১৯৮৫ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন

ballobibaho

এই আইনে কলা হয়েছে , স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করতে চান তবে তাকে অবশ্যই তাকে স্ত্রীর পূর্বানুমতি নিতে হবে।  বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইনে নারীকে বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার দিয়েছে, যা নারীর অধিকারকে আরও সুসংহত করেছে। শুধু তাই নয়, বিবাহ বিচ্ছেদ কালে নারীর অধিকারকে ও সুনিশ্চিত করেছে। তাই বহু বিবাহের ক্ষেত্রে স্বামীকে অবশ্যই স্ত্রীর অনুমতি বা সম্মতি প্রহণকেও বাধ্যতামূলক করেছে।

সভ্যতার  অগ্রযাত্রায় , সমাজ উন্নয়ন, রাষ্ট্রের উন্নতি তথা পরিবারের সর্বক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা অগ্রগণ্য। অাজকের নারী শুধু নারী নয়, সে মা, স্ত্রী, ভগ্নী, বৈমানিক, আইনজীবি, শিক্ষক, চিকিৎসক ও রাষ্ট্রের সবোর্চ্চ স্তরে তার অবস্থান। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, বিংশ শতাব্দীর এই যুগে ও নারী অবহেলিত, বঞ্চিত। সে প্রতি পদে পদে নির্যাতিত হচ্ছে, অপমানিত হচ্ছে, ন্যায্য অধিকার থেকে প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।

 তেমনি বিবাহের ক্ষেত্রে ও নারী চরমভাবে নিগৃহিত হচ্ছে । মানুষ হিসেবে নুন্যতম মর্যাদাও কখনো কখনো সে একেবারেই পায় না।

এরপরও কথা থেকে যায়, আইন প্রয়োগ করে পুরুষের এই মানসিকতার পরিবর্তন করা যাবে না। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য, নারীর মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য , নারীকে নারী হিসেবে না মূল্যায়ন করে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে। এজন্য সরকারের সহযোগিতা, পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মানসিকতা দূর করে নারীর অধিকার দিতে হবে, সমমর্যাদা দিতে হবে। তাহলেই কেবলমাত্র নারী তার প্রাপ্ত মর্যাদা পাবে, ন্যাায্য অধিকার পাবে। তার এখনই সমাজ থেকে এ ব্যবধান দূরীভূত হবে। প্রশাসন অথবা ক্যান্টনমেনট এলাকার সরকার কর্তৃক নিযুক্ত প্রাপ্ত অথবা যে ব্যক্তি ঐ দায়িত্বে নিয়োজিত তার অনুমতি চেয়ে দরখাস্ত করতে হবে এবং স্ত্রী মত দিয়েছেন কিনা তা উল্লেখ করতে হবে।

তাছাড়া একটি করে সালিশী পরিষদ গঠন করতে হবে ।

সালিশী পরিষদ কিভাবে গঠন করতে হবে?

চেয়্যারম্যান সাহেব স্ত্রী এবং স্বামীর পক্ষ হতে ১ জন করে প্রতিনিধি নিয়ে একটি সালিশী পরিষদ গঠন করবেন এবং পরিষদ যদি মনে করে এরুপ বিবাহের প্রয়োজন আছে তবে কিছু শর্তসাপেক্ষে অনুমতি প্রদান করবেন্।

কি ধরনের শর্ত?

সালিশী কাউন্সিলের রায়ে অসন্তুষ্ট হলে সেক্ষেত্রে রায়ের পুনরায় পরীক্ষার জন্য  মুন্সেফ কোর্টে আবেদন করতে পারবেন । উল্লেখ্য যে, যদি স্বামী সালিশী বোর্ডের অনুমতি ছাড়া পুনরায় বিবাহ করেন তবে তাকে কিছু কাজ করতে হবে।

যেমনঃ স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করতে হবে, স্বামী যদি পরিশোধ না করেন তবে ভূমি রাজস্বের বকেয়া খাজনার ন্যায় আদায় করা যাবে।

এর ফলে স্ত্রী আদালতে নালিশ করতে পারবেন।  এর ফলে স্বামীর ১ বছর পর্যন্ত জেল বা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় প্রকার শাস্তিই হতে পারে। সালিশী পরিষদের অনুমতি ছাড়া স্বামী বিবাহ করলে শুধু এ কারণে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন না।     

শারমিনা পারভিন
শারমিনা পারভিন

Author: শারমিনা পারভিন​

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts