সেঁজুতি যখন রাংগামাটি

সবাই নিশ্চয়ই জানেন, রাংগামাটিতে রিকশা নেই। সেঁজুতি পাহাড়ীপথে একটি জীপে করে যাচ্ছে। হঠাৎ গাড়ীটির দরজা খুলে গেল । পড়ে যাচ্ছে সে। হঠাৎ একজন আর্মি অফিসার তাকে বাঁচানোর জন্য ধরে ফেললো। সে যাত্রা বেঁচে গেল সেঁজুতি। অফিসারটি মটর সাইকেল করে তাঁর অফিসে পৌছে দিল। কি অদ্ভুত! অফিসারটি তার ছোটবেলার ক্লাসমেট।

সে বললো,​ তুই পড়ে গেলে মরে যেতিস । তোর বেবীটা  মা হারাতো।

সেঁজুতি বললো তুই কি হারাতি?
আমি আমার সব থেকে প্রিয় বন্ধুকে হারাতাম

সেঁজুতি জানতো না তার বাল্যবন্ধুটির রাংগামাটিতে পোস্টিং। দীর্ঘ বছর পরে দেখা। যাই হোক বন্ধুকে চা বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করে ‘বাই’ বলে দিল।

ডাকফাইল দেখছে সে । মনটা খারাপ হলো, তার ঢাকাতে একটি ট্রেনিং । বস বললেন, যেতেই হবে।

মনটা খারাপ । কারন তখন তার ছেলেটার বয়স ১১ মাস। ছেলেকে তার বাবা আর নানীর কাছে রেখে চলে যেতে হলো । কঠিন অবস্থা! সকাল টায় উঠে ২ কিঃমিঃ দৌড়াতে হয়। আইনের শাসন মেনে ক্লাস করতে হয়। পরীক্ষা। আরো কত কি।তখন সেলফোন ছিল না।  কয়েনবক্সে পরিবারের সাথে কথা বলতে হয়। ছেলের জন্য রাতে ঘুম হয় না। টুক টুক করে দুই একটা কথা হয় ছেলের সাথে।

অবশেষে একদিন ট্রেনিং সমাপ্ত। রাংগামাটি যাচ্ছিল সেঁজুতি। তখন ডলফিন নামের একটি বাস ঢাকা রাংগামাটি চলাচল করতো। বাস থেকে নেমে সেঁজুতি বাসায় গেল। তার ছেলেটি নানীর কোলে। ছোট্ট ছেলে দীর্ঘদিন মাকে না দেখে ভুলে গেছে মা এর চেহারা। সে তার নানীকে জিজ্ঞেস করল, এটা কে নানী?”

সেঁজুতি তখন কান্নায় ভেংগে পড়​লো। তার আদরের সন্তান মাকে চিনতে পারছে না।

এখানেই এই কাহিনীর শেষ হতে পারত। কিন্ত না। সেঁজুতির ভালোবাসায় কিছুদিন এর মধ্যেই তার ছেলে মাকে ফিরে পেল।মাশাল্লাহ তার ছেলে এখন বিদেশের মাটিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। কত মাস ছেলে কে দেখে না সেঁজুতি। সকাল বিকাল ছেলের রুমে ঘুরঘুর করে সেঁজুতি। আচল দিয়ে এটা ওটা মুছে । পরিস্কার ঘর আবার পরিস্কার করে। না না অজুহাতে ছেলের শূন্য রুমে অবস্থান করতো। ছেলে বিদেশ থেকে আসার পর মাকে ভুলে যাবে নাতো! 
সেঁজুতি এখন ছেলের পথ চেয়ে
(চলবে)

Author: ফরিদা পারভীন মনা

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts