নীলাঞ্জনার প্রেমের চিঠি

নীলাঞ্জনার প্রেমের চিঠি

ভুলতে চেয়েও তোমাকে ভুলতে পারি না। প্রেমের সংজ্ঞা কি জানো তুমি?

বলতো কি? আমি কি প্রেম নিয়ে রিসার্চ করি, কি মনে হয় তোমার?

না- গো করি না।

হাজারো কাজের ভিড়ে একটু অবসর পেলাম, আমার বারান্দার পাশের গাছে পাখির মিষ্টি সুরের কুহুতান মিষ্টি ভোরের মতোই আমাকে আবেশে আবিষ্ট করে তোলে। তোমাকে তো মনে পড়ে গেল, মুখে আমার একটুকরো হাসি খেলে গেলো। কেন যেন এক ফোঁটা অভিমানি অশ্রু আমার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লো। একি সর্বনাশা ভালোবাসা আমার! এর নামই কি প্রেম!

আমরা দুজনতো কখনো দুজনার হাত ধরে হাঁটিনি, দুজনে দুজনার হাতটুকু পর্যন্ত স্পর্শ করিনি? তাহলে……. ? তুমি আমাকে  বুঝতে পারো কিনা জানিনা। দেখা হলে বুঝতে দেইও না। এক আত্ সম্মানবোধ আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে ফেলে। তুমি আমাকে ভালবাসো কিনা জানি না, কি জানি, হয়তো বা আমারই মতো তোমারও আত্মসম্মানবোধ তোমার বিবেককে জাগ্রত করে তোলে। কিন্তু প্রেম তো জানি বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো? তবে সেই জোয়ার কি কেবল তরুণ তরুণীদের জন্য? আমরা দুজনেই তো জীবনের এক প্রান্তে চলে এসেছি। তবুও পারছি কই এই পোড়া মনটাকে সামলাতে? আমরা দুজনই সমাজ সংসার ব্যক্তিত্ব নিয়ে চলাফেরা করি।

সেই ব্যক্তিত্ব দুজনকেই ছুঁয়ে যায়। আমি বুঝতে পারি, তারপরেও তুমি যখন একটু খোঁজ নাও আমার, আমি আবেশে চোখ বুঁজে ফেলি। অতি সাধারণ একটি কথা—“ কেমন আছো তুমি?” সেদিন আমার কাছে জানতে চাইলে তোমার দেয়া উপহারগুলো আমার পছন্দ হয়েছে কিনা? অবশ্যই পছন্দ হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় এগুলোর মধ্যে কোথায় যেন তোমার এক অদৃশ্য ভালবাসা লুকিয়ে আছে। তুমি মুখে না বললে কি হবে? আমি ঠিক বুঝতে পারি।

শোন, আমি তোমার দেয়া উপহারগুলো রোজ একবার করে বের করি, ওগুলোর উপর আমার হাত বুলিয়ে তোমার হাতের স্পর্শ অনুভব করি,  কি এক অদৃশ্য মায়ায় উপহারগুলোকে বুকে জড়িয়ে ধরি, এ যে তুমি, এ যে আমার হৃদয়ের সাত রাজার ধন!

যাক, অনেক কথাই তোমাকে লিখলাম। ইচ্ছে হলো লিখতে, তাই লিখলাম। তবে এটাও ঠিক- দু’জনার মাঝে ব্যক্তিত্বের সংঘাত হয় মাঝে মাঝে, হোক না। আচ্ছা, একটি কথা বলবো? বলতো তোমার কাছে মাঝে মাঝে হেরে যেতে ইচ্ছে করে কেন? তাই বুঝি কবি বলে গেছেন……… “হার মানা হার পরাবো তোমার গলে।” আমারও তাই হয়েছে। প্রিয়তমের কাছে হেরে যাওয়ার আনন্দটুকুই আলাদা। ইচ্ছে হচ্ছে চিঠির পাতায় গোলাপের পাঁপড়ি ছড়িয়ে দেই। ইচ্ছে হচ্ছে পাখির ঠোঁটে আমার চিঠিটি দিয়ে তোমার কাছে পৌঁছে দেই। ইচ্ছে হচ্ছে কাগজের নৌকা বানিয়ে এর মাঝে চিঠিটি ভাসিয়ে দেই তোমার উদ্দেশ্যে। তবে আমার প্রেমে কেবল কল্পনায় ছোঁয়া নেই, বাস্তবতারও ছোঁয়া আছে। সেটি অবশ্যই তুমি বুঝতে পারছো।

ভালবাসা কি জিনিস  বোঝ তুমি? একদিন প্রেমের সংজ্ঞা তুমি দিয়েছিলে, আজ আমিও দিলাম, দেখো তোমার মতের সাথে মেলে কিনা?

ভালবাসা জাত-পাত, ধর্ম, বিবেক, সময়, বয়স কিছুই মানে না।

ভালবাসা কেউ মনে ইচ্ছে করে আনতে পারে না। নদীর স্রোতের মতো তীব্র গতিতে হৃদয়ের জীবন নদীতে প্রবাহিত হয়। একে বন্ধ করে রাখা বড় কঠিন।

ভালবাসা কোন বিলাসিতা নয়, এটি দু’জনার ওপর দু’জনার বিশ্বাস, আস্থা, সম্মান।

ভালবাসা মনের এক নির্মল অনুভূতি। তবে  বড় যন্ত্রণা, ভালবাসা বড় যান্ত্রণাময়।

ভালবাসা ক্ষণিকের তরে দুজনার মনে অভিমান, রাগ, অনুরা। যেটি দুজনের হৃদয়কে আরো কাছে, আরো গভীরে নিয়ে আসে।

ভালবাসা মানে হৃদয়ের সাথে সাথে শরীরে জাগায় দুজনের প্রতি তীব্র আকর্ষণ।

তবে ভালবাসা “তুমি চোখের এক ফোঁটা অশ্রুও”।  

 

শেষ কথা….. “প্রেমেরই নাম সাধনা, কেন যে মধুর লাগে….

               প্রেমেরই নাম বেদনা, কেন যে বিধুর লাগে”

অনেক অনেক ভালবাসা রইলো।

ভালো থেকো।

ইতি

তোমারই নীলাঞ্জনা

মুশতারী বেগম

Author: মুশতারী বেগম

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment