ভালো থাকার চেষ্টা

ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো। প্রিয় নায়ক সালমান শাহকে অনেক ভালবাসি। আমি যদি তার সাথে দেখা করার সুযোগ পেতাম তাকে প্রশ্ন করতাম, একজন মানুষ কিভাবে কোটি মানুষের নয়নের মনি হয় ? কোন প্রতিভার কারণে একজন মানুষকে লক্ষ, কোটি মানুষ হৃদয়ে ধারন করে। এখনকার যুগে অনেক তারকা শিল্পীকে টেলিভিশন, সিনেমায় দেখি, শুনি, তারা আকাশে থাকে না, তবুও তারকা কিন্তু আমাদের সালমান শাহ আকাশে থাকে, বাস্তবে থাকে না। তাহলে সে কি মহাতারকা নাকি তার চেয়েও বেশী! আমরা প্রতিদিন ভালো থাকার চেষ্টা করি । সংসার জীবন, চাকুরী জীবন, ব্যক্তিগত সমস্যা সবকিছু পাশ-কাটিয়ে একজন মানুষ চাইলেই ভালো থাকতে পারে না। তার জন্য আশেপাশের মানুষগুলোর সহযোগিতা বড্ড বেশী দরকার। আমাদের সালমান যখন সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে নিল তখন অন্যরা ভালো থাকলো না, তারা তাদের নষ্ট মন-মানসিকতার পরিচয় দিয়ে আমাদেরকে বিরত করলো সুস্থ বিনোদন থেকে। আমরা যখন পুষ্টি নিয়ে গবেষণা করছি তখন একদল বিবেকহীন মানুষের ফরমালিনের থাবা আমাদেরকে বিষিয়ে তুলছে প্রতিনিয়ত। আমরা যখন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইছি তখন মাদক, মোবাইল ফোন এর নিশুতি কলরেট এবং ফেসবুক আমাদের পড়াশোনা তো দূরে থাক  রাতের ঘুম ও কেড়ে নিলো । সাকিব খান এর মতো বলতে হয়, যখন আমি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছি তখন আমার ক্যারিয়ার হুমকির মুখে। আমরা শুনে থাকি এটা অন্যায়, তাহলে কোনটা ন্যায় ? সেই ন্যায় জিনিসের দেখা কি আমরা এই জীবনে পাব ? আমরা যখন কোন নেতার মুখে  আশার কথা শুনি এবং মুগ্ধ হই, আমরা বুঝতে ভুল করি যে, এটা কি আসলেই শুনছি নাকি আমার মতিভ্রম। আমাদের ভালো থাকার চেষ্টা কেন যে ডাক্তার সাহেব মানতে চায় না বুঝি না। আমার অপারগতা জেনেও আমাকে হাজার টাকার টেষ্ট ধরিয়ে দিয়ে সে আমাকে ভাল রাখতে চায়, আমি কি এতই বোকা । সরকারী হাসপাতালে একটি ভর্তি আসনের জন্য সামান্য (ঘুষ) টাকা না দিয়ে ফ্লোরে থাকার মতো বোকা নিশ্চয়ই আমি নই। সমস্ত সাক্ষি প্রমাণের (তহশীলদার) ভিত্তিতে এই আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ১০৮ দাগের (২৯ শতাংশ) সম্পত্তির মালিক ফিরোজ সেখ কোন কালেই জমির মালিক ছিলেন না। এই তহশীলদার কেন আমাকে ভাল রাখতে চাইছে না, তাহলে কি দলিল পর্চা সবই অসহায়, ভুল, মিথ্যা। আমি কি সরকারকে জমির খাজনা দেই না ? আমি কি আয়কর দিয়েও নাগরিকত্বের সামান্য সহযোগিতা পেতে পারি  না? তাহলে ভালো থাকার চেষ্টা কি আমার একার। নাকি আমাকে ভাল রাখার দায়িত্ব সকলের? ধর্ম যার যার উৎসব সবার এই কথা বলতে যেয়ে অনেক মার খেয়েছি। কারণ পড়াশোনা বাদ দিয়ে পুজো দেখতে যাওয়া মুসলমানের অন্যায়। তবে মসজিদের আয়ের টাকায় সভাপতির বাড়ির বাজার করা নিশ্চয়ই অন্যায় নয়। ধীরে চলুন, কিন্তু ধীরে চলার মত সাহস আমার নেই। কারণ ধীরে অন্ধকারে চললে  ছিনতাইকারী আমাকে ভাল রাখার চেষ্টা করবে না। আহারে, আমরা যদি এমন শপথ করতাম, আমি ভাল থাকতে চাই নিজের জীবন দিয়ে, কারো সাথে শত্রুতা দিয়ে নয়। আমি ভাল রাখতে চাই আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে, ব্যক্তি স্বার্থের জন্য নয়।

 

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts