সুচিত্রা-সুপ্রিয়া–সাবিত্রি: উত্তম বাগানের  তিন রক্তকুসুম

সুচিত্রা-সুপ্রিয়া–সাবিত্রি

The name is right once Good kumar He was well, he is there, will be there. The one who has been called the great hero Good man is a great man. The middle and middle people are either pianists or mediators. The full development of the name is really unparalleled.

Uttam Kumar is not a paternal name. Dear name Arun Kumar Chatterjee.

The 1926 On 3 September, Calcutta 51, No. ahiri Toller Street mamarabarite Born said. Fatherhood in Bhabanipur, Calcutta Grandfather affection is called good. His father’s name is Satkari Chattopadhyay , mother Chapla Devi. Uttam Kumar is the eldest of the three children. Both the two brothers Varun and the young. Young brother young Kumar            He was a strong actor. They have played together in a number of popular films (such as Maayamriga, Shishmeya, Saptapadi (film) , Sonar deer, Life-death, mind, last digit , narrative , monk king , firefighters etc.) .

Poverty poverty of the cutter with good childhood. After passing matriculation from South Sabarban School in Kolkata , he was admitted to Goenka College . World poverty since 1942 in the second grade matriculation pass that after the day of the Port Commissioner’s office Cash department Jobs took the night, filling the Dalhousie Government Commercial College.

But he did not have to spend much time on poverty. The family of Uttam was full-fledged culture. Dad uncles, and neighbors together to develop the validity of the Friend Society .. Jatropala was arranged on behalf of Suhrid society . Dad Kakara acted in Jatrapala . Their performance saw with good acting intentionally forming. So the acting world, coming back to his family’s influence is enormous.    

The reaction at the school was still a good Kumar neighborhood natyasangathana Lunar Club to get involved parenarabindranatha ‘s crown play acting from the beginning that his acting life.     

But the stage could not be tied well enough for a long time. The stage is acting in the play , the stage is good, but the mind does not fill his Feeling super hungry The craze for acting in the film      

In the meantime, to play the film , the song would have to know. Then major expensive artist gardens goddess , amitabarana , robin Majumdar , mountainous syannala , Kundan Lal Saigal all the songs he knew. Uttam Kumar’s acting ambition was so intense that he became the disciple of vocalist and music teacher Nidan Banerjee to make himself fit .     

Night of the night is surrounded by the goodness of acting in the film . At one such time , he went to India’s Laksmi studio. There Bholanath Arya produces a Hindi film named Maydore . I wanted to enter the best studio. The gatekeeper refused to enter . Many plea after a pre- known natyajana Ganesh Babu’s identity with the producers of the produce , the better. Producer heard him, he wanted to see the performance of the          Small a role acting opportunities offered. The scene was to kill a new groom . Good performance in this scene was very flabby. Thus, a small role in the good Kumar film arena feet set.  

তাঁর  অভিনীত এই প্রথম ছবিটি পরবর্তীতে  মুক্তি পায়নি। ১৯৪৮ সালে মাত্র সাতাশ টাকা পারিশ্রমিকে নীতিন বসুরদৃষ্টিদানছবিতে উত্তম কুমার নায়কের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেন। এটিই তাঁর অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম  ছবি। কিন্তু তাঁর অভিনীত প্রথম দিকের ছবিগুলো সফল হয়নি। বরং বলা যায়  চরমভাবে ব্যর্থ হয়।

১৯৪৮ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি বিয়ে করেন একই পাড়ার মেয়ে ও বান্ধবী গৌরী দেবীকে। তিনি তখনও চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত হননি।  তখন আলিপুর ডকে চাকরি করতেন তিনি । গৌরীর সাথে তাঁর ভালোবাসার বিয়ে।  বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা। গৌরীর অন্য জায়গায়  বিয়ে হয়ে যাচ্ছে শুনে আবেগের বশে পালিয়ে বিয়ে করেন তাকে। ১৯৫০ সালে তাদের একমাত্র সন্তান গৌতমের জন্ম হয়। গৌতম চট্টোপাধ্যায় মাত্র ৫৩ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান। গৌরব চট্টোপাধ্যায় ,উত্তম কুমারের একমাত্র নাতি।  বর্তমানে তিনি টালিগঞ্জের জনপ্রিয় ব্যস্ত অভিনেতা।

অরুণ(উত্তম কুমার) অভিনয় করুক এটা খুব একটা পছন্দ করতেন না গৌরী দেবী। কিন্তু উত্তমকে তিনি ঠেকাবেন কি করে! অভিনয়ের নেশা ছিল তার রক্তে।সেই নেশা তাঁকে নিয়ে আসে  পাড়ার থিয়েটার থেকে চলচ্চিত্র জগতে। আর সে পথটা মোটেও কুসুম বিছানো ছিলো না।  অনেক সংগ্রামের পর নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন উত্তম কুমার। জনপ্রিয়তা পান তুঙ্গস্পর্শী।

‘বসু পরিবার’ ছবিটি উত্তমের  ভাগ্য খুলে দেয়। ছবিটি শুধু  ব্যবসাসফলই  হয় না, দর্শক-সমালোচক-মিডিয়া মুখর হয়ে ওঠে তাঁর প্রশংসায়। নতুন নতুন  কাজের প্রস্তাব আসতে  থাকে। চাকরি আর অভিনয় দুটো একসাথে চালানো কিছুতেই সম্ভব হয় না। শেষ পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে দিয়ে  অভিনয়ে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন।

উত্তমের জীবনের এক বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে সুচিত্রা আর সুপ্রিয়া। তাঁর স্বল্পস্থায়ী জীবনের শেষ দিকে সাবিত্রির স্থানও কম নয়।

এমপি প্রোডাকশনের হাসির ছবিসাড়ে চুয়াত্তরএর মধ্য দিয়ে উত্তমসূচিত্রা প্রথম জুটি বাঁধলেন। এই  জুটি বাংলা ছবির সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করল। সিনেমাপ্রেমিরা ভালবেসে ফেলল এ জুটিকে।অগ্নিপরীক্ষার অভাবনীয় সাফল্য প্রমাণ করলো বাংলা ছবির অপ্রতিদ্বন্দ্বী জুটি উত্তমসুচিত্রা।

উত্তম কুমার কিন্তু তাঁর অভিনয়ের শেকড় মঞ্চকে ছাড়েননি ।  তখন তিনি সুপারস্টার। চলচ্চিত্রের সংগে সংগে সমান তালে মঞ্চেও কাজ করছেন তিনি।  স্টার থিয়েটারে এক নাগাড়েশ্যামলীনাটকের ৪৮৬ টি প্রদর্শনীতে তিনি অভিনয় করেন।

১৯৫৬ সালে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন তিনি।  প্রযোজক হিসেবেহারানো সুরচলচ্চিত্রটি উপহার দিলেন।ছবিটির পরিচালক ছিলেন অজয় কর। এই ছবিতে অভিনয় করে তিনি প্রশংসিত হয়েছিলেন সমগ্র ভারত ভারতজুড়ে ইংরেজি উপন্যাস ‘রানডম হারভেস্ট’ অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করা হয়।হারানো সুর  রাষ্ট্রপতিসার্টিফিকেট অব মেরিটসম্মান পায়

উত্তম বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রও পরিচালনা করেছেন।  কয়েকটি হিন্দি ছবিতেও কাজ করেছেন। তাঁর অভিনীত হিন্দি চলচ্চিত্রের মধ্যে ছোটিসি মুলাকাত, অমানুষ এবং আনন্দ আশ্রম অন্যতম।  সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায়  ভিন্ন স্বাদের ছবি নায়ক এবং  চিড়িয়াখানা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি ।  চিড়িয়াখানায়  তিনি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সৃষ্ট বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর ভূমিকায় অভিনয় করেন  তিনি।

‘এ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ছবিটি উত্তমকে ভিন্নমাত্রায় অধিষ্ঠিত করে।  এই ছবিতে উত্তম  তাঁর পরিচিত রোমান্টিক ইমেজ থেকে সরে এসে সফল হয়েছিলেন। তাঁর  মনোমুগ্ধকর হাসি, প্রেমিকসুলভ আচার-আচরণ বা ব্যবহারের বাইরেও যে তিনি নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়তে পারেন, সেটাই তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন এ ছবিতে।১৯৬৭ সালে ‘এ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন (তখন এই পুরস্কারের নাম ছিল ‘ভরত’) এছাড়াও এ ছবির জন্য তিনি নিউইয়র্ক, বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব প্রভৃতি সম্মানজনক চলচ্চিত্র উৎসবের অতিথির সম্মান অর্জন করেছিলেন। তিন তিনবার ভারতের জাতীয় পুরস্কার

পেয়েছিলেন এই গুণী শিল্পী ।

সঙ্গীতের প্রতি অপরিসীম ভালবাসা ও আগ্রহ ছিল তাঁর। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় মান্না দে  এবং শ্যামল মিত্রের গানেই সবচেয়ে বেশি ঠোঁট মিলিয়েছেন উত্তম। গান রেকর্ডিংয়ের সময় শিল্পীর পাশে বসে তাঁর অনুভূতি উপলব্ধি করার চেষ্টা করতেন তিনি ফলে গানের সাথে পর্দায় ঠোঁট মেলানো তাঁর পক্ষে খুবই সহজ হতো উত্তম ‘কাল তুমি আলেয়া’ ছবির সবগুলো গানের সুরারোপ করেন। এ ছবি অভিনেতা, প্রযোজক এবং পরিচালক – সবক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সফলছবিটি ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায়।

কমেডি চরিত্রেও তিনি ছিলেন অনবদ্য।  ‘দেয়া নেয়া’ ছবিতে হৃদয়হরণ চরিত্রে অভিনয় করে সেই প্রতিভার বিরল স্বাক্ষরও রেখে গেছেন।  অনবদ্য অভিনয় দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন হৃদয়হরণ চরিত্রটি। ছবিটির একটি আকর্ষণীয় সংলাপ ছিল “টাকাই জীবনের সবকিছু নয়” এছাড়াও  ছিল বিখ্যাত সেই গান – “জীবন খাতার প্রতি পাতায়, যতোই করো হিসাবনিকাশ, পূর্ণ হবে না”

খ্যাতি নাম যশ টাকা পয়সা পেলেও দাম্পত্য জীবনে সুখি ছিলেন না তিনি।  গৌরী দেবী তাঁর শিল্পী সত্তাকে সেভাবে বুঝতেন না।  উত্তমকুমার একটি স্মৃতিচারণে লিখেছিলেন, কোনো নতুন ছবির চুক্তিপত্রে সই হলে সে কথা যখন তিনি ঘরে ফিরে বলতেন তখন চরিত্র বা গল্প সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করার আগে প্রথমেই তার স্ত্রী জিজ্ঞাসা করতেন, ‘কত দেবে?’

গৌরী ছিলেন নিতান্তই সাদামাটা আটপৌরে।  ঘর সংসারের বাইরে অন্য কিছু তিনি বুঝতেন না বা বুঝতে চাইতেনও না। তাই দুজনের মধ্যে মানসিক দূরত্ব দিন দিন বাড়তে থাকে।

উত্তম সুচিত্রা জুটি অভিনীত  প্রায় সবগুলোই  ‘সুপারহিট পঞ্চাশষাট- সত্তরএই তিন দশক রুপালি পর্দা কাঁপিয়েছেন তাঁরা। আর  স্যাটেলাইট টেলিভিশন আর ভিডিও প্রযুক্তির কল্যাণে এই  জুটি জনপ্রিয় পরের প্রজন্মগুলোর কাছেও।

সাড়ে চুয়াত্তর১৯৫৩ সালে মুক্তি পায়।  ছবিটি ছিল  হাসির। এ ছবিতে উত্তম কুমার কিংবা সুচিত্রা সেন  প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেননি। কিন্তু  উত্তমসুচিত্রা জুটি তাঁদের  রোমান্টিক অভিনয় দিয়ে প্রধান চরিত্রগুলিকে  পেছনে ফেলে এগিয়ে যায়।  এর পর পথে হলো দেরী, মরণের পর, শাপমোচন, শিল্পী, সাগরিকা, হারানো সুর, সবার উপরে, সূর্যতোরণ, চাওয়াপাওয়া, সপ্তপদী, জীবনতৃষ্ণা, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, ইন্দ্রাণী, চন্দ্রনাথ, আলোআমার আলোর  মতো ৩০টির বেশি ছবিতে এই জুটি দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে সিনেমায় রোমান্টিসিজমের  ধারাটাই পাল্টে দেন সম্পূর্ণরূপে। হয়ে যান চলচিত্রপ্রেমীদের কাছে চিরঞ্জীব সুচিত্রা-উত্তম। মহানায়িকা- মহানায়ক।

এই জুটি বাঙালিকে শিখিয়েছিলেন  ভালোবাসার রসায়ন ।শিখিয়েছেন কীভাবে রোমান্টিক বাতাবরণ তৈরি করে আবেগে আপ্লুত করতে  হয় সবাইকে।

নিজেদের মেধা, প্রতিভা আর অভিনয়শৈলী দিয়ে  অমরত্ব অর্জন করেছেন এই জুটি।

উত্তমসুচিত্রা জুটি  চিরদিনের। তাই এই জুটির অভিনীত পঞ্চাশের দশকের কোনো ছবির  রোমান্টিক দৃশ্য দেখলে আজকের প্রেমিকের হৃদয়ও তোলপাড় করে ওঠে  । তাঁদের মুখ থেকে উৎসারিত  সংলাপগুলি  যেন অতিক্রম করেছে কালের গন্ডি।  এরই নাম বুঝি কিংবদন্তি!  

চিরসবুজ এই জুটির কথা  তাই   আজও ক্লান্তিহীনভাবে আলোচিত হয়।  সুচিত্রার পোশাক অনুকরণ করতেন সেকালের যুবতীরা তাঁর শাড়ি পরা কিংবা চুল বাঁধার স্টাইল ছিল পঞ্চাশ ষাটের দশকে কলকাতা, ঢাকার বাঙালি সমাজে অভিজাত্য ফ্যাশনসচেতনতার প্রতীক। আর উত্তমকে তাঁর সময়ে  ‘ম্যাটিনি আইডল’ বলা হত সেই সময়ের যুবকেরা উত্তম কুমারের মত হতে চাইতেন, সকল শ্রেণী বয়সের নারীরা উত্তম কুমারের নামে মোহচ্ছন্ন ছিলেন

উত্তম কুমারের চুলের স্টাইল, তাঁর শার্টের কলার কেমন ধাঁচের কিংবা তাঁর স্যুটের কাটিং অনুকরণীয় ছিল যুবকদের মধ্যে। মজার ব্যাপার হচ্ছে,  উত্তমসুচিত্রার পোশাকপরিচ্ছদ এতটাই আধুনিক কালোত্তীর্ণ যে এই প্রজন্মেও তা সমানভাবে জনপ্রিয়।

উত্তম কুমার জীবিতকালে  একটি সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, ‘সুচিত্রা পাশে না থাকলে আমি কখনোই উত্তম কুমার হতে পারতাম না। আমার বিশ্বাস। আজ আমি উত্তম কুমার হয়েছি, কেবল ওর জন্য।

অন্যদিকে, সুচিত্রা সেন  উত্তমের সাথে  জুটির  বাইরে গিয়ে সফল হননি।বলয়গ্রাস’  ছবিতে নায়িকাপ্রধান চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন  তিনি। কিন্তু  ছবিটি ছয় সপ্তাহের বেশি প্রেক্ষাগৃহে চলেনি।  বসন্ত চৌধুরী  বিকাশ রায়ের সাথে  ‘শুভরাত্রি’ সাজঘর’ নামের দুটি ছবিতে অভিনয় করেও তিনি সাফল্যের মুখ দেখেননি।

উত্তমকে ছাড়া সুচিত্রাকে কিংবা সুচিত্রাকে ছাড়া উত্তমকে দর্শকরা একেবারেই গ্রহণ করেনি। একথা পরীক্ষিত যে, উত্তমসুচিত্রা পরস্পরের পরিপূরক  জুটি।  এক অবিচ্ছেদ্য জুটি। এক  অদ্বিতীয় জুটি।

উত্তম কুমার চলে গিয়েছিলেন অপরিণত বয়সে।  সুচিত্রার প্রস্থান বয়সের পরিপূর্ণতা নিয়েই।

তারপরও এ জুটি বাঙালির হৃদয়ে অমলিন থাকবে। যত দিন বাঙালি আর বাংলা সিনেমা থাকবে, তত দিনই এই জুটি সিনেসাংবাদিকতার প্রাসঙ্গিক ব্যাপার হয়ে থাকবে এ প্রসঙ্গ কোনদিনই পুরোনো হবে না।

কিন্তু সুচিত্রা উত্তমের এই যে সম্পর্র্ক তাকি শুধু চলচ্চিত্রের পর্দাতেই সীমাবদ্ধ ছিল? ভালবাসা না থাকলে অভিনয়ে কি আনা যায় অমন ভালবাসার রয়াসন? আনা যায় না। তাই বুঝি উত্তমের মৃত্যুর পর স্বেচ্ছা আড়ালবন্দি সুচিত্রা সব আড়াল সরিয়ে  হাজির হয়েছিলেন উত্তমকে শেষ দেথা দেখতে। বড় প্রেম এমনই হয়।

‘বসু পরিবার’ ছবিতে  এক যৌথ পরিবারের আদর্শবাদী বড় ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন উত্তম।  এ ছবিতে  সুপ্রিয়া দেবী  তাঁর বোনের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এটিই উত্তম-সুপ্রিয়া অভিনীত প্রথম ছবি

সুপ্রিয়া দেবীর স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়,  এগারো বছর বয়সে কলকাতার গিরীশ মুখার্জি রোডে তিনি উত্তম কুমারকে প্রথম দেখেন। তখন উত্তম সতেরো-আঠারো বছরের  তরুণ । তিনি ছিলেন ওর বড় ভাইদের বন্ধু। সুপ্রিয়ার ডাক নাম বেণু, পারিবারিক নাম কৃষ্ণাতিনি তখন থাকতেন  বাবার কর্মস্থল বার্মায় (এখন মিয়ানমার) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বোমার ভয়ে  উদ্বাস্তু হয়ে তাঁর পরিবার চলে আসেন কলকাতায়। ‘বসু পরিবার’ ছবিতে অভিনয় করার পরপরই  ১৯৫৪ সালে তার বিয়ে হয়ে যায় বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির সঙ্গে।বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দেন তিনি।

বিশ্বজিতের সঙ্গে তার দাম্পত্যজীবন সুখের হয়নি। একমাত্র সন্তান সোমার জন্মের পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে তিনি আবার  ফিরে আসেন অভিনয় জগতে

১৯৬০ সালে মুক্তি পায় ‘শুন বরনারী’এটি ছিল উত্তম-সুপ্রিয়া জুটির ব্যবসাসফল ছবি।এসময় তাদের মধ্যে  বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।দুজনেরই  জীবনে শূন্যতা ছিল । সেই শূন্যতা আর অপ্রাপ্তি থেকে জন্ম নেয় প্রেম। এই প্রেমের ভিত্তি  ছিল পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস।  

উত্তমের ওপর খুবই  নির্ভর করতেন সুপ্রিয়া। বেশিরভাগ সময় দুজনে একসাথে শুটিংয়ে যেতেন আসতেন।শুধু একসাথে যাওয়া আসাই নয়, ততদিনে  সুপ্রিয়া দেবীর সংগে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্কে জড়িয়ে গেছেন উত্তম।  বিষয়টি কারো অজানা ছিল না।উত্তম গোপনও করেননি।স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি ভাল চোখে দেখেননি গৌরী দেবী। এই নিয়ে তাদের  দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছে।

দিনে দিনে গৌরী উত্তমের  মন থেকে সরে  যায় দূর থেকে আরও দূরে।  অন্যদিকে সুপ্রিয়াকে তিনি পান বিশ্বস্ত বন্ধু, নির্ভরযোগ্য সহকর্মী এবং তাঁর শিল্পী সত্তার একান্ত অনুরাগী হিসেবে

উত্তম ভালোবাসার মানুষকে আপন করে নিতে একটুও পিছপা হননি।  সমাজ, সংসারের কোনো বাধাই মানেননি।  লোকনিন্দা, অপবাদ  মাথা পেতে নিয়ে ১৯৬৩ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর গিরীশ মুখার্জি রোডের পৈতৃক বাসভবন থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।  চলে আসেন সুপ্রিয়া দেবীর ময়রা রোডের ফ্ল্যাটে। জীবনের বাকি সতেরটি বছর তিনি সুপ্রিয়া দেবীর সাথেই কাটান ।

সুপ্রিয়ার জীবন ছিল উত্তমময়। তিনি তাঁর স্মৃতিকথা ‘আমার জীবন আমার উত্তম’-এ সেকথা অনেকভাবেই বলেছেন। তিনি লিখেছেন, ১৯৬২ সালের ২রা ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে হয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা মেনে। বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিয়ার বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা ।  উত্তম কুমারের কয়েকজন বন্ধুও ছিলেন। ৫ই ডিসেম্বর আয়োজন করা হয় তাঁদের বিবাহত্তোর অনুষ্ঠানের। সেই অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র জগতের প্রচুর অতিথি এসেছিলেন।  তবে গৌরী দেবীর সাথে আইনত বিচ্ছেদ না হওয়ায় তারা রেজিস্ট্রি করতে পারেননি।

উত্তম সুচিত্রাকে হিন্দি ছবিতে অভিনয় করতে নিষেধ করেছিলেন। সেই নিষেধ মেনেই তিনি হিন্দি ছবির জগৎ ত্যাগ করেন সুপ্রিয়া।  উত্তম ছিলেন খুব রোমান্টিক। আবার কখনও কখনও বেশ ঈর্ষাকাতর। বাড়িতে প্রযোজক ও পরিচালকদের বেশি আসা-যাওয়া এবং সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে আড্ডা একেবারেই পছন্দ করতেন না তিনি। তবে সুপ্রিয়া দেবী ছিলেন ব্যতিক্রম। উত্তমের চারপাশে নারী সহকর্মী, ভক্ত আর  উঠতি নায়িকাদের কমতি ছিল না। কেউ কেউ মাত্রাতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হতেও চাইতেন। ঈর্ষা বোধ করতেন না সুপ্রিয়া।  তিনি বিশ্বাস করতেন,  ‘উত্তমের জীবনে তিনিই একমাত্র বিবেচ্য,  এদের প্রতি কোনই  আগ্রহ নেই উত্তমের।’  সুচিত্রা সেনকেও ঈর্ষা করেননি তিনি। তাঁর ভালবাসার জোর এতটাই ছিল! পর্দায় সুচিত্রা-উত্তমের রোমান্টিক দৃশ্য দেখে ওটাকে  তিনি নিছক অভিনয়ই ভাবতেন, অন্য কিছু নয়

মহানায়ককে  নিত্য নতুন রান্না করে খাওয়াতে ভালোবাসতেন তিনি। আর মহানায়ক ভালোবাসতেন সেসব খেতে। সুপ্রিয়ার হাতের রান্না ছিল তাঁর দারুণ প্রিয়

বিয়ের পরও অনেক ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তাঁরা উত্তম-সুপ্রিয়া জুটিও জনপ্রিয় হয়েছিল। উত্তম-সুপ্রিয়া অভিনীত ‘চিরদিনের’, ‘বনপলাশীর পদাবলী’, ‘কাল তুমি আলেয়া’, ‘লাল পাথর’, ‘শুন বরনারী’, ‘মন নিয়ে’, ‘শুধু একটি বছর’, ‘সন্ন্যাসী রাজা’ ইত্যাদি সিনেমা শুধু ব্যবসাসফলই হয়নি, সমালোচকদের প্রশংসাও পায়। বিশেষ করে ‘চিরদিনের’ উত্তম-সুপ্রিয়া অভিনীত দারুণ রোমান্টিক ছবি।

উত্তম সুচিত্রা এবং উত্তম সুপ্রিয়ার ক্রেজ শেষ হওয়ার পর শেষ দিকে উত্তম  সাবিত্রী জুটি খুবই জনপ্রিয় হয়।উত্তম কুমার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সাবিত্রীকে প্রতিভাশালী অভিনেত্রী অ্যাখ্যা দিয়ে এসেছেন। তাঁদের করা উল্লেখযোগ্য কিছু চলচ্চিত্র হলহাত বাড়ালেই বন্ধু, দুই ভাই, নিশি পদ্ম, মোমের আলো ইত্যাদি। ধন্যি মেয়ে বা মৌচাকের মত কমেডি চলচ্চিত্রে সাবিত্রীর সাথে জুটি বেঁধে উত্তম কুমারের  অভিনয় আজও  দর্শকের মন জয় করে

সাবিত্রি কি ভালবেসেছিলেন উত্তমকে কিংবা উত্তম সাবিত্রিকে? কে জানে! তবে একজনকে ভালবাসলে আর একজনকে ভালবাসা যাবে না কথা তো তেমনও নয়!

উত্তমের জীবনে সুপ্রিয়া ছিলেন জীবনের শেষ দিন অবধি।  তেমনি সুপ্রিয়াও ছিলেন উত্তমের প্রতি গভীর অনুরক্ত, বিশ্বস্ত।  ১৯৮০ সালে মাত্র ৫৪ বছর বয়সে উত্তম কুমার    হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে  মৃত্যুবরণ করেন।  সেই সময় ওগো বঁধু সুন্দরী সিনেমার শুটিং করছিলেন। শেষ দিনের শুটিং চলাকালীন হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হয়। উত্তমের মৃত্যুর পর থেকে এখনও একাই পথ হাঁটছেন সুপ্রিয়া দেবী।অনেক অপবাদ ও লোকনিন্দা সহ্য করতে হয়েছে  সুপ্রিয়া দেবীকে। আজও হয়। কিন্তু তাঁদের প্রেম যে প্রশ্নাতীত রকমের খাঁটি  তা সময়ই যাচাই করেছে।

মাত্র ৫৪ বছর আয়ু পেয়েছিলেন মহানায়ক।  চলচ্চিত্র শিল্পকে দিয়েছেন ঝাড়া ৩২ বছর  তাঁর চলে যাওয়া ছিল বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের আলোকবাতির  মৃত্যু উত্তমের মৃত্যুতে গোটা ভারত স্তব্ধ হয়ে যায়  গভীর শোকে। তার অন্তিম যাত্রায় সারা কলকাতা  বেরিয়ে আসে পথে।

বাংলা সিনেমা যতদিন থাকবে উত্তম কুমার মহানায়ক হয়েই থাকবেন কাল থেকে কালান্তরে।

আজ তাঁর জন্মদিন। রক্তবীজ পরেবারের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

 

Author: আফরোজা পারভীন

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment