বাঙ্লায় বারোমাসি ভ্রমণ

বাঙ্লায় বারোমাসি ভ্রমণ

(পূর্ব প্রকাশিতর পর)

আঁচল দোলায় আশ্বিন হাওয়ায়

আশ্বিনেই গ্রাম বাংলার নববধুরা জলপথে নৌকোয় ফেরেন বাবার বাড়ি। এটাই চিরন্তন নিয়ম। শারদীয়া দুর্গা পুজোয় সরব হয়ে ওঠে গোটা বাংলাদেশ। হিন্দুদের এই বড় উৎসবে মুসলমানরাও আনন্দে জড়িয়ে পড়ে। কেনইবা পড়বে না, ধর্ম যার যার উৎসব যে সবার। আশ্বিন এলে মনের কোনে উঁকি দিবেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা- “কোন খেপা শ্রাবণ ছুটে এল আশ্বিনেরই আঙ্গিনায়” কবিতার এই লাইনটি। এই আশ্বিন মানেইতো শরৎকাল। বহু বছর আগে ‘পরিচয়’ ছবিতে শরৎকালের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছিল। রোদ ছায়ার লুকোচুরির খেলা চলছে, নীল আকাশে মাঝে মধ্যে দেখা মেলে সাদা মেঘের ভেলা- ঠিক তখনি ছবির নায়ক কুন্দনলাল সায়গল গান ধরলেন- “আমার রাত পোহালো শারদ প্রাতে। বাঁশি তোমায় দিয়ে যাব কাহার হাতে। তোমার বুকে বাজল ধ্বনি বিদায় গাথা আগমনী কত যে-”। পরক্ষণে দেখা গিয়েছিলো ছবির নায়িকা কানন দেবী কেমন যেনো উদাসিনী হয়ে আকাশ পানে তাকাতেই বৃষ্টি নেমে এলো। বহুদিন যাবৎ এই গান ও গানের শিল্পী ছিলেন আমাদের মুখে মুখে। আশ্বিনেও হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি ঝরে………..। সেই কবে শৈশবে ‘শাপমুক্তি’ ছবি দেখা, এখনতো স্মৃতি। এক দৃশ্যে আশ্বিনের দৃশ্য তুলে ধরা হলো, তখনিই ছবির নায়ক রবীন মজুমদার ও প্লেব্যাক গায়ক সুপ্রভা সরকারের কন্ঠে ভেসে এলো- “কাশবনে কেগো কাশ ফেলে যায়/আঁচল দোলায় আশ্বিন হাওয়ায়/কার মধু ডিঙ্গা ভিড়বে এ ঘাটে ফিরবে কি প্রিয় ঘরে/ শেফালিকা তলে কাকনের থরে থরে……..” গানখানি। ছবির দৃশ্যও ছিল এই গানেরই প্রতিচ্ছবি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মাধুর্য করে তোলে এই আশ্বিন-ই। তাই আশ্বিন এলে দূরে বহুদূরে সবুজ শ্যামল বাংলার রূপকে দেখবার জন্য মন বড়ই উতলা হয়ে ওঠে। এমনি দিনে (আশ্বিনে) বন পথ হয়ে চলতে গিয়ে কানে ভেসে আসবেই পেঁচার ডাক। তখন গাছের ডালে তাকালে চোখে পড়বেই অতি পরিচিত সেই পেঁচা। ‘বউ কথা কও’ পাখি উড়ে যেতে দেখে উদাসী হয়ে ‘বউ কথা কও’ ডাক শুনতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে নববধুরা। হ্যাঁ এক সময় ‘বউ কথা কও’ শুনে মনের সব ইচ্ছে পূরণ হয়ে যায় এই আশ্বিনে। এই আশ্বিনেইতো বরষার জল সরে যায় অতঃপর জেগে ওঠে চর। আর গাঙ শালিখেরা তখনইতো গর্ত খুঁড়ে ঘর বাঁধা শুরু করে দেয়। বাংলার বাঙালিরা এই আশ্বিনেও বেড়াতে চায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য মন্দিরগুলোতে যেমন-কান্তজীর মন্দির (দিনাজপুর), জোড় বাংলা মন্দির (পাবনা), চন্দ্রনাথ মন্দির (সীতাকুন্ড), ঢাকেশ্বরী মন্দির (ঢাকা) নয়তো দেশের উল্লেখযোগ্য মন্দিরে। তাই আশ্বিনে মন্দিরে মন্দিরে, নদী পথে, হাওড়ের দিকে, বনাঞ্চলে বেড়ানোর আয়োজনের উদ্যোগ নিতে হবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বিভিন্ন ট্যুরিজমকেই।

কার্তিকের নবান্নের দেশে……

কার্তিক এলেই মনে পড়বে জীবনানন্দ দাশের লেখা- “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে-এই বাংলায়/হয়তো মানুষ নয়-হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে/হয়তো ভোরের কাক হয়ে কার্তিকের নবান্নের দেশে/কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়” কবিতার এই চরণগুলি। গ্রাম বাংলায় এ মাসে বার বার চোখে পড়ে শঙ্খচিল, শালিখ, লক্ষ্মীপেঁচা, ধবল বক। কুয়াশা পড়া শুরু হয় এই কার্তিক থেকেই। প্রকৃতির রূপ হয় অপরূপ। ধানক্ষেত বাতাসে দোল খায়- সবুজে সবুজে ছেয়ে থাকে গ্রামীণ জনপদ। কার্তিকে কোথাও বেড়াতে গিয়ে নৌকো নিয়ে পুরো দিনটা ঘুরলে কেটে যাবে কলমীর গন্ধ ভরা জলে ভেসে ভেসে। কখনওবা রাখালের বাঁশির সুর শুনে নৌকো ভিড়িয়ে মেঠো পথ ধরে আগালেই দেখতে পাবেন রাখাল। তখন  হয়তো মনে পড়বেই কানন দেবীর গাওয়া-“পায়ে চলার পথে কে জানে রে/কোথায় যে তার জনম হলো/কোথায় চলে কার পানে/গাঁয়ের ধারে কাজলা দিঘি তার পাশে এক পাতার ঘর/সেথায় আছে তাদের মেয়ে পথ নিয়ে যায় তার ঘরে/ময়নামতির হাটের ধারে পদ্ম ভরা বিলের পাড়ে/নতুন ধানের গন্ধ লয়ে পথ চলেছে দূরে দূরে/রাখাল ছেলে বাজায় বেনু গোটে চরে শতেক ধেনু………” গানের এই কথাগুলি। ভ্রমণ শেষ হলে মনের কোণে উঁকি দিবে-“আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে/জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়” কবিতার এই চরণ দু’টি। হেমন্তকাল হলো কার্তিক-অগ্রহায়ণ নিয়ে। আর এই হেমন্ত নিয়েই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন- ‘হিমের রাতে ওই গগনের দ্বীপগুলিরে/হেমন্তিকা করল গোপন আঁচল ঘিরে/ঘরে ঘরে ডাক পাঠালো-দীপালিকায় জ্বালাও আলো’ ; ‘শূন্য এখন ফুলের বাগান, দোয়েল কোকিল গাহে না গান/কাশ ঝরে যায় নদীর তীরে’ ; ‘হায় হেমন্তলক্ষ্মী, তোমার নয়ন কেন ঢাকা/হিমের ঘন ঘোমটাখানি ধূমল রঙে আঁকা ’। কার্তিকেই প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশের খুব করে মনে পড়েছিলো বনলতা সেনকে। তাইতো তিনি লিখেছিলেন – “সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে/ ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল/পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পান্ডুলিপি করে আয়োজন/তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল/সব পাখি ঘরে আসে-সব নদী- ফুরায় এ- জীবনের সব লেন দেন/থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন……………..”। কার্তিকের শেষ দিকে বেহুলা তাঁর স্বামী লখিন্দরের মৃত দেহ নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন। সেই স্মৃতি মনে করে প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন- “বেহুলাও একদিন গাঙুড়ের জলে ভেলা  নিয়ে /কৃষ্ণা দ্বাদশীর জ্যোৎস্না যখন মরিয়া গেছে নদীর চড়ায়/সোনালি ধানের পাশে অসংখ্য অশ্বত্থ বট দেখেছিল, হায়/শ্যামার নরম গান শুনেছিল,-একদিন অমরায় গিয়ে/ছিন্ন খঞ্জনার মতো যখন সে নেচেছিল ইন্দ্রের সভায়/বাংলার নদী মাঠ ভাঁটফুল ঘুঙুরের মতো তার কেঁদেছিল পায়…..’। কার্তিকেই অনুষ্ঠিত হয়-অমবস্যার উপবাস ; শ্রী শ্রী শ্যামা পূজ ; দীপাবলী ; দেওয়ালী ; দীপাম্বিতা পার্বন শ্রাদ্ধ ; দীপাম্বিতাকৃত্য ; ধর্মরাজ বা যমরাজ পূজা ; শ্রী শ্রী সূর্যপূজা ; শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী পূজা ; শ্রী শ্রী কৃষ্ণের রাসযাত্রা ; শ্রী শ্রী কার্তিক পূজা। কার্তিকে বেরিয়ে পড়তে পারেন সমুদ্রের কাছে, পাহাড়ের কাছে, নদীর তীরে, হাওড়াঞ্চলে। এর একেকটি জায়গায় নিজস্ব রূপ-রং, তার অতীতের তাপ-উত্তাপ, সেখানকার মানুষজনের সংগে নতুন করে পরিচয়-সে আরেক আনন্দ। জানলা খুলেই ঘন অরণ্য বা ঢেউ খেলানো বুকে রাস্তা আঁকা সবুজ পাহাড় কিংবা পথের মোড় ঘুরেই সামনে হঠাৎ শিহরণ জাগানো সমুদ্র গর্জন-এমনি দেখাও মেলে। মেলে তো কক্সবাজার নয়তো কুয়াকাটায়। আর পাহাড়ের ছড়াছড়ি পার্বত্য তিন জেলা-রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িতে। আবার কার্তিকের শেষ রাতে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙা বা ঘুমিয়ে পড়ার আগে কাছাকাছি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় নদীর অবিরাম কলরোল, বা যে রাস্তায় জীবনে প্রথম হাঁটছেন হঠাৎ তার অর্ধেক জুড়ে অজানা ভাষায় অচেনা শিশুর দলের কলকাকলি, রাতের পাহাড়ে বা গাছের ডালে বসে থাকা একান্ত চাঁদ-এমন সব হঠাৎ পাওয়ার পথ নির্দেশ কি আর অন্য কোনও মাস দিতে পারে ? পারে না- পারে শুধু যে কার্তিক। তাই হিংসা-দ্বেষ-ঘৃণার পৃথিবীর অন্যান্য দেশ বাদ দিয়ে শুধুই এই বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তে ভ্রমণে গেলে মিলবে মায়া-মমতা- স্নেহ-ভালোবাসা। বেড়ানোর কথায় আমাদের মন যে নেচে ওঠে সে তো এই বাংলাদেশের পথেরই মায়ায়। কার্তিকে ঘুরুন। দেখুন বাংলাদেশ।

অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে…..

“ও মা, অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি/কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো/কী আঁচল বিছায়েছ-বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে”-কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা গানের এই চরণগুলি মনে করিয়ে দেয় আগ্রহায়ণ মাসকে। ষড় ঋতুর এই বাংলাদেশে কার্তিক-অগ্রহায়ণ নিয়ে হেমন্ত কাল। অগ্রহায়ণের আগমন আরো জানান দেয়- “হেমন্তে কোন বসন্তেরই বাণী পূর্ণশশী ওই-যে দিল আনি/বকুল ডালের আগায় জ্যোস্না¯ যেন ফুলের স্বপন লাগায়”। আহা প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন-“হেমন্তের ঝড়ে আমি ঝরিব যখন/পথের পাতার মত তুমিও তখন/আমার বুকের ‘পরে শুয়ে শুয়ে রবে ?-অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন সেদিন তোমার”। অগ্রহায়ণে ধান পাকে, নতুন ধানের গন্ধ গ্রাম-গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্রহায়ণে মূল আমন ফসল ঘরে তোলার ব্যস্ততা পড়ে যায় কৃষক ভাইদের মধ্যে। ফসল কাটা, ধান মাড়াই শেষে প্রায় অবসর সময় কাটান বাংলার কৃষক। অগ্রহায়ণেই তো ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর ধূম পড়ে যায়। নবান্ন অনুষ্ঠান হয় এই অগ্রহায়ণে। নাইয়র আনা-নেয়া চলে এ সময়। এ সময় দূর দূরান্ত থেকে  বড় বড় নৌকো গ্রামীণ জনপদের নদীর ঘাটে এলে ধান-চালের বিনিময়ে কৃষাণী সংবাৎসারিক নানা দ্রব্য-সামগ্রী সংগ্রহে মেতে ওঠে। কুটুম্বিতার আয়োজন চলে ঘরে ঘরে। খাওয়া দাওয়ার ধূম পড়ে যায়। অগ্রহায়ণ নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন- “ঋতুর খাঞ্জা ভরিয়া এল কি ধরণীর সওগাত ? নবীন ধানের আঘ্রাণে আজি অঘ্রাণ হ’ল মাৎ/‘গিনি-পাগল’ চা’লের ফিরনি/তশ্তরী ভ’রে নবীনা গিন্নী/হাসিতে হাসিতে দিতেছে স্বামীরে…..”। অগ্রহায়ণ মাসও হেমন্তকাল। কবি সুফিয়া কামাল ‘হেমন্ত’ নিয়ে লিখেছেন-‘সবুজ পাতার খামের ভেতর/হলুদ গাঁদা চিঠি লিখে/কোন্ পাথারের ওপার থেকে/আনল ডেকে হেমন্তকে….’। আর গানের পাখি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় গেয়েছেন-‘কত হেমন্ত রব/জোছনায় ফুল হয়ে ফুটেছিনু মমতায় জানিও ….আমি প্রিয়া তুমি প্রিয়…..’। অগ্রহায়ণে অনুষ্ঠিত হয়-অমাবস্যার উপবাস ; শ্রী শ্রী মিত্র বা ইতু পূজা ; ষট প মীব্রত ; শ্রী শ্রী সূর্য পূজা, একাদশীর উপবাস ; পূর্ণিমার নিশিপালন ; হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু দিবস ; শ্রী শ্রী সারদা মাতা ঠাকুরাণীর জন্মতিথি মহোৎসব ও পূজা ; মহান বিজয় দিবস। এই অগ্রহায়ণে নববধুর মন উতলা হয়ে ওঠে বাবার বাড়ি যাওয়ার জন্য। ফেলে আসা নবান্ন উৎসবকে নিয়ে মনে পড়ে অনেক কথাই। সখীদের সাথে মিলেমিশে আনন্দ উৎসব করার মধুর স্মৃতি মনে হতেই গুণগুণ করে গায়- “কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া/আমার ভাইধন্রে কইও-নাইওর নিতো বইল্যা/বছরখানি ঘুইর‌্যা গেল, গেল রে/ভাইয়ের দেখা পাইলাম না”। এদিকে অগ্রহায়ণের নবান্নে স্বামী বিদেশ থাকলে নববধূ’র অনুশোচনা জাগে। তখন তার মনে জাগে শচীন দেব বর্মনের গাওয়া- “একলা থাকার দিন যে আমার শেষ হতে আর চায় না/মন কাঁদে হায় হায় রে আজ তুমি কোথায়” গানের এই কথাগুলি। বন্যায় হাওড়াঞ্চলে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় চালের সংকটের কারণে ৩০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় চলে গেছে চালের দাম। এবারের অগ্রহায়ণে আমন ফসল আশানুরূপ ফলবে, তবেই চালের দাম আবার নেমে আসবে-এ প্রত্যাশাও আমাদের। অগ্রহায়ণ যদি আশানুরূপ ফসল দেয় তবেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা- “ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে ? বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে। যেয়ো যেথা যেতে চাও, যারে খুশি তারে দাও-শুধু তুমি নিয়ে যাও ক্ষণিক হেসে আমার সোনার ধান কূলেতে এসে……” কবিতার এই চরণগুলির সার্থক রূপ খুঁজে পাবো যে মোরা।

(চলবে)

লিয়াকত হোসেন খোকন
লিয়াকত হোসেন খোকন

 

Author: লিয়াকত হোসেন খোকন

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts