নারীর আর্তনাদের শিষ শেষ হবে কবে

নারীর আর্তনাদের শিষ শেষ হবে কবে

মেয়েটা আত্মহত্যা করলো শেষ পর্যন্ত।বোকামী আর ভুলের খেসারত জীবন দিয়ে দেখালো।বোকা,আর কতকাল এই কপটতার দুনিয়ায়, মিঠেকথার নকলী কথায় ভুল করবে।আজকাল সামাজিক নানা অনাচারের সাথে সাথে ডিজিটাল অপরাধ ভীষণভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফেইসবুক,ইন্সট্রাগ্রাম,ভাইবার,ইমো,হোয়াটস অ্যাপ এধরনের আরো আধুনিক সব অ্যাপ এর মাধ্যমে শিশু,কিশোরী,তরুণীরা ঝুকছে আর নিজেদেরকে সর্বনাশের গর্তে ফেলছে অনায়াসে।
প্রতারণার শিকার হচ্ছে ফেইসবুকে।
সেদিন নবম শ্রেণীর মেয়েটিকে প্রেমের নামে কয়েকমাস ঘুরিয়ে, দেখা করার নাম করে অনার্স পড়ুয়া যুবকটি শ্লীলতাহানী করলো।
পরিবার,সমাজের ভয়ে, লজ্জায় মেয়েটি আত্মহত্যা করলো।
বর্তমানে এই ইতো চলছে।

কন্যাসন্তানদের নিয়ে অসহায় বাবা মায়েরা। কোনোখানে নিরাপত্তা নাই,পদে পদে হয়রানী।কোথাও নিরাপত্তার বেষ্টনী নাই।
না স্কুলগুলোতে,না কোনো কোচিং সেন্টারে।সবখানে যেন বিপদ ওত পেতে রয়েছে।শহর,গ্রাম সারাদেশের স্কুল,কলেজ,রাস্তা,ঘাটে অহরহ ঘটছে যৌন নির্যাতনের মত ভয়ানক অপরাধ।কোচিং সেন্টারগুলোতেও মেয়েগুলো নিরাপদ নয়,সারাক্ষণ পিতামাতার উৎকন্ঠা,টেনশন।

একটি মেয়ে,একজন নারী,জন্মদাত্রী মা এরা কি মানুষ নয়? শুধুই রক্তমাংস দিয়ে গড়া ভোগ্যবস্তু? জগতের সুখ,শান্তি,সমৃদ্ধি কখনোই একজন পুরুষের দ্বারা সম্ভব হতোনা পাশে যদি মমতাময়ী মানবীটি না থাকতো।তবে কেন এত অবজ্ঞা,অবহেলা? কেন এত অপমান,অত্যাচার প্রতিনিয়ত একজন নারী ভোগ করছে।শুধু সে নারী বলেই,নরম মন, দূর্বল হৃদয়ের, সহনীয় আত্মা বলে?

যতই শিক্ষিত হোক,সে তুলনায় বিয়ের পর একটি নারী কি তার সন্মান,মর্যাদা,আবেগের দাম আশানুরূপ পাচ্ছে? তার ইচ্ছা,আশা,স্বপ্ন সে মনের মত মেটাতে পারে না। একজন নারী নিজের কোনো স্বাধীনতা,অধিকার আদায় করতে পুরোপুরি, এখনো সক্ষম হয়নি আমাদের জং ধরা আদিমরীতির সমাজব্যবস্হায়।

চাকরীজীবী নারীরা সাবলীল হতে পারেনি আজো।দূর্ভোগ পিছু ছাড়েনা তাদের।সংসার,আপনজন,সমাজ,অফিস সব সমানতালে সামলিয়ে এগোতে হচ্ছে।তবুও কাউকেই সেরকম সন্তুষ্ট করতে পারছেনা।।
অফিসগুলোতেও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী, কিকরে তাদের পিছনে হটাবে,সর্বক্ষণ কাজের সমালোচনা,ছুটি ছাটা নিতে বিঘ্ন সৃষ্টি,যেন কিছুতেই সে উপরে উঠতে না পারে,,,,সে যেন অপাঙক্তেয়,,কিছুতেই শক্ত হয়ে দাঁড়াতে দিবেনা।
অথচ একটি মেয়েকে কত শত যন্ত্রণাময় অধ্যায় পেরিয়ে পড়াশোনা সম্পূর্ন করতে হয়।শিক্ষিত হয়েও অনেকের উপযুক্ত বিয়ের প্রস্তাব আসেনা বাবার বিত্ত না থাকার কারণে।সুশ্রী না হলে তো কথাই নেই,আরো বিপদ।

সমাজের দরিদ্র নারীদের কথা বলে শেষ করা যাবেনা।কবে তাদের অসহনীয় দূর্ভোগ শেষ হবে,দৈন্য গায়েব হবে কে জানে।তাদের মেয়েগুলোর বিয়ে হয়না অর্থের অভাবে,যৌতুক না দিতে পারায়।যাও সর্বস্ব বিক্রি বাট্টা করে, ঋণ,ধার করে বিয়ে দেয়া হয়,বেশিরভাগই টিকেনা।বিয়ের পর মেয়েটির অসহায়,হতদরিদ্রর বাবার কাছে স্বামীটির চাওয়া বাড়তেই থাকে,না দিতে পারলে শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়,নইলে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে নতুন করে বিয়ে করে পুরুষটি।এ সমাজের আনাচে কানাচে নীরবে ঘটেই যাচ্ছে,বেড়েই যাচ্ছে আশংকাজনকভাবে।
স্ত্রীর গায়ে হাততোলার ব্যাপারটি দরিদ্র বা নিম্নবিত্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।বহু ধনী,মধ্যবিত্তদের জীবনেও ঘটে যাচ্ছে নিরিবিলি,অনেকটা ভনিতার হাসির আড়ালে।কিছুতেই পুরুষটি মেনে নিতে চায়না নারীর উত্থান,এগিয়ে যাওয়া,সমপর্যায়,সমতা।পায়ের নীচে দাবিয়ে দমিয়ে রাখতে চায়।

    একজন নারী একজন মা,জননী,ঘরের শক্ত খুঁটি,শান্তির প্রচ্ছায়া,মায়ার আঁধার।সন্মান দিতে পারেনি জাতি, শেখেনি মর্যাদার আসনে বসাতে, আলোর পথ দেখাতে পারেনি বর্বর, নিষ্ঠুর একপেশে সমাজ।
 যুগ থেমে নেই,উন্নতি,দৃষ্টিভঙ্গী থমকে আছে নোংড়া মানসিকতার কাছে।পিছিয়ে পড়ছি তীব্র,তীক্ষ্ণ কূটিল অন্ধকারে।

  বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার সাথে সুর মিলিয়ে কবে সমাজ,জাতি গাইবে নারীর অবদান…….

“সাম্যের গান গাই
আমার চক্ষে পুরুষ রমনী কোন ভেদাভেদ নাই,
বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী,অর্ধেক তার নর।”

‘নারী’ কবিতার শেষে এসে কবি লিখেছেন,
“এতদিন শুধু বিলালে অমৃত,আজ প্রয়োজন যবে,
যে হাতে পিয়ালে অমৃত,সে হাতে কূটবিষ দিতে হবে।
      সেদিন সুদূর নয়-
যেদিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়।”

সুমি সৈয়দা
সুমি সৈয়দা

 

Author: সু‌মি সৈয়দা

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts