যিনি পিতা তিনিই বন্ধু

যিনি পিতা তিনিই বন্ধু আফরোজা পারভীন

ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে বঙ্গবন্ধুর বাসার পাশে রিকসা থেকে নামে ফরিদ।  চেহারা উস্কোখুস্কো, জামায় ইস্ত্রি নেই, শেভ করেনি, মেজাজ চড়া। আজ লায়লার সাথে একটা হেস্তনেস্ত করতেই হবে। তাই সকাল সকাল আসা। নাস্তাও করেনি সে। রাগে খাওয়ার কথা মনেই পড়েনি।

ছুটির দিন । ভেবেছিল আয়েশ করে দিনটা কাটাবে।  বিকেলে লায়লার হলে গিয়ে দেখা করবে। দুজনে রেসকোর্সের ঘাসে বসবে। বাদাম কিনে খোসা ছড়িয়ে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে ওর  মুখে একটা একটা করে তুলে দেবে। কোনটাই হল না। ছুটির দিন কখনই এত সকালে ওঠে না। ব্যাংকের চাকরিতে খাটুনির অন্ত নেই। ছুটির দিনে একটু পুষিয়ে নিতে চায়। কিন্তু তা হলো না। নাইট কোচে বাড়ি থেকে এসেছে মফিজ চাচা। চাচা ওদের বছরওয়ারী কামলা। তার হাতে একটা চিঠি পাঠিয়েছেন মা। চিঠিটা ওর হাতে দিয়ে মফিজ চাচা জানিয়েছেন, রাতের কোচেই তিনি ফিরে যাবেন। আর মা বলেছেন চিঠির জবাব তার হাতে দিয়ে দিতে।

যে কথা মা এতদিন বলেছেন ভাসা ভাসা, চিঠিতে সেকথাই লিখেছেন স্পষ্ট করে। চিঠির ভাষা অবিকল এই রকম, ‘ শোন বাবা তুমি আমার একমাত্র সন্তান। তোমার আব্বার শরীর খারাপ যাইতেছে। এখন তখন অবস্থা। তিনি পুত্রবধু দেখিতে অতীব ইচ্ছুক । কথাটা তোমাকে  বারংবার বলা হইতেছে। কিন্তু তুমি কর্ণপাত করিতেছ না। লায়লা নামের মেয়েটাকে তোমার পছন্দ তুমি আমাদের জানাইয়া দিয়াছ। আমরাও তাহা মানিয়া লইয়াছি সে ইচ্ছায় হউক বা অনিচ্ছায়ই হউক। তুমি আমাদের একমাত্র সন্তান । তোমার পছন্দকে সম্মান করিয়াছি। নিজেদের পছন্দের কথা ভাবি নাই। সেও তো অনেক দিন হইল। তোমাকে বিবাহের কথা বলিলেই  বল, করিব করিব। লায়লা একটু সময় চাহিয়াছে। এই সময় কবে শেষ হইবে বাবা? ততদিন কি তোমার আব্বা বাঁচিবেন, নাকি তাহার শেষ ইচ্ছে অপূর্ণই রহিয়া যাইবে? আজ আমি জানিতে চাই, ওই মেয়ে কি সত্যিই তোমাকে বিবাহ করিবে নাকি এটাও তাহার রাজনীতি?’

মায়ের চিঠি পড়তে পড়তে মুখস্থ হয়ে গেছে ফরিদের। মা খুব নরম মনের মানুষ। কাউকে কথা শুনানোর আগে নিজেই কেঁদে কেটে একসা হন। সেই মা এমন শক্ত কথা লিখেছেন! আব্বা অবশ্যই নেপথ্যে আছেন। তারা খুবই রেগেছেন। মার চিঠির শেষ কথাটা ফরিদকে খুবই ভাবাচ্ছে । ‘সেকি তোমাকে সত্যিই বিবাহ করিবে নাকি এটাও তাহার রাজনীতি।’ এই এক লাইনেই রাজনীতিবিদদের প্রতি আব্বা-মায়ের ধারণা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এটাও বুঝিয়েছেন ছেলের পছন্দ বলেই বাধ্য হয়ে লায়লাকে তাদের পছন্দ করতে হয়েছে, বিয়েতে মত দিতে হয়েছে।

বছর দুয়েক ধরে মা ক্রমাগত বিয়ের তাগিদ দিচ্ছেন।  ফরিদের বিয়ের বয়স হয়ে গেছে আগেই । ব্যাংকে ভাল চাকরি করছে। তাহলে বিয়ের দেরি  কেন, এ প্রশ্ন আব্বা- মায়ের। বাড়ি গেলে অনিচ্ছাসত্ত্বেও মা ওকে দু’ চারটে মেয়ে দেখানোর পর একদিন ঝপ করে ফরিদ মাকে বলে ফেলেছিল লায়লার কথা। মা আচমকা থেমে গিয়েছিলেন। তার মুখে মেঘ ঘনিয়ে এসেছিল। যতো ভাল মাই হোক, ছেলে নিজে মেয়ে পছন্দ করেছে জানলে সে মায়ের মুখে মেঘ নামেই। এটাই স্বাভাবিক। এটুকুর জন্য তৈরি ছিলো ফরিদ। সেদিন আর কিছু বলেননি মা। এরপর অনেক কিছু জানতে চেয়েছিলেন ফরিদের কাছে। মেয়ে দেখতে কেমন, বাড়ি কোথায়, বাপ মা কি করে, সংসারী কিনা? মেয়ে রাজনীতি করে শুনে মেঘ শুধু নামেইনি, ঘন হয়েছিল। অস্ফুটে বলেছিলেন, ‘আমাদের কেউ কখনও রাজনীতি করেনি। শেষপর্যন্ত রাজনীতি করা মেয়ে। ও মেয়ে দিয়ে কি সংসার হবে!’

মায়ের ওই প্রশ্নটা আজকাল ফরিদের মনেও জাগে। ফরিদ নিজে যে খুব সংসারমনস্ক তা না, কিন্তু সংসারে সময় তো সবারই দিতে হয় পুরুষ নারী নির্বিশেষে। সেটা লায়লা দেবে তো? বাড়ি থেকে ফেরার সময় মা বার বার বলেছিলেন, ঢাকায় ফিরে লায়লার সাথে কথা বলে বিয়ের ব্যাপারটা এগিয়ে নিতে। প্রতিবারই বলেন । কিন্তু কোন লাভ হয়নি। লায়লাকে বললে সে বলে, ‘অত তাড়া কিসের। বিয়ে তো আমরা করবোই। আমার লেখাপড়া তো শেষ গয়নি। তাছাড়া দেশের এই অবস্থা। আমরা নির্বাচনে জিতেও ক্ষমতা পেলাম না। আস্তে আস্তে ক্ষোভ বাড়ছে, পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে । এটা কি বিয়ে করার সময়। কিযে বলো তুমি!’

কি বলবে ফরিদ! ওর তো বলতে ইচ্ছে করে, ‘ তুমি দেশের কথা ভাবছ। আমার কথা ভাবছ না। আমার আব্বা-মার কথা ভাবছ না। আমার আব্বা অসুস্থ বউ দেখেতে চেয়েছেন।’ বলবে কি বলবে না ভাবতে ভাবতে বলেও ফেলে । লায়লা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে, ‘ আমাকে একটু সময় দাও।’ সময় নিতে নিতে দুই বছর পেরিয়ে গেছে। নিভু নিভু করে আব্বার জীবনপ্রদীপ এখনও জ্বলছে। যে কোন সময় নিবে যাবে। প্রদীপের শিখা এখন বড় স্তিমিত। বউ দেখার সাধ  মেটেনি আব্বার।

মার চিঠি পাবার পর ফরিদ ঠিক করেছে আজ লায়লার সাথে শেষ বোঝাপড়া করবে। ও যদি রাজি হয় ভাল, না হলে মাকে বলবে , ‘তোমাদের যা ইচ্ছে তাই করো মা, আমার আপত্তি নেই। নিজের সুখের জন্য আব্বার সাধ অপূর্ণ রাখার কোন অধিকার আমার নেই। তিনি জন্মদাতা।’ সে কথা ভেবেই বাসা থেকে  বেরিয়েছে ফরিদ । আজ ছুটির দিন। আগেই জানা ছিল এ সময় লায়লা ৩২ নাম্বারে থাকবে। ছাত্রলীগের নেত্রী সে। রোকেয়া হলে থাকে। থাকে মিটিং মিছিলের অগ্রভাগে। কি করে যে এই অসম প্রেমটা হলো আর ফরিদ গ্যাড়াকলে পড়ল! প্রেমটা হয়েছিল ওর বক্তৃতা শুনে। বন্ধু কবির আর ও একসাথে বাসা নিয়ে থাকে। কবির রাজনীতি করে না। তবে নেতাদের সাথে ওর খুব ভাব। প্রায়ই ৩২ নাম্বারে যায়। মাওলানা ভাসানী, ওলি আহাদ, আতাউর রহমান খান এদের বক্তৃতা শুনতে যায়। বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা হলে তো কথাই নেই। এসব বিষয়ে ফরিদের কোন আগ্রহ নেই। কিন্তু ও একদিন জোর রেসকোর্সে নিয়ে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শুনাতে । সেই মঞ্চে  আবদুর রাজ্জাক আর তোফায়েল আহমদও বক্তৃতা করেছিল। ওদের সাথে লায়লা বক্তৃতা করেছিল সেদিন। সে বক্তৃতা শুনে বিমোহিত হয়েছিল ফরিদ। বন্ধুকে বলেছিল,

: তুই জোর করে নিয়ে এসে ভাল করেছিস। চমৎকার একটা বক্তৃতা শুনলাম। যেমন জোরালো কণ্ঠ, তেমনই উচ্চারণ আর শব্দচয়ন। পার্টি সম্পর্কে কী গভীর জ্ঞান!

কবিরের মনে কি ছিল জানে না ও । তবে আর একদিন অনেক বলে কয়ে নিয়ে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে । সেখানে আবার দেখা হয়েছিল লায়লার সাথে। আর চিরকালের মুখচোরা ফরিদ আচমকা লায়লাকে বলে  ফেলেছিল,

: আপনি খুব ভাল বলেন।

এই বলাটা ছিল ওর নিতান্তই স্বভাববিরুদ্ধ। লায়লা  হেসেছিল । জেনে নিয়েছিল ওর এলাকা কোনটা। তারপর বলেছিল,

: আসুন না আমাদের সংগঠনে। আপনার এলাকায় আমাদের পার্টির ব্যাপ্তি বাড়ান।

 তা হয় নি। লায়লাকে পরিব্যাপ্ত করে নিয়েছে নিজের জীবনে।

৩২ নম্বরের সামনে দিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটে ফরিদ। ছক কাটে কিভাবে লায়লাকে বলবে কথাগুলো। মার চিঠিটা ওর পকেটে।  চিঠিটা কি ওকে দেখাবে! সেটা কি উচিৎ হবে। না বোধহয়। চিঠি পড়লে মার সম্পর্কে লায়লার মনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। ও গেট দিয়ে ঢোকে। ডান দিকের বারান্দা দিয়ে এগুলে ড্রইংরুম আর পাশে একটা লাইব্রেরি। ছোট একটা অফিসও আছে নিচতলায়। আওয়ামী লীগ অফিস ৫০ পুরানাপল্টন।  অফিস থেকে টাইপ রাইটারের খটখট শুনতে পায় ফরিদ। ফোনেও কেউ কথা বলছে। বঙ্গবন্ধু থাকেন ওপরে।

ফরিদ ড্রইংরুমে ঢুুকে দেখে বঙ্গবন্ধু তখনও নিচে নামেননি।  বড় বড় নেতারা বসে রয়েছেন। তোফায়েল আহমদ, কামরুজ্জামান, শেখ ফজরুল হক মণি। লায়লা এক পাশে কয়েকজনকে নিয়ে পোস্টার লিখছে । দুদিন পর ৭ মার্চ। রেসকোর্সে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ । তারই প্রস্তুতি। ফরিদ বুঝতে পারে না এখানে এই পরিবেশে কি করে লায়লাকে বলবে কথাগুলো। আবার বাইরে যে বের করে নিয়ে যাবে তারই বা উপায় কি। বাইরে বের হতে বললে লায়লা কি শুনবে। কিন্তু আজ যে ওকে বলতেই হবে। মফিজ চাচা চলে যাবে নাইট কোচে। মার কাছে চিঠি পাঠাতে হবে মফিজ চাচার হাত দিয়ে। দ্বিধান্বিত ফরিদ এগিয়ে যায়। লায়লার পেছনে দাঁড়িয়ে মৃদুকণ্ঠে ডাকে,

: লায়লা

চমকে ফিরে তাকায় লায়লা

: তুমি ! আসবে বলো নিতো। কোন সমস্যা হয়েছে নাকি?

: ওসব কিছু না। এমনি এলাম। একটু বাইরে আসতে পারবে?

লায়লার সাথের ছেলেগুলো ফরিদকে চেনে। মাঝে মাঝে দুজনকে একসাথে দেখে। সম্পর্কও নিশ্চয়ই আন্দাজ করে।

: পারবে আসতে?

: এখন খুব ব্যস্ত আমি । এক কাজ করো, একটু বসো। আমি হাতের কাজ সেরে আসছি।

ছেলেগুলো একযোগে বলে,

: আপনি যান আপা, সামান্যই তো বাকি আছে । আমরা সামলে নেব।

লায়লা বেরিয়ে আসে । আর বারান্দায় বেরুতেই সামনে পড়ে বঙ্গবন্ধুর। পরণে লুঙ্গি , লম্বা পাঞ্জাবি, ঠোঁটে চেপে ধরা চুরুট। পেছনে আরও দু’তিনজন। বঙ্গবন্ধু লায়লাকে দেখে বলেন,

: চলে যাচ্ছিস নাকি?

: না লিডার, একটু বাইরে যাচ্ছি। এখনই ফিরব।

এবার বঙ্গবন্ধু ফরিদের দিকে তাকান। ওর পা  থেকে মাথা পর্যন্ত এক নজরে দেখেন। তারপর বলেন,

: ছেলেটা ভাল। প্রায়ই তোর সাথে দেখি। তোর কি হয়?

লায়লার মুখে রক্তিমাভা ফোটে। বঙ্গবন্ধু সেদিকে তাকিয়ে হাসেন,

: আরে পাগলি লজ্জা পাচ্ছিস কেন, বেশ  বেশ। যা ঘুরে আয়। উনি সামনে এগোন।

ফরিদ লায়লার কাঁধ থেকে ভারি ব্যাগটা নিজের কাঁধে নেয়। বলে,

: উনি তো  বেশ মজার মানুষ। লায়লা হাসে। বলে,

: ঠিক তাই । কিন্তু তুমি ব্যাগটা নিয়ো নাতো। অভ্যাস খারাপ করে দিও না। নিজের বোঝা নিজেকেই বইতে দাও।

ওরা এসে বসে লেকের ধারে। ফরিদ বাদামওয়ালাকে ডেকে বাদাম ছুলে ফুঁ দিয়ে খোসা উড়িয়ে একটি একটি করে লায়লার মুখে তুলে দেয়। লায়লা বিমূঢ় নয়নে তাকিয়ে থাকে। সুবোধ বালিকার মতো বাদাম চিবায়। কে বলবে ও অতবড় নেত্রী । একসময় লায়লা বলে,

: বলো কি বলবে?

ফরিদের গোছানো কথা এলোমেলো হয়ে যায় । একটু সামলে বলে,

: আর তো অপেক্ষা করা যায় না লায়লা। দু’বছর তো হলো। তাছাড়া মা চিঠি দিয়েছেন। আব্বার এখন তখন অবস্থা । তোমাকে বউ হিসেবে দেখবেন বলেই হয়ত জীবনপ্রদীপটা এখনও বেরিয়ে যায়নি। এবার বলো মাকে উত্তরে কি লিখব? কবে যাবে আমার ঘরে? একদমই সময় দিতে পারব না কিন্তু।

লায়লা পরিপুর্ণ দুচোখ মেলে ফরিদের দিকে তাকায়। খুব আস্তে আস্তে বলে,

: তোমাকে দুটো বছর আটকে রেখেছি।  সত্যিই ভেবেছিলাম এর মাঝে আমরা বিয়ে করতে পারব। পারিনি। তোমার পিতাকে বউ দেখা থেকে বঞ্চিত  করার অধিকার আমার নেই। এখন দুটো পথ খোলা আছে। এক, তোমার বাবা মাকে বলো তাদের পছন্দমতো তোমাকে বিয়ে করাতে।   ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ। তিনি স্বাধীনতার ডাক দেবেন ওই দিন। জানিনা এরপর কি হবে। আমাকে পেতে হলে হয়ত অপেক্ষা করতে হবে অনেক অনেকদিন কিংবা খুবই অল্প সময়। কিছুই জানা  নেই আমাদের। আর দুই, এতদিন তো অপেক্ষা করেছ আর একটু অপেক্ষা করো আমার জন্য। এখন কোনটা করবে ঠিক করো তুমি।

লায়লার এমন নিচু কণ্ঠ আর কখনও শোনেনি ফরিদ। কে বলবে এই কণ্ঠের উদাত্ততায় গম গম করে ওঠে চারদিক। কিন্তু ফরিদের এখন সেটা নিয়ে ভাবার সময় নেই। লায়লা যা বলল সেতো সেই একই কথা। এ অনিশ্চিত অবস্থায় বিয়ে করবে না লায়লা । অপেক্ষা করতে হবে। তাহলে !

: রাগ করলে?

: না রাগ করিনি। আচ্ছা শোন আমরাতো বিয়েটা করে নিতে পারি। এখনই না, ৭ মার্চের পর। দু’দিনের জন বাড়ি গিয়ে আব্বাকে বউ দেখিয়ে আনতে পারি। তারপর তুমি  যেমন পার্টির কাজ করছ তেমনই করবে। এতে তো কোন ক্ষতি নেই। করবে?

: বলছ কি তুমি! এ অবস্থায় কি বিয়ে করা যায়!

: ও আচ্ছা। তাহলে আমার চেয়ে তোমার কাছে দেশ বড় হল! ও হ্যাঁ এ আর এমন নতুন কথা কি। চিরদিনই তাই ছিল।  

: দেশ না থাকলে যে তুমিও থাকো না ফরিদ। তবে একদিন ঠিকই বুঝবে তুমি আমার কাছে কতটা।

মাথা নিচু করে বসে থাকে  ফরিদ। তারপর আচমকা বলে ওঠে,

: আমি এখনই বঙ্গবন্ধুকে বলব আব্বার বিষয়টা। তিনি নিশ্চয়ই আমাদের বিয়ে করার অনুমতি দেবেন।

অবাক হয়ে যায় লায়লা। তারপর বলে,

:এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু এলেন কি করে। তিনি কি আমাকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন যে তার অনুমতি নিতে হবে? এটা সম্পূর্ণই আমার নিজের সিদ্ধান্ত।

এবার লায়লাকে ভীষণ নিষ্ঠুর মনে হয় ফরিদের। ও লায়লার  কোন কথা শোনে না। জোর পায়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গিয়ে ঢোকে। পাশে পাশে গিয়ে লায়লা ওকে নিবৃত করার চেষ্টা করে । ফরিদ ওর কথা কানে নেয় না।  বঙ্গবন্ধুর সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।

: লিডার একটু কথা ছিল

: বল?

: আব্বা খুব অসুস্থ। এখন তখন অবস্থা। বউ দেখে যেতে চান। কিন্তু দেশের অবস্থা ভেবে লায়লা রাজি হচ্ছে না। আমার আব্বা মারা যাবেন লিডার। ওকে একটু বুঝিয়ে বলেন।

ওর গলা ধরে আসে।

বঙ্গবন্ধু হাসেন। লায়লাকে কাছে ডাকেন

: দেশের অবস্থা খারাপ বলে তোদের বিয়ে আটকাবে কেন? যা বিয়ে করে ফেল

: না লিডার। এই আদেশ আপনি আমাকে করবেন না। এটা আমি রাখতে পারব না। আমি বিয়ে করব না বলিনি। বলেছি দেশের এই অবস্থায় করব না। ও অনেক দিন অপেক্ষা করেছে আমার জন্য। আর যদি অপেক্ষা না করতে পারে আমি কি করতে পারি। ওর আব্বার অসুখ সেটা আমি বুঝতে পারছি। আমি দুঃখিত। কিন্তু লিডার এটা যুদ্ধের  সময় না।

এরপর বঙ্গবন্ধু চুপ করে যান। ফরিদ গম্ভির মুখে লায়লাকে বলে,

: তুমি তাহলে আমার কথা শুনবে না?

লায়লা চুপ করে থাকে। পেছনে একবারও না তাকিয়ে ফিরে আসে ফরিদ। ঘরে ফিরে একটাও কথা বলে না। খায় না। তারপর মাকে চিঠি লেখে । লিখতে লিখতে  চোখের পানির দু’ চারটে ফোটা ঝরে পড়ে সে চিঠিতে। আড়াল থেকে সে দৃশ্য দেখেন মফিজ চাচা। অনেক যত্নে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে সে চিঠি খামে ভরলেও পানি পড়া জায়গাটা কেমন যেন মোটা আর কুঁকড়ানো থেকে যায়। রাতে সে চিঠি নিয়ে চলে যায় মফিজ চাচা।

৭ মার্চ। শাহবাগ পর্যন্ত রিকসায় এসে কি এক দুর্লঙ্ঘ টানে হাঁটতে হাঁটতে রেসকোর্সে  এসে দাঁড়ায় ফরিদ। বঙ্গবন্ধু তখনও আসেননি। রেসকোর্স যেন জনসমুদ্র। সারা দেশের লোক এসে কি জড়ো হয়েছে রেসকোর্সে। কেউ  বলছে নয় লাখ কেউ দশ লাখ । লম্বা লম্বা মিছিল আসছে প্লাকার্ড ব্যানার ফেষ্টুন হাতে। কণ্ঠ সোচ্চার, স্বাধীনতার দাবি। ফরিদ কখন যে মঞ্চের ঠিক সামনে এসে গেছে বুঝতে পারেনি। বক্তৃতা চলছে। নুরে আলম সিদ্দিকি, তোফায়েল আহমদ বক্তৃতা দিলেন। মঞ্চের  এধারে ওধারে ছুটাছুটি করছে লায়লা। ও বলেছিল মঞ্চ সজ্জ্বার দায়িত্ব পড়েছে ওর ওপর। অনেক বড় কাজ, খুব চিন্তিত ছিল। এখন বিন্দুমাত্র চিন্তিত মনে হল না ওকে। যন্ত্রের মতো মঞ্চের এদিকে যাচ্ছে, ওদিকে যাচ্ছে। একে ডাকছে ওকে ডাকছে । আবার কারো করো পিঠে হাত দিয়ে হাসিমুখে কথাও বলছে । অর্থাৎ ফরিদের সাথে ব্যাপারটা বিন্দুমাত্র রেখাপাত করেনি ওর মনে। এর নাম তাহলে ভালবাসা! এতদিনের সম্পর্ক ভুলে গেল এক নিমিষে। ফরিদ চলে যাবার জন্য পা বাড়ায়। তখনই রেসকোর্সে ঢোকেন বঙ্গবন্ধু। মাইকের আওয়াজ  জোরালো ধ্বনি তোলে। বঙ্গবন্ধু মঞ্চে ওঠেন। দেন সেই ১৮ মিনিটের বক্তব্য। মনে ক্ষোভ দুশ্চিন্তা রাগ তবু স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়ে সে বক্তৃতা শোনে ফরিদ। সে বক্তৃতাকে কানে আর বুকে ঢেলে নিয়ে বাসায় ফেরে।

এরপর আর লায়লার সাথে দেখা হয়নি। ২৫ মার্চ ক্রাকডাউন হল, হল ভ্যাকেট হল। লায়লা পাশ করে গেলেও এখনও হলেই থাকে। ফরিদের ইচ্ছে হয়েছে ছুটে  রোকেয়া হলে গিয়ে লায়লার খবর নিতে। যায়নি। কঠিন কষ্টে নিজেকে নিবৃত করেছে।

২৫ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হলেন। ঢাকার জীবনে চরম অনিরাপত্তা। মানুষ ঢাকা ছাড়ছে নিরাপদ আশ্রয়ের আশায়। সন্তোষে মাওলানা ভাসানীর বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানিরা। তিনি চলে গেছেন মুজিবনগরে। দলে দলে লোক নাক লেখাচ্ছে মুক্তিবাহিনিতে । দেশে  ছেড়ে অনেকেই আশ্রয় নিচ্ছে ভারতে। ঢাকার জীবন একপ্রকার অচল। স্কুল কলেজ বন্ধ। ফরিদের ব্যাংক অবাঙাালির মালিকানাধীন তাই চলছে। কিছুদিন চাকরি করলেও বাবা মাষের তাড়ায় একসময় গ্রামে যেতে হল ফরিদকে। গ্রামেও যে ওদের জীবন খুব নিরাপদ ছিল তাও না। এর মাঝেই একদিন মা বললেন,

: তোমার পঠানো চিঠি পড়ে সব জানলাম। তুমি কি আসলেই  আমাদের পছন্দে বিয়ে করতে ইচ্ছুক? ওই মেয়েটার সাথে কি হল?

: আমি তো তোমাকে চিঠিতেই সব লিখে দিয়েছি মা

: তা দিয়েছ তবে, আচ্ছা এতদিনই অপেক্ষা করলাম। আমরা না হয় যুদ্ধ শেষ হওযা পর্যন্ত অপেক্ষা করি। মেয়েটাকে তুমি যখন পছন্দ করো।

: এখন আর করি না মা। যুদ্ধ শেষ হবার দরকার নেই। তোমাদের যা করার করো।

: কিন্তু মফিজ বলছিল

অর্থাৎ ফরিদ যা ভেবেছিল তাই। মফিজ চাচা তার চোখের পানি দেখে ফেলেছিলেন । আর সেটা মাকে বলেও দিয়েছেন।

: বলাবলির কিছু নেই মা। তোমাদের যা ইচ্ছে তাই করো।

যুদ্ধের মধ্যেই পারুর সাথে বিয়ে হয়েছিল ফরিদের। পারু বড় ভাল মেয়ে, সহজ সরল ঘরোয়া। সারাটা দিন ঘুরে ঘুরে মার সাথে সংসারের কাজ করে। মা খুব খুশি। মনে মনে লম্বা শ্বাস ফেলেন, ভাগ্যিস রাজনীতি করা মেয়ের ভূত তার ছেলের মাথা থেকে নেমেছিল।

ফরিদকে খুবই যত্ন করে পারু। ওর খাবার দাবার কাপড় চোপড় গুছিয়ে রাখা সব সবকিছু।

চারদিকে যুদ্ধের দাবানল, মৃত্যু ,জয় , জিঘাংসা, স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র, চরমপত্র,  একটা নতুন মেয়ে আর তার আনকোরা শরীর। অনিশ্চয়তার মাঝেও একধরনের আনন্দ পায় ফরিদ। পারু ওকে এমনভাবে জড়িয়ে রাখে যে, লায়লাকে মনে করার সুযোগ সে খুব কমই পায়। তবে হঠাৎ হঠাৎ গ্রেফতার ধর্ষণ মৃতুুর খবর শুনলে ওর বুকটা কেঁপে ওঠে। রোকেয়া হল থেকে যে মিছিলটা বেরিয়েছিল সে মিছিলের অগ্রভাগে ছিল লায়লা। ২৫ মার্চ থেকে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষকে গ্রেফতার কথা হচ্ছে,   মেয়েদের আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেমন আছে লায়লা? নিরাপদে সরে থাকার মেয়ে তো ও নয়। অচ্ছা ও ভারতে চলে যায়নি তো। ভারতে গেলে তবু একরকম স্বস্তি।

পারু ঘরে ডোকে

: কি ভাবছ?

: কিছু না

: যুদ্ধ শেষ হলে আমাকে ঢাকায় নিয়ে যাবে তো?

: যাবো। কিন্তু কবে  যে যুদ্ধ শেষ হবে কে জানে!

পারু ঘন হয়ে বসে,

: হবে তো। আচ্ছা তুমি আমাদের জাতির পিতাকে দেখেছ? ওনাকে তো গ্রেফতার করেছে। ওনার কিছু হবে না তো?

: বঙ্গবন্ধুকে করাচি তেকে লায়ালপুর জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তারই বা কি হচ্ছে কে জানে

: দেখো সব ঠিক হয়ে যাবে। উনি অনেক বড়  নেতা । স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন উনি। ওনার কিছু হবে না।

ফরিদ হাসে। পারুকে কাছে টেনে নেয়।

দেশ স্বাধীন হয়। মুক্তিযোদ্ধারা ঘরে ফেরে। ঢাকা থেকে যারা গ্রামে গিয়েছিল, একে একে সবাই ফিরে যায় ঢাকায়। ফরিদও যায়। ব্যাংকের চাকরিটা ফেরত পায় । আগে চাকরি করত পাকিস্তানিদের অধীনে এখন নিজের দেশের নিজের  চাকরি। ভাবলে মনে বড় হয়ে যায়। ঢাকায় যাবার পর কবিরের কাছে ফরিদ জানতে পারে, ২৫ মার্চের আগেই মিছিল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল লায়লাকে। যুদ্ধের নয় মাস ও জেলেই ছিল। দেশ স্বাধীন হবার পর ছাড়া পেয়ে আবার বিপুল উদ্যমে কাজ শুরু করেছে । মাঝে মাঝে টিভিতে দেখা যায় লায়লার মুখ। ফরিদ দেখতে চয়না । কিন্তু কোন এক কঠিন টানে দেখে ফেলে।

পারু ওর সাথেই ঢাকা আসতে ছেয়েছিল। আনেনি । ও আর ফরিদ এক বাসায় থাকে। আগে একটা আলাদা বাসা ঠিক করতে হবে।  শুক্রবারে ঘুরে ছিমছাম একটা বাসা ঠিক করে ফেলে ফরিদ। দুটো রুম, রান্নাঘর, সামনে পেছনে বারান্দা, প্রচুর গাছপালা। পারু নিশ্চয়ই খুব পছন্দ করবে।

আব্বা এখন আগের থেকে অনেক সুস্থ। কে বলবে তিনি অতটা অসুস্থ ছিলেন। কাজেই পারুর ঢাকায় আসার ব্যাপারে আব্বা মা আপত্তি করবেন না। বরং ওরা রাজি হলে ওদের সাথে করেই নিয়ে আসবে ফরিদ।

পরের শুক্রবার পারুকে নিয়ে আসে ফরিদ। পারু প্রজাপতির মতো এ ঘর ও ঘর ছুটতে থাকে। ফরিদের সাথে বাজারে গিয়ে ভ্যান বোঝাই করে হাড়ি পাতিল আনে। দু’একটা ফার্নিচারও কিনে ফেলে সাধ্যমতো। কাপড়ের ওপর ফোড় তুলে বানাতে থাকে বালিশের কাভার টেবিল ক্লথ ড্রেসিংটেবলের ঢাকনি। রান্না করতে থাকে মন দিয়ে এ পদ ও পদ। বিকেল হলেই সেজে গুজে বসে থাকে ফরিদের অপেক্ষায়। ফরিদের মন জুড়ে তিরতিরিয়ে সুখের হাওয়া বয়। দূরবর্তী কেউ ঢুকতে পারে না সেখানে। তবে উঁকিঝুকি দেয়।

১০ জানুয়ারি দেশে ফিরবেন বঙ্গবন্ধু। পারু বায়না ধরেছে সে এয়ারপোর্টে যাবে। ফরিদের মোটেও ইচ্ছে ছিল না। অত ভিড় ভাট্টায় যাবার দরকার কি। কিন্তু পারুর ইচ্ছে সে কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুকে দেখবে।

ওকে সাথে নিয়ে এয়ারপোর্টে এসেছে ফরিদ। রাস্তার দুধারে অঢেল মানুষ। মানুষে মানুষে সয়লাব যেন ঢাকা শহর। বঙ্গবন্ধু এয়ারপোর্ট থেকে বেরুলেন। হর্ষধ্বনি দিয়ে উঠল জনতা। একটা খোলা ট্রাকে উঠলেন তিনি। হাত নাড়ছেন। জনতা ফেটে পড়ল উল্লাসে। ফুল ছুঁড়ছে নাচছে লাফাচ্ছে সে এক অচিন্তনীয় দৃশ্য। ট্রাকে বঙ্গবন্ধুর পাশে অনেক মানুষ।  খুব ধীরে ধীরে চলছে ট্রাক। বঙ্গবন্ধুর সামনে একটা মাইক্রোফোন। আশে পাশে আরো কয়েকটা। মাঝে মাঝে জনতার উদ্দেশ্যে কথা বলছেন বঙ্গবন্ধু। শ্লোগান দিচ্ছে অন্যরা। জনতার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে ফরিদ পারু। হঠাৎ ওর চোখে পড়ল একটা মেয়ে নিচু হয়ে বঙ্গবন্ধুর পা ছুঁয়ে সালাম করল। বঙ্গবন্ধু ওকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর বললেন,

: কেমন আছিসরে মা। জেল খেটেছিস, হাত ভেঙেছিস আন্দোলন করে জিতেছিস। তুই আমার বীর মেয়ে। তা তুই একা কেন, ও কোথায়? এবার তো আর কোন সমস্যা নেই। বিয়ে করে ফেল  তোরা। বেচারি আমার কাছে এসেছিল আশা করে ।

অবাক বিস্ময়ে লায়লা বলে

: বিদেশে জেলে ছিলেন, কত দুঃশ্চিন্তায় গেছে আপনার দিনরাত লিডার। এসব কথা আপনার মনে আছে?

: মনে থাকবে না মানে! কবে বিয়ে করবি বল? নাকি তারিখ আমিই ঠিক করব? তোর বা তোর বাপ মায়ের আপত্তি না থাকলে কন্যা সম্প্রদান করব আমি।

: আমার  আব্বা-মা জীবিত নেই লিডার। তবে কন্যা সম্প্রদানের আর দরকার হবে না।

:  কেন কেন, তোরা কি এরই মধ্যে বিয়ে করে  ফেলেছিস। আমার জন্য অপেক্ষা করিসনি? ভাল ভাল।

: আমি না লিডার,ও বিয়ে করেছে

: সেকী!

বঙ্গবন্ধু ওকে কাছে টেনে নিলেন। মাথায় হাত দিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

মেয়েটাকে দেখেই ফরিদের মনে হয়েছিল ও লায়লা। কণ্ঠস্বর শুনে নিশ্চিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সামনের মাইক্রোফোনটা অন ছিল ।  তাই পুরোটা কথা শুনল ফরিদ পারু। শুনল অগণিত মানুষ।

কেঁপে উঠল ফরিদ। তাহলে ও যা ভেবেছিল সেটা ভুল। লায়লা এতকিছুর মধ্যেও ওর খবর রাখে, ওর বিয়ের খবর জানে। তার মানে লায়লা ওকে ভালবাসে। ফরিদ পড়ে যাচ্ছিল প্রায়। সামলে নেয়। পারু এসব দেখে না। অবাক হয়ে ফরিদকে বলে,

: মেয়েটা কে? কাকে বিয়ে করতে বলছেন বঙ্গবন্ধু?

এক মহূর্ত চুপ করে থেকে ফরিদ বলল,

: আমি কি করে জানব । তুমি  যেখানে আমি সেখানে

: মেয়েটা বোধহয় খুব সাহসী।

: হ্যাঁ

: আর দেখেছ কত সুন্দর!

: খুব সুন্দর!

পাারু চমকে তাকায়।  তারপর বলে,

: ও মেয়ে দেখো অনেকদূর উঠবে, হয়ত মন্ত্রী হবে

: হ্যাঁ মন্ত্রী হবে

: তবে কি জানো দেখতে যতই সুন্দর হোক আর মন্ত্রী হোক ওসব মেয়ে দিয়ে সংসার হয় না

কথা বলল না ফরিদ।

: কথা বলছ না কেন?

: কি বলব?

: সব কথা ফুরিয়ে গেল। এতক্ষণ যে হ্যাঁ হ্যাঁ করছিলে? যাকগে চলো ভাল লাগছে  না।

পারু লাইন ভেঙে দ্র্রুত হাঁটতে থাকে। তাকে ফলো করতে গিয়ে হিমসিম খায় ফরিদ।

 

আফরোজা পারভীন

 

Author: আফরোজা পারভীন

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts