বিখ্যাত মানুষের প্রেমের কথা

প্রেম  অনেক রকম। বিচিত্রি  তার রূপ রং । আর এই বৈচিত্রের কাছে ধরা পড়ে প্রতিটি মানুষ। সাধারণ অসাধারণ নির্বিশেষে। আজ  কয়েকজন বিখ্যাত মানুষের প্রেমের কথা বলা হল।

ইংরেজ কবি লর্ড বায়রণ :
শৈশবে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও দুরন্ত প্রকৃতির ছিলেন। উত্তরাধিকার সূত্রে  অমিতব্যয়ী ও উচ্ছ্বাসপ্রবণ স্বভাবের অধিকারী হন।  পিতা ছিলেন জুয়াড়ি ও অমিতব্যয়ী ।  মাতা ছিলেন প্রচণ্ড খামখেয়ালি। বাল্যকালে বায়রন বিকলাঙ্গ ছিলেন। তিনি কিছুটা খুঁড়িয়ে হাঁটতেন। এ জন্য তিনি প্রায়ই মনমরা  থাকতেন।  মাতার  চেষ্টায় চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি  আরোগ্য লাভ করেন। কিন্তু এরপর হতে তিনি আরও  জেদি ও একরোখা হয়ে পড়েন।

বায়রণ মাত্র আট বছর বয়সে  মেরী ডাফ নামে এক বালিকার  প্রেমে পড়েন। দশ বছর বয়সে  কাজিন মার্গারেট পার্কারের প্রতি প্রবলভাবে আকৃষ্ট হন। আর ১৫ বছর বয়সে তাঁর জীবনে মারাত্মক সঙ্কট সৃষ্টি হয়। তিনি   মেরী চাওয়াথের  প্রেমে উন্মত্ত হন। বায়রণের পিতৃব্যের-পিতৃব্য দ্বৈতযুদ্ধে  মেরী চাওয়ার্থের পিতামহকে হত্যা করেন। উভয় পরিবারের মধ্যে প্রবল দ্বন্দ্ব ছিল । তা সত্ত্বেও বায়রণ তার   চেয়ে বয়সে দুই বছরের বড় মেরী চাওয়ার্থকে বিয়ে করতে মনস্থির করেন। কিন্তু  মেরী চাওয়ার্থ পনেরো বছর বসনী এ স্কুল-বালককে বিবাহে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন।

প্রবল হতাশায় বায়রণ মানসিকভাবে  ভেঙ্গে পড়েন। এ অবস্থায় তিনি ইংল্যান্ড ত্যাগ করে বিদেশ ভ্রমণে বের হন। পর্তুগাল,  স্পেন হয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন  দেশসহ গ্রিস ও তুরস্ক  ভ্রমণ করেন। এথেন্সে অবস্থানকালে ব্রিটিশ ভাইস কনসালের কন্যা মিস  থেরেসা ম্যাক্রিকে উদ্দেশ্য করে সুন্দর একটি  ছোট কবিতা  ‘মেইড অব এথেন্স’  লেখেন। তারপর তিনি লন্ডন প্রত্যাবর্তন করে কবি হিসেবে দ্রুত খ্যাতি অর্জন করেন ।
বিদ্যাপতি :
বিদ্যাপতি পঞ্চদশ শতকের মৈথিল কবি। খুবই গরিব ছিলেন তিনি। বঙ্গদেশে তার প্রচলিত পদাবলীর ভাষা ‘ব্রজবুলী।’ কথিত আছে যে পরমপুরুষ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নিত্য তার রচনা গাইতে ভালোবাসতেন। অনেক বাঙালি কবি এই ভাষায় কবিতা রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভানুসিংহের পদাবলী’তে আমরা এই ভাষার ব্যবহার দেখতে পাই। বাঙালিরা চর্যাগীতির ভাষা  থেকে এই ব্রজবুলীকে অনেক সহজে বুঝতে পারেন। এই কারণেই বিদ্যাপতিকে বাঙালি কবিদের অন্যতম হিসেবেই গণ্য করা হয়। তাঁর পদাবলী ছন্দ, আলংকারিক নৈপুণ্য ও গভীর হৃদয়াবেগে সমৃদ্ধ।  প্রেম ও ভক্তি তাঁর কবিতায় প্রধান হয়ে উঠেছে। যিনি রাজদরবারে  দূর  থেকে মিথিলার রানী, লছমা  দেবীকে শিকের আড়াল থেকে  দেখেই তৃপ্ত হয়েছেন। আর না পাওয়ার  বেদনা  থেকেই তিনি লিখেছেন-

‘এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির  মোর।’

(সংগৃহীত)

Author: রক্তবীজ ডেস্ক

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts