পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীমুক্তির স্বপ্ন

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীমুক্তির স্বপ্ন

নারী নির্যাতন পরিবার ও সমাজে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। যৌতুকের জন্য, ফতোয়ার শিকার হয়ে, স্বামীর পরকীয়ার কারণে, ধর্ষণ কিংবা গণধর্ষণের শিকার হয়ে,শ্বশুর-শাশুড়ি-দেবর-ননদের অত্যাচার-নির্যাতনে এ দেশের অনেক অসহায় নারীর প্রাণ চলে গেছে, এখনো যাচ্ছে। কেউ কেউ চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে সন্তানসহ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মাহুতি দিয়েছে। নারী নির্যাতন রোধে নারী সংগঠন, নারীবাদীরা এমনকি সরকারও সোচ্চার। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। উপরন্তু দিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের ঘটনার পর পরই আমাদের দেশে একাধিক ঘটনা ঘটে। মানিকগঞ্জ, সাভার ও বরিশালে চলন্ত বাসে এবং সিএনজিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বেশ কয়েকটি। ভারতের সর্বস্তরের মানুষ যেমন প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল আমাদের এখানে তা চোখে পড়েনি। কারণ নারীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্বচ্ছ নয়, একপেশে। অথচ নারী-পুরুষ উভয়েই পরিবার ও সমাজের জন্য অনিবার্য। পরিবার টিকিয়ে রাখার জন্য যেমন নারী-পুুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগ, পরিকল্পনা, ত্যাগ ও সংযমের প্রয়োজন। একইভাবে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে নতুন সমাজ বিনির্মাণের জন্য উভয়েরই ভূমিকা ও অবদান সমভাবে প্রয়োজন। সে জন্য একজনকে উপেক্ষা করে বা বাদ দিয়ে কেবল পুরুষ কিংবা নারীর পক্ষে বেশিদূর এগোনো সম্ভব নয়। তাই আমরা চাই নারী-পুরুষের সৌহার্দ্যপূর্ণ সমঝোতামূলক সম্পর্ক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্পর্ক। কিন্তু আমাদের এ চাওয়ার সফল বাস্তবায়ন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে কোথাও চোখে পড়ছে না। বরং প্রতিনিয়ত উল্টো ও বিস্ময়কর ঘটনা ঘটছে।

নারীকে উপেক্ষা বা বর্জন করে পরিবার কিংবা সমাজ গঠন করা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় অসম্ভব। নারীর অনিবার্যতা মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যেমন ছিল, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাও রয়েছে। মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় পুরুষ অত্যন্ত গৌণ ও অকর্মণ্য ছিল। তাকে তুচ্ছ ও মূল্যহীন করে রাখা হতো। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীকে সে দৃষ্টিতে দেখা হয় না। নারী পুরুষের ছায়াসঙ্গী। পুরুষ যেমন তার ছায়াকে অস্বীকার কিংবা এড়িয়ে চলতে পারে না ঠিক তেমনি নারীকে অস্বীকার করাও সম্ভব নয়। নারী রহস্যময়ী, ছলনাময়ী, ব্যভিচারী, জটিল ও কুটিল চরিত্রের অধিকারী, সঙ্কীর্ণমনা, আত্মস্বার্থকেন্দ্রিক, বিবেচনাবোধহীন, অত্যন্ত আবেগপ্রবণ, পরশ্রীকাতর, বুদ্ধির পরিপক্বতায় দুর্বল, যত খারাপ বিশেষণে তাকে বিশেষায়িত করা হোক না কেন এবং যতই বলা হোক না কেন, ‘নারীর কারণে পুরুষ পথে বসেছে, রাজ্য ছেড়ে ভিখিরি হয়েছে, জীবন বিপন্ন করেছে’ তারপরও নারী ছাড়া পুরুষের চলে না। মাও সেতুং বলেছেন, বিপ্লবের আগে চীনের পুরুষদের বইতে হতো সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের তিনটি পর্বত আর চীনের নারীদের বইতে হতো চারটি পর্বত, চতুর্থটি হচ্ছে পুরুষ। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অন্ধও নারীর শোষক, উন্মাদও নারীর প্রভু।

যে পুরুষ একজন নারীকে পরিপূর্ণ বুঝতে পারে সে পৃথিবীর সব কিছু বঝুতে পারার গৌরব অর্জন করে। কারণ লেখক শঙ্কর বলেছেন, ‘নারী বুদ্ধি ভয়ঙ্কর।’ নারী সম্পর্কে যত নেতিবাচক কথাই বলা হোক না কেন নারী সন্তানের জননী, স্নেহময়ী মাতা, সংসারের রক্ষক। নারী ছাড়া সমাজ ও সংসার চলে না। তাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার সমাজ তথা রাষ্ট্রের কর্তব্য। গ্রামে অথবা শহরে যেসব নারী নির্যাতিত হচ্ছে তা বিছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটা সামাজিক অবক্ষয়ের একটি ভয়ঙ্কর দিক। যা রোধ করার ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

নারীর সবচেয়ে গ্লানিময় অপমানসূচক অধ্যায় হচ্ছে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া। এ দেশের নারীরা যৌন নির্যাতনের শিকার নানাভাবে হতে পারে। তবে এর দুটো দিক রয়েছে। মানসিক ও শারীরিকভাবে যৌন নির্যাতন। যে নারীর শরীর যত আকর্ষণীয় ও লোভনীয় তার নির্যাতন ঝুঁকি তত বেশি। এ ধরনের নারী যখন রাস্তায় চলে তখন বখাটে ছেলেরা শরীরকে লক্ষ্য করে বাজে ইঙ্গিত করে। সুযোগ পেলে তাকে নির্যাতন ধর্ষণ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। নারীও যে মানুষ এটা তারা মুহূর্তে ভুলে যায়। এ ধরনের নির্যাতন ইদানীং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও কর্মক্ষেত্রেও হচ্ছে। এমনকি শিক্ষকরাও এ ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন, অবতীর্ণ হচ্ছেন ধর্ষণকারীর ভূমিকায়।

কোনো মানুষ শিক্ষিত নয়, কিন্তু মানবিক ও বিবেক-বিবেচনা বোধ তার মধ্যে রয়েছে, যুক্তি মানে ও বোঝে। মানুষের দুঃখ শোকে কাতর হন যিনি, সহমর্মিতা যার মধ্যে জাগ্রত হয় তিনি তো নির্যাতকের  বা হত্যাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন না। বিবেকবোধ ও মানবিকতা পুরুষের মধ্যে জাগ্রত হলে নারী নির্যাতন হত্যাকেন্দ্রিক পারিবারিক ও সামাজিক চিত্র পাল্টে যাবে। তবে তার আগে প্রয়োজন দেশব্যাপী শিক্ষার বিস্তার ঘটানো, দারিদ্র্যবিমোচনে ও বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

সবকিছু যদি সঠিক ও সমান্তরালভাবে চলে তবে সমাজ ও রাষ্ট্রও সঠিকভাবে চলবে। আর প্রতিদিন পারিবারিক ও সামাজিক নির্যাতনের ভয়াবহতা আমাদের প্রত্যক্ষ করা লাগবে না। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সুনিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। এটা যতদিন না হবে ততদিন পর্যন্ত নারী নির্যাতনের মাত্রা ও ভয়াবহতা কমবে না। আর এর জন্য আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, প্রতিবাদ সভা-পথসভার মাধ্যমে চিৎকার করেও কোনো ফল হবে না।

অনেকেই প্রশ্ন করেন, নারী স্বাধীনতা বা নারীমুক্তি কোথায় নিহিত? এমন প্রশ্ন দেশের অনেক সচেতন মানুষই করে থাকেন। প্রকৃত অর্থে শিক্ষা ও স্বনির্ভরতার মধ্যে নারীর মুক্তি নিহিত। অর্থবিত্ত আর পরপুরুষের লোভনীয় হাতছানি অনেক নারীই উপেক্ষা করতে পারে না। ফলে নারীকে এক আশ্চর্য মোহময় বিপজ্জনক অন্ধকার পথে নিয়ে যায়। একশ্রেণির পুরুষও একই ধরনের লোভ সংবরণ করতে পারে না। ফলে সংসারে ভাঙন দেখা দেয়, পরিবার টেকে না।

একুশ শতকে এসে যেখানে নারীর স্বাধীনতা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার জাগরণ ঘটবে, সেখানে নারীরা কেবল আর্থিক কারণে যেমন আত্মনির্ভরশীল হতে পারছে না ঠিক তেমনি অর্থকে কেন্দ্র করে নারীর ভাগ্য বিড়ম্বিত হচ্ছে, নির্যাতন-শোষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এ বাংলাদেশেই মাত্র ছয় হাজার টাকার কারণে মা তার সন্তানকে বিক্রি করে দিচ্ছে। নিজের স্ত্রীকে টাকার বিনিময়ে পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়া বা দেশের বাইরে পাচার করে দেয়ার ঘটনা তো প্রায়ই ঘটছে। সবই যেন অর্থদ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং নারীকে তুচ্ছ জ্ঞান করা, নির্যাতন শোষণের প্রতীক হিসেবে দেখা।

নারী যে কেবল যৌতুকের কারণে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিচ্ছে তা নয়, ইভ টিজিংয়ের অসহায় শিকার হয়ে গত এক দশকে বহু নারীকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে। বর্তমান সমাজে নারীরা নানামুখী নির্যাতনের শিকার। নারীদের উচিত এ নির্যাতনের প্রতিবাদ করা কিংবা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। নির্যাতনের নিষ্ঠুর শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া নয়। ইভ টিজিংয়ের যারা প্রতিবাদ করছে তারাও অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মনে রাখতে হবে, নারীমুক্তিতে বাধা শাস্ত্রীয় বিধিনিষেধ, সামাজিক নিয়মনীতি, প্রথা পদ্ধতি, কুসংস্কার ও অলীক বিশ্বাস। আর এ বাধা দূর করতে হবে রাষ্ট্র তথা সরকারকেই।

নারীর প্রধান প্রতিপক্ষ পুরুষ এবং পুরুষশাসিত সমাজ। নারীর চারদিক আবেষ্টন করে রয়েছে পুরুষ। পুরুষ যেন নিশ্ছিদ্র প্রহরী। বাংলাদেশে প্রশাসনে যেসব নারী উচ্চপদে রয়েছে, তাদের চারদিকেও পুরুষ। নীতি নির্ধারণ এবং পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাদের সুযোগ দেয়া হয় না, কেবল নারী হওয়ার কারণে। পশ্চিমে নারীমুক্তির যে আন্দোলন চলছে তার ঢেউ এখনো পুরোপুরি আমাদের সমাজে এসে লাগেনি বলেই এ অবস্থা। পৃথিবীব্যাপী নারীরা যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছেন, আন্তর্জাতিক সভা সেমিনারে বক্তৃতা করতে পারছেন, নারীর অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হতে পারছেন তার প্রধান কারণ অধিক হারে নারীদের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠান। পৃথিবীর ২০টিরও বেশি দেশে এখন নারী সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান। এ ইতিবাচক প্রবণতা যতই বৃদ্ধি পাবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তিত হবে, দেশে দেশে নারী নির্যাতনও কমে আসবে।

নারী কোনো খন্ডিত বা একক বিষয় নয়। নারী হচ্ছে সামষ্টিক বা সামগ্রিক বিষয়। নারীকে কেবল একজন ব্যক্তি বা মানুষ হিসেবে দেখলে, বিচার বা মূল্যায়ন করলে হবে না। নারী এসবের অনেক উর্ধ্বে। পৃথিবীব্যাপী আলোড়ন তোলার জন্য একজন নারীর বিপথে চলাই যথেষ্ট। অবশ্য সুপথে চলেও আলোড়ন তুলেছেন অনেকেই।

আমাদের দেশে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেত্রী  স্পিকার নারী। বিচারপতি মেয়র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নারী। মন্ত্রী, সচিব, উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা নারী। হিমালয় পর্বত জয় করেছেন আমাদের নারীরা। নারী যা কিছু ধারণ বা গ্রহণ করতে পারে, যা কিছু বর্জন করতে পারে একজন পুরুষের পক্ষে তা কখনো সম্ভব নয়। নারীর এই সামগ্রিকতা নির্দিষ্ট কোনো ফ্রেমের মধ্যে বন্দি করা সম্ভব নয়।

যতদিন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর সামগ্রিক সত্তার বিকাশ না ঘটবে এবং সেভাবে তাকে মূল্যায়ন না করা হবে ততদিন নারীর মুক্তি নেই। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিগত কারণে নারী  আজো সেবাদাসী যৌনদাসী ভোগ্যপণ্য ও অত্যাচার নির্যাতনের উপকরণ হয়েই আছে। এ পরিস্থিতির যতদিন পর্যন্ত পরিবর্তন না হবে ততদিন পর্যন্ত নারীমুক্তি নারীস্বাধীনতা নিয়ে নারীবাদীদের রাজপথে আন্দোলন করে মাথা কুটে কোনো লাভ নেই। সমস্যা দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার, সমস্যা সম্মান, মর্যাদা, মূল্যায়নের ও মূল্যবোধের। এই সমস্যা পুরুষের, নারীর নয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর নির্দিষ্ট কোনো জীবনছক কিংবা যৌনভূমিকা নেই। জীবনছক নেই এই অর্থে, তার জীবন পুরোপুরি নির্ভর করে পুরুষের ইচ্ছা- অনিচ্ছার ওপর। আর যৌন ভূমিকা নেই কারণ, নারী যখনই তার যৌন স্বাধীনতা চেয়েছে, তখনই তাকে আখ্যা দেয়া হয়েছে অসতী বা ব্যভিচারী হিসেবে। পারিবারিক-সামাজিক ও ধর্মীয় শৃঙ্খলার বাইরে যে নারী চলতে চেয়েছে তাকে নষ্টা-ভ্রষ্টা-কুলটা হিসেবে চিহ্নিত ও প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। ভোগবাদী সমাজ যতভাবে নারীসত্তাকে বিপন্ন বা পর্যুদস্ত করেছে তার প্রধান দিক হচ্ছে নারীকে পণ্যে পরিণত করা। প্রকৃত অর্থে শিক্ষা ও স্বনির্ভরতার মধ্যে নারীর মুক্তি নিহিত। সমাজে শিক্ষার আলো জ্বালাতে জাগতে হবে নারীকেই।  নারী জাগৃতির পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার আমলে নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ থাকলেও ভাইদের সহযোগিতায় তিনি যদি অন্দর মহলে থেকে গোপনে লেখাপড়া শিখতে পারেন তবে একুশ শতকের নারীরা পারবে না কেন? পারতে তাদের হবেই। নারী শিক্ষিত না হলে জাতি শিক্ষিত হবে কীভাবে? তাই বলি জাগো নারী, জাগো বহ্নিশিখা, ঘরে ঘরে জ্বালাও শিক্ষার আলো। শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

নারী তো তার সামগ্রিকতা নিয়ে নিজেকে মেলে ধরতে চায়। কিন্তু পুরুষকে তো তা গ্রহণ করার মানসিকতা, সাহস ও উদারতা অর্জন করতে হবে, হতে হবে উন্নত সাংস্কৃতিক ও রুচির অধিকারী। দায়িত্ব পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও এককভাবে পুরুষের। এ ব্যাপারে নারীরও করণীয় কম নয়। কারণ যিশুর ক্রুস যিশুকেই বহন করতে হয়েছে। স্বামী, অভিভাবক ও আত্মীয়স্বজনদের নারীর কর্তব্য কাজে উৎসাহ জোগাতে হবে। তাদের সফল উদ্যোগ ও চিন্তাকে স্বাগত জানিয়ে উৎসাহিত করতে হবে। চরম বেকারত্বের এ দেশে, ঋণনির্ভর দুর্বল অর্থনৈতিক ভিতের ওপর দাঁড়ানো বাংলাদেশে, অতি উচ্চমূল্যের বাজারে, সামাজিক ও রাজনৈতিক  অস্থিরতার মধ্যে নারীস্বাধীনতা খোঁজা অর্থহীন। তবে চেষ্টা চালাতে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে দোষ কী। দিন না বাড়িয়ে সেই হাত।

সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ পুরুষের মানসিকতার পরিবর্তন এবং নারী অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করলে কিছুটা পরিবর্তন সূচিত হতে পারে, সে জন্য আমাদের নারীদের আরো দীর্ঘ পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিতে হবে।

 

সালাম সালেহ উদদীন

 

Author: সালাম সালেহ উদদীন

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts