রবীন্দ্র-সাহিত্যে কৃষি

রবীন্দ্র-সাহিত্যে কৃষি রবীন্দ্র-সাহিত্যের বিশাল বিস্তৃতির মধ্যে কৃষি বিজ্ঞানও বিষয়াশ্রিত হয়েছে। মাটি, গাছ-পালা, বন-বনানী ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিষয়াবলী রবীন্দ্রনাথ তার অমর সাহিত্যকর্মে বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। বিজ্ঞানের এই নিরস বিষয় সাহিত্যরসে সঞ্জীবিত হয়ে আমাদের নিকট মূর্ত হয়েছে। পৃথিবীর আদি শিলাস্তর ক্ষয় পেতে পেতে মাটিতে পরিণত হয়েছে। বড় বড় গাছ-পালা, লতা-গুল্ম, ঘাস, ছত্রাক প্রভৃতি উদ্ভিদ কখনো প্রত্যক্ষ কখনো পরোক্ষভাবে মাটি তৈরিতে সহায়তা করছে। পৃথিবীর আদি থেকেই এ কাজ চলছে। রবীন্দ্রনাথ তাই তার ‘বনবাণী’ শীর্ষক বৃক্ষ বন্দনা কবিতায় উদ্ভিদের গুণকীর্তণ করেছেন      “…………মৃত্তিকার হে বীর সন্তান,       সংগ্রাম ঘোষিলে তুমি মৃত্তিকারে দিতে মুক্তিদান       মরুর দূর্গ হতে……….।” মাটি…

Read More

মেলবন্ধনে রবীন্দ্র- সত্যজিৎ

সত্যজিৎ  রায়ের জন্ম  ১৯২১ সালের ২ মে , মৃত্যু ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল। রবীন্দ্রনাথ  ঠাকুর মৃত্যুবরণ করেন   ১৯৪১ সালে । সেই হিসেবে তিনি যখন মারা যান সত্যজিৎ রায় তখন ১৯ বছরের যুবক। তবে সত্যজিৎ রায়ের পরিবারের সাথে রবীন্দ্রনাথের নিবিড় যোগাযোগ ছিল। সত্যজিৎ এর পিতা ও পিতামহ দুজনই নামকরা শিল্পী ছিলেন। পিতামহের একটি ছাপাখানাও ছিল। সেখানে তিনি মুদ্রাকরের কাজ করতেন। তিনি ছোটদের জন্য একটা পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। সত্যজিৎএর লেখা ও ছবি  সে কাগজে বের হত।  বাবা সুকুমার রায়ও একজন বিখ্যাত শিশু সাহিত্যিক। তার মজার ছড়া পড়েনি সেকালে এমন কোন শিশু খুঁজে…

Read More

মৃত্যুসনদ

এইমাত্র অফিসে এলেন তিনি। চেয়ারে বসে প্রতিদিনের মতো সুরা ফাতেহা পাঠ করে মোনাজাত করলেন। ফাইলপত্র দেখার পূর্বে এক কাপ চা খাওয়া তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। কিন্তু আজ চা খেতে ইচ্ছা করছে না। সকালবেলা অফিসে আসার পূর্বে চারটা পত্রিকা পড়েন তিনি। একটি পত্রিকায় জাতীয় পরিচয়পত্র সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন বেরিয়েছে। সেটা তার শির:পীড়ার কারণ। প্রতিবেদন সত্য হলে আপত্তির কিছু ছিল না। কিন্তু প্রতিবেদনটি নিতান্তই মনগড়া। তা পড়ে মেজাজ ঠিক রাখা দায়। প্রতিবেদককে অবশ্য তিনি চিনতে পারলেন না। নতুন কেউ হবে হয়ত। আগারগাঁওয়ের এই অফিসে তাঁর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পরিচয়পত্র কর্মযজ্ঞের তিনি শীর্ষ…

Read More

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাভাবনা এবং আজকের দিনের সংকট

আমরা যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চিনি এবং জানি তিনি আমাদের বাঙালির অস্তিত্ব থেকে আলাদা কেউ নন। তিনি আমাদের নিজের মানুষ। আমাদের ভিতরের আমি যখন কথা বলি তখন আমরা তাঁর কণ্ঠের প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। এখানেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমস্ত কৃতিত্ব যে তিনি আমাদেরই লোক হয়ে গেছেন। এক কথায় বলা যায়, বাঙালির মানস-অস্তিত্ব নির্মাণে তাঁর ভূমিকা অবিস্মরণীয়। আমরা যখন যা কিছুই ভাবি তা যেন রবীন্দ্রনাথের মত করেই ভাবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই আমাদের চিন্তা-চেতনার সাংস্কৃতিক পরিধি বিস্তারের প্রতিটি স্তরে একটু একটু করে এগিয়ে দিয়েছেন। বাঙালির মনের বিকাশকে এই এগিয়ে দেবার যে ভূমিকা সেটাই তাঁর শিক্ষাচিন্তার স্বরূপ…

Read More

ঘনঘোর শ্রাবনে মহামানবের মহাপ্রয়ান

“ব্যাকুল বেগে আজি বহে যায় /বিজুলি থেকে-থেকে চমকায় / যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেলো   মনে /সে কথা আজি যেন বলা যায় /এমন ঘনঘোর বরিষায় ”   “মিছে জীবনের কলরব/ কেবল আঁখি দিয়ে আঁখি সুধা পিয়ে/ হৃদি দিয়ে হৃদি অনুভব/ আঁধারে মিশে গেছে আর সব” ঘনঘোর বর্ষার দিনে এই ছিল কবির নিজের অনুভব।কবি চলে গেলেন সেই শ্রাবণ দিনে তাঁর শত কোটি ভক্তহৃদয়ের  আকাশও তেমনি আঁধারে ছেয়ে গেলো। কেঁদেছিল  মানুষ সেদিন।ছিলনা জীবনের কোন কলরব!   ২২ শ্রাবণ ।আকাশভরা সঘন মেঘে ঢাকা কলকাতার সড়কে তিল ঠাঁই নেই।সারি সারি অশ্রু সজল মানুষের…

Read More

নজরুল ও আমার ভাবনায় শান্তিনিকেতন

১. নজরুলের যখন ভরা যৌবন, চারিদিকে উল্লাস তাঁকে নিয়ে, কয়েকবার চট্টগ্রামে এসেছিলেন। ১৯২৮ সালে মুসলিম এডুকেশন সোসাইটিতে কয়েকজন সত্যিকার মুমিনের সামনে তিনি হয়েছিলেন নতুনভাবে উদ্ভাসিত। তার বক্তৃতাটি সম্পূর্ণ পাওয়া যায় না, যা পাওয়া যাচ্ছে তাতে মূর্ত হয়েছে কবির স্বপ্ন। তাঁর গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ছিল তাঁর স্বপ্নের প্রভেদ। প্রতি কবিরই তা হওয়ার কথা। নোবেলপ্রাপ্তির পর ও আগে রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন আশ্রমের ধাতে গড়ে তুলতে শান্তিনিকেতন। এখানে কয়েকবার গিয়েছি, উদ্দেশ্য ছিল তাঁর কল্পনার শান্তিনিকেতনকে আবিষ্কার। ২. “গ্রামের মুসাফির বোলপুরে। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখছে ইতিহাসের পাতা থেকে বেরিয়ে আসা শান্তিনিকেতন। ক্ষিতিমোহন বাবু থাকতেন ‘দেহলী’র…

Read More

কবি প্রণাম

Rabindranath Tagore

কবে তোমার লেখার প্রেমে পড়েছিলাম? ভাবতে গেলেই  জানো? সহজ পাঠ বইটি ছুটে এসে চোখের সামনে পাতা ওল্টায়। আমি কিন্তু চোখ বুজেই বলে দিতে পারি ছোট খোকা বলে অ আ শেখেনি সে কথা কওয়া। সেই থেকেই যে তোমার লেখার সাথে আমার যত সখ্যতা। তারপর কখন যেন তুমি আমায় নিয়ে গেলে জল পড়ে, পাতা নড়ে থেকে সাহিত্যের এক নিবিড় ঘন অরণ্যে। যে অরণ্য আমায় করলো  প্রেমে বিভোর। সেই প্রেমেই ছিলাম বিভোর। আর কখন যে  তুমি চলে  গেলে ওই দূর দিগন্তে । বলে গেছো তোমাদের এই হাসিখেলায় আমি যে গান গেয়েছিলাম এই কথাটি…

Read More