মহাকাশে বাংলাদেশের ইতিহাস

বাংলাদেশের প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট ‘ব্র্যাক অন্বেষা’

একটা ইতিহাস লেখা হলো। বাংলাদেশের হয়ে নতুন একটা ইতিহাস। যে ইতিহাসে ঠাঁই পেলো বাংলাদেশের নবদিগন্তের; মহাকাশে নিজেদের দেখার ইতিহাস। ৪ জুন মধ্যরাতে সেই ইতিহাসে ঠাঁই পায় বাংলাদেশ। দেশের প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট ‘ব্র্যাক অন্বেষা’ এই দিনে পাড়ি জমায় মহাকাশে।

৪ জুন বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত সাড়ে তিনটার দিকে মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স আর মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সিআরএস-১১ অভিযানে স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন ৯ রকেটে করে এই ন্যানো স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছে।

এই উৎক্ষেপণ-এর ঠিক আগ মুহূর্তে নাসার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্লোরিডায় আমাদের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৭মিনিটে ফ্যালকন ৯ রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে।

গত ২ জুন বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত ৩টা ৫৫ মিনিটে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে একদিন পর সেটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয়েছে।

জাপান থেকে স্যাটেলাইটটির নির্মাতা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী রায়হানা শামস ইসলাম অন্তরা, আবদুল্লা হিল কাফি ও মাইসুন ইবনে মানোয়ার সরাসরি উৎক্ষেপণ দেখছিলেন। তারপর তারা একটি ভিডিও বার্তায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সবার কাছে দোয়া চান।

সেই ভিডিওতে তারা জানান, এটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ পৌঁছানোর পর একে কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। তারপর তারা এটি থেকে সিগন্যাল পাওয়া শুরু করলেই পুরো কাজ সম্পন্ন হবে।

ব্র্যাক অন্বেষার অন্যতম রূপকার গবেষক ড. আরিফুর রহমান খান ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘মহাকাশে বাংলাদেশ…।’

ব্র্যাক বিশ্বিবিদ্যালয়ের মহাখালী ক্যাম্পাসের চার নম্বার ভবনে গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকেই অন্বেষার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হবে।

গ্রাউন্ড স্টেশনটির নির্মাতা দলের দলনেতা মোহাম্মদ সৌরভ বলেন, তারা অনেক আগে থেকেই প্রস্তুত। স্পেসস্টেশনে স্যাটেলাইটটি পৌঁছার পর দুটি ধাপ পার হলে, সেখান থেকে জানানো হবে কখন থেকে এর সিগনাল পাওয়া শুরু হবে। তাই একটু অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা এখন মহাকাশে পৌঁছালাম। বাংলাদেশ এখন মহাকাশে নিজেদের নাম লেখালো। তিনি এজন্য দেশের সবাইকে, বিশেষ করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের ধন্যবাদ জানান।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রায়হানা শামস ইসলাম অন্তরা, আবদুল্লা হিল কাফি ও মাইসুন ইবনে মানোয়ার
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রায়হানা শামস ইসলাম অন্তরা, আবদুল্লা হিল কাফি ও মাইসুন ইবনে মানোয়ার

 

 

Author: কঙ্কা রহমান

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment