বঙ্গোপসাগরে ভেসে গেল বীর মুক্তিযোদ্ধা লস্কর মিজানের লাশ/ লে: কর্ণেল সৈয়দ হাসান ইকবাল (অব)    

বীর মুক্তিযোদ্ধা লস্কর মিজান

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদানের সময় রেসকোর্স ময়দানে আমার উপস্থিত থাকার বিরল সৌভাগ্য হয়েছিল। সে ভাষণ ছিল বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ, যা UNESCO কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করেছে। ১০ মার্চ ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতে আমি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার নিজ এলাকা পাঁচুড়িয়া গ্রামে চলে যাই। তখন আমি ঢাকার ওয়েষ্ট এন্ড হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্র ছিলাম।

ঢাকায় তদানীন্তন পাকিস্তান সামরিক জান্তাদের সাথে বঙ্গবন্ধুর আলোচনা চলছিলো। কিন্তু বোঝা যাচ্ছিলো যে, পাকিস্তানি জান্তারা দূরভিসন্ধিতে লিপ্ত । ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসাবে বঙ্গবন্ধুর পাকিস্তানের শাসনভার গ্রহণ করার কথা। কিন্তু বিভিন্ন তালবাহানার মাধ্যমে সেটা বিলম্বিত হচ্ছিল। শেষপর্যন্ত ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালো রাতে পাক-হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালি জাতির ওপর এক পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ২৫শে মার্চের সেই কালরাতে  পাক হানাদার বাহিনী ট্যাংক, কামান, মেশিনগান দিয়ে হামলা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তদানীন্তন ইপিআর (বর্তমান বিজিবি), রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অসংখ্য ছাত্র, জনতা, পুলিশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষককে হত্যা করে। ঐ একই রাতে পাক-হানাদার বাহিনী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডির ৩২ নং বাড়ি হতে বন্দি করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যায়।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বাঙালি হত্যাযজ্ঞের পর ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরেই বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জনাব তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে (প্রধানমন্ত্রী) মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার গঠিত হয়। ১১টি সেক্টরে বাংলাদেশকে বিভক্ত করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। ইতোমধ্যে পাক হানাদারেরা বঙ্গবন্ধুকে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে স্থানান্তরিত করে।

এপ্রিল/মে ১৯৭১ সালেই সমগ্র বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ১৯৭১ সালে নড়াইল মহাকুমার (বর্তমানে নড়াইল জেলা) লোহাগড়া থানায় (বর্তমানে উপজেলা) সর্বাধিক মুক্তিযোদ্ধাদের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে পাক বাহিনি/রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা শুরু করে। আমার চাচাত ভাইয়েরা (আমার চেয়ে বয়সে বড়) সকলেই মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। রাজাকারদের অত্যাচার দিন দিন বেড়ে উঠতে থাকে। মাঝে মধ্যে পাকবাহিনী গ্রামে এসে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করতে থাকে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ২৩ শে মে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিা  লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রাম আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। একই দিন ইতনা গ্রামের ৩৯ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে নির্মমভাবে গুলি ও বেয়নেট দিয়ে হত্যা করে।

৪৭ বছর পূর্বের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করা সত্যিই দুঃসাধ্য। তখন আমার বয়স ১৩ বছরের কম ছিল। অনেক ঘটনায় পুরোপুরি মনে নেই। তবুও চেষ্টা করছি স্মৃতিচারণ করতে। আমি তখন ছোট-খাটো, হ্যাংলা-পাতলা ছিলাম বিধায় সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে যোগদান করতে পারিনি। তবে এলাকায় বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ জোগাড়, খবরাখবর সংগ্রহ ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত ছিলাম। প্রায়ই দুপুরে বাড়িতে খাওয়ার জন্য যাওয়া হতো না। কোন সময় লোহাগড়া বাজারে অথবা দীঘলিয়া বাজার, কুমড়ি ও বড়দিয়া বাজারে ঘোরাফেরা করতাম। একটা দুটো ঘটনার কথা না বললেই নয়। ঐ সময় আমাদের এলাকায় নকশাল বাহিনীর খুবই অত্যাচার ছিল। দিনের বেলায় হাট বাজারে নকশাল বাহিনী বিভিন্ন চেয়ারম্যানদের হত্যা করতো। লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান জনাব আব্দুর রউফ সরদার সাহেবকে (মরিচপাশা গ্রাম) মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় লোহাগড়া বাজারেই দিনের বেলায় নকশালরা গুলি করে হত্যা করে। এমনকি আমার পার্শ্ববর্তী গ্রাম যোগীয়ার মুক্তিযোদ্ধা এটিএম ইদ্রিসকেও (যতু ভাই) বর্ষাকালে কুমড়ির বিলে গুলি করে হত্যা  করে।

তখনকার সময়ে আমার পকেটে চার আনা পয়সা থাকলে আর বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা করতো না। ঐ সময় দুপুরের খাবার বিশেষ করে আষাঢ়/শ্রাবণ মাসে দু আনা দিয়ে একটা আটার রুটি, এক আনায় আখের গুড় দিয়ে গরম রুটি খাওয়ার মজা এখনও আমার ভীষণ মনে পড়ে। বাকি এক আনা দিয়ে কুম্ভ পাতা/বট পাতার বিড়ি কিনে খেতাম। সেটা একটা অন্যরকম তৃপ্তি ও রহস্যময় অনুভূতির বিষয় ছিল। আর পানি খেতাম টিউবওয়েল হতে এবং তাতে পেট ভরে যেত। সেই সময় অনেকটাই ভবঘুরে জীবন যাপন করতাম। তবে হ্যাঁ, কোথাও রাজাকার ও নকশাল বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ বাধলে সেখানেই চলে যেতাম। একবার একদল রাজাকার এসে আমার পাশের গ্রাম মল্লিকপুর আক্রমণ করে। আমার মনে পড়ে তখনকার মল্লিকপুর ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল হক সাহেবের বাড়ির পশ্চিম পাশে নবগঙ্গা নদীতে শাহাদৎ নাম করে একটি নিরীহ মানুষকে রাজাকারেরা গুলি করে হত্যা করে। ফলশ্রুতিতে যুদ্ধ শেষ হওয়া অবধি উক্ত চেয়ারম্যান সাহেবকে বাড়ী ছেড়ে থানায় আশ্রয় গ্রহণ করে থাকতে হয়।

লোহাগড়া থানা আক্রমণ ও পাঁচুড়িয়ার লস্কর মিজানের শহীদ হওয়া

১৯৭১ সালে  দেশে বড় আকারের বন্যা হয়। বিশেষ করে যশোর, নড়াইল ও মাগুরার বিশাল এলাকায় ব্যাপক বন্যায় প্লাবিত হয়। বিগত ১০০ বছরের মধ্যে যশোর অঞ্চলে এটাই  সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা বলে সকলের ধারণা। রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি সবই বন্যার পানিতে ডুবে যায়। ১৯৭১ সালের ভাদ্র মাসের সন্ধ্যাবেলায় পাঁচুড়িয়া গ্রামে লস্কর মিজানুর রহমানের সাথে (মইনো ভাই) গ্রামের হাটের মাঠে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে অনেক কথা হয়। অনেকটা জোর করেই মইনো ভাই তাদের লস্কর বাড়িতে (হাট হতে প্রায় ১ কি.মি. পূর্ব পার্শ্বে) আমাকে নিয়ে যান। মাঐ সাহেব (মইনো ভাইয়ের মা) অনেক যত্ন করে আমাকে এবং তার ছেলেকে আলু ভর্তা ও ডিম ভাজি দিয়ে পরম আদরে আপ্যায়ণ করেন।

সেটাই মইনো ভাইয়ের সাথে তাঁর জীবদ্দশায় আমার শেষ দেখা । আলাপ আলোচনায় বুঝতে পারলাম যে,  পরদিনই মুক্তিযোদ্ধারা লোহাগড়া থানা আক্রমণ করবে। মইনো ভাই এর বড় ভাই কর্পোরাল সামসুর রহমান ১৯৭১ সালের ৩০শে মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসে শহিদ হন। ওই সময়ে মইনো ভাইজান কুমিল্লা সেনানিবাসে অবস্থান করছিলেন। ভাই শহিদ হওয়ার পরে তিনি নিজ গ্রাম পাঁচুড়িয়ায় চলে আসেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি যোগদান করেন। লোহাগড়া থানা আক্রমণের দিন লস্কর মিজানুর রহমান তার ভাইয়ের খাকী পোষাক পরে   আক্রমণে অংশগ্রহণ করেন। লস্কর মিজানুর রহমান ১৯৭০ সালে বিএ পাশ করেন। তিনি এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সুপুরুষ ছিলেন। আমার দৃষ্টিতে এখনো মইনো ভাইজানের মত এত সুন্দর সু-পুরুষ আমি আমার এলাকায় দেখতে পাই না।

ঐ বর্ষার সময় অর্থাৎ ভাদ্র মাসে মুক্তিযোদ্ধারা লোহাগড়া থানায় চতুর্মুখি আক্রমণ করে। মইনো ভাইজান থানা আক্রমণে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। প্রায় সারাদিন ধরেই থেমে থেমে থানা আক্রমণ চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাবারুদ শেষ হয়ে গেলে যুদ্ধ পরিত্যক্ত করতে বাধ্য হয়। তবে ঐ যুদ্ধে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আহত ও শহিদ হন। তন্মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা লস্কর মিজানুর রহমান বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়ে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেন। তবে তার লাশ তৎক্ষণাৎ পাওয়া যায়নি। দু’দিন পরে লোহাগড়া থানা হতে রাজাকারেরা  শহিদ লস্কর মিজানুর রহমানের লাশ নবগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়।

পাঁচুড়িয়া গ্রামটি লোহাগড়া থানা হতে ৫ কি. মি. দক্ষিণে অবস্থিত এবং নবগঙ্গা নদীটি গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ১৯৭১ সালে নবগঙ্গা নদীতে বর্ষার পানির ভীষণ স্রোত প্রবাহিত হত। লস্কর মিজানের দু’দিনের মৃত লাশ পাঁচুড়িয়ার নবগঙ্গা নদীতে ভেসে উঠে।  নদীটি প্রবল বেগে বড়দিয়ার দিকে স্রোতের টানে প্রবাহিত হয়ে খুলনার রূপসা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়। আমার যতদূর মনে পড়ে ভাদ্রের তীব্র রোদ ও নদীর স্রোতে মইনো ভাইজানের লাশটা পাঁচুড়িয়া হাটের কাছে নদীর মাঝখানে ভেসে ভেসে বড়দিয়ার দিকে যাচ্ছিল। আমি ও আমার চাচাত ভাই কাঠি, বাবুল ও আবেদ আলী সহ ভেলা/নৌকা নিয়ে মইনো ভাইয়ের লাশটা নদীর কূলে আনতে চেষ্টা করি। তবে লাশ পঁচে যাওয়ায় আমরা সকলে মুখে গামছা বেধে মইনো ভাইজানের  লাশ হাটের ঘাটের কূলে আনতে সক্ষম হই। তবে প্রবল বাধা আসে যে. লাশ গ্রামে দাফন করলে মিলিটারি/রাজাকার এসে গ্রাম জ্বালিয়ে /পুড়িয়ে দেবে। সেটাই ছিল তখনকার সময়ের বাস্তবতা। সেজন্য আমি কোন মানুষকেই কোনরূপ দোষারোপ করতে পারছি না।

শগহদ বীর মুক্তিযোদ্ধা লস্কর মিজান এর লাশ দাফন ছাড়াই নবগঙ্গা নদীতে  ভাসিয়ে দেয়া হয়। আমি, কাঠি ও বাবুল তিনজনই সমবয়সী ও আবেদ আলী একটু বয়সে বড়। আমরা সকলেই এখনও জীবিত রয়েছি। তবে আমাদের বয়স কম থাকায় এবং গ্রামের  মুরব্বিদের তুমুল বাধার মুখে আমাদের অতি প্রিয় মইনো ভাইজানের লাশটি পাঁচুড়িয়া গ্রামে দাফন করা সম্ভবপর হয়নি। এরপর আরো ২/৩ দিন ধরে লাশটি নবগঙ্গা নদী দিয়ে ঘুরে ঘুরে বড়দিয়া/মহাজন এলাকা অতিক্রম করে খুলনা রূপসা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে চলে যায়। সে  কথা মনে পড়লে এখনো আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় এবং অনেক যন্ত্রণা নিয়ে এখনও বেঁচে আছি। কেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লস্কর মিজানকে তার নিজ গ্রাম পাঁচুড়িয়ায় দাফন করতে পারলাম না সেই প্রশ্ন এবং উপলব্ধি আমাকে আমৃত্যু বয়ে বেড়াতে হবে।

শহীদ লস্কর মিজানুর রহমান বেঁচে থাকলে একজন বিচক্ষণ বিসিএস অফিসার হতে পারতেন। তিনি দেশকে অনেক কিছু দিতে পারতেন। সমাজ উপকৃত হত এবং দেশ এগিয়ে যেত। ১৯৭১ সালে পাঁচুড়িয়া গ্রামের একই পরিবার হতে দু-ভাই দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন করেন। প্রতিদানে আমরা তাদেরকে কিছুই দিতে পারিনি। লস্কর মিজানের বড় ভাই শহিদ কর্পোরাল সামসুর রহমান এর পরিবারটি অসচ্ছল জীবনযাপন করছে । অর্থাভাবে উক্ত পরিবারটির কোন ছেলে-মেয়েই লেখাপড়া তেমন শিখতে পারেনি। ভাগ্য ভালো লস্কর মিজান অবিবাহিত ছিলেন। কিন্তু শহিদ লস্কর সামসুর রহমানের পুত্র  ‘স্বাধীন’ নামের ছেলেটি চতুর্থ শ্রেণির চাকুরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। যতদূর মনে পড়ে, ১৯৯৭ সালে আমার সহযোগিতায় এক শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঞ্জুর আলম (তৎকালীন সিগন্যালস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ডেন্ট এবং বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল) স্বাধীন লস্করকে চাকুরিটি দিয়েছিলেন। সেজন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) মঞ্জুর আলমের কাছে আমি ও উক্ত পরিবারটি কৃতজ্ঞ। লোহাগড়া থানা ৮ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে পাক-হানাদার মুক্ত হয়। মাত্র ০৯ মাস যুদ্ধ করে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে বাংলাদেশ তার কাঙিক্ষত বিজয় অর্জন করে। একই পরিবারের দুটি উপযুক্ত সন্তান হারিয়ে তাদের মা আমৃত্যু  অসুস্থ অবস্থায় জীবনযাপন করেছিলেন।

শেষ কথা

মুক্তিযোদ্ধারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। বাঙালি জাতি তাদের কাছে চির ঋণী। স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজ শুধু পাঁচুড়িয়া গ্রামের গর্ব শহিদ লস্কর মিজানুর রহমানের কথাই মনে পড়ছে না। এখনো অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারই অর্থনৈতিক সংকটে দিন যাপন করছে বলে প্রতীয়মান। অসচ্ছলতার কারণে অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান-সন্ততিগণ ভালভাবে লেখা পড়া শিখতে পারছে না। আমি নিজেই অনেক সময় দুঃস্থ/অসহায় এবং অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের সাহায্যের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হতে আর্থিক সহযোগিতা এনে দিতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের বীরত্ব গাথা, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও শহিদ পরিবানগুলির অবদান সম্মানের সাথে স্মরণ ও সমুন্নত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি দৃঢ় আশাবাদ পোষণ করি।

 

Author: লে: কর্ণেল সৈয়দ হাসান ইকবাল (অব)

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts