মানুষ

পৃথিবীতে সকল প্রাণীই তার স্বকীয়তায় পরিচিত । যেমন গাঁধা, গরু, হাঁস, মুরগি, ছাগল ইত্যাদি। শুধু আমরা যারা নিজেদের মানুষ বলে দাবি করি তা কখনও  কখনও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। সত্যিটা হলো, আমাদের সবারই নাক ,মাথা, চোখ, কান, মুখমন্ডল  মানুষের মতো, কিন্ত কর্মকান্ড যখন মানুষের মত  হয় না তখন আমরা কখনও গাধা -গরু নামে পরিচিত হই। স্কুলে ক্লাসের পড়া পারে নাই আর স্যার আপনি তাকে গাধা না বলে ছেড়ে দিচ্ছেন  এমনটা হয় না।  এটা মানতে পারলাম না স্যার। আমি তো অসংখ্যবার শুনেছি । আমার স্কুলটিচার ইউসুফ স্যার আমার নামটা খুব সুন্দর করে ডাকতেন । ফিরোজ, এত সুন্দর করে ডাকতেন যে আমি স্যারদের কাছে ভাল ছাত্র হবার চেষ্টা করতাম । স্যার যখন আমার নাম ধরে ডাকতেন কখনও ভয়ে পড়া ভুলে গেলেও ভাল লাগত এই ভেবে যে, স্যার তো আমার বন্ধুদের মত আমাকে ফিরুজ বলে ডাকে না। মাঝে মাঝে অনেক রাগ হত আমার নামটা নিয়ে। আমি শপথ করলাম ভবিষতে যদি সুযোগ পাই তো আমার নামটাই বদলে ফেলব। সত্যিই দুই বার সে সুযোগ এল । আর আমি  আমার গানের এ্যালবামএ আমার নাম বদলে রাখলাম শ্রাবন। কিন্তু সমস্যা হলো কেউ যদি আমাকে চিনতে না পারে। শেষে আমি ঠিক করলাম, ফিরোজ ঠিক থাকবে সাথে শ্রাবনটা  যোগ হবে। সেই ২০১২ সাল থেকে  আমি ফিরোজ শাবন। আমার গানের বা লেখার সূত্র ধরে যাদের সাথে পরিচয় তারা আমাকে শ্রাবন নামে ডাকে। এই কথাটা আজকে কেন বললাম ? তার উত্তর হচ্ছে যে, ফিরোজ কেন শ্রাবন? আমার নাম নিয়ে হয়ত কারো যায় আসে না, আর আমি বিখ্যাত কোন ব্যক্তিও নই।  কিন্তু আমার তো সাধ জাগে বিখ্যাত কিছু করতে। তবে হতাশ হই এই ভেবে যে, বিখ্যাত হয়ে কি হবে ? যদি মানুষের তালিকায়  আমার নামই না থাকে। মাঝে মধ্যে ভাবি, আমাদের এত দেশপ্রেম, এত যোগ্যতা। তবুও কেন আজ পর্যন্ত আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকাটা  তৈরি করতে পারলাম না!  যে মানুষগুলো দেশের জন্য যুদ্ধ করলো তারা কেন মরেও মরতে পারলো না। তাদের তালিকা আজ সাক্ষাৎকারের  মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে। আর যারা দেশের জন্য জীবনটাই দিয়ে দিলেন সেই মানুষগুলোর কি হবে?  প্রতিটি  উপজেলায় বীরশ্রেষ্ঠ  আরা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার রঙ যেমন বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় তেমনি তাদের বীরত্বের ইতিহাসও যেন  ধুয়ে মুছে যাচ্ছে। দেশের জন্য যে মানুষগুলোর আবদানকে বেশি বেশি স্মরণ করা দরকার, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাদের দেখে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার দীক্ষা নেবে তাদের কি করুণ আকুতি। আমাকে বাচঁতে দাও, আমিও বাচঁতে চাই! শুনতে কি পাও বাংলাদেশ। কার অবদানে আজ তুমি ধন্য ,কাদের প্রচেষ্টায় আজ তুমি স্বমহিমায় উজ্জ্বল। সেই মানুষগুলো আজ কেন অবহেলিত? হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি উপাধি পাওয়া লক্ষকোটি মানুষের নয়নের মণি যার নামে বর্হিবিশ্ব আমাদের চেনে সেই প্রিয়নাম প্রিয় মানুষ বঙ্গবন্ধুকেই বা কতটুক জানতে পেরেছি আমরা।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment