বিদেশীদের চোখে বাংলাদেশের গণহত্যা

সিডনি এইচ স্যানবার্গের রিপোর্ট

বাঙালিরা সেদিন সর্বপ্রথম শুনল অপারেশন সার্চ লাইটের নাম। বাঙালির জীবনে সে এক মহা দুর্যোগ। ২৫ মার্চ ১৯৭১ তারিখেঅপারেশন সার্চ লাইটএর নামে বাঙালির উপর এক ভয়াবহ অভিযান চালায় পাকিস্তানীরা। অপারেশন সার্চ লাইট ছিল বাঙালি হত্যার এক নীলনকশা। সার্চ লাইট দিয়ে যেমন খুঁজে খুঁজে মানুষ বের করা যায় তেমনি বাঙালি খুঁজে বের করে হত্যা করা ছিল অপারেশনের লক্ষ্য। অপারেশনের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইকবাল হল, জগন্নাথ হল, পিলখানাস্থ বিডিআর ক্যাম্প রাজারবাগ পুলিশ লাইন। এরপর পাকিস্তানীদের টার্গেট ছিল সারা দেশ। ২৫ মার্চের রাতটা ছিল ভয়ঙ্কর। সেই ভয়ঙ্কর রাতে নীল নকশা অনুযায়ী ঢাকাসহ বাংলাদেশের সর্বত্র তারা নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছিল।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা উদ্দীপনামূলক কবিতা আছে
ভয় নেই, ওরে জাগিয়া উঠেছে
হিমালয় চাপা প্রাচীর।
পাষাণ বেদীতে উঠেছে আবার
নবীন সব্যসাচী।

ঘটনাটা যেন তেমনই ছিল। অপারেশন সার্চলাইট করে অসংখ্য মানুষ হত্যা করা হল আর অন্যদিকে এতদিন ধরে বাঙালির চেপে রাখা রাগ আক্রোশ ক্রোধ জেগে উঠল। এদেশের সব মানুষ যেন হয়ে উঠল এক একটি কঠিন মুক্তিযোদ্ধা। যাদের শপথ ছিল জান দেব, তবু দেশ দেব না।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নয় মাসব্যপী গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং ধবংসযজ্ঞের ভয়ঙ্কর কাহিনী শুরু হয় ২৫ মার্চ রাত ১১টা ৩০ মিনিটে। যা কাঁপিয়ে দেয় বিশ্ববিবেককে। ১৯৭১ সালের মার্চে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সারা বিশ্ব থেকে ছুটে আসে সাংবাদিকরা। মার্চের মাঝামাঝি ঢাকায় বিদেশী সাংবাদিকদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫। ২৫ মার্চ রাতে এদেরকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আটকে রাখা হয়। ২৭ মার্চ সেনাবাহিনীর প্রহরায় তাদের নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁও বিমান বন্দরে এবং উঠিয়ে দেয়া হয় বোম্বেগামী বিমানে। এর আগে সকলকে তন্ন তন্ন করে তল্লাশী চালানো হয়। ছিনিয়ে নেয়া হয় ক্যামেরা, ফিল্ম এবং সকল নোটবই। তল্লাসী সত্ত্বেও দুজন সাংবাদিক একজন নিউইয়র্ক টাইমস এর সিডনি এইচ স্যানবার্গ এবং অন্যজন ইউনাউটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনালের (ইউপিআই) রবার্ট কেইলার তাদের নোটবুক লুকিয়ে আনতে সক্ষম হন। এরাই সর্বপ্রথম ঢাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলার খবর ছড়িয়ে দেন সারা বিশ্বে। সিডনি এইচ স্যানবার্গ তার পত্রিকায় খবর পাঠান বোম্বে থেকে আর রবার্ট কেইলার হংকং থেকে। রবার্ট কেইলার রিপোর্ট করেন ডায়রি আকারে।

সিডনি এইচ স্যানবার্গের রিপোর্ট

সিডনি এইচ স্যানবার্গের রিপোর্ট ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত হয়। তার খবরের শিরোনাম ছিলঢাকায় বিদ্রোহ দমনে সৈন্যরা কামান দেগেছে।

খবরের শুরু : ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক জনসাধারণের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র বেসামরিক জনগণের ওপর কামান ভারি মেশিনগান ব্যবহার করেছে প্রদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন স্তব্ধ করে দিতে।

কোন পূর্ব হুঁশিয়ারি ছাড়াই বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে হামলা শুরু হয়। পশ্চিম পাকিস্তানি সৈনিকরাযারা সেনাবাহিনীতে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তারা স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্রগুলো অবরোধের জন্য প্রাদেশিক রাজধানীর রাজপথে নেমে পড়ে। কেন্দ্রগুলোর একটি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

কত লোক (বেসামরিক) মারা গেছে অথবা আহত হয়েছে সেটা জানার কোন উপায় ছিল না। প্রদেশের আর আর অঞ্চলে কী ঘটেছে সে খবরও পাওয়া যায়নি। অবশ্য ঢাকায় হামলা পরিচালিত হবার আগে খবর পাওয়া গিয়েছিল যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেসামরিক জনগণের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের  সংঘর্ষ চলছে।

ঢাকার উত্তরেসেখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিশাল অগ্নিকুন্ড দেখতে পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস, যা বাঙালিদের নিয়ে গঠিত একটি আধাসামরিক বাহিনী এবং পূর্ব পাকিস্তানের লোক তাতে বেশি, তাদের ব্যারাকেও অগ্নিকুন্ড দেখা যায়।

ঢাকা থেকে ৩৫ জন বিদেশী সাংবাদিককে যখন বের করে দেয়া হয়। সেই দিন সকালে কিছু স্থানে আগুন জ্বলছিল এবং বিক্ষিপ্তভাবে গোলাগুলি হচ্ছিল।

ইয়া আল্লাহ! ইয়া আল্লাহ!” হোটেলের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে এক  ছাত্র কান্না চাপতে চাপতে বলে উঠলোইয়া আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ ওদের হত্যা করছে, ওরা ওদের মেরে ফেলছে।

পাকিস্তানীরা ফুটপাতে বসবাসকারী দরিদ্র বাঙালিদের পর্ণকুটিরে আগুন লাগিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার রাতে যখন সেনাবাহিনীর কার্যক্রম শুরু হয় সৈনিকরা প্রথমে দালান কোঠা লক্ষ্য করে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, মেশিনগান রিকয়েললেস রাইফেলসের গুলি ছোড়ে, তারপর বিজয় উল্লাসে তারা ঢাকার বিরাট এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

বিদেশী সাংবাদিকরা, বাইরে কী ঘটছে জানার জন্য বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে সামরিক প্রহরীদের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা হয়। তাদেরকে ভেতরে যেতে বাধ্য করা হয় এবং বলা হয়, তারা বেরুনোর চেষ্টা করলে গুলি করা হবে।

রাত টায় আগুন সারা শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

রাত ১টা ২৫ মিনিটে হোটেলের টেলিফোন বিকল হয়ে গেল, লাইন কেটে দেয়া হল হোটেলের বাইরে অবস্থান নেওয়া সামরিক প্রহরীদের আদেশে। প্রায় একই সময়ে টেলিগ্রাম অফিসের টাওয়ারের বাতিও নিভে গেল। বিশ্ববিদ্যালয় শহরের অন্যান্য এলাকায় স্বয়ংক্রিয় ভারি অস্ত্রের গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

রাত টা ১৫ মিনিটে হোটেলের সামনে দিয়ে মেশিনগান বসানো একটি জিপ বেরিয়ে গেল। জিপটি ময়মনসিংহ রোডে পড়ে বামে মোড় নিল এবং একটি তেতলা মার্কেটের সামনে দাঁড়ালো। তেতলার জানালা বরাবর মেশিনগানের লক্ষ্য স্থির করলো। জন বারো সৈনিক পায়ে হেঁটে জিপের সৈনিকদের সঙ্গে যুক্ত হল, একটি দল রকেট লনচারের মতো কিছু কাঁধে বহন করছিল।

হঠাৎ তেতলা থেকে শ্লোগান উঠলো, বাঙালি এক হও। এবং সৈনিকরা মেশিনগান থেকে গুলি ছোঁড়া শুরু করলো। ভবনটি লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে চললো। তার পর সৈনিকরা মার্কেটটি উল্টে ফেললো। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের এগারো তলায় দাঁড়িয়ে যে সংবাদিকরা বাইরে তাকিয়েছিল তাদের কাছে সেটা ছিল একটি অবিশ্বাস্য দৃশ্য।

গলি লক্ষ্য করে সৈনিকরা যখন গুলি ছুঁড়ছিল তখন প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের একদল বাঙালি যুবক প্রায় দুশত গজ দূর থেকে রাস্তা ধরে এগিয়ে আসছিল। তারা সৈনিকদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিচ্ছিল। মনে হল তারা নিরস্ত্র। তাদের হাতে কিছু নেই। জিপের মেশিনগান ঘুরে এল এবং তাদেরকে তাক করলো, গুলিবর্ষণ শুরু হলো। স্বয়ংক্রিয় রাইফেলধারী সৈনিকরাও গুলিবর্ষণে যোগ দিল। বাঙালি যুবকরা রাস্তার দুপাশের অন্ধকারে ছড়িয়ে গেল। কেউ হতাহত হয়েছে কিনা, বোঝা গেল না।

এরপর সৈনিকরা তাদের মনোযোগ নিবিষ্ট করলো গলির দিকে। একটি খুচরা যন্ত্রপাতির গ্যারেজে আগুন ধরিয়ে দিল। তারপর তারা এগোলো স্পষ্টতই তাদের লক্ষ্য পিপল এর অফিস এবং প্রেসের দিকে। এটি একটি ইংরেজি দৈনিক শেখ মুজিবকে প্রবল সমর্থন দিচ্ছিল, সেনাবাহিনীকে বিদ্রুপ করে লিখছিল।

উর্দুতে চিৎকার করে হুঁশিয়ার করে সৈনিকরা জানালো, ভেতরে অবস্থান নেয়া লোকেরা যদি আত্মসমর্পণ না করে তাহলে তাদেরকে গুলি করা হবে। কোন উত্তর এলো না। একজনও বেরুলো না। তারপর সৈনিকরা ভবনটিকে লক্ষ্য করে রকেট ছুঁড়লো সাথে হালকা অস্ত্রের গুলিবর্ষণ এবং মেশিনগানের বিস্ফোরণ শুরু হলো। এরপর ভবনে আগুন লাগিয়ে দিল এবং প্রেস যন্ত্রপাতি ভেঙ্গে গুড়ো গুড়ো করে ফেলতে লাগলো।

আরো সামনে এগিয়ে দোকান পাট এবং মার্কেটের পেছনের বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দিল। দেখতে দেখতে অগ্নিশিখা দোতলার দালান ছাড়িয়ে উপরে উঠে গেল।

ভোর চারটার কিছু পর শ্লোগান কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলো। কিন্তু কামানের শব্দ এবং মেশিনগানের বিস্ফোরণ থেকে থেকে আসছিল। দূর থেকে ছোড়া ট্রেসার বুলেট হোটেলের পাশে এসে পড়ছিল।

টা ৪৫ মিনিটে আরো একটি অগ্নিকুন্ড পুর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সদর দফতরের দিক থেকে আকাশে ঠেলে উঠলো।

৫টা ৪৫ মিনিটে ভোরের আবছা আলোয় টা চীনা টি ৫১ হালকা ট্যাংক উপরে বসা সৈন্যদের নিয়ে গুড় গুড় শব্দ তুলে শহরের ভেতরে প্রবেশ করলো এবং প্রধান প্রধান সড়কে প্রহরায় বসে গেল।

থেমে থেমে গুলিবর্ষণ এবং কামানের গোলাবর্ষণ চলছে গতকাল সারাদিন ধরে এবং আজ সকালে যখন সাংবাদিকদের বের করে দেওয়া হয় তখন পর্যন্ত।

পশ্চিম পাকিস্তানে ইয়াহিয়ার পৌঁছানোর আগেই সেনাবাহিনী ঢাকা রেডিও দখল করে নেয়। সকাল ৭টায় ঘোষণা করা হয়, প্রেসিডেন্ট আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান পশ্চিম পাকিস্তানে পৌঁছে গেছেন। তিনি রাত টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন।

সকাল টার কিছু পরে আগে পিছে সামরিক বাহিনীর জিপ ট্রাকের প্রহরায় ১৯৫৯ মডেলের একটি শেভ্রলেট গাড়ি এসে দাঁড়ালো হোটেলের সামনে। এই সামরিক বহর জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং দলের সদস্যদের বিমান বন্দরে নিয়ে যাবে। তারা পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যাবেন। মিঃ ভুট্টো জানেন যে বাঙালিরা প্রধানত তাকেই বর্তমান সঙ্কটের জন্য দায়ী করছে। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত সামরিক বেসামরিক প্রহরায় তিনি লবিতে এলেন। তাকে ভীত সন্ত্রস্ত দেখা যাচ্ছিল। সাংবাদিকদের সকল প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বললেন, আমার কিছুই বলার নেই।

সকাল ১০ টায় নতুন সামরিক আদেশ আইন ঘোষণা করা হল। সাংবাদিকরা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে বার বার ব্যর্থ হচ্ছেন। একবার এক ক্যাপটেন একদল সাংবাদিকের উপর ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেন। ওই সাংবাদিকরা প্রধান দরজা পেরিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। সে তাদেরকে হোটেল ভবনের ভেতরে ঢুকতে নির্দেশ দেয় এবং তারা যখন ফিরে আসছিলেন তখন সে চিৎকার করে বলছিল:

আমি আপনাদের হত্যা করতে পারি। আমার নিজের লোকেদের যদি আমি মারতে পারি তো আমি আপনাদেরও হত্যা করতে পারি।

কিছু পরে সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিল সন্ধ্যা টা ১৫ মিনিটে বিদেশী সাংবাদিকদের হোটেল ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে। সাংবাদিকরা হোটেলের বিল পরিশোধ করলো। টা ২০ মিনিটে সামনে পেছনে পাঁচটি সামরিক ট্রাকের একটি বহর আমাদের নিয়ে বিমান বন্দরের দিকে রওনা হল। ইয়াহিয়া খানের ভাষণ শুরু হতে তখনো দশ মিনিট বাকি।

হোটেল ত্যাগের আগে এক সাংবাদিক কর্তব্যরত লেফটেন্যান্ট কর্ণেলের কাছে জানতে চাইলেন কেন বিদেশী সাংবাদিকদের দেশ ছাড়া করা হচ্ছে। তিনি বললেন, আমরা চাই আপনারা চলে যান। কেননা পরিস্থিতি আপনাদের জন্যও দারুণ বিপজ্জনক হতে পারে। ভয়াবহ রকমের রক্তপাত হবে। হোটেল কর্মচারী এবং হোটেলে অবস্থানকারী অন্যান্য বিদেশী মনে করেন যে, সাংবাদিকরা চলে যেতেই হোটেলে ব্যাপক হত্যাকান্ড শুরু হবে।

হোটেলের এক কর্মকর্তা বললেন, এটা আর হোটেল থাকছে না রক্তে ভেজা হাসপাতাল হয়ে যাচ্ছে।

বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের লটবহরে আঁতিপাঁতি করে অনুসন্ধান চালানো হলো। কিছু টেলিভিশন ফিল্ম বিশেষ করে বৃটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের ফিল্মটি বাজেয়াপ্ত করা হলো। তখনো দূর থেকে গুলির আওয়াজ ভেসে আসছিল।

(চলবে)

আফরোজা পারভীন​
আফরোজা পারভীন​

 

Author: আফরোজা পারভীন

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment