটো পর্যন্ত এক নিশ্বাসে পড়ে শেষ করেছি।

: কিন্তু কাল বারটার পরই লোডশেডিং ছিল না! বই পড়লে কী করে?

: পড়তে পড়তে এতই মগ্ন ছিলাম যে কিছুই টের পাই নি।

 

মটকু ভাইয়ের অফিসে যাওয়ার সময় স্ত্রী বলল, একটা অন্যায় করে ফেলেছি। রাগ করবে না বল?

: তোমার ওপর কি রাগ করতে পারি? কী হয়েছে?

: ইস্ত্রি করার সময় তোমার প্যান্টের পিছনটা পুড়ে ফেলেছি।

: তাতে কী হয়েছে? আমার তো ঠিক ওই রকম আরো একটা প্যান্ট আছে।

: জানি, সেই প্যান্টটা কেটেই তো পোড়া প্যান্টটা তালি মেরেছি।

Author: রক্তবীজ ডেস্ক

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment