১৯৭১ ফিরে দেখা ২০১৭-২

(পূর্বপ্রকাশিতর পর​)
১৯৭১  মার্চ ০৮ স্বাধীনতা ঘোষণার সেশনটা এই মফস্বল শহরের উপকণ্ঠে আর মুক্তিযুদ্ধের রাজধানীতে বেশ দীর্ঘ হলো । এর মধ্যে একটি উৎকণ্ঠিত দ্বিধাদ্বন্দ্বের রাত পার হয়েছে । পিয়ন-কেরানীদের কলোনিতে রাতের নীরবতা ভেঙ্গে বিষণ্ণ সকাল এসে দরজায় টোকা দিলো । সকাল আটটার দিকে এ ফ্লাট ও ফ্লাটে ডাকাডাকির কলরোল । সবারতো আর রেডিও নেই । যেন স্বাধীনতা ঘোষণার পান্তা ভাতে আমন্ত্রণ দিচ্ছে একে অপরকে ।

বিকেলের মধ্যেই মাদুর পাঠাগারেখবরের কাগজগুলো স্বাধীনতার কবুতর হয়ে উড়ে এলো । সে কি পত্রিকা পাঠ! কেহ নাহি পত্রিকা ছাড়িবারে চাই

মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংএ গতি সঞ্চার হলো । সুকান্ত-নজরুল-নির্মলেন্দু গুণের কবিতায়, প্রভাবিত নির্যাসে, সদ্যফোটা আমার কৈশরিক কবিতার রণসঙ্গীতে, ক্ষুদে বাহিনীটায় দামামা বেজে উঠলো ! সমবেত কণ্ঠস্বরে ভয়াবহ উৎগিরণে ঝঙ্কারিত ধ্বনি । কলোনীর বেলকোনীগুলো ও জানালাসমূহ পূর্ণ দর্শকে ঠাসা বিস্ময়কর এক উত্তেজনা! খোলা মাঠে আম​রা যেন বীর পুরুষ, যুদ্ধে যাবো! সবাই আমাদেরকে বিদায় জানাচ্ছে বীরোচিত সম্ভাষণে।

এ সব কিছুর ফাঁকে রণকৌশল নিয়ে ভেবেছি। যুদ্ধ হলে নিশ্চয় অগ্রজ বাহার ভাই (গেরিলা বাহার নামে খ্যাত মুক্তিযুদ্ধ কালীন কমান্ডার) ও তার বন্ধুরা সম্মুখ ভাগে থাকবে।

তাদের যদি মৃত্যু হয়, এই ন্যায় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে আমাদেরকেই। ফলে ট্রেনিং এর বিকল্প নেই। যেটা জেনেছি নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আজাদহিন্দ ফৌজএর ইতিহাস পাঠে এবং আমার পুলিশ পিতা যিনি ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধে আজাদহিন্দ ফৌজের একজন যোদ্ধা, তার সঙ্গে আদরের কনিষ্ঠ সন্তান হিসেবে অসংখ্য শিশুতোষ সংলাপে। আমার মতো এমন করে সারা দেশের শিশু কিশোরেরা যে বিচ্ছিন্নভাবে একই সাধনায় ব্যস্ত, সে কথা তো আমার জানা ছিলো না। আমি ভেবেছিলাম আমি একাই দেশটাকে শত্রুমুক্ত করবো। আমার এই ক্ষুদে বাহিনীই একমাত্র শিশু কিশোর যারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তাছাড়া এটাও প্রকৃত অর্থে জানা ছিলোনা যে, ভয়ঙ্কর যুদ্ধের মধ্যেও শিশু কিশোরদের মহা মূল্যবান ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। সেটা বুঝেছিলাম যুদ্ধ শুরু হলে। এক একটা অপারেশনের বিচিত্র অভিজ্ঞতায়!

(চলবে)

Author: সোহেল অমিতাভ

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment