মিতুদির বান্ধবীর স্বর্গদর্শন- ৩

(পূর্ব প্রকাশিতর পর)

যেতে যেতে আমি মিতুদিকে বললাম, ‘মিতুদি আপনি হাঁড়ি টাড়ি নিয়ে মন্দিরে যাবেন সেটা কালকে আমাকে বললেই পারতেন। আমি ড্রাইভারকে বলে দিতাম সাহেবকে অফিসে দিয়ে বাসায় চলে এসো।’

মিতুদি বললেন।’ হ্যাঁ এটা আমার মাথায় ছিলো না।এখন না হয় খালি হাঁড়ি নিয়ে যাচ্ছি কিন্তু আসার সময় অসুবিধে হতে পারে। ঠিক আছে তখন না হয় একটা স্কুটার নিয়ে নেবো।’

কথায় কথায় আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পৌঁছে গেলাম।

ঢাকেশ্বরী শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ঢাকার ঈশ্বরী। কিংবদন্তী হচ্ছে দক্ষ যজ্ঞের সময়ে সতী পতি নিন্দা সহ্য করতে না পেরে দেহত্যাগ করলে পত্নী শোকে মুহ্যমান মহাদেব সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডব নৃত্য শুরু করেন । এমন নৃত্যে সতীর অপমান হয় ভেবে বিষ্ণু চক্র দিয়ে সতীর দেহ ছিন্ন ভিন্ন করেন । তারই টুকরো যেখানে যেখানে পতিত হয় সেখানে সেখানে এক একটি পীঠস্থান গড়ে ওঠে।সতীর কিরীটের ডাক অর্থাৎ উজ্জ্বল গয়নার অংশ এখানে পড়ে তাই থেকে নাকি ঢাকা নাম হয়েছে।

কিন্তু আমার মত এক অর্বাচীনের প্রশ্ন হোলো, দেবতারা তো চির অমর। তাঁদের নাকি মরণ নেই? তাহলে সতীর দেহত্যাগকে আমরা কোন অর্থে গ্রহণ করব?

সে যাকগে ইতিহাস বলছে ১২০০ খৃষ্টাব্দের কোন এক সময়ে রাজা বল্লাল সেন ঢাকার মাটিতে এক সোনার দেবী মূর্তি পেয়ে দেবীর জন্যে মন্দিরটি নির্মাণ করেন ।যদিও স্থাপত্য কৌশলের বিবেচনায় তাও গ্রহণযোগ্য নয় বলে অনেকে মনে করেন।কারণ সেন বংশের রাজত্বকালে বাংলার স্থাপত্যশিল্পে মর্টার হিসেবে চুন বালির মিশ্রণের ব্যবহার ছিল না। কিন্তু ঢাকেশ্বরী মন্দিরটি আগাগোড়াই চূন-বালির গাঁথুনিতে নির্মিত।

বল্লাল সেনের সেই মুর্তিটি পাকিস্তান  আমলে লুন্ঠিত হয়ে গেছে। বর্তমান মুর্তিটি পরে অষ্টধাতু দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

মন্দিরে ঢুকতে ঢুকতে আমি এই সব ভাবছিলাম আর দেখি মিতুদির পরিচিত সব লোকজন এসে পড়েছে। তবে তাঁর আমেরিকা থেকে আসা বান্ধবীটি তখনও এসে পৌঁছান নি।

পুরোহিতের পুজো তখন শেষ। ঠাকুরকে ভোগ দিয়ে পুরোহিত তখন দরজা আটকে দিয়েছে। এইভাবেই বন্ধ ঘরে নাকি দেবতারা খেতে ভালোবাসেন।

খান ভালো কথা। দেবতার জন্যেই তো এত সব আয়োজন। কিন্তু লুকিয়ে লুকিয়ে খাবার দরকারটা কি? ভক্তের সামনে তাঁদের খেতে আপত্তিটা কোথায়?

( চলবে)

Author: অনুপা দেওয়ানজী

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment