আমার চেতনায় প্রথম একুশের ফেব্রুয়ারি

আমি অনেকবার লিখতে চেয়েছি বিষয়টা। আমার চেতনাতে একুশে ফেব্রুয়ারি কিভাবে এল, কার মাধ্যমে পেলাম আমি একুশের প্রথম ধারনা? না, আমার পরিবারের কারোর মাধ্যমে নয়, আমার ভাই-বোন-আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে নয়।আমি প্রথম একুশের ধারনা পেয়েছি একজন ভিখারির কাছে।

তখন আমি প্রাইমারিতে পড়ি।ঠিক কোন শ্রেণিতে পড়ি মনে নেই, তবে টু/থ্রির বেশি না।আমাদের স্কুল সেদিন বন্ধ ছিল। বাড়ি স্কুলের পাশে হওয়াতে বেশির ভাগ সময় স্কুলের বারান্দাতেই খেলতাম।সেদিনও খেলছিলাম আমি আর আমার এক চাচা যে আমারও বয়সে ছোট।

সেই চাচা আমাকে বলল, ‘কি রে একুশে ফেব্রুয়ারিতে স্কুল বন্ধ কেন?একুশে ফেব্রুয়ারিতে কি হইছিল?’

আমি তখন কি সব বলেছিলাম তাকে।একজন পাগলাটে ধরনের ভিক্ষুক আমাদের কথা শুনছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, ‘মা তুমি যেটা বলছ ওটা সঠিক নয়।আসো বারান্দায়, আমি তোমাদের বলছি  একুশে ফেব্রুয়ারি কি আর কেন হয়েছিল।’

সেই ভিক্ষুক দাদু সেদিন আমাদের জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রভাষা নিয়ে পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র, আর তার প্রতিবাদে ছাত্রদের তথা গোটা বাঙালি জাতির অবস্থান।

ফেব্রুয়ারি হল ভাষার মাস, আর একুশে ফেব্রুয়ারি হল ভাষা শহিদ দিবস।এইদিনে শহিদ মিনারে গিয়ে সবাই শহিদদের স্মরণ করে,ফুল দেয়, তাও ওই ভিক্ষুক দাদুই বলেছিলেন।

তার কাছ থেকেই প্রথম শুনেছিলাম রফিক, শফিক, বরকত আর জব্বার নামের ভাষা শহিদদের কথা।

ভাগ্যের পরিহাসে ভিক্ষুক হলেও তিনি ছিলেন একজন শিক্ষিত মানুষ এবং তরুণ বয়সে জজকোর্টের মূহুরি ছিলেন।তাই তিনি জানতেন।আমার দাদাও কোন একসময় শিক্ষকতা করেছিলেন।তিনি প্রচুর বইও পড়তেন।কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারির ইতিহাস আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি।

তাই ফেব্রুয়ারি এলেই কিংবা কোথাও একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে কথা উঠলেই আমার সেই পাগলাটে ভিক্ষুক দাদুকেই মনে পড়ে।আমি শ্রদ্ধায়  তার প্রতি  নতজানু হই, তার মঙ্গল কামনা করি।আর মনে মনে বলি, যেখানেই থাকো ভালো থেকো পাগলা দাদু।

Author: অঙ্কনা জাহান

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts