মিতুদি সিরিজ- ৯

মিতুদি সিরিজ-৪

কালই খবর নেবো বলে  সেই যে সে সকালে নিশ্চিন্তে হেড অফিসে যায় আর বাসায় ফিরতে ফিরতে  সন্ধ্যে গড়িয়ে যায়।
জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয়,
‘অফিসের কাজের চাপের ব্যস্ততায় ধানকলের মতো তুচ্ছ ব্যাপার নাকি তার মাথায় থাকে না।’
রাতে ভাত খাবার পরে  রেডিওগ্রামটা নিয়ে  খুটুর খুটুর করে পরীক্ষা করতে থাকে  কেন সেটা চলছে না?
সেটা সেই যে প্রথম দিন থেকেই বোবা হয়েই আছে।
না রেডিও না গান  কিছুরই আওয়াজ বের হয় না তা থেকে।

এই করতে করতেই একসময়ে তার  সিলেটে ফেরার দিন এসে গেলে  দিব্যি  সে তল্পিতল্পা গুছিয়ে নিয়ে সিলেটে চলে গেলো।

আমার স্বামী সিলেট যাওয়ার পরদিনই আমি সেই উদবেড়াল না বনবেড়ালের চামড়াটা দূর করে দিলাম ঘর থেকে।

রেডিওগ্রাম আর ধানের বস্তা তিনটা নিয়ে  পড়লাম মহা বিপদে।
কিযে করি।

কারণ ইতি মধ্যে দেখা দিলো এ দুটোর ওপরে ইঁদুরদের মহা দৌরাত্ম।
কি যে বিপদে পড়লাম।
রাগে আমার তখন মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করছিলো
সেই সময়ে আমরা ছিলাম একতলা একটি বাড়িতে।

মাঝে মাঝে রেডিওগ্রামের ভেতরে  তাদের খুটুর খুটুর কাঠ কাটার শব্দ যেমন  শুনতে পা। ই তেমনি   আবার ধানের বস্তার এখানে ওখানে তারা  গর্ত  করে রেখে যায় আর সেই সব গর্ত থেকে  ধান গড়িয়ে মেঝেতে পড়তে শুরু করলো।

গোদের ওপরে বিষফোঁড়ার মতো হালিমা ও  সেই সময়ে তার কোন এক আত্মীয় মারা যাওয়াতে ফরিদপুরে চলে গেলো।

এর মধ্যে একদিন খবর পেলাম আমাদের গলিতেই একটা ধান ভাংগার কলের দোকান আছে।

বাসার ছোট্ট  কাজের মেয়েটাকে দিয়ে সেই ধান অল্প অল্প করে রোদে দিয়ে শুকিয়ে ভাংগাতে শুরু করলাম।
বিশাল সেই রেডিও গ্রামটাকে টেনে নিয়ে বারান্দায় রেখে দিলাম।
চলবে।

অনুপা দেওয়ানজী
অনুপা দেওয়ানজী

Author: অনুপা দেওয়ানজী

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment