সে যে আমার মা, আমার জন্মভূমি/ ফিরোজ শ্রাবন

‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’। স্কুলজীবনে কেন জাতীয় সংগীত গাইতাম তার কারণ বুঝতে পারতাম না । ভাবতাম, এটা বোধহয় গানের রিহার্সেল। তবে যখন শপথ পাঠ করতাম তখন বুঝতে পারতাম দেশের জন্যই এই শপথ । লেখাপড়া শিখে বড় হয়ে আমরা যখন দেশ পরিচালনায় অংশ নেব তখন যে যার অবস্থান থেকে সততার সাথে দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করবো। সব কিছু ঠিকঠাকই  ছিল। দুর্ভাগ্য যে আমরা পাকিস্তানের স্বৈরশাসন থেকে দেশকে যখন মুক্ত করে আনলাম তখন থেকেই আমরা যেন দেশপ্রেমকে ভুলে গেলাম। যে ভাইয়ের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই দেশকে স্বাধীন করেছি, যে ছিল আমার সহযোদ্ধা, সেই ভাই আজ রাজনৈতিক কারণে আমার বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে। তাহলে এখন প্রশ্ন দাড়ায়, এই দুই জনের মধ্যে কে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা? উত্তরটা আমিই দেই, সেটা হচ্ছে এক গ্রামে দুই বিত্তবান ভাই বসত করতো।  কেউ তাদের সাথে পেরে উঠতো না। ক্ষমতা প্রতিপত্তি সন্মান সবদিক থেকে তারা ছিল এগিয়ে। প্রতিবেশীরা অশান্তির অনলে পুড়ছিল কীভাবে তাদের ধ্বংস করা যায় এই চিন্তায়। একদিন কোন কারণে দুই ভাইয়ের মধ্যে একটা জমি নিয়ে বিরোধ বেঁধে যায়। প্রতিবেশীরা আর সহ্য করতে পারলো না। তারা দুই ভাইয়ের বিরোধকে আরও শক্তিশালী করার জন্য দলে বলে দুই ভাগে বিভক্ত হলো। আর দুই ভাইকে পরামর্শ দিল মামলা করতে । বড় ভাইকে তারা বললো, তুমি বড় ভাই, ছোট হয়ে তোমার সাথে বেয়াদবি আমরা সহ্য করবো না। আবার অন্যদিকে ছোট ভাইকে বললো, বড় ভাই হয়ে তোমার সাথে জুলুম করবে তা আমরা সহ্য করবো না। দীর্ঘদিন মামলা চলার কারণে তারা প্রায় নিঃশেষ হয়ে আসছিল। হঠাৎ একদিন বড় ভাইয়ের মনে হলো আরে  ওতো আমারই ছোটভাই। আমাদের জমি ও যদি একখন্ড বেশী ভোগ করে তাহলে তো তেমন ক্ষতি নেই। যতটা ক্ষতি মামলার কারণে হচ্ছে। তো একদিন গভীররাতে সে ছোটভাইয়ের দরজায় কড়া নাড়ে। ছোট ভাই ভাবল, বড়ভাই হয়ত তাকে খুন করতে এসেছে তাই সেও প্রস্তুতি নিয়ে বের হয়ে দেখে বড়ভাই একাই দাঁড়িয়ে আছে। সে অবাক হয়, আরও অবাক হয় যখন বড়ভাই বলে যে, কাল থেকে ওই জমি তোর। আমি আর মামলা চাই না। মামলা করে আমরা যে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি, আর আমাদের জমি যে অন্যেরা সেই সুযোগে কিনে নিচ্ছে তা কি বুঝতে পারছিস? সকাল বেলা প্রতিবেশীরা এসে হাজির । মামলার তারিখ কোর্টে যেতে হবে। কিন্তু ছোইভাই কোর্টে যাবে না । কারণ সে হারতে চায় বড়ভাইয়ের কাছে. কোন ষড়যন্ত্রকারীর কাছে নয়। আমার কাছে মনে হয়, আমরাও ঠিক একই রকম ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। পাকিস্তানিরা আমাদেরকে যখন দাবায়ে রাখতে পারলোনা তখন তারা কিন্তু বসে রইলো না । আমাদের দেশেরই কিছু কুলাঙ্গারদেরকে দিয়ে করিয়ে নিল ইতিহাসের জঘন্যতম ঘটনা । আর জন্ম দিল বাকশাল নামক এক কলঙ্কের । কি চমৎকার ষড়যন্ত্র আর সেই ষড়যন্ত্রের পক্ষে সাফাই গাইছে একজন আপদমস্তক ভদ্রলোক জনাব ফকরুল ইসলাম আলমগীর । আমার কাছে মনে হয়, ওনারা কোন রাজনৈতিক দলের নেতা না । ওনার হচ্ছেন বি, এন, পি পরিবারের সদস্য । এর ব্যখ্যা  আমরা বি, এন, পির অনেক সিনিয়র নেতার মুখেই শুনেছি। বাংলাদেশ এর উন্নয়নে যখন মানুষ একটা দিক নির্দেশনা পেল, ঠিক সেই মুহূর্তে আবারও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিনিময়ে বি, এন, পি ক্ষমতায় আসলো। এসে উপহার দিল হাওয়া ভবন। আর সেই হাওয়া ভবন থেকে নিয়ন্ত্রিত হতে লাগলো চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, সরকারী জমি দখল আর রাস্তার হকার থেকে কোটিপতি বনে যাওয়ার এক বিশাল জাদুঘর। ড্যান্ডি ডাইং, খাম্বা, ১০ পার্সেন্ট এটাই ছিল তাদের উন্নয়নের উদাহরণ। তাতেও তারা সন্তুষ্ট নন। তাদের ধারণা, তখনকার বিরোধীদলীয় নেতাকে যদি শেষ করে দেয়া যায় তাহলে তারা পেয়ে যাবে আজীবন ক্ষমতায় থাকার সার্টিফিকেট। তাই রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে অশিক্ষিত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সহযোগীতায় তারা পাকিস্তানের পরিকল্পনায় দেশরত্নকে হত্যার চেষ্টায় লিপ্ত হল। রাখে আল্লাহ মারে কে! আর সেই সমস্ত ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তখন এগিয়ে আসলেন ডাঃ কামাল, মান্না, আ স ম আঃ রব। আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন. আপনারা শেখ হাসিনাকে ধ্বং করতে চান ভাল কথা । আপনারা কি একটা শেখ হাসিনাকে জন্ম দিতে পারবেন? আপনারা কি পারবেন পরিবারের সকল সদস্যের মর্মান্তিক মৃতুর পরেও দেশের মানুষকে ভাইবোন হিসেবে বুকে টেনে নিতে? এমন উদাহরণ আপনি/আপনারা যদি দেখাতে পারেন তাহলে স্বাগতম। আর যদি না পারেন তাহলে ক্ষমা চেয়ে নিতে পারেন দেশ ও জাতির কাছে।  আর আপনারা হয়ত জানেন না, দেশ জাতি এখন একজনকেই চায়, সে আর কেউ নন এদেশের উন্নয়নের কারিগর জননেত্রী শেখ হাসিনা। ডাঃ ইউনুস সাহেব একটা নোবেল নিয়ে আসলেন আর আপনারা তাকে দাদা বলে সন্মোধোন করলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিয়ে আসলেন হাজারো পুরস্কার প্রশংসা। কিন্তু এদেশের নাগরিক হিসেবে তাকে আপনারা প্রশংসা তো দুরের কথা, নব্য বাকশাল বলতে ও দ্বিধা করলেন না। দেশের লক্ষকোটি জনতা আজ পদ্মাসেতুর দিকে চেয়ে আছে। তারা শেখ হাসিনার জন্য দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে মঙ্গল কামনা করে দোয়া করে । তার পাওয়ার বোধহয় আর কিছু নেই। ক্ষমতায় থেকেও যার জনপ্রিয়তা প্রায় ৬৮ শতাংশ সেখানে ৩২ শতাংশ তাকে ভাল নাও বাসতে পারে, সন্মান নাও করতে পারে । কিন্তু তাকে অপমান করার অধিকার আপনি/আপনাদের নাই। কারণ সে যে আমাদের মা, আমাদেরই জন্মভূমি।

ফিরোজ শ্রাবন​
ফিরোজ শ্রাবন

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts