মেঘেদের প্রতিভা, নস্টালজিয়া অথবা যৌথজীবন

মেঘেদের প্রতিভা, নস্টালজিয়া অথবা যৌথজীবন

গৃহপালিত প্রশ্নে আটকে রাখি নিজেকে দেহের ভেতর। আর যখন কেবলি জেগে ওঠে সংশয়, আমি কীভাবে সময়ের ওপর হেঁটে যাবো, কতদূর? এইসব কোনোকিছু না বুঝেই হয়তো বা প্রিয়জন কেমন আছো, এই জিজ্ঞাসা চোখে জাগিয়ে অথবা হয়তো কুশলেই আছি, আর আপনাকে জানা হয় না অনেকদিন অথবা তখন সমকাল থেকে পিছিয়ে থাকা কোনো তরুণ তারাশঙ্কর পাঠে আক্রান্ত হয়ে নিজেকে খুঁচিয়ে তোলে; জীবন এত ছোটো কেন, এই এতটুকু জীবনে কীভাবে আকাক্ষা বেঁচে থাকে দেহে? সেইসব রহস্য বাঁচিয়ে রেখে ভালো লাগে এইসব ক্ষুদ্র জীবন। অথবা সপ্তরাত্রি সপ্তদিবস মেঘভ্রমণ শেষে নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হই। হয়তো বা বেড়ে যায় বয়স; এই এক চেনা পৃথিবীর বয়স; এইভাবে চেনা পৃথিবী একদা অচেনা হয়, বেড়ে যায় পৃথিবীর বয়স।

ফিরে আসে বর্ষা। বুড়ো এই পৃথিবীর পেটের ভেতরে নিজেকে খুব সতর্কে, মানবীয় কৌশলে বাঁচিয়ে রেখে সহসা বুঝতে পারি জীবন এমনই ছোট এক স্ফূলিঙ্গ যে সেখানে একজন কবি বুকে পৃথিবীর সমান বয়স অবধি আগুন ধরে রেখেও শেষাবধি নির্মাণ করতে পারে না কোনো আগুনসমুদ্র। অবাক হইনি, তবে মেনে নিতে পারিনি শিমুলের দেহত্যাগ। আসলেই শিমুল নামে কেউ কি আছেন পৃথিবীতে অথবা ছিলেন? মানুষের দেহ আছে; দেহের কোনো আত্মা নেই; তবে বলা হয় দেহ যে কাজ রেখে যায় পৃথিবীতে, মানুষ তা মনে রাখে। অথচ, যখন আমি মানুষের কাছাকাছি এলাম তখন বুঝতে পারলাম, মানুষ মানুষের কাজকেও মনে রাখে না। মানুষের কর্মও ক্ষণিক এবং নশ্বর; যেন বা ক্ষণজীবী শ্রাবণ।

মানুষ প্রকাশপাগল জীব; নিজেকে সে প্রকাশ করতে ইচ্ছুক কাজে অথবা ভাষায়। আর হয়তো এ কারণেই মেঘেদের ডানায় ভর দিয়ে ফিরে আসে দেবদূত; জেগে ওঠে বৃষ্টি-প্রণয়; হয়তো এর নামই জীবন। জীবন আমার আত্মজ; জীবন আমার আত্মজা। আত্ম থেকেই তো ‘আমি’। ‘আমি’ মানে আমার জীবন; একান্ত আমার জীবন। কিন্তু ‘একান্ত আমার’ জীবন বলে কিছু নেই। ‘আমি’ সর্বদা অসম্পূর্ণ, আংশিক এবং খন্ডিত। যৌথের ভেতর এই খন্ডিত জীবন পূর্নতা পায়। সুতরাং ‘আমি’ অর্থ জীবন নয়; জীবন অর্থ ‘আমরা’; এই পৃথিবীর মানুষ আর মানুষের চারপাশে দৃশ্যমান সবকিছু; একটা মায়া পোকা, ক্ষুদ্র কীট অথবা বিশাল পাইথন, মাথামোটা হাতি অথবা অসভ্য রাষ্ট্রপ্রধান, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা থেকে শুরু করে আমরা যারা সভ্য বলে নিজেদেরকে নিজেদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই; এই সব, সবটুকু দৃশ্যমান জগতের নাম জীবন।

বৃষ্টির সমারোহ শব্দে মাটির গন্ধ জেগে উঠলে দেহে, সন্দেহ হয় আমাদের ভেতর কারো কারো একদিন হয়তো বা কৈশোর ছিল; অথবা এই দেহ, দেহময় শরীর; কোথাও মন নেই, নেই কোনো শৈশব অতীত; শুধুই বয়স বাড়ে পৃথিবীর সাথে  পাল্লা দিয়ে। বৃষ্টির শব্দ অথবা আগুনচুলোর ধোয়াগন্ধ নিয়ে বেড়ে যায় বয়স। অতীত পৃথিবীর মতো ফিরে আসে মেঘ, মেঘশূন্য আকাশ অথবা নদী। আমাদের মনে থাকে না এইসব ছবি। তবু ভালোলাগা; অবাক হই অথবা কষ্টের অভিনয় করি; অথবা নাগরিক বৃষ্টির বিকেলে নোতুন কোনো নাগরিক প্রেমিকাকে বসিয়ে পাশে শারীরীয় অনুভূতি জাগিয়ে তুলি। অথবা শারীরীয় সময়কে ভিজ্যুআল করে নিতে বৃষ্টি অথবা পাখিচিত্র ফুটিয়ে তুলি আমাদের ভেতর। তবুও ভালোলাগা অনেক। এইসব ভাবতে ভালোলাগে; কামশেষ দেহে জেগে ওঠে, ‘চলে যাক নুনিয়া ঝুমু’। ‘নুনিয়া ঝুমু’ নামে আমার কি কোনোদিন কোনো এক প্রেমিকা ছিল?

মেঘেদের প্রতিভা, নস্টালজিয়া অথবা যৌথজীবন, Shimul Mahmud শিমুল মাহমুদ
শিমুল মাহমুদ

Author: শিমুল মাহমুদ

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

One thought on “মেঘেদের প্রতিভা, নস্টালজিয়া অথবা যৌথজীবন

  1. ripul kabir

    দারুণ।দর্শনতত্ত্বের মোহনিদ্রা ভঙ্গ হইলো।

মতামত দিন Leave a comment