আরবোভাইরাস​ ও ‘বিঃ দ্রঃ’

ভার্সিটি পড়ুয়া এক ছেলেকে তার ডিপার্টমেন্টের স্যার ভার্সিটিতে আয়োজিত কনসার্টে পারফর্ম করতে দিলো না। কারণ হিসেবে বললো, তার গিটারের সাউন্ড অনেক কর্কশ। ছেলেটিও জেদ ধরলো সেদিন, কলেজ বন্ধু আসিফ আজগর রঞ্জনকে নিয়ে ২০০১ সালে তৈরি করলো নিজেদের ব্যান্ড।
এতোক্ষণ যার কথা বলছিলাম​, তিনি এ যুগের জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ‘আরবোভাইরাস’ এর ফাউন্ডার সুহার্তো শেরিফ। শুরুটা মসৃণ ছিলো না। ভোকালে শোভন এবং ড্রামে হিমেলকে নিয়ে শুরু হয় আরবোভাইরাসের যাত্রা। ২০০৩ সালে বেস এ ইসতিয়াক হোসেন জিসান, ড্রামস এ ফারহান উল হক তানিম আর ভোকাল হিসেবে সুফি যোগ দেয়।
২০০৩ সালে ‘আগন্তুক-২’ ব্যান্ড মিক্স-এলব্যামে আরবোভাইরাইসের প্রথম সিংগেল ‘আর্তনাদ’ মুক্তি পায়। সেদিনই জি-সিরিজ তাদের সাথে এলবামের চুক্তি করে। ২০০৬ সালের ২০শে জুলাই তাদের প্রথম এলব্যাম ‘৬৪ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড’ মুক্তি পায়! এলবামটির মিক্সিং এবং মাষ্টারিং করে বিখ্যাত ব্যান্ড ‘মাইলস’ এর লিড গিটারিস্ট আসিফ ইকবাল জুয়েল। উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ গমনের কারনে বেজিস্ট জিসান ২০০৮ সালে ব্যান্ড ছেড়ে দেয়। তার বদলে ‘ক্রাল’ ব্যান্ডের আদনান যোগদান করেন। ২০০৩ সাল থেকে ড্রামারের দায়িত্ব পালন করতে থাকা তানিম ২০০৯ সালে ইংল্যান্ড চলে গেলে ‘অর্থহীন’ ব্যান্ডের ড্রামার শুভ আরবোভাইরাসে যোগ দেয়। পরবর্তীতে শুভ অস্ট্রেলিয়া চলে গেলে ‘ডেথরোর’ এক্স ড্রামার মোহাম্মদ নাফিজ আল আমিন যোগ দেয়।

প্রথম এলবামের বেশ কয়েকটি গান শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পায়। তার মধ্যে ‘অমানুষ,’ ‘আঁধার ও ঈশ্বর,’ ‘যা ইচ্ছে তা’ এফ এম রেডিওর মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এরপর আরবোভাইরাস দ্বিতীয় এলব্যাম ‘মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন’ অনলাইনে মুক্তি দেয় ২০১৩ সালের ৫ই জুলাই। এলব্যামটিতে প্রকাশ পাওয়া ৮টি গানের মধ্যে ‘হারিয়ে যাও’ সংগীতপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এছাড়াও ‘জ্বালো আগুন জ্বালো,’ ‘রোদের কিনারায়,’ ‘দূরত্ব’ সমালোচকদের দ্বারা সমাদৃত হয়। দুটি একক এলবাম ছাড়াও আরবোভাইরাস বিভিন্ন ব্যান্ড মিক্স এলবামে ১৩টি সিংগেলস রিলিজ দিয়েছে।
আরবোভাইরাস তরুণ​ শ্রোতাদের নিকট ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ​ তাদের লাইভ স্টেজ পারফর্মেন্স। রকনেশনে গিটার ভাঙ্গা, ড্রামের স্নেয়ার ভাঙ্গা এবং জয় বাংলা কনসার্টে ‘জ্বালো আগুন জ্বালো’ গানে আগুন নিয়ে খেলা করা, এইসব কর্মকান্ড শ্রোতাদের কাছে আরবোভাইরাসকে তুমুল জনপ্রিয় করে তোলে। আন্ডারগ্রাউন্ড সিনারিও ছাড়াও মেইনস্ট্রীম সংগীতাঙ্গনে দেশের প্রথম সারির ব্যান্ডগুলোর সাথে আরবোভাইরাস প্রতিনিয়ত বিভিন্ন লাইভ কনসার্ট, রেডিও ও টিভি শোতে তাদের চোখ ধাঁধানো পারফর্মেন্স করে থাকে।
১৩ই জানুয়ারি ২০১৭ ধানমন্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টার (আরসিসি)তে মুক্তি পেতে যাচ্ছে আরবোভাইরাসের তৃতীয় একক এলব্যাম ‘বিঃ দ্রঃ।’ বিভিন্ন লাইভ কনসার্টে গাওয়া ‘বিঃ দ্রঃ’ এর​ ‘সূর্য’ এবং ‘ইস্কুল’ গান দুটি শ্রোতাদের নিকট ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য’ এর ডিজিটাল লঞ্চিং প্রোগ্রাম, সোলো কনসার্ট এর​ টিকেট পাওয়া যাচ্ছে ফার্মগেটের মাহবুব প্লাজার​ ‘হেভী-মেটাল’ টি-শার্টের শোরুম​ এবং উত্তরার ‘হাক্কা ঢাকা’ রেস্টুরেন্টে।

Author: আল আমিন

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

2 thoughts on “আরবোভাইরাস​ ও ‘বিঃ দ্রঃ’

  1. “উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ গমনের কারনে বেজিস্ট জিসান ২০০৮ সালে ব্যান্ড ছেড়ে দেয়।” — এই লাইনটির সাথে আমার দ্বিমত আছে। জিসান ভাই ২০০৮ সালে একটি সফটওয়্যার ফার্মে আমার সহকর্মী ছিলেন এবং তখনো আরবোভাইরাসের জন্য বেইজ বাজাতেন। আমার জানামতে, তিনি ২০১০ সালে উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ চলে যান, ২০১২ সালে উচ্চশিক্ষা শেষে ফেসবুকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন।

    1. আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ​ রূপক হোসেইন।

মতামত দিন Leave a comment