আমার দেখা ঈদ/ অনুপা দেওয়ানজী

আমাদের যুগে আমরা কী ঈদ, কী দুর্গাপূজা, কী নববর্ষ সব ধরণের উৎসব খুব  খোলামেলাভাবেই উদযাপন করতে করতে বড় হয়ে উঠেছি। ধর্ম সেখানে কখনোই প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করতো না। সবাই সবার ধর্ম বিশ্বাসের ওপরে  গভীর আস্থা বা শ্রদ্ধাবোধের মধ্যে বেড়ে উঠেছি। মূলত পরিবার, পরিবেশ আর শিক্ষাঙঙ্গন থেকে আমরা এই শিক্ষার মূলমন্ত্র পেতাম । ভিন্ন সম্প্রদায়ের  ধর্মীয় উৎসবের প্রতি পরস্পরের এই  নির্মল অংশগ্রহণ আমাদের দিয়েছে অফুরন্ত এক সজীবতা আর অসাম্প্রদায়িক এক  মনোভাব। কালের প্রবাহে আমি  যেন কোথায় হারিয়ে ফেলেছি  সেই সব দিনগুলি। মনে মনে ভাবি, কিভাবে হারালো আমার দেখা সেইসব আন্তরিক দিনগুলি?…

Read More

রম্য কাহিনি/অনুপা দেওয়ানজী

পিঠে-রক্তবীজ-অনুপা দেওয়ানজী

শীতকাল আসলেই মা নানা রকম পিঠে বানাতেন।  ভাপা, চিতুই, চসি,পুলি , পাটিসাপটা, গোকুলপিঠা,চন্দ্রপুলি আরো কত রকমের! দিদিমার কাছ থেকে শেখা মায়ের চিতুই পিঠে বানাবার কায়দা ছিলো একেবারেই অন্যরকম। খই ভিজিয়ে সেটা পিষে নিয়ে চালের গুঁড়োর কাইয়ের সংগে মিশিয়ে সেই চিতুই তৈরি হত। পিঠেগুলি যেমন ফুলতো  তেমনি আবার মোলায়েমও হত। সে পিঠের ওপরে তারপরে ছড়ানো হত নলেন গুড় দিয়ে তৈরি করা পাতলা ক্ষীর।     ভারি চমৎকার লাগতো খেতে।   এছাড়া নারকেল কুচো আর কিশমিশ দিয়ে রসের পায়েসও করতেন। রসের কথায় মনে পড়ছে কাঁচা রস খাবার কথা।   কোয়ার্টারের অদুরেই ছিলো পাশাপাশি…

Read More

ঘুরে আসি ঋগ্বেদের যুগ

ঘুরে আসি ঋগ্বেদের যুগ অনুপা দেওয়ানজী

ঋগ্বেদের যুগ কেমন ছিলো? এ প্রসঙ্গে আমাদের অদ্ভূত একটা ধারণা আছে।   সে ছিলো বটে এক সত্যযুগ। তখন মানুষ মিথ্যে বা পাপ কাকে বলে জানতো না।দুঃখ বা দারিদ্র্য ছিলোনা।  দেবতারা নেমে আসতেন মর্ত্যে। মানুষের সাথে তাঁদের মুখোমুখি বসে কখা হতো। আসলেই কি তাই? চলুন একবার দেখে আসি ঋগ্বেদের সময়ে মানুষের জীব যাত্রা কেমন ছিলো? বইয়ের পাতা ওলটালে দেখতে পাই এটি রচিত হয়েছিলো ১২০০- ৯০০ খৃস্টপূর্বে। পন্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলছে,ন ঋগ্বেদ একটি কবিতা সংকলনগ্রন্থ।      গ্রীক স্তবের মতো এই গ্রন্থের তিন অংশ। যেখানে রয়েছে    দেবতার রূপ, আপ্যায়ন আর প্রার্থনা। দেবতার রূপে…

Read More

পিকনিকে একদিন

প্রতিবারের মতো বার্ষিক বনভোজনে যাবো ক্লাবের সব বন্ধুরা মিলে। তাই  নিয়ে খুব হই চই আর জল্পনা কল্পনা চলছে। ক্লাবের ফাহমিদা নামের একজন সদস্যের খুব ইচ্ছে তাদের গ্রামের বাড়ি ঘোড়াশালেই এবারে পিকনিক করা। সাথে সাথে সবাই  একবাক্যে বলে উঠলো,  ‘তাই হোক।পিকনিক স্পটে গিয়ে তো প্রতি বছরেই পিকনিক করা হয়।এবার না হয়  গ্রামেই করা হোক।’ নির্দিষ্ট দিনে দুটো বাসে করে সবাই আনন্দ করতে করতে চলেছি। ফাহমিদা আগেই গ্রামের বাড়িতে খবর দিয়ে রেখেছিলো। আমরা এসে দেখি সে এক এলাহি কাণ্ড! বাড়ির উঠানে প্যাণ্ডেল আর শামিয়ানা খাটানো। একধারে বাবুর্চি রান্না করছে।রান্নার গন্ধে চারিদিক ম…

Read More

কালরাতের বিভীষিকা ও স্বাধীনতা

কালরাতের বিভীষিকা ও স্বাধীনতা অনুপা দেওয়ানজী

১৯৭১ এর ২৫শে মার্চ বা কালরাত্রি যাকে এখন গণহত্যা দিবস বলে আমরা জানি সেদিন আমি স্বামীর সাথে চট্টগ্রাম থেকে রাতের মেলে সিলেট যাবো বলে সব কিছু গুছিয়ে নিয়েছি। বিকেলে বাবা বললেন, তোরা তো যেতে পারবি না রেল লাইন উপড়ে ফেলা হয়েছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়ে ভাবছিলাম কি করবো। আর সে রাতেই শুরু হল‘ অপারেশন সার্চ লাইটের’ নামে গণহত্যা।ঠিক মধ্যরাতে কামানের বিকট গর্জনে কেঁপে উঠলো ঢাকা শহর ।বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক, নিরীহ ছাত্র, পুলিশ, পবিত্র শহীদ মিনার , জনতা কেউ তাদের হাত থেকে সেদিন রেহাই পায়নি। গুলির শব্দে, কুকুরের চিৎকারে, মানুষের আর্তনাদে…

Read More

মিতুদির কুকুর কাহিনি

মিতুদির কুকুর কাহিনি

মিতুদি আমার ঘরে কুকুরের বাচ্চা দেখে বললেন,  এটা আবার কখন আনলে? আমি বললাম আর বলবেন না ছেলে তার বন্ধুর বাড়ি থেকে এনেছে। এখন ওটাই তার খেলার সাথী। এ কথায় মিতুদি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,  তুমি ছেলের আবদার মেনে নিলে?আমি আবার কুকুর টুকুর পোষা একেবারেই পছন্দ করি না। আমি বললাম আমার ছেলের এই বয়েস তো আর চিরদিন থাকবে না।  ওর শখ হয়েছে একটা কুকুর পুষবে। আমি বাধা দিলে সে হয়তো ভয়ে তা মেনে নেবে কিন্তু তার ছোট্টবেলার এই শখটা হয়তো অপূর্ণ থেকে যাবে। মিতুদি বললেন, আমার  ছেলেটার ও কুকুর পোষার খুব শখ…

Read More

প্রিয়ভাষিণী ফেরদৌসীকে যেমন দেখেছি

প্রিয়ভাষিণী ফেরদৌসী

কিছু কিছু মানুষ আছে জীবন যাঁদের পথ চেনায় না।তাঁরাই জীবনকে পথ চিনিয়ে নিয়ে যান। ফেরদৌসী ছিলেন তেমন একজন মানুষ। জীবনের জটিলতা আর একাকীত্বকে ভুলতে  প্রকৃতির কাছে বারবার হাত পেতেছেন তিনি।এই যন্ত্রণার প্রতিফলন তাই তাঁর শিল্পে আমরা দেখতে পাই। প্রকৃতির প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা আর জীবনবোধ তাঁকে তাই করে তুলেছে  অনন্য এক শিল্পী। অবচেতন মনে তাঁর ছিলো দুর্বলের প্রতি ভালোবাসা তাইতো প্রকৃতির তুচ্ছ জিনিসগুলি তাঁর হাতের ছোঁয়ায় হয়ে উঠেছে অসাধারণ সব শিল্প। জীবনকে সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা, ব্যতিক্রমী এই সাহসী নারী তাই নির্ভীক কন্ঠে সোচ্চার হয়েছিলেন ৭১-এর নির্যাতিতা নারীর কথা সাহসের সাথে উচ্চারণ…

Read More

একুশ আমার অহংকার

মার মুখ থেকে প্রথম পেয়েছি তোমায়।    তুমি আছো আমার ঘুমপাড়ানি গানে আমার শৈশবের রূপকথায় আমার গানে, গল্পে আমার কবিতার পাতায়। তুমি আছো আমার প্রেমে, বিরহে   আমার সকল প্রার্থনায়। আছো আমার দুঃখে, শোকে    আমার সকল ব্যর্থতায়। তুমি আমার সেই অহংকার ভাষার জন্যে কোন জাতি দেয় নি যা আর একুশ তোমায় আমি বড় ভালো বাসি রক্তের আখরে  তুমি যে  বেঁধেছো আমায়

Read More

মিতুদির ফ্যান

মিতুদির ফ্যান

মিতুদির বাসায় সদ্য একটি কাজের মেয়ে রাখা হয়েছে। মেয়েটির বয়েস দশ কি বারো হবে। খুব হাসিখুশি স্বভাবের । মিতুদি নিজে তার সঙ্গে থেকে মোটমুটি সব ধরণের কাজই করিয়ে নেন। একেবারে গণ্ডগ্রামের সহজ, সরল  আর সেই সাথে একটু বোকাই বলা চলে  মেয়েটিকে।একদিন তাকে দিয়ে ঘরের ঝুল পরিস্কার করার পরে মিতুদি বললেন, – ফ্যানে খুব ময়লা জমেছে রে। বারান্দা থেকে মইটা নিয়ে আয় তো। মেয়েটি যখন মই নিয়ে এলো মিতুদি তাকে বললেন, – তুই মইয়ে চড়ে ভেজা কাপড়  দিয়ে ফ্যানগুলি মুছবি আমি নিচ থেকে তোকে কাপড়টা ময়লা হলে পরিষ্কার করে বার বার…

Read More

বাংলাদেশে যাবনা

বাংলাদেশে যাবনা

অনেকদিন পরে পশ্চিমবঙ্গে আমার ছোটো ভাই-এর বাসায় বেড়াতে গিয়েছি। বাসাটা রাস্তার ধারে। রোজ রাতে খাওয়া দাওয়ার পরেে হাসি আড্ডায় গল্প করতে করতে বেশ রাত হয়ে যায়। এরপরে গভীর রাতে যখন শুয়ে পড়ি ঠিক তার কিছুক্ষণ পরে রোজই শুনি কে যেন বাসার পাশ দিয়ে হেঁড়ে গলায় একটাই গানের কলি তাও আবার উল্টো পাল্টা ভাঁজতে ভাঁজতে যায়। গানটির মাথামুন্ডূ কিছুই বোঝার উপায় নেই। লোকটি গায় ”বজল নদীর জলে ভরা ঢেউ ছলছলে প্রদীপ ভাসাও কেন মরিয়া। ”  আমি দুই তিন দিন শোনার পরে এক সকালে আমার ভাইকে ব্রেকফাস্টের টেবিলে বসে জিজ্ঞেস করলম, :…

Read More