পিকনিকে একদিন

প্রতিবারের মতো বার্ষিক বনভোজনে যাবো ক্লাবের সব বন্ধুরা মিলে। তাই  নিয়ে খুব হই চই আর জল্পনা কল্পনা চলছে। ক্লাবের ফাহমিদা নামের একজন সদস্যের খুব ইচ্ছে তাদের গ্রামের বাড়ি ঘোড়াশালেই এবারে পিকনিক করা।
সাথে সাথে সবাই  একবাক্যে বলে উঠলো,  ‘তাই হোক।পিকনিক স্পটে গিয়ে তো প্রতি বছরেই পিকনিক করা হয়।এবার না হয়  গ্রামেই করা হোক।’
নির্দিষ্ট দিনে দুটো বাসে করে সবাই আনন্দ করতে করতে চলেছি।
ফাহমিদা আগেই গ্রামের বাড়িতে খবর দিয়ে রেখেছিলো।
আমরা এসে দেখি সে এক এলাহি কাণ্ড! বাড়ির উঠানে প্যাণ্ডেল আর শামিয়ানা খাটানো।
একধারে বাবুর্চি রান্না করছে।রান্নার গন্ধে চারিদিক ম ম করছে।
ফাহমিদাদের বেশ কিছু আত্মীয়কেও দাওয়াত দেয়া হয়েছে।
সবাই মিলে সে এক জমজমাট আর আনন্দঘন পরিবেশ।
কেউ বা খেলছে,কেউ বা এদিক সেদিক বেড়াচ্ছে ,কেউ বা পুকুরের পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে, কেউ বা গল্প করছে।
দুপুরবেলা পরিবেশন করা হল পোলাউ, রোষ্ট আর রেজালা।এরপরে ঘরে তৈরি ফিরনি।
খাওয়া দাওয়ার পরে শুরু হল  গল্প, গান,আবৃত্তি, জোকস্ ইত্যাদি নিয়ে কিছু না কিছু পরিবেশন করা।
মিতুদিকে সবাই অনুরোধ করলো  একটা গান পরিবেশনের জন্যে।
মিতুদি প্রথমে না না করে শেষ পর্যন্ত এই বলে রাজি হলেন  যে, গান নয় আবৃত্তি হলে তিনি করতে পারেন।
সবাই বললো,  ঠিক আছে মিতুদি আবৃত্তিই হোক।
মিতুদিও গলা টলা পরিষ্কার করে  রবিঠাকুরের নির্ঝরের স্বপ্নভংগ কবিতাটি আবৃত্তি করতে শুরু করলেন।আবৃত্তি করতে করতে এক পর্যায়ে গিয়ে  “ওরে আমি যে আর প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি “পর্যন্ত এসে তার পরের লাইনগুলি গেলেন বেমালুম ভুলে। মিতুদির গলা তখন শুকিয়ে কাঠ।  সেই ভুল ম্যানেজ করতে গিয়ে তাড়াতাড়ি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা তার সাথে জুড়ে দিয়ে বলতে শুরু করলেন “আমি বেদুইন, আমি চেংগিস।আমি আপনারে ছাড়া করিনা কাহারে কুর্নিশ..।”
সাথে সাথে শ্রোতাদের মধ্যে একটা হাসির রোল পড়ে গেলো আর এরপরেই শুরু হোলো বেদম হাততালি।
বেচারা মিতুদি এরপরে লজ্জায় বেশ কদিন আর ক্লাবেই আসেননি।

অনুপা দেওয়ানজী
অনুপা দেওয়ানজী

 

Author: অনুপা দেওয়ানজী

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment