মিতুদি সিরিজ- ১১

মিতুদি সিরিজ-৪

চাল ঝাড়া শেষ হলে হালিমা বললো, আমরা তো আর খুদ খাবো না। কাজেই খুদগুলি তাকে দিয়ে দিতে। সে অনেকদিন নাকি বউখুদি রান্না করে খায় নি।

মিতুদি শুনে বললো, বউ খুদি? তা তুই একাই খাবি নাকি ? আমাদের সবার জন্যে এখানেই রান্না করো। আমরাও খাবো।ঢাকা শহরে আমরাই বা খুদ কোথায় পাই যে বউখুদি রান্না করবো?

হালিমার মুখটা একটু অপ্রসন্ন হয়ে উঠলো। সে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি বললাম ,হ্যাঁ রান্না করো , খেয়ে দেখি তোমার হাতের বউ খুদি?  

হালিমা কি আর করে!

রান্নাঘরে গিয়ে বাসন পত্রের ঝনঝনানি সংগীতের সাথে সাথে বউ খুদ রান্না করতে গেলো।

মিতুদি আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বললেন , আমার কথাটা ওর একেবারেই পছন্দ হয়নি বুঝতে পারছি ওর বাসনপত্রের আওয়ায শুনে। এই বলে ওকে ডাক দিয়ে বললেন , শোন বউ খুদির সাথে একটু আলু ভর্তা, কালোজিরে ভর্তা আর মরিচ ভর্তাও করিস।

আমি বললাম,  ফ্রিজে রুই মাছ আছে হালিমা। কয়েক টুকরো  মাছও ভেজে দিও।

হালিমা  সব কিছু তৈরি করে আমাদের খেতে দিলো। মিতুদি খেতে বসে বললেন , আমার ছেলের জন্যে একটা প্লেটে করে একটু দিয়ে আয়তো? গরম গরম খেয়ে নিতে বলিস। ঠান্ডা হলে ভালো লাগবে না। এই বলে একটা প্লেটে করে কিছু খাবার ঢাকা দিয়ে ওর হাতে  তুলে দিতে দিতে বললেন , দেখিস যেতে যেতে আবার প্লেট উল্টিয়ে আংগুলে তুলে খাবারটা চাখিস না?  

এ  কথায় হালিমা চটে উঠে বললো,

ক্যা চাখুম ক্যান? আমি কি খাইতে পাই না?

মিতুদি বললেন,  তা পাবিনা কেন ? কিন্তু তোদের স্বভাব তো ভালো নয়। অনেক কাজের মেয়েকেই আমি এটা করতে দেখেছি।

হালিমা কিছু না বলে চুপচাপ খাবারটা মিতুদির বাসায় দিতে চলে গেলো।

আমি আর মিতুদি খেতে বসলাম। বউ খুদিটা খেতে সত্যিই ভালো হয়েছে ।

খেতে খেতে মিতুদি বললেন ,  রুই মাছ ভাজা দেখলেই আমি একটা ঘটনার কথা কিছুতেই ভুলতে পারিনা।

তখন আমার সবেমাত্র বিয়ে হয়েছে। আমার শাশুড়ি বললেন,

রুইমাছ রান্না করার জন্যে। আমি মাছ রান্না করার জন্যে মাছগুলি যেই তেলে ভেজে নেবার জন্যে সবগুলি একবারে ছেড়েছি দেখি কি আর ওল্টাতে পারিনা। মাছগুলি সব ভেংগে একাকার।

আমি হাসতে হাসতে বললাম, তারপর?

শাশুড়ি এসে কি বললেন? নিশ্চয় খুব বকেছেন?

মিতুদি বললেন আমি তাঁকে সেই সুযোগই দিইনি?

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

তাহলে কি নুতন কোন পদ রান্না করে শাশুড়িকে অবাক করে দিয়ে ছিলেন?

মিতুদি বললেন,  না তাও না।

আমি তো তখন তেমন একটা রান্নাই শিখিনি ওই মাছ ভাজা আর মাছের ঝোল পর্যন্ত বিদ্যা।

তাহলে কি করলেন?

মিতুদি বললেন,  নিজেই সব কটা মাছ ভাজা খেয়ে নিলাম।

আমি তো হতবাক । বললাম,   খেয়ে নিলেন মানে?আর খেয়েই অদি নিলেন শাশুড়িকে কি জবাব দিলেন?

মিতুদি বললেন, বাড়িতে একটা পোষা বেড়াল ছিলো তার  ঘাড়েই সে দায় চাপিয়ে দিলাম। বললাম, রান্না ঘরের ছিটকিনি আটকাইনি। কোন ফাঁকে বেড়ালটা মাছগুলি চুরি করে খেয়ে ফেলেছে।

নুতন বউয়ের কথা সেদিন কিন্তু সবাই বিশ্বাস করেছিলো।

আমি বললাম,  বলতেই পারতেন ভাজতে গিয়ে ভেঙ্গে গেছে মাছগুলি।

মিতুদি বললেন,  ভয়ে বলতে পারিনি।

এখন বুঝতে পারি কাজটা সেদিন ঠিক করিনি।

অনুপা দেওয়ানজী
অনুপা দেওয়ানজী

 

Author: অনুপা দেওয়ানজী

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment