হোলি, দোল বা বসন্তোৎসব

আজি সবার রঙে রং মেশাতে হবে। আজ নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রং নিয়ে মেতেছে।ছোটবেলায় আমরা কি হিন্দু কি মুসলিম সকলেই এই দিনটাতে মেতে উঠতাম। আল বেরুণীর বিবরণে দেখি, মধ্যযুগে কোন কোন অঞ্চলে মুসলমানরাও এই হোলি উৎসবে মেতে উঠতেন। 

হোলি বলতে আমরা কি বুঝি? এটাকি মধ্য যুগের চিত্রশিল্পের বিষয়বস্তুর রাধা কৃষ্ণের যে রঙ মাখামাখি উৎসব তার অনুসরণে বৈষ্ণবীয় আচার পালন? তাই কি নারী পুরুষ নির্বিশেষে রঙ নিয়ে মাখামাখিনাকি বসন্ত পুর্ণিমায় কৃষ্ণ যে কেশি নামের অসুরকে বধ করার পরে আনন্দযজ্ঞে মেতেছিলেন সেই আনন্দ যজ্ঞে মেতে ওঠা

শাস্ত্রে দেখি ভক্ত প্রহ্লাদ অসুর বংশে জন্ম নিয়েও ছিলেন পরম ধার্মিক। কোন উপায়েই যখন তাঁকে হত্যা করা যাচ্ছিল না তখন দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করেন।তাঁর উপরে এই বর ছিলো যে আগুন তাঁর কোন ক্ষতি করবে না। কিন্তু এটা ছিলো একটা অন্যায় কাজ। তাই হোলিকার সেই বর নষ্ট হয়ে যায় এবং প্রহ্লাদের​ সাথে সেও আগুনে পুড়ে মারা যায়। আর তা থেকেই হোলি শব্দটা এসেছে। 

রঙ উৎসবের আগের দিন তাই হোলিকা দহন হয়ে থাকে। যাকে বলা হয় ন্যাড়াপোড়া। চট্টগ্রামে বলা হয় বুড়ির ঘর পোড়া। তবে এই দোল উৎসব শ্রী কৃষ্ণের জীবন ইতিহাসের সংগে মেলে না। কারণ কৃষ্ণ তাঁর দশ বছর বয়সে সেই যে বৃন্দাবন ত্যাগ করেছিলেন সেখানে আর কখনোই ফিরে যান নি। আর রাধার অস্ত্বিত্বই তো বহু গবেষক অস্বীকার করেছেন। বস্তুত কৃষ্ণের ঝুলন থেকেই দোল কথাটির উদ্ভব। সে যাই হোক দোল বা বসন্তোৎসব সবার মনকে রাঙ্গিয়ে তুলতে প্রতি বছর আসে আর সেই আনন্দ যেন সবার মনকে ছুঁয়ে যায়।
মডেল​: উচ্ছল​, ছবি: পান্থ রহমান​

Author: অনুপা দেওয়ানজী

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts