মিতুদি-১

মিতুদি-১

আমি তখন ঢাকার ইস্কাটনের দিলু রোডে থাকি। ছেলে মেয়েরা কেউ বা স্কুলে কেউবা কলেজে পড়ছে।
ব্যস্ত জীবন সবার।
এর মধ্যে একদিন আমার স্বামীর বদলী আর প্রমোশনের খবর এলো। তাকে নাকি ছাতক সিমেন্ট কোম্পানীতে ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদে উন্নীত করা হয়েছে।
খবরটা পেয়ে আমার স্বামী তো খুশিতে ডগমগ।
আমি খুশি হলেও ছাতক সিমেন্ট কোম্পানীর সুবিশাল বাংলো, চমৎকার সুন্দর ফুলের বাগান, প্রশস্ত লন ছেড়ে ঢাকার ছোট্ট ফ্ল্যাটেই রয়ে গেলাম শুধুমাত্র ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ক্ষতি হবে বলে।
কিছুদিন পরে এক দুপুরে তিনি ছাতক থেকে আসলেন, সেই সাথে পিক আপ ভ্যানে করে নিয়ে আসলেন বিরাট বিরাট তিনটে বস্তা আর কাঠের বড় একটা বাক্স।
ভ্যানের লোকজন যখন ধরাধরি করে বস্তা তিনটা আর কাঠের বাক্সটা নামিয়ে দিয়ে চলে গেল তাতেই আমার ফ্ল্যাটের রান্নাঘর আর খাবার ঘরের বারান্দার প্রায় অর্ধেক জায়গা দখল হয়ে গেল।

আমি আমার স্বামীকে জিজ্ঞেস করলাম এগুলো কিসের বস্তা।
ও খুব খুশি হয়ে উত্তর দিলো কালিজিরা ধান।

ধান!
বিস্ময়ে আমার দু চোখ তখন কপালে উঠে গেছে।
জিজ্ঞেস করলাম, আর ওই কাঠের বাক্সে?
সে উত্তর দিলো, একটা পুরনো রেডিওগ্রাম আর একটা বনবেড়ালের চামড়া।
– বনবেড়ালের চামড়া?
– হ্যাঁ তোমার জন্যে এনেছি।
– আমার জন্যে!
ওটা দিয়ে আমি কি করবো?
– কেন ভ্যানিটি ব্যাগ বানাবে ওটা দিয়ে।
আমার তখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচির অবস্থা।

(চলবে)

 

অনুপা দেওয়ানজী
অনুপা দেওয়ানজী

 

Author: অনুপা দেওয়ানজী

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts