প্রবীণ মানুষ এবং তার সমস্যা

মানুষের বয়স বাড়ে। মানুষ প্রবীণ হয়। তবে এই প্রবীণতা মানুষের একদিনে বা হঠাৎ করেই আসে না। যাপিত জীবনের একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীবনের এই ক্ষণ আসে। বয়স বাড়তে থাকে সেই সঙ্গে দেহের পরিবর্তন হতে থাকে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্বলতার সঙ্গে সঙ্গে শরীর দুর্বল হতে থাকে। ক্ষয় হতে থাকে দেহের অস্থি আর ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা। শরীরের অস্থি ও অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কোষের মতো মস্তিষ্ক কোষেরও ক্ষয় হয়। মস্তিষ্ক কোষের ক্রমাগত ক্ষয়িষ্ণুতার কারণে মানুষ স্মৃতি ভুলে যেতে থাকে। মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে স্মৃতিশক্তি, কমে যায় শারীরিক শক্তি।  তার স্মরণশক্তি, বিচার বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতাও ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। এমন কি চলাফেরার শক্তি, কথা বলার শক্তিও মাঝেমধ্যে কারো কারো ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। শারীরিক দুর্বলতায় কাজ করতে অক্ষম হয় কিন্তু মানসিক দুর্বলতার কারণে কাজ করতে সক্ষম মানুষটি এমন কিছু আচরণ করে যা নিজে বুঝতে পারে না কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্য এমন কি পরিবারের বাইরের মানুষেরও সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। বয়স বাড়লে মানসিক শক্তির দুর্বলতার কারণে স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়ার ফলে ভুলে যাওয়ার অসুখের সৃষ্টি হতে পারে। তার খিটখিটে মেজাজ, হতাশাগ্রস্থ এলোমেলো আচরণে সাধারণ মানুষ ( বিশেষজ্ঞ নয়) মনে করে মানুষটা পাগল হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় কোন পরিবারে শাশুড়ি তার ছেলের বউকে সহ্য করতে পারে না ; নাতি-নাতনির সঙ্গে খাওয়া-পরা শোয়া ঘুমানো নিয়ে জিদ করতে পারে। কখনও কখনও প্রবীণ মানুষটি মনে করে তাকে খেতে দেওয়া হয়নি ; সারাদিন সে খায়নি বলে পরিবারের কোন এক সদস্য বা পাড়াপ্রতিবেশির কাছেও নালিশ করতে পারে তাকে খাবার দেওয়া হয়নি। অনেক সময় টাকা, কাপড় নিজেই কাউকে দিয়ে পরে বলতে পারে তার কাপড়, টাকা পয়সা চুরি গেছে । কোন কোন প্রবীণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে দূর অতীতের স্মৃতি মনে আসে তখন কাছের মানুষদের সে চিনতে পারে না। এছাড়াও  কখনও কখনও প্রবীণ ব্যক্তিদের কারও কারও মধ্যে নিচের সমস্যাগুলোর মধ্যে যে কোন এক বা একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন :

১. কোন কাজে মনোযোগ দিতে না পারা

২.কথা বলা ও লেখার সময় সঠিক শব্দ ভুলে যাওয়া

৩.দৃষ্টিগত দূরত্ব নির্ধারণে সমস্যা

৪.রঙ চিনতে না পারা

৫.পড়তে না পারা

৬.মেজাজ খিটখিটে হওয়া

৭. দ্বিধান্বিত, সন্দেহপ্রবণ, বিষণ্ন, ভীত ও উদ্বিগ্ন হওয়া

৮. নিজের জায়গা ছাড়া অন্যত্র স্বাচ্ছ্বন্দ্য বোধ না করা

৯. বিবেচনাবোধ কমে যাওয়া

১০.ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন হওয়া যেমন সংবেদনশীল মানুষ হঠাৎ রুক্ষ স্বভাবের হওয়া

১১.জায়গার জিনিস জায়গায় না রেখে অন্যত্র খোজাঝুঁজি করা

১২. মোবাইলে কথা বলতে বলতে বা কারও সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলতে গিয়েও খেই হারিয়ে ফেলা

১৩.তার কথা না শুনলে বকাবকি করা বা কথা বন্ধ করে দেওয়া

১৪. অযথা নালিশ করা

১৫.কাউকে চিনতে না পারা এবং ভুল নামে ডাকা

১৬.একমনে বসে থাকা

১৭. অনেক সময় বিভিন্ন রকম গায়েবি আওয়াজ শুনতে পাওয়া

সাধারণত পরিবারে এসব বিষয় নিয়ে খিটমিট লেগে যায়। বয়স্ক সদস্যকে বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কেন একজন মানুষ যার আচরণ কখনও এমন ছিল না তার আচরণ কেন এরকম বদলে গেল এবিষয়ে ভেবে দেখা প্রয়োজন কিন্তু ভাববার সময় এই দুরন্তগতি-সমাজে পাওয়া যায় না তাই সহজ সমাধান অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া। অনেক পরিবারই ভাবে বয়স্ক মানুষটাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিলেই বাড়িতে শান্তি বজায় থাকবে। অনেক সময় পাঠিয়েও দেয় তারা। কিন্তু যতোই পরিবারের তরুণ সদস্যের কাজের চাপ থাকুক তাকে প্রবীণ সদস্যের বদলে যাওয়া  ব্যক্তিত্ব নিয়ে ভাবতে হবে আর বয়স্ক ঐ মানুষটির দিকে নজর দিতে হবে। প্রবীণ মানুষের কাজগুলো নিয়ে প্রয়োজনে অন্যদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে। কারণ ডাক্তারি শাস্ত্রমতে এ অসুখের নাম ডিমেনসিয়া। ডিমেনসিয়া অনেক রকম হতে পারে। যেমন আলঝাইমারস, লুই বডি ডিমেনসিয়া, ভাসকুলার ডিমেনসিয়া, পিকস রোগ ইত্যাদি। মানসিক রোগ-বিশেষজ্ঞ অ্যালেস আলঝাইমারস ১৯০৬ সালে এ রোগের ধারণা দেন। তিনি বলেন ‘এটি মস্তিষ্কের সেরিব্রাল করটেক্স-এর একটি অস্বাভাবিক রোগ। এই রোগে মানুষের মানুষের স্মৃতিশক্তি ধ্বংস হয়।’

 

সাধারণত প্রবীণ মানুষই ডিমেনসিয়ায় আক্রান্ত হয়। বর্তমান বিশ্বে ৪ কোটি ৬০ লক্ষ ব্যক্তি ডিমেনসিয়া রোগে আক্রান্ত। আগামি ২০৩০ সালে হবে ৭ কোটি ৬০ লক্ষ।  ২০১৫ সালের হিসেব মতে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪ লক্ষ ৬০ হাজার লোক ডিমেনসিয়া  রোগে ভুগছে। ২০৩০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ৮ লক্ষ ৩৪ হাজার।  বিশ্ব আলঝাইমারস রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি ৪ সেকেন্ডে একজন প্রবীণ ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ( ২য় সংস্করণ, সেপ্টেম্বর ২০১৫, আশ্বিন, ১৪২২)। বর্তমান বিশ্বে গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোক সংখ্যা বাড়ছে বাড়ছে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা। যেহেতু ডিমেনসিয়া প্রবীণ মানুষ অর্থাৎ ৬০ বছর বেশি বয়সীদের হয়ে থাকে সেজন্য দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণ করা আবশ্যক। যেহেতু এই রোগের সঠিক কোন চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি তাই সামাজিক সচেতনা আবশ্যক। পরিবার নিয়ে সমাজ গঠিত সেহেতু প্রত্যেক পরিবারকে সচেতন হতে হবে। পরিবারের তরুণ সদস্যদের খেয়াল রাখতে হবে প্রবীণ সদস্যদের। পরিবারের তরুণ সদস্যদের মনে রাখতে হবে ডিমেনসিয়া বার্ধক্যজনিত সমস্যার সঙ্গে জড়িত মস্তিষ্কের একটি রোগ। এই রোগে মানুষের বনবাস নয় তার প্রয়োজন একটি সংবেদনশীল আবাস, মন, আদর ও পরিচর্যা।    

 

প্রবীণ সদস্যদের প্রতি পরিবারের করণীয়  

 

তরুণ সদস্যকে মনে রাখতে হবে মানুষ যখন জন্ম নেয় তখন থেকেই তার যাত্রার শুরু। এই যাত্রা ধাপে ধাপে অতিক্রমিত হয়ে পৌঁছে যায় প্রবীণ বয়সে। মানুষের জন্মের সঙ্গে দেহের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঙ্গে মেমরিও থাকে। এই মেমরি স্মৃতি হিসেবে জীবনের এবং আশেপাশের ঘটনাবলী ধারণ করে। একটা বিশেষ বয়সের পরে স্মৃতিশক্তি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। মানুষ ভুলতে শুরু করে। প্রথমে অতীতের কথা ভুলে যায় পরে কিছুক্ষণ আগের কথাও মনে রাখতে পারে না। এই স্মৃতি বিভ্রম মানুষের নিজের পক্ষেই বেদনাদায়ক। এইজন্য যে ব্যক্তি ভুলে যায় বা যাচ্ছে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করে তাকে খুব আস্তে আস্তে মমতার সঙ্গে মনে করালে তার মনে  শান্তি ফিরে আসবে। ডিমেনশিয়া আক্রান্ত প্রবীণ মানুষের দুটো কষ্ট থাকে :

(১)  নিজের মনে করতে না পারার কষ্ট

(২) মনে করতে না পারার জন্য খারাপ ব্যবহার বা কটুক্তি শোনার কষ্ট

 

অমর্যাদা এবং অবহেলা ডিমেনশিয়ার আর একটি কারণ হতে পারে। অমর্যাদা এবং অবহেলার কারণে প্রবীণ মানুষ মানসিক ভাবে  কষ্টে থাকে। আর কষ্টে থাকলে মানুষ ভুলে যায় বেশি। এমনিতেই মানুষের মনে রাখার সময় ও স্থান সীমিত এর মধ্যে কষ্ট পেলে শুধু ঐ কষ্টের কথাই মনে থাকে  সেই স্থান অন্য কোন বিষয়ই দখল করতে পারে না। তখন মনে হয় বয়স না বাড়লেই বোধহয় ভালো ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আরও একটা কাজ হয় যেটা হলো মানুষের স্মৃতি থেকে বা ব্রেণ থেকে কোন একটা কথা সহজে বের হয় না। তরুণ বা শিশুরা যেমন খুব তাড়াতাড়ি একটা কথা বা স্মৃতি থেকে বের হয়ে অন্য বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারে তেমন বয়সী মানুষ পারে না। এই কারণে ভুলে যাওয়া অসুখ বেড়ে যেতে পারে । অনেক সময় অনেক কেনর উত্তর খুঁজতে থাকে প্রবীণ মানুষ যার উত্তর বা সমাধান তরুণ বয়সে খোঁজার কথা মনে হয়নি তার। অযত্নে অবহেলায় অনেক সময় ভাবে জীবনের চলে যাওয়া সময়টা পরিবারের জন্য ব্যয় না করে যদি কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখত তাহলে এমন অবস্থা হতো না। তিনি তখন ভাবেন সোস্যাল প্ল্যানিং-এর কথা। সোস্যাল প্ল্যানিং জীবনের জন্য খুবই প্রয়োজন। কোন মানুষ যদি তার কর্ম জীবনের শুরু থেকেই জীবনটা  প্ল্যান করে চালায় তাহলে বয়সকালে তাকে কষ্ট পেতে হয় না।

 

বয়স্ক মানুষেরও শিশুদের মতো ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রবল থাকে। সে যখন দেখে মনে না রাখতে পারার জন্য কটূক্তি শুনতে হচ্ছে তখন বেশি বেশি মনে রাখতে গিয়ে আরও ভুলে যায়। এটা প্রকৃতিগত ; যা মানুষ বেশি বেশি মনে রাখতে চায় বা করতে চায় তা মানুষ ভুলে যায় তাড়াতাড়ি। শিশুর যেমন খুব বেশি চাহিদা থাকে না তেমনি একজন বয়স্ক মানুষেরও চাহিদাও খুব একটা থাকে না। তিনি শুধু চান একটু সম্মান একটু আদর একটু মমতাপূর্ণ সময়। প্রবীণ ও শিশুর মধ্যে পার্থক্য একটাই : প্রবীণ অভিজ্ঞ ও শিশু অনভিজ্ঞ।  

ডিমেনসিয়া রোগীর যত্ন

ডিমেনসিয়া যখন শুরু হয় তখন অবশ্য বুঝতে পারা যায় না। প্রবীণ মানুষের আচরণ স্বাভাবিক মনে হয় পরিবারের সদস্যদের কাছে। তরুণ সদস্যদের যদি এই রোগের প্রাথমিক পর্যায় জানা থাকে তাহলে প্রথম থেকেই সেই প্রবীণ ব্যক্তি বা রোগীর যতœ নিলে রোগী অনেকদিন পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে।

 

প্রথমদিকের লক্ষণ

১. উদাসীনতা

২. কাজেকর্মে  আগ্রহ হারিয়ে ফেলা

৩. শখ না থাকা

৪. পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারা

৫. কাজ করতে সময় বেশি লাগা

৬. কোথায় কোন জিনিস রাখে তা মনে করতে না পারা

৭. সন্দেহ প্রবণ হয়ে যাওয়া

৮. একটুতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠা

৯. খিটখিটে মেজাজি হওয়া

১০. অনেক পুরানো স্মৃতির কথা মনে থাকা কিন্তু কাছাকাছি কোন স্মৃতি মনে না থাকা

 

এছাড়াও আরও লক্ষণ আছে যা দেখলে বুঝা যায় যে ওটা ডিমেনসিয়া। তাই তার সমাধানে তরুণ সদস্যদের সচেষ্ট হতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় যত্ন নিলে বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে সঙ্গে নিজেদেরও কষ্ট কম হবে। প্রবীণ মানুষটাকে যেহেতু ছোটবেলা থেকেই দেখছে তরুণ সদস্যরা তাই তার পছন্দ-অপছন্দ সবকিছুই তাদের নখদর্পণে থাকে। সেই সব কাজগুলো তাকে মনে করানোর সঙ্গে নিচের কাজগুলো করলে রোগী ভালো থাকবে ভালো থাকবে পরিবার।

১. রোগীর সঙ্গে ভালো করে কথা বলা, তাকে স্পর্শ করা। যেমন কপালে চুমু খাওয়া, পায়ে হাত দেওয়া, কখনও কখনও বাবা-মা-দাদা-দাদিকে জড়িয়ে আদর করা

২. পছন্দের গান শোনানো

৩. বই পড়ে শোনানো

৪. মাঝে মাঝে পুরানো দিনের গল্প করা

৫. হাসিমুখে তাদের সামনে যাওয়া

৬. আপত্তিজনক কোন কথা না বলা যেমন এই কাজ কেন করলে, ঐ কাজ কেন করলে না।

৭. বেশি সময় রোগী একা থাকলে আর লেখাপড়া জানলে তাকে খাতা কলম দিয়ে বলতে হবে “এখানে তোমার / আপনার মনের কথা লিখে রাখবে / রাখবেন আমি বাড়ি এসে দেখব।” পরে অবশ্যই তা দেখতে হবে

৮. ব্যায়াম করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে

৯. বাগান করতে সাহায্য করতে হবে। এখন তো বাগান করার মতো জায়গা কোন বাসায় থাকে না। তবুও চেষ্টা করতে হবে।বারান্দা বা ঘরে টবি-বাগান করা (কিছু ফুলগাছ, কিছু সব্জি যেমন মরিচ, ঝিঙা, লাউ…)

১০. মাঝে মাঝে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া

১১. প্রবীণ ব্যক্তি শিশুদের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করে। শিশুরা আনন্দের দূত তাই পরিবারের শিশুদের কিছুটা সময় তার সঙ্গে

থাকতে দেওয়া  

১২. শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় কৃত্রিমতা না থাকা

১৩. পুষ্টিকর খাবার দিতে চেষ্টা করা

১৪. কথা বলতে বলতে কোন শব্দ বা কথা ভুলে গেলে সে কথার খেই ধরিয়ে দেওয়া

 

বাংলাদেশেও প্রবীণের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে মোট জনসংখ্যার ৭.৫ শতাংশ প্রবীণ। অর্থাৎ সমাজে এখন ষাট বয়সের অধিক মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ১২ লাখ ( প্র.আ.-২২.১২.২০১৫)। নানারকম কার্যক্রমের ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। বাড়বে প্রবীণের সংখ্যাও। স্বাভাবিকভাবে মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ততোই কমতে থাকে। মানুষের দীর্ঘ জীবনে বাড়তে থাকে হৃদরোগ, ক্যানসার,দৃষ্টির সমস্যা, প্রতিবন্ধিতা, ডিমেনশিয়া, বক্ষব্যাধীর মতো সমস্যা।  যেহেতু শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় তাই অল্পেই প্রবীণ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই প্রবীণ মানুষের জন্য প্রয়োজন বাড়তি যত্নের। পরিবারের সদস্যদের সচেতন হতে হবে এই জন্য যে একজন প্রবীণ-জীবনকে যেন কষ্ট নিয়ে শেষ যাত্রা করতে না হয়। পরিবারে এই প্রবীণ সদস্যদের অবদান অপরিসীম। একজন তরুণ সদস্যকে তার জীবন দেওয়া এবং তিলতিল করে সেই জীবনটা গুছিয়েও দেওয়ার জন্যও তার অবদান কম নয়। একজন প্রবীণ দেশ জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরিবারের কাছ থেকে তার সহাস্য আনন্দপূর্ণ জীবন এবং স্বজন বেষ্টিত মৃত্যু অবশ্য প্রাপ্য।  একজন মানুষের যত্ন ও সুস্থভাবে বাঁচার অধিকার নাগরিক অধিকার। আর এই নাগরিক অধিকার প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে পরিবারকেই।

afroza aditi আফরোজা অদিতি
আফরোজা অদিতি

 

 

Author: আফরোজা অদিতি

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts