কঠিনেরে ভালবাসিলাম

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

কঠিনেরে ভালবাসিলাম ‘বাজারে যাচাই করে দেখিনি ত দাম/ সোনা কিনিলাম নাকি রূপা কিনিলাম/ ভালবেসেছ বলে ভালবাসিলাম।’ সিনেমার এই গানটি অসম্ভব জনপ্রিয় হয় আর এই গানের হাত ধরে কত প্রেম যে তার সার্থকতা খুঁজে পেয়েছে তার হিসাব মেলানো যে কঠিন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের স্কুল থেকে কলেজ জীবনে এই গানের প্রভাব ছিল ব্যাপক। গানটি কি অর্থ বহন করে বা গানের বার্তা আমরা তখন না বুঝলেও প্রেম করেছি এই জাতীয় গানেরই হাত ধরে। ক্লাসের ভিতরে শিক্ষকদের কঠিন শাসন আর নজরদারি আমাদের  আশাহত করেছে বারংবার।  তবুও যদি ক্লাসের খাতার ভিতরে কোন…

Read More

একুশ এক বিপুল বিস্ময়

একুশ এক বিপুল বিস্ময়

দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের সমারোহে ফাগুনের শাখায় যখন ফুটেছে বসন্ত শিমুল পলাশ শহীদের রক্তে লাল মায়ের ভাষার দাবিতে উত্তাল রাজপথ রক্তের ধারায় প্রবাহিত হৃদয়ের ক্ষরণ মিছিলের সারিতে সারিতে ছাত্রের বিদগ্ধ উচ্চারণ! যখন বজ্রমুষ্ঠি স্লোগানে আকাশ প্রকম্পিত– মঞ্চের মালঞ্চে যখন কাঞ্চন উদভ্রান্ত তখন পুলিশের কার্তুজে বড় ভয়ানক গর্জন। ভয় পেয়ো না মা। কে কবে কিছু না চেয়ে পেয়েছে অনন্ত অধিকার? আমরা ছিনিয়ে আনব আমাদের একান্ত    হৃদয়ের ভাষা– আমরা ছিনিয়ে আনবো আমাদের জন্মাবধি মানচিত্র স্বাধীকার– যেভাবে মেঘ থেকে বৃষ্টিকে ছিনিয়ে আনে নির্দ্বিধায়। এবং উঙ্কুরোদগম বৃক্ষ থেকে প্রশাখা। তুমি সাহস দাও সীমান্তের উত্তাল দিগন্তে…

Read More

একুশ আমার অহংকার

মার মুখ থেকে প্রথম পেয়েছি তোমায়।    তুমি আছো আমার ঘুমপাড়ানি গানে আমার শৈশবের রূপকথায় আমার গানে, গল্পে আমার কবিতার পাতায়। তুমি আছো আমার প্রেমে, বিরহে   আমার সকল প্রার্থনায়। আছো আমার দুঃখে, শোকে    আমার সকল ব্যর্থতায়। তুমি আমার সেই অহংকার ভাষার জন্যে কোন জাতি দেয় নি যা আর একুশ তোমায় আমি বড় ভালো বাসি রক্তের আখরে  তুমি যে  বেঁধেছো আমায়

Read More

কংক্রিট নগরে

পাশ্চাত্যের রাত নেমেছে এ কংক্রিটের নগরে উধাও হয়েছে তাই প্রাচ্যের বিন্যাসিত নিসর্গ নক্ষত্রের আলো প্রত্যাখাত বেদনায় ফিরে যায় চন্দ্র মেঘের মায়াবী জোছনা সংগোপনে কাঁদে। মানুষের অসুখে আক্রান্ত হয়েছে অ্যাপার্টমেন্ট কোথাও চিকিৎসা নেই তার, নেই কোন নিদান জঞ্জালের স্তূপে শুধু কিলবিলে ইঁদুরের দৌড় নিহত কৃষ্ণচূড়ায় ঝুলে থাকে সন্তাপিত শোক দীর্ঘশ্বাসের মিছিলে মিশে হরিণীর চিৎকার গন্তব্য তাদের বিনাশী খাদ শ্বাপদ উপত্যকা। শাফাত শফিক

Read More

কুতুপালং থেকে বহেড়াতলায়

কুতুপালং থেকে বহেড়াতলায়

ফিরছি সমুদ্রপাড়- বায়ুসেবী টেকনাফ থেকে। কুতুপালং-উখিয়া শরণার্থীপাড়া- এবার বিদায়। ডাকছে বাংলা একাডেমি বইমেলা, ভাষা-জাগরণ মধু হই হই মধু বই বই… বিনোদন। কি বই খাওয়াইলা ও মেলার মহাজন। ডাকছে বহেড়াতলা, লিটলম্যাগ চত্বর…। স্মৃতিতে কঠিন সেই সত্যাগ্রহ সাময়িকীদিন। যাপিত লিটলম্যাগ গেম, হয়তো প্রথম প্রেম, প্রথম তারুণ্যঘেঁষা ফুটন্ত ফসল- সাহিত্যচেষ্টার করতল, মাঠচষা মফস্বল। ভুলিনি হস্তকম্পোজ, অক্ষরের পরে অক্ষরবসানো খেলা, গ্যালী, তরুণের পাশে প্রথম তরুণী, প্রেম- তার চেয়েও অধিক ছিলো-      যখন লিটলম্যাগ সঁপিলেম! ফিরছি কষ্টপাড়া কুতুপালং থেকে। শরীরে রোহিঙ্গা শরণার্থী গন্ধ। কাহিনি দস্তুর, উদ্বাস্তুর। ফিরছি সুগন্ধি নিতে সদ্যপ্রকাশ সাময়িকীর। জানিনা কাগজ আর কতোদিন! পর্যুদস্ত…

Read More

নামফলক

নামফলক আফরোজা পারভীন

সড়কটা দীর্ঘ নয়। একপাশে বড় একটা দিঘি,  অন্যপাশে কয়েক ঘর বসতি, মাঝখানে এই সড়ক। কিছুদিন আগেও কাঁচা ছিল, এখন খোয়া পড়েছে। পিচ পড়েনি এখনও। সহজে পড়বে বলে মনে হয় না। গাড়ি তেমন একটা চলে না,  রিক্সা চলে, তাও খুব বেশি না। পথচারিরা হাঁটে,  টুটাং করে যায় সাইকেল। ফেরিওয়ালারা ডাক পাড়ে। মাছওয়ালা হাঁকে মাছ মাছ,  মুরগিঅলা মুরগি চাই, মুরগি, চানাচুরঅলা, এইযে নেবেন মজাদার চানাচুর। আরো কতকি। নদীর কূলে নাও ভিড়িয়ে বেদেরা আসে লাল নীল রেশমি চুড়ি বেঁচতে। তবে আস্তে আস্তে এসব কমে যাচ্ছে। নগর যতো বাড়ছে , আধুনিকতা ততোই গ্রাস করছে…

Read More

ভাষা অবমাননায় যাপিত জীবন

ভাষা অবমাননায় যাপিত জীবন সাঈফ ফাতেউর রহমান

নিজের সাথে নিজে প্রতারণা করে চলেছি অবিরাম। মাতৃভাষার জন্য নিবেদিত আমি বহিরঙ্গে অন্তরঙ্গে হৃদয় নিবিড়ে সোচ্চার উচ্চারণে প্রগলভতায় যতোই নিনাদিত করি চারদিক, নিজেই নির্ভুল জানি, মাতৃভাষাকে আমি হৃদয়ে লালন করিনা, পালন করিনা শুদ্ধাচারে সুমার্জিত প্রভায়, ধারণ করিনা ব্যক্তি জীবনের প্রাত্যহিকতার, জীবনাচারের সকল সরল ও বঙ্কিম পথরেখা বা অনুক্রমে। কেবলই প্রদর্শনাচার আমাদেরকে ঘিরে থাকে কেবলই আনুষ্ঠানিকতায় আবৃত থাকি আমরা আমূল কেবলই বাক-সর্বস্বতা, কেবলই সাময়িকতার বৃত্তে আঁটকে থাকি স্বেচ্ছায় কেবলই আমরা দিবস বা মাসের ঘেরাটোপে আবদ্ধ করে রাখি একুশে চেতনা শুদ্ধতায় শিষ্টতায় অনুরাগে সারল্যের শুভ্রতায় ধারণ লালন করিনা মাতৃভাষাকে বন্দী-মাতৃভাষা দিবস-কারাগারের অন্তরালে…

Read More

একুশের কবিতা

একুশের কবিতা

 ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ দুপুর বেলার অক্ত বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ? বরকতের রক্ত। হাজার যুগের সূর্যতাপে জ্বলবে এমন লাল যে, সেই লোহিতেই লাল হয়েছে কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে ! প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে ছড়াও ফুলের বন্যা বিষাদগীতি গাইছে পথে তিতুমীরের কন্যা। চিনতে না কি সোনার ছেলে ক্ষুদিরামকে চিনতে ? রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে মুক্ত বাতাস কিনতে ? পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায় ঝাঁপ দিল যে অগ্নি, ফেব্রুয়ারির শোকের বসন পরলো তারই ভগ্নী। প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী আমায় নেবে সঙ্গে, বাংলা আমার বচন, আমি জন্মেছি এই বঙ্গে। আল মাহমুদ

Read More

অবিশ্বাস থেকে বিদ্রোহ তার থেকে বিপ্লব

অবিশ্বাস থেকে বিদ্রোহ তার থেকে বিপ্লব শামসুল আরেফিন খান

বিভাজন রেখা এত গভীর যে তা কলঙ্কের মত অনপনেয়।কোন উপায় নেই মুছে ফেলার।এই বিভাজনের উৎসে রয়েছে মানুষের বিশ্বাস । সেটা সত্যোপলব্ধি  না হয়ে অন্ধবিশ্বাসও হতে পারে।অন্ধ বিশ্বাসের অপর নাম আনুগত্য। অন্ধ বিশ্বাস না থাকলে  আনুগত্য টলে যায়। পৃথিবীতে এখন  উৎপন্ন সমস্ত সম্পদের ৮০ ভাগই কেবল+একভাগ মানুষের কুক্ষিগত হয়েছে।এটা অনুমান নয় , পরিসংখ্যান।এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র ভাগ্যাহত মানুষ যদি অন্ধবিশ্বাসচ্যুত হয়, অবাধ্য হয়ে ওঠে তা হলে বিশ্বের স্থিতাবস্থার পরিণতি কী হতে পারে তাও চিন্তার বা অনুমানের অগম্য নয়। ফেরাউন যুগের ক্রিতদাশ ২০ ঘন্টা অমানুষিক শ্রম দিয়ে ভাবতো এটাই তার নিয়তি। ভাগ্যের লিখন…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-২২তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে

পঁচিশ ডিসেম্বর দুহাজার ষোল।রোববার।।সপ্তাহান্তের দ্বিতীয় দিন। আমরা আজ এসেছি ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব বেইজিং-এ। অত্যন্ত সুরক্ষিত এ স্থানটির কাছেই চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা চেয়ারম্যান মাও সেতুং এর সমাধি সৌধ। সমাধি সৌধ ঠিক বলা যায় না, কেননা এখানে তাঁর মৃতদেহকে কবর দেয়া হয়নি। বিশাল জাদুঘরের একটি বড় কক্ষে চেয়ারম্যান মাও এর মৃতদেহকে মমি করে রাখা হয়েছে। এই সমাধি সৌধের  সামনেই রয়েছে বিখ্যাত তিয়ান’আনমেন স্কোয়ার যেখানে ১৯৮৯ সালে কমিউনিস্ট বিরোধী গণতন্ত্রীপন্থী আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকহাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছিল। তৎকালীন কমিউনিস্ট সরকার এখানে মিছিলকারীদের ওপর সামরিক ট্রাক উঠিয়ে দিয়েছিল আন্দোলন দমন করতে। তিয়ান’আনমেন স্কোয়ারের…

Read More