বিদেশীদের চোখে বাংলাদেশের গণহত্যা -৮

(পূর্ব প্রকাশিতের পর​)
অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের রিপোর্ট

তিন গুলিতে একটি প্রাণ

ঢ্যাঙা পাঞ্জাবি অফিসার ইফতেখার তার কাজের ফিরিস্তি দিতে চাইল। আরেক দিনের কথা। তার সঙ্গে গাড়িতে করে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে যাচ্ছিলাম। ওই দিনই সে তার সর্বশেষ বীরত্বব্যঞ্জক কর্মের বর্ণনা দেয়।

“আমরা এক বুড়োকে পাই,” সে বললো, “জারজটি দাড়ি রেখেছিল। ভাব দেখাচ্ছিল সে খাঁটি মুসলমান। নাম বললো আবদুল মান্নান। তৎক্ষণাৎ আমরা ডাক্তারি পরীক্ষায় নেমে পড়লাম এবং খেল খতম।”

ইফতিখার বলে চললো, “আমি ওই মুহূর্তেই ওটাকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার লোকেরা বললো এই ধরনের একটি জারজের জন্যে তিনটি গুলির দরকার। প্রথম গুলিটি করলাম তার অন্ডকোষে, দ্বিতীয়টি পাকস্থলীতে। এরপর তাকে শেষ করলাম মাথায় গুলি করে।”

মেজর ইফতিখারকে ছেড়ে আমি এগোলাম। এবং সে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার দিকে রওনা হলো আরেকটি “হত্যা এবং জ্বালাও-পোড়াও” মিশন সম্পন্ন করতে।

আতঙ্কের প্রচন্ডতায় সকল বাঙালির মধ্যে দুটি প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ লক্ষ্য করা গেছে। যারা পালাতে পেরেছে, মনে হলো, একেবারে হাওয়া হয়ে গেছে। সেনাবাহিনী আসার খবরে সমগ্র শহর পরিত্যক্ত হয়েছে। আর যারা পালাতে পারেনি, তারা ক্রীতদাসসুলভ অধীনতাকে মেনে নেয়ার পথ বেছে নিয়েছে, যা তাদেরকে আরো অবমাননাকর অবস্থার মধ্যে নিক্ষেপ করেছে।

চাঁদপুর হচ্ছে প্রথমটার একটি দৃষ্টান্ত।

মেঘনার ওপর এই প্রধান নদী বন্দরটি অতীতে এর সমৃদ্ধ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং আনন্দোচ্ছ্বল জীবন প্রবাহের জন্য বিশেষ পরিচিত ছিল। রাতে ছোট ছোট দেশী নৌকা নদীর পাড়ে নোঙর ফেলতো। শহর তখন রূপকথার আলোর রাজ্যে পরিণত হতো। এপ্রিলের ১৮ তারিখে চাঁদপুর পরিত্যক্ত হয়। মানুষ জন নেই। নৌকো নেই। জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক পালিয়ে গেছে।

অদ্ভুত ব্যাপার, হাজার হাজার পাকিস্তানি পতাকা তারা রেখে গেছে। উড়ছে প্রতিটি বাড়ি-ঘর, দোকান পাট এবং ছাদে। ব্যাপারটি অনেকটা জাতীয় দিবস উদযাপনের মতো, কিন্তু লোকজন ছাড়াই। এতে দৃশ্যটিকে আরো ভুতুড়ে করে তুলেছে।

পতাকা যেন নিরাপত্তা বিধায়ক। যেভাবেই হোক রটে যায়, সেনাবাহিনী যে বাড়ির চালের ওপর পাকিস্তানি পতাকা দেখতে পাবে না, সেটাকে দুশমন হিসেবে গণ্য করবে এবং তা ধ্বংস করবে। পাকিস্তানি পতাকা কীভাবে তৈরি হয় সেটা কারো কাছে বড় ব্যাপার ছিল না। অর্ধচন্দ্র ও তারকাই ছিল মুখ্য। সুতরাং নানান মাপের বিভিন্ন রঙের পতাকা দেখা গেল। ফলে কোন কোনটার জমিন সবুজের বদলে নীল রঙের। নিঃসন্দেহে এগুলো তাড়াহুড়ো করে বানানো এবং সেটা একই কাপড়ের যেগুলি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকা বানানো হয়েছিল। বস্তুত সবুজ পাকিস্তানি পতাকার সংখ্যাই ছিল বেশি। চাঁদপুরের দৃশ্যই দেখা গেল হাজীগঞ্জ, মুজাফফরগঞ্জ, কসবা এবং ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়। সবগুলোই ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে। কিন্তু পতাকা শোভিত হয়ে হাসছে।

আরেকটি প্রতিক্রিয়া সেটা ক্রীতদাসসুলভ অধীনতা। লাকসাম তার দৃষ্টান্ত।

বিদ্রোহীদের বিতাড়নের পরদিন সকালেই আমরা গাড়ি চালিয়ে শহরটিতে এলাম। আমার নজরে এল কেবল সেনাবাহিনীর লোকজন আর আক্ষরিক অর্থেই হাজার হাজার পাকিস্তানি পতাকা। দায়িত্বপ্রাপ্ত মেজর সেখানকার থানায় ক্যাম্প করেছে। মেজর রাথোর সেখানেই নিয়ে গেল আমাদের। আমার সহকর্মী ছিল একজন পাকিস্তানি টেলিভিশন ক্যামেরাম্যান। সে লাকসামে “স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার ওপর” একটা ছবি তুলবে। এ ধরনের স্বাগত সমাবেশ ও “শান্তি সভার” ওপর তোলা প্রচারমূলক ছবি প্রতিদিন একের পর এক দেখানো হচ্ছে।

 

একটি সমাবেশ ও অপরিচিত চোখ ইশারা

সে কীভাবে ব্যবস্থা করবে, ভেবে আমি অবাক হলাম। কিন্তু মেজর বললো, “কোন কঠিন ব্যাপার নয়। একটা ভাল সমাবেশের জন্য এখনো এখানে প্রচুর জারজ সন্তান আছে। মাত্র বিশ মিনিট সময় দিন আমাকে।”

৩৯ বালুচের লেফটেন্যান্ট জাভেদকে লোক জোগাড় করার দায়িত্ব দেয়া হলো। সে শ্মশ্রুমন্ডিত এক বয়স্ক লোককে ডাকলো। মনে হল তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। পরে লোকটা জানায়, তার নাম মওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ সাঈদুল হক এবং জোরের সাথেই বলে যে, সে একজন “কট্টর মুসলিম লীগ পন্থী, আওয়ামী লীগে কদাপিও ছিল না।” ১৯৪৭ সালে মুসলিম লীগ স্বাধীন পাকিস্তান আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়। সর্বক্ষণ লোকটি সৈন্যদের খুশি করার চেষ্টায় ছিল। জাভেদকে সে বললো, “বিশ মিনিটের মধ্যে অবশ্যই আমি ষাটজন হাজির করতে পারবো। আর যদি দুঘন্টা সময় দেন, দু‘শ’ লোক আনতে পারবো।”

মওলানা সাঈদুল হক কথার মানুষ। আমরা কেবল ক্লান্তি অপনোদক সুস্বাদু ডাবের পানি শেষ করেছি, যা মেজর পাঠিয়েছে বলে ধারণা করেছিলাম, ঠিক সেই সময় দূর থেকে ভেসে আসা উচ্চকন্ঠে চিৎকার শোনা গেল-“পাকিস্তান জিন্দাবাদ।”” “পাকিস্তান সেনাবাহিনী জিন্দাবাদ।” “মুসলিম লীগ জিন্দাবাদ।” সকলেই সমস্বরে চিৎকার করছিল। (জিন্দাবাদ উর্দু শব্দ। অর্থ দীর্ঘজীবী হোক।) কয়েক মুহূূর্ত পর মিছিল দৃষ্টি সীমায় এসে গেল। নানা ধরনের ৩০ জনের একটি জনতা, বৃদ্ধ এবং কংকালসার মানুষ, হাঁটু সমান লম্বা শিশু। সবার হাতে পাকিস্তানি পতাকা। কণ্ঠ সর্বউচ্চগ্রামে তুলে চিৎকার করছে। লেফটেন্যান্ট জাভেদ আমাকে পরিচিত চোখ ইশারা দিলো। কয়েক মিনিটের মধ্যে মিছিলটি একটি “জনসভায়” পরিণত হলো। বক্তৃতা করার ব্যবস্থা বিধিও তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত হয়ে গেল। বক্তার সংখ্যাও দ্রুত বেড়ে গেল।

সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে স্বাগত ভাষণ দেবার জন্য মি. মাহবুবুর রহমানকে সামনে ঠেলে দেয়া হলো। তিনি নিজের পরিচয় দিলেন এই ভাবে-“এন এফ কলেজের ইংরেজি ও আরবির অধ্যাপক, ইতিহাসেও এম এ করার চেষ্টা করেছেন এবং মহান মুসলিম লীগ পার্টির আজীবন সদস্য।”

পরিচিতি পর্ব শেষ হতে মি. মাহবুবুর রহমান উচ্চকন্ঠে শুরু করলেন, “পাঞ্জাবি আর বাঙালিরা পাকিস্তানের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও কৃষ্টি আছে। কিন্তু হিন্দু ও আওয়ামী লীগাররা আমাদের সন্ত্রাসিত করেছে। এখন আল্লাহর শুকরিয়া গুজার করি যে, পাঞ্জাবি সৈনিকরা আমাদের বাঁচিয়েছে। বিশ্বের সেরা সৈনিক তারা, মানবতার রক্ষক ও বীর। আমাদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আমরা তাদেরকে ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি।” এবং এই রকম, থেমে থেমে একই সুরে সে বক্তৃতা করল।

‘জনসভা’ শেষে মেজরের কাছে জানতে চাইলাম যা তার কাম্য ছিল বক্তৃতায় সেটা সে পেয়েছেন কী না। জবাবে সে বললো, “তথাপি আমি ওই জারজটাকে বিশ্বাস করি না। আমার তালিকায় ওর নাম আমি তুলবো।”

পর্ব বাংলায় মৃত্যু যন্ত্রণা শেষ হয়নি। সম্ভবত সবচেয়ে ভয়ানক ঘটনা তখনও ঘটেনি। “উচ্ছেদকরণ” শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা অভিযান চালিয়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যদ্দুর মনে হয় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নবম ও ষোড়শ ডিভিশনকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আকাশ পথে আনা হয়েছে বাঙালি বিদ্রোহী ও হিন্দুদের “বাছাই করার” জন্য। পশ্চিমাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চলে প্রায় ২৫ হাজার সৈন্য আনা হয়। ২৮ মার্চ দুটি ডিভিশনকে রওনা হবার জন্যে ৪৮ ঘন্টার নোটিশ দেয়া হয়। খরিয়ান ও মুলতান থেকে তাদেরকে ট্রেনে করে আনা হয় করাচি। বিছানাপত্র এবং হালকা অস্ত্রসহ রণসাজে সৈন্যদের জাতীয় এয়ারলাইন্স পিআইএ’র বিমানে করে ঢাকায় আনা হয় (তাদের অন্যান্য যুদ্ধ উপকরণ জাহাজে আনার ব্যবস্থা হয়) পিআইএ-তার সাতটি বিমানের সকল আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করে। সেগুলিকে ১৪ দিন ধরে সেনা পরিবহনের কাজে লাগান হয়। সিংহল হয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হয়। এ কাজে বিমান বাহিনীর অল্প কয়েকটি বিমান ব্যবহার করা হয়।

সৈন্যরা চতুর্দশ ডিভিশনের অস্ত্র ধার নিয়ে দ্রুত অপারেশনে নেমে পড়ে। চতুর্দশ ডিভিশন নিয়ে তখন পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড গঠিত। কুমিল্লার কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হয় নবম ডিভিশনকে। তাদেরকে পূর্ব দিককার সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার আদেশ দেয়া হল যাতে বিদ্রোহীদের গমনাগমন ও সরবরাহে বিঘœ সৃষ্টি হয়। যশোর ষোড়শ ডিভিশনের সদর দফতর। প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় সেক্টরে তাদেরকে একই দায়িত্ব দেয়া হয়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে তারা তাদের কাজ সম্পন্ন করে। যারা বিদ্রোহীদের সঙ্গে ভারতে পালিয়ে যেতে পারেনি তারা গুলি আর অগ্নি পরিবেষ্টনীর মধ্যে আটকে গেল। কেননা, সেনাবাহিনীর দুটি ডিভিশন বিরামহীনভাবে বাছাই অপারেশন শুরু করলো। নিঃসন্দেহে এর অর্থ হচ্ছে এই-সীমান্ত এলাকায় যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল তা এখন কেন্দ্রবিন্দুতে বিস্তার লাভ করছে। এ অনেক বেশি বেদনাদায়ক হবে। বন্দুকের নিশানা থেকে কোন আদম সন্তানের পালাবার কোন পথ থাকবে না।

নবম ডিভিশনের জি-১ এর পুষ্প প্রেমিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল বেগ ২০ এপ্রিল বললেন, “বাছাই অপারেশন শেষ হতে দু’মাসের মতো লাগবে। জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত যাবে।” মনে হচ্ছে এই পরিকল্পনা ভন্ডুল হয়ে যাবে। বিদ্রোহী বাহিনী গেরিলা রণনীতি গ্রহণ করেছে। অতএব, সেনাবাহিনী যত সহজে বিদ্রোহীদের বশে আনা যাবে বলে মনে করেছিল, সেটা হবে না। বিদ্রোহীদের একদল আরেকদল থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কাজ করছে এবং স্পষ্টতই সমন্বয় নেই তাদের মধ্যে। তথাপি একের পর এক সড়ক ও রেলপথের ধ্বংস সাধনের মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন স্থানে তারা অচল করে দিয়েছে।

এর দৃষ্টান্ত হচ্ছে নবম ডিভিশন। নৈরাশ্যজনকভাবে নির্ধারিত সময়ের পেছনে চলছে। বর্ষা মওসুম প্রায় সমাগত। ঝড় বৃষ্টির কারণে তিন মাসের জন্য সামরিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।

বর্ষা মওসুমের জন্য পাকিস্তান সরকার মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চীনের কাছ থেকে অগভীর নদীতে চলাচল উপযোগী নয়টি গানবোট পায়। আরো আসছে। ৮০ টন ওজনের গানবোট গুলিতে কামান বসানো রয়েছে। যে সব এলাকায় বিমান বাহিনীর ও গোলন্দাজ ইউনিটের ওপর অপারেশন চালাবার দায়িত্ব দেয়া হয় যে সব এলাকার গানবোটগুলো নিয়োগ করা হয়। কেননা, বর্ষাকালে বিমান বাহিনী ও গোলন্দাজ ইউনিট সেসব অঞ্চলে অকার্যকর। এসব গানবোটের সহায়তায় থাকবে কয়েকশত দেশী নৌযান। আউই বোটে মোটর লাগিয়ে এগুলোকে সামরিক কাজে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের পশ্চাদ্ধাবনে জলপথও দখলে আনতে চায়।

দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কেননা পণ্য বন্টন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের ২৩ টি জেলার সতেরটিতে সাধারণত খাদ্য ঘাটতি থাকে। এবং বিপুল পরিমাণ চাল ও গম আমদানি করে এই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। গৃহযুদ্ধের কারণে এ বছর আমদানি করা সম্ভব হবে না। ৬টি প্রধান সেতু এবং কয়েক হাজার ছোট ছোট সেতু ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন স্থান অগম্য হয়ে পড়েছে। একইভাবে রেল চলাচল ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। যদিও সরকার দাবি করছে যে সেটা “প্রায় স্বাভাবিক।”

ফেনী একটা মুখ্য সড়ক ও রেল জংশন। বিদ্রোহীরা এ স্থানটি ৭ মে পর্যন্ত দখলে রাখায় চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই বিপর্যয়ের জন্য খাদ্যশস্য পাঠানো যায়নি। স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলে ১৫ শতাংশ খাদ্যশস্য নৌপথে পরিবহন করা হয়। বাকি ৮৪ শতাংশ সড়ক ও রেলপথে নেয়া হয়। নৌপথের পরিবহন ক্ষমতা যদি শতকরা একশ’ভাগ কার্যকর করা হয় তথাপি ৭০ শতাংশ খাদ্য চট্টগ্রামের গুদামে রয়ে যাবে।

আরো দুটি বিষয়কে অবশ্যই যুক্ত করতে হবে। এক: যারা দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছে তারা বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ করেছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য এক কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যটি হচ্ছে দুর্ভিক্ষের প্রচারণায় পাকিস্তান সরকারের অস্বীকৃতি। পূর্ব বাংলার সামরিক গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ১৮ এপ্রিল এক রেডিও ভাষণে স্বীকার করেন যে, তিনি খাদ্য সরবরাহ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারপর থেকে সরকারের সমগ্র প্রশাসনকে খাদ্য ঘাটতির কথা চেপে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে করা হচ্ছে যে, দুর্ভিক্ষের খবরে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক সাহায্য আসা শুরু হয়ে যাবে। যেমন হয়েছে এর আগে। এসেছে ঘূর্ণিঝড়ের পর। সাহায্যের সঙ্গে বন্টন ব্যবস্থায় বৈদেশিক তত্ত্বাবধানও আসবে। তখন আর হত্যাযজ্ঞের ব্যাপকত্ব বিশ্বের কাছে গোপন রাখা সম্ভব হবে না। অতএব, ‘উচ্ছেদ প্রক্রিয়া’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষুধার্তদের নীরব মৃত্যুর কথা গোপন রাখা হবে।

আফরোজা পারভীন​

Author: আফরোজা পারভীন

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts