মৎস্যকন্যা 

মৎস্যকন্যা 

সারা পৃথিবীতে মৎসকন্যা বা মারমেইড একটি কৌতূহলের বিষয়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের উপকথাতেই এই মৎসকন্যাদের উপস্থিতি প্রায় অনিবার্য। বিশ্বে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাহিনীতে মৎস্যককন্যাদের এই সব কাহিনী প্রচলিত থাকার কারণে অনেকেই এদের অস্তিত্ব এককথায় উড়িয়ে দিতে পারেন না।

আমাদের সমুদ্রতলে কত বিচিত্র জীববৈচিত্র যে রয়েছে তার কতটুকুই বা আমরা জানি। হয়ত তেমন বৈচিত্রময় প্রাণ হয়ত এই মৎস্যকন্যা।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ সমুদ্রে মৎস্যকন্যাসদৃশ অদ্ভুত সব প্রাণী দেখতে পেয়েছেন। তবে এই বিষয়ে সবথেকে বিশ্বাসযোগ্য একটি কাহিনী এডিনবার্গ ইউনিভারসিটির ন্যাচারাল হিস্ট্রির প্রফেসার মেকলিহান লিখে রেখে গেছেন। তিনি এডমনসন নামের এক জাহাজের ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে এই কাহিনীটি শুনেছিলেন।

১৮৩৩ সালে আইল অব ইয়েল নামক জাহাজে ছয়জন জেলে মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে গমন করে। হঠাৎ করেই তাদের জালে মৎসকন্যা সদৃশ এক সুন্দরী মেয়ে আটকে যায়। তারা যখন তাকে জাহাজের ডেকে টেনে উঠায়, তখন সে কোনো প্রতিরোধ না করেই ডেকে উপর উঠে অনেকক্ষণ বসে ছিল। তার দেহে মাছের মতো সামান্য আঁশও ছিল। যতক্ষণ সে ডেকে ছিল, সে শুধু রাগে অল্প অল্প ফোঁস ফোঁস করছিল। তার এমন ফোঁস ফসানো দেখে জেলেরা মারাত্মকভাবে ভয় পেয়ে যায়। আস্তে আস্তে তারা তাকে পুনরায় সমুদ্রে ফিরে যাওয়ার জন্য ইশারা করে।

অবশেষে ঘন্টা তিনেক পর কৃতজ্ঞতার দৃষ্টি হেনে মৎসকন্যাটি নিখুঁত এক ডাইভ দিয়ে সাগরে চলে যায়। সাগরে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার  সেই জাহাজের কাছে এসে ভেসে উঠে এবং সেই জেলেদের কৃতজ্ঞতা জানায়। এরপর একসময় সে সাগরে হারিয়ে যায়।

এটাই মৎসকন্যাদের সম্পর্কে সবথেকে বিশ্বাসযোগ্য একটি কাহিনী। যদিও মৎসকন্যাদের ন্যায় কঙ্কালও আবিষ্কৃত হয়েছে পরবর্তীতে। তাই মনে করা হয় মৎসকন্যা অথবা এর সদৃশ কোনো প্রাণী আমাদের সাগরের অজানা রহস্যের অতল গহ্বরে হয়তো এখনোবা লুকিয়ে আছে।

মৎস্যকন্যার ছবিগুলি কাল্পনিক কিম্বা বাস্তব যাই হোক না কেন সবই নেট থেকে সংগৃহীত।

সৌজন্যে : Sanjit Karmakar

Author: রক্তবীজ ডেস্ক

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment