শব্দ বোমায় তুলকালাম।।প্রেক্ষিত ১৯ মার্চ

বঙ্গবন্ধু বললেন, সাবধানের মার নেই! সাপের লেজে পাড়া দিয়েছিস।সেটা মনে রাখিস!

ইংরেজির ছোট একটি শব্দ ডিজার্ম (Disarm); ক্রিয়াপদ। মানে অস্ত্রচ্যূত করা! তাকে প্রথম বাক্যের মধ্যমনি করে নাতিদীর্ঘ একটি প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক তথ্য তরঙ্গে উৎক্ষেপন করায় ১২শ মাইল দূরে অমন তুলকালাম হবে তা ভাবিনি! ক্ষুদ্র একটি শব্দ শক্তিশালী বোমা হয়ে গগনবিদারী প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে, স্বৈরাচারের হৃদয় চৌচির হয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটতে পারে সেটা অকল্পনীয় ছিল! যদিও অসির চেয়ে মসির শক্তি যে নিলাদ্রির বজ্রাঘাতের চাইতেও বেশি সেটা অজানা থাকার কোন কারণ ছিল না। আকাশ ভেঙ্গে পড়েছিল । ইয়াহিয়া খানের মাথায় শুধু না।অধমের ক্ষুদ্র অস্তিত্বের উপর। বার্তা সংস্থা ‘এনার ‘ উপর!

রেডিও পাকিস্তানের সকল কেন্দ্রে ১৯ মার্চ ‘৭১ রাত এগারটা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টা লাগাতার সেই বিশেষ সংবাদ বুলেটিনটি প্রচারিত হয়েছিল। “সর্বৈব মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক, দুরভিসন্ধিমূলক! ষড়যন্ত্র ও অন্তর্ঘাতমূলক! Utter falsehood, Blatant lie, disruptive, Concocted news story ! ইয়ে বে -বুনিয়াদি খোয়াব হ্যায়! সারাসার ঝুট হায়! দুশমান কা সাজিশ হ্যায় !” ইত্যাদি বহু শব্দ দিয়ে একটি মাত্র শব্দকণার ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও পাকিস্তানি দানবের নষ্ট নীড়ে তীব্র বিষক্রিয়া নস্যাতের দুর্বার চেষ্টা শেষতক যে ব্যর্থ হয়েছিল তাতে আমি বিন্দুমাত্র সন্দিহান ছিলাম না।

সরকারের মাসিক ৫০হাজার টাকা ভর্তুকি পাওয়া বার্তা সংস্থার দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার রেওয়াজ রীতি অনুসরণ করলে আন্তবাহিনী জনসংযোগের অনুমোদন ছাড়া সেনা ছাউনির কোন ঘটনা নিয়ে খবর তৈরী করা আদৌ সম্ভব হ’ত না। তাই আমি জয়দেবপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করে লাঠি বল্লম সজ্জিত বীর বাঙালির   স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যুত্থান ও বেঙ্গল রেজিমেন্টের রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের প্রথম ‘হালুম’ নিনাদের অবিস্মরণীয় ঘটনার নিখাদ তথ্য প্রতিবেদনটি সম্পাদকের কলম ছুঁইয়েই সোভিয়েত বার্তা সংস্থা ‘তাস’-্এর অনুদানে পাওয়া টেলিপ্রিন্টার ট্রান্সমিটারে অবমুক্ত করেছিলাম। বার্তা সংস্থা ‘এনা’র জন্মই হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সৌজন্যে ,আসন্ন মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে নির্ভয়ে মিথ্যার ঘূর্ণিবাত্যার বিপরীতে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যঝড় বইয়ে দেয়ার জন্যে। ‘দৈনিক পাকিস্তান টাইমস’ এর ঢাকাস্থ ব্যূরে প্রধান জেষ্ঠ সাংবাদিক সিরাজুল হোসেন খান মোটা বেতনের পাকা চাকুরির মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে ‘এনা’ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আমি নবজাত ৩য় ইংরেজি দৈনিক ‘দি পিপল’ পত্রিকার চীফ রিপোর্টারের পদ ছেড়ে, ‘স্পেশাল করেসপনডেন্ট ও রিপোর্টিং ডেস্কের প্রধান’ হিসেবে,  ফ্রান্সের এএফপি, যুক্তরাষ্ট্রের এপি, সোভিয়েত ‘তাস’, ভারতের ইউ এন আই ও নয়া চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির কর্ম সহযোগী ইস্টার্ণ নিউজ এজেন্সি( এনা) তে যোগদান করেছিলাম, ১ জানুয়ারি ৭১।

১৯ মার্চ সকালে ঘুম ভেঙেছিল টেলিফোনের একটানা বিরক্তিকর শব্দে । ঘড়ির কাঁটা তখন অবশ্য ৯ সংখ্যা অতিক্রম করেছিল। ঘুম জড়িত কন্ঠে বললাম,‘ হ্যালো’..! অপরপ্রান্তে ছিলেন ঢাকা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক! তিনি সম্ভাষণ শেষে বললেন, দুঃথিত, ভাই.সকাল সকাল আপনার বিলম্বিত ঘুম ভাঙাতে হ’ল।বিষয়টা বেশ জরুরী।কাইন্ডলি আমাদের একাউন্টস এর সাথে কথা বলুন!…“এ্রাকাউন্টস থেকে বলছি স্যার ! এখনই একবার আসতে হবে স্যার, আপনার সেই চেকটা জমা দেয়ার অাজই শেষ দিন”! অামার ঘুমের বিহ্বলতা তখনও কাটেনি। বিস্ময়জড়িত কন্ঠে …. “কোন চেক বলুনতো”? ঢাকা টিভি: “ইলেকশন সেভেন্টি সিরিজে নির্বাচন কমিশন থেকে সরাসরি ফলাফল সম্প্রচারে ৩৩ ঘন্টা কাজের জন্যে তে্ত্রিশ শ’ টাকার সম্মানি চেক স্যার! ১৯ ডিসেম্বর স্বাক্ষর করা, আজ তিন মাস শেষ হচ্ছে! পচে গেলে আবার তিনচারটে সই স্বাক্ষর করানো ঝামেলা হয়ে যাবে স্যার”!

আমার ঘুম ছুটে গেলো। বললাম, ওকে, ১০টার মধ্যে পৌঁছে যাবো, ধন্যবাদ! বৌ দাঁড়িয়েছিল ডিমভাজি ও চায়ের ধূমায়িত কাপ হাতে। ….গতানুগতিক প্রতিক্রিয়ার ঝাঁঝালো কন্ঠ নিনাদ, এই শুনি টাকা নেই, টাকা নেই, অথচ অতগুলো টাকা পড়ে আছে! দু মাস আগে তুললে তো ঈদে বাচ্চাদের দু একটা সাধ মেটানো যেতো!.. তা ঠিক মহারাণী, দশ ভরি দিয়ে সাত নরি হারও হয়ে যেতো ! কিন্তু আকাশে যে কালো মেঘের ঘনঘটা ! অার আমার ঘটে সেই পিড়ের বুদ্ধি ! অার তোমার চেখে শ্রাবণ মাস! হাহহা সেই পুরনো গল্প !….আবার সেই অসার তর্জন। …..“রাখো তোমার বক্তৃতাবাজি, শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে আছে।”…ঠিক..একেবারে ঠিক!

আমার পঙ্খীরাজ পথের বাধা ঠেলে ঠিক সোয়া দশটায় আমাকে ডিআইটি ভবনে পৌঁছে দিলো। বার্তা সম্পাদকের দপ্তরে বসেই সব কাজ শেষ হলো । কিন্তু চায়ের কাপ তখনও শূন্য হয়নি। ত্রি ক্যাসেলে একটা কী দুটো টান দিয়েছি মাত্র! ওমনি টেলিফোনটা বেজে উঠলো । স্বাগতিক বন্ধু রিসিভারটা অামার দিকে বাড়িয়ে দিলেন, ভাবি…! আমি তো অবাক ! ঝগড়াটা কী শেষ হলো না ? …বলো.. , এবার সত্যি চমকে উঠলাম ! ….তোমার বস্ গোলাম রসুল ফোন করেছিলেন একটু অাগে । তার পরেই সিরাজ সাহেব ফোন করলেন।খুবই নাকি জরুরী কাজ ! ফোন কর এখুনি। ….ঠিক আছে। …বলেন বস্ ! ….আরে শোনেন বস্, আগুন ! আগুন লাইগা গেলো বুঝি ! জয়দেবপুরে যুদ্ধ চলতাছে …..বললাম, অামি তো টেলিভিশনে। ….ওইসব ছ্যাদা কাম বাদ দ্যান । ছোটান আপনের পঙ্খীরাজ ! আমি বললাম , গাড়ি তো অার পানি দিয়া চলেনা বস্ , ছ্যাপেও কাম হয় না ! ট্যাকাটুকার কী হইবো? ….ঠিক অাছে, ঠিক আছে , মঞ্জুর ! মঞ্জুর ! মাল তো কম কামাইতাছেন না, অখন একটু চালায়া লন বস্ ! টেলিফোন রেখে আমার প্রধান সম্পাদকের দেয়া খবরটা বললাম সবাইকে।  গাড়িতে ওঠার আগেই আমার কলেজ জীবনের সহপাঠী, তখন টিভির অনুষ্ঠান প্রযোজক ওয়ালিউল্লাহ ফাহমী ঘাড়ে ক্যামেরা ঝুলিয়ে ছুটে আসলো।আমি স্টিয়ারিং ওর হাতে ছেড়ে দিয়ে বললাম, দোস্ত চল্ আগে একটু ব্যাঙ্কে যাই !

টুঙ্গির পর থেকেই লোকে লোকারণ্য। চোথে মুখে গভীর উদ্বেগ ! নানা গুজব !হাজার গুঞ্জন। অনেক ঠ্যালাঠেলি করে জয়দেবপুর রাজবাড়ি সেনা নিবাসের কাছাকাছি পৌঁছাতে বেলা মাথার উপর থেকে গড়িয়ে পশ্চিমে হেলতে শুরু করলো। গরম খবর ! বাঙালি ক্ষেপেছে। সাভার ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাঞ্জাব রেজিমেন্ট এসে অাটকে পড়া খাদ্যের গাড়ি উদ্ধার করে বাঙালিদের ঘিরে ফেলেছে। পথ পরিষ্কার করতে সেনাবাহিনী গুলি চালিয়েছে।জয়দেবপুর রেল স্টেশনের কাছে ৩টা লাশ পড়েছে । ভিতরে নাকি আরো। সঠিক খবর পেতে স্টেশন কমান্ডার মেজর শফিউল্লার সাথে যোগাযোগের কোন চেষ্টাই সফল হ’লনা। জয়দেবপুর স্টেশন থেকে রাজবাড়ি পর্যন্ত রেললাইন হাজার হাজার মানুষ অবরোধ করে রেখেছে। গুজবে কান দেয়া যাবে না। আবার তথ্যসূত্র বলে কোট করার মত কোন দায়িত্বশীল পদস্থ লোকও তো পেলাম না। কাজেই হাওয়া থেকে পাওয়া দুধ পানির মিশেল ঝোল খবর নিয়েই ছুটলাম অস্ত্র কারখানার দিকে। চৌরাস্তা থেকেই চাপ চাপ মানুষের ভীড়। লাঠি বন্দুক টোটা বল্লম শাবল ! যার যা অাছে তাই নিয়েই কৃষক শ্রমিক ছাত্রযুবক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিক্সা চালক বেকার মাতাল বেশ্যা ফকির , মাছের এষ্ঠোর গন্ধ মাখানো জেলে তাতি, কামার কুমার সাওতাল মুচি ! এমনি লাখো জনতা রাজপথ জনপথ অবরোধ করে রেখেছে। অস্ত্রকারখানায় সেনা বাহিনীর লোক গিজ গিজ করছে। তবে শান্তি ভঙ্গের কোন আলামত দেখলাম না ।আওয়ামি লীগ শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ লোকজনকে শান্ত থাকতে বলছে। বাঙালি সেনারা ফুঁসে ওঠার তেমন কোন বড় কারণ ঘটেছে বলে কোন তথ্য পেলাম না। বারুদের স্তুপ প্রাকৃতিক উত্তাপে আপনাআপনি যেমন বিস্ফোরিত হতে পারে, একটা জলন্ত সিগারেট অথবা দেশলাই কাঠির কারণে জ্বলে উঠতে পারে। তেমনি হয়ত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ মাথায় নিয়ে তপ্ত বাঙালি বাঁদরের খামচিতেই ফুঁসে উঠেছে!

সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরে মিশরের কর্ণেল নাসেরের বিপ্লবী মডেলের ধারায় “ফ্রি ইস্ট পাকিস্তান আর্মি” গড়ে উঠেছিল আগরতলা মামলার ২য় প্রধান অভিযুক্ত নৌবাহিনীর কমা্ডার মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে। ১৯৬৩ সালে করাচিতে তাঁদের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম বৈঠক হয় সোহরাওয়ার্দী তনয়া বেগম আখতার সোলায়মানের বাসায়।তাঁরা সকল শাখায় সংগঠিত হয়ে বঙগবন্ধুর নির্দেশের প্রতীক্ষায় থাকবে সেকথা স্বয়ং বঙ্গবন্ধূর কাছেই শুনেছিলাম। সেকথা মাথায় রেখে জয়দেবপুরের ১৯ মার্চ সেনা বিদ্রোহের গোড়া খোঁজার চেষ্টা করছিলাম।

অস্ত্র কারখানা এলাকা থেকে ফেরারপথে আমার খবরের রসদ পেয়ে গেলাম। নির্জন পথের ধারের ঝোপ ঝাড়ের ওপর আমার গাড়ির লাইট পড়তেই একটা জায়গায় পাতা নড়ে উঠলো। অামিও চমকে উঠলাম। গাড়ি থামালাম কৌতুহলে। সেখান থেকে সেনা পোষাকে ২ ব্যক্তি হাত উপরে তুলে বেরিয়ে আসলো। উভয়ে বেঙ্গল রেজিমেন্টের পলাতক সৈনিক। “রেশন সাপ্লাই নিয়ে পাঞ্জাবিদের সাথে বচসা থেকে বিরাধের সূত্রপাত। রেশনের গাড়ি অাটকা পড়ার থবর পেয়ে নিকটবর্তী ক্যন্টনমেন্ট থেকে পাঞ্জাব রেজিমেন্টেরে এক প্লাটুন সৈন্য এসে বাঙালিদের ঘেরাও করে তাদের অস্ত্র কেড়ে নেয়ার উদ্যোগ নিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।ঢাকা সেনা সদর থেকে অারও নতুন ফোর্স এসে বিদ্রোহী বাঙালিদের নিরস্ত্র করে বন্দী করে ফেলে”।এরা দুজন সেই অবরোধ বুহ্য থেকে সুযোগ বুঝে পালিয়ে এসেছে। “স্যার আপনারা সাংবাদিক সেটা অনুমান করেই বেরিয়ে অাসলাম। দয়া করে আমাদের যদি টঙ্গী পার করে দেন তাহলে জান বাঁচাতে পারবো। ধরা পড়লে ওরা আমাদের মেরে ফেলবে”। অামি বললাম, বেশতো চলুন না।এর মধ্যে টিভির বন্ধুর ক্যামেরাও একটু সক্রিয় হ’ল।

অফিসে ফিরে কয়েক লাইনের ছোট একটা প্রতিবেদন তৈরী করলাম। যার ইন্ট্রো ছিল এরকম:  “ঢাকার অদূরের জয়দেবপুর ক্যান্টনমেন্টে বিদ্রোহী বাঙালি ফৌজকে অস্ত্রচ্যূত করা হয়েছে। লাখো মানুষের অবরোধ প্রাচীর ভেঙ্গে পালাবার সময় পাঞ্জাবি সেনারা জনতার ওপর গুলি চালালে তিনজনের বেশি নিহত ও বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত হয়। কয়েক লক্ষ বাঙালি ‘যার যা আছে তাই নিয়ে’ ছুটে এসে ক্যান্টমেন্ট ঘিরে ফেলে।সেনাবাহিনী কার্ফু জারি করে। বাঙালির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সাখে চলতি সংলাপ বর্জন করে বলেন , বাঙালির মুক্তির জন্য কোন ত্যাগই বৃথা যাবে না।”

সেই রাতেই সেনাবাহিনীর প্রেস রিলিজে “ সেনা বিদ্রোহ এবং বাঙালি ফৌজকে ডিজার্ম করার” ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করা হয়।আইএসপিআর থেকে কর্ণেল সাদিক ফোনে ধমক দিয়ে বললেন, “এখুনি ভুল স্বীকার করে রিপোর্ট প্রত্যাহার কর, নইলে আল্লাও তোমাদের বাঁচাতে পারবে না।” প্রধান সম্পাদক ও আমি বঙ্গবন্ধুর শরণাপন্ন হলাম। সব শুনে বঙ্গবন্ধু বললেন, তোরা নির্ভয়ে কাজ চালিয়ে যা। আমাকে আলাদা করে বললেন , “সাবধানের মার নেই, সাপের লেজে পা দিয়েছিস! সেটা মনে রাখিস! রাতে দরকার মনে করলে অামার এখানে চলে আসিস।” আমি তাঁর ইশারা বুঝতে পারলাম।

Author: শামসুল আরেফিন খান

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment