মাতৃমহান

১৪ মে ‘বিশ্ব মা দিবস’ ॥ বাণিজ্যিকিকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলন-আদালত


‘বিশ্ব মা দিবস’ পালন নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি ঘটে থাকে। অনেকে পালন / স্মরণ করেন মে মাসের প্রথম রোববারেই। কিন্তু তা সঠিক না। কারণ মা দিবসের জন্যে সময়কালটি পূর্ব নির্ধারিত। সেটি প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার। যেমনটি বিশ্ব শিশু দিবস বা বিশ্ব বসতি দিবস। এগুলো উদযাপিত হয় অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার। এর ফলে, প্রতিবছর তারিখের অদল-বদল ঘটে। অর্থাৎ ক্যালেন্ডারে আগে বার, পরে তারিখ।
‘বিশ্ব মা দিবস’ প্রথমত প্রতিষ্ঠা পেয়েছে অ্যামেরিকায়। ১৯০৮ সাল থেকে পালিত হচ্ছে। এর নেপথ্য সংগঠক অ্যানা জারভিস। অ্যামেরিকার ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্রাফটোনে ছিলো বসবাস। মায়ের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি দিবস নির্ধারণের জন্যে জমিয়েছিলেন আন্দোলন। বাংলাদেশে যেমনটি করেছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। মুক্তিযুদ্ধের ঘাতক-দালালদের বিচারের বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অ্যামেরিকার রাজ্য-সংসদেও প্রস্তাবণাটি পাশ হয়। ধীরে ধীরে সমাদৃত হয় সিনেটে। ‘মা দিবস’ চূড়ান্ত করতে বিরোধের মুখেও পড়তে হয়েছিলো। ব্যঙ্গও করেন কেউ কেউ। বলেন, এখন ‘মাদার্স ডে’র দাবি উঠছে। এরপর আবার আসবে ‘মাদার্স ইন ল’ বা শাশুড়ি দিবসের দাবি। তখন কী হবে।
অধিকাংশ নীতি-নির্ধারক অবশ্য ‘মা দিবসে’র দাবিকে মেনে নিয়েছিলেন। ৫০০ বছরেও নারীকে রাষ্ট্রপতি পদে আনতে পারেনি অ্যামেরিকা। কিন্তু ‘বিশ্ব মা দিবস’ উপহার দিয়েছে সগৌরবে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ প্রতিপালনও করছে। যদিও অনেক ক্ষেত্রে ব্যত্যয়ও ঘটে থাকে। অন্যদিকে রয়েছে ‘বিশ্ব নারী দিবস’। এজন্যে মা দিবসকে সম্প্রসারিত করা হচ্ছে নানান অনুষঙ্গে।
‘মা দিবস’ প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি অ্যানা জারভিস। একই সূত্রে আরো আন্দোলন করতে হয়েছে। ‘মা দিবস’কে বাণিজ্যিকিকরণ করেছিলো অসংখ্য কোম্পানি। নানান বর্ণের কার্ড ছেপে পসার বসায় বিক্রির। চকোলেট কোম্পানিগুলোও মা দিবসের বিশেষ প্যাকেট বাজারে ছাড়ে। এমন নানান বাণিজ্যিক উদ্যোগের বিরুদ্ধে আদালতে যেতে হয়। অ্যানা জারভিস জবানবন্দিতে বলেন, মায়ের বিষয়ে বাজারীকরণ চলবে না। হাতে বানানো খাবার উপহার দিতে হবে। ‘নো প্রিন্টেড কার্ড।’ স্বহস্তে লিখিত শুভেচ্ছাপত্র দিতে হবে প্রিয় জননীকে। সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা বরাবর পরিশুদ্ধ। প্রগাঢ়, পরায়ণ-প্রতিশ্রুত। অতএব প্রতিদানও হতে হবে পবিত্র, পরম মমতায় প্রস্তুত।
মায়ের কল্যাণে করণীয় বিষয়ে কবিতা লিখেছিলাম। ‘মা দিবস’ প্রাপ্তির আন্দোলন থেকে অনুপ্ররণাও নিয়েছি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও আবেগ আর যুক্তি হিসেবে এসেছে পর্বে পর্বে।

মাতৃমহান

আমিও রন্ধন জানি, মা’কে খাওয়াবো বলে।
মায়ের বিমুগ্ধ দুগ্ধতার সম বিশুদ্ধতা নেই,
বাইরে বাজারকেনা প্রচার-প্রহেলিকার পণ্য নয়,
সুমুদ্রিত সুচিত্রিত কোন ভিউকার্ড নয়,
আমার স্বহস্তে লেখা শ্রদ্ধা ভালোবাসা
মায়ের প্রাণের প্রিয়,
হাতের লেখাকে তাই চোখ কাড়ানিয়া, সুস্পষ্ট করেছি।

আমিও বাগান করি,
হয়তো সন্তান-গৃহী-পরিজন পরিতুষ্ট হয়।
সুমিষ্ঠ ফলের স্বাদ, আমি জানি-
প্রথমত মায়ের জিহ্বায় পাতে তুলে দিতে চাই।

সেই চিরস্মৃতিদিন : ইশকুল যাত্রায় প্রতিদিন
গরম ভাতের ঋণ, প্রজাত ডিমের পোজ,
আদৃত টিফিনবক্স, কপোল-চুমুতে মাতৃকলা।

আমিও মৎস্যশিকারী, দুগ্ধ খামারী! গীতল কবিতা পড়ি।
ছন্দের কবিতা বেশি। মায়ের কোলেই শেখা
ঘুম পাড়ানোর, ধ্যান ভাঙানোর, জীবনকে জাগানোর…।
প্রতিদান কিছুই নেবে না, তবুও প্রতিশ্রুত আমি,
পরিশুদ্ধতার বদলে মায়ের করকমলে রাখতে চাই
বিশুদ্ধতার প্রামাণ্য পরিষেবা।

আগলে রাখার আয়োজন নিয়ে
মায়েরাই প্রথম স্বর্গবাসী হতে চায়!
হয়তো পালায় আর সাজায় সংসার এপার ওপার।
আমি ধরতে পারি না তাই পড়তে শিখেছি
প্রার্থনার প্রাত্যহিক পাঠ।
অসীমের সঙ্গে সমঝোতা, আত্মার প্রশান্তি চাই…

সেজদা-সুযোগ নেই, তবে পদধূলি নিতে
কোমরকে সুঠাম রেখেছি, কফিন বহনে পোক্ত
যদিও বা আজীবন মায়ের উঠোন চাই,
উভতলে চাই মাতৃ-মহানের আশির্বাদাকাশ!

সালেম সুলেরী
সালেম সুলেরী

 

Author: সালেম সুলেরি

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts