ম্যাজিক মেডেল

ম্যাজিক মেডেল

মাহফুজা নামটির প্রতি কি যেন এক সান্ধ্যকালীন ছাতিম সন্ধ্যার দরদ আজীবন চুঁয়ে চুঁয়ে পড়ে। শুধু আদর কেন? যখন কবিতার লাইন হয়ে ওঠে মাহফুজার প্রেম ও বন্দনার একমাত্র শব্দ তখন অন্য এক আবহ তৈরি হয় আজীবন।   ‘মাহফুজা তোমার শরীর আমার তসবির দানা আমি নেড়েচেড়ে দেখি আর আমার এবাদত হয়ে যায়।’   কিন্তু আজ হঠাৎ মাহফুজা নামের ওপর আরশ হতে কি এক লানত বর্ষিত হতে থাকে! অথচ মাহফুজা যখন এসএ ফেডারেশনের প্রশিক্ষণে ঢুকছিল তখনও ওর মন ছিল চনমনে। শরীর ছিল ঝরঝরে। ও সকালে ঘড়ি ধরে এক ঘন্টা ঘাম ঝরিয়ে হেঁটেছে আজ।…

Read More

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘চরমপত্র’

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘চরমপত্র’

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের নাম। বস্তুত এই বেতারকেন্দ্র ছিল মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় ফ্রন্ট। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকবর্গ তাদের হিংস্র সামরিক বাহিনী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের উপর। শুরু হয় পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্যতম গণহত্যা। সে নির্মমতার কথা বর্তমান প্রজন্মের সন্তানেরা চিন্তাও করতে পারবে না। ২৫ শে মার্চ রাতে শুধু ঢাকা শহরেই হানাদার বাহিনী অন্তত পঁচিশ হাজার মানুষ হত্যা করে। নিরস্ত্র বাংঙালী জাতির প্রতিরোধ শীঘ্রই ভেঙ্গে পড়ে। ঢাকার পরে তারা নতুন উৎসাহে সারা দেশে ধ্বংসলীলা শুরু করে। ১৯৭০…

Read More

ভালো থেকো প্রিয় বাংলাদেশ

ভালো থেকো প্রিয় বাংলাদেশ

”সবকটা জানালা খুলে দাওনা ”আমি গাইবো গাইবো বিজয়েরই গান। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে, আর দুই লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম হারিয়ে অর্জিত হে স্বাধীনতা। তুমি আসবে বলে কত প্রতীক্ষা কত না বলা গল্প জমিয়ে রাখা । একদিন দেশ স্বাধীন হবে তখন সবাইকে বলবো আমার যুদ্ধজয়ের গল্প। আজ সেই স্বাধীনদেশে আমার গল্প কেউ শুনতে আসে না। যারা পাকিস্তানীদের দোসর আজ তারাই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দু হাত নাড়িয়ে কত মিথ্যাচার করছে আর সবাই, তাই যেন বিশ্বাস করছে। কেউ আমার কাছে জানতে চায় না, আমার পরিচয় আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার অর্জন এই স্বাধীন দেশ ।…

Read More

আমার বিজয়

আমার বিজয়

এই নাও মা সবুজ শাড়ি টিপ এনেছি লাল। মনে করে পোড়ো মাগো বিজয় দিবস কাল। বিজয় দিবস রোজই আমার বুকের ভেতর ওরে। সুর,অসুরের দড়ির সে টান ভুলবো কেমন করে? আমার সে টিপ উড়ে গিয়ে সেদিন ছিটকে গিয়ে দড়ির টানেই সেঁটে গেছে পতাকার ওই গায়ে। সেই থেকে ওই লাল টিপ টা পতাকার ওই বুকে। সাক্ষী হয়ে  পতাকাতেই আছে পরম সুখে।    

Read More

এক শহীদ ভগিনির কথা

Saif Mizan

আমি এক শহীদের বোন। সেই শহীদ যে মুক্তিযুদ্ধে জীবন দেয়ার জন্যই ছেলেবেলা থেকে নিজেকে তৈরি করেছিল। তাই সরকারি কর্মকর্তা হয়েও খুলে দিয়েছিল ট্রেজারির দরজা। নিজ হাতে ট্রেজারির অস্ত্র তুলে দিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে। নিজের জীবনের পরোয়া করেনি। ভাবেনি তার কিছু হলে সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর কি হবে , বাবা- মা, ভাই- বোনের কি হব! একবারও ভাবেনি, সে পরিবারের বড় ছেলে। পরিবারের প্রতি তার অনেক দায়িত্ব আর  তাকে ঘিরে পরিবারের  অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা। অথচ সে ছিল একজন পরিবার অন্তঃপ্রাণ মানুষ। সে সময় তার একটা কথাই মনে ছিল , সে এ মাটির সন্তান…

Read More

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

আজ ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এই দিনে ঢাকা শহরের অনেক প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল পাকিস্তানিরা।রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত হয়েছে স্মৃতিসৌধ। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হবার পর  থেকে শুরু করে বিজয় অর্জন পর্যন্ত পুরোটা সময় জুড়ে দেশব্যাপী অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে নিধন করা হয়েছে । এমনকি স্বাধীনতা অর্জনের প্রাক্কালেও অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করো হয়েছে। অত্যন্ত নির্মম সেই হত্যাকাণ্ডগুলো । দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাগুলোকে শেষ করে দেয়া হয়েছে পরিকল্পিতভাবে দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য। ১৪ ডিসেম্বর কেন শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস এ প্রশ্ন বার বার আমার মনে উদিত হয়েছে। আজও হয়।…

Read More

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহিল বাকী বীর প্রতীক

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহিল বাকী

একাত্তরের এপ্রিল। গ্রীষ্মকাল। কিন্তু ঢাকায় তখন অদ্ভুত শীতলতা। মাঝে মাঝে ভেসে আসে বন্দুকের গুলির আওয়াজ। কখনো পাকিস্তানি সৈন্যদের বুটের শব্দে ছড়িয়ে যায় ভয়, কখনো খবর আসে ‘মুক্তি’ সন্দেহে তরুণ যুবাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে। খিলগাঁওবাসী মো. আবদুল বারীও পরিবারের সবাইকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন গ্রামে, বিক্রমপুরে। স্ত্রী, চার কন্যা, তিন পুত্রের সংসার তাঁর। ব্রিটিশ কোম্পানি রেলি ব্রাদার্সে কর্মরত আবদুল বারীর দিনগুলো কাটছিল ভালোই। এর মধ্যে শুরু হয়ে গেল যুদ্ধ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেজ ছেলে আবদুল্লাহিল বাকী চলে গেলেন যুদ্ধে। মা আমেনা বারীকে একটি চিঠি লিখে গেলেন, ‘দেশের…

Read More