বিশু চোর- প্রথম পর্ব

আমার পেরানডো কনে গেল ইহিনেই তো নাইড়া দিছিলাম।
ইল্ল্যা কি কস! বাও বাতাস কিচ্ছু নাই। একি ঝড়ের দিন নাহি যে উইড়া যাইব। তুই তোর পেরান কনে আয়র‍্যা থুইয়া আইচস তাই নদীত যে ডুব পাইরব্যার গেচিলি, হিকিনে আয়র‍্যা  থুইয়া আইসোস নাই তো? ঠিক কইরা  

কালাম তার মায়ের কথায় ভয় পেয়ে যায়। মাত্র এক মাস পূর্বে তার বাবা ইরফান পণ্ডিত তাকে খলিফাবাড়ি নিয়ে গিয়ে ক্যারোলিন কাপড় দিয়ে ফুল শার্ট বানিয়ে দিয়েছে। তার ভাই হারুনকে দিয়েছে পপলিন কাপড় দিয়ে কিন্তু কালাম জেদ ধরে, সে বেশি দামী ক্যারোলিন কাপড় দিয়েই শার্ট বানাবে। যে শার্ট পরলে শার্টের ভেতর দিয়ে গায়ের স্যাণ্ডো গেঞ্জির শেপ ফুটে উঠবে।
সে কিছুতেই ভেবে উঠতে পারছে না তার শার্টটা কে নেবে। এক ঘন্টা আগে সে তাদের বাহিরবাড়িতে কাপড় শুকানোর বাঁশের আড়ের ওপর শুকাতে দিয়েছিল। অথচ এখন দেখছে তার শার্টটি নেই। তার বাবা জানতে পারলে খুবই অসন্তুষ্ট হবে।

মা, আব্বা কনে গ্যাছে?’
তোর আব্বা আইজক্যা সাজালির বাড়িত গ্যাছে। তোর বড় ভাই হারুনেক কচিলাম ফটকা ফটকি ছাগলডো রাইখপ্যার নেইগ্যা। ছাগল রাহা বাদ দিয়া পাড়ার ছ্যারাগোর হাথে খেইলত্যাছিল। আর মরার ছাগল হেসুমকাই মাইনষের ক্ষ্যাতের গম খাইবার নইছে। মাইনষের ক্ষ্যাতে যেই মুখ দিছে ছাগলডো, ওবি সাজালি আইস্যা ধইর‍্যা  নিয়্যা গ্যাছে।
তালিপারে তো আইজক্যাও যাইব্যানি দুই ট্যাহা’, কালাম বলে।ভাই যে কী না, ছাগলডোও ঠিক মত রাইখপ্যার পারে না?

কালাম আর হারুন দুভাই। হারুন কালামের চেয়ে মাত্র দুবছরের বড়। ওদের একটি বোন, সে সবার ছোট। হারুন পড়ে ক্লাস ফোরে, কালাম টুতে আর ছোট বোন লাভলির বয়স মাত্র চার বছর হবে সামনের ডিসেম্বরে। জানুয়ারি থেকে স্কুলে যাবে। ওদের বাবা ইরফান আলি এলাকায় পণ্ডিত নামে পরিচিত। সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। স্কুলের বেতন যা পায় তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। উত্তর চড়ায় বিঘা তিনেক ক্ষেতি জমি আছে। সব ধরনের ফসলই হয়। তাছাড়া চর সালালে আর চর শরৎনগরে কিছু জমি আছে। চর সালালে মরিচ, সরিষা, গম এসব হয়। কিন্তু শরৎনগরের জমিটা বেলে মাটি, ফলে কাউন, খ্যারাচি, বুট কলাই বা কেশুর আলু ছাড়া কিছু জন্মে না। তবে, চরের জমিগুলো সবই বর্গা দেয়া তার আত্মীয়ের কাছে। এতদূরে নদী পাড়ি দিয়ে কয়েকটা চর ভেঙ্গে গিয়ে চাষাবাদ করা সম্ভব নয়। তাই মাস্টারির বেতন, রেশনের গম চিনি, উত্তর চরার তিন বিঘা জমি এই নিয়েই তার সংসারের আয়ের হিসেব কষতে হয়। খরচবরচ বাদ দিয়ে চলে যায়, কারো কাছে হাত পাততে হয় না ইরফান পণ্ডিতের। কিন্তু সমস্যা হয় তখন যখন জমির ফসল বন্যায় তলিয়ে যায় (ক্রমশঃ)

Author: শরীফ শেখ

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts