মিতুদির ফ্যান

মিতুদির ফ্যান

মিতুদির বাসায় সদ্য একটি কাজের মেয়ে রাখা হয়েছে। মেয়েটির বয়েস দশ কি বারো হবে। খুব হাসিখুশি স্বভাবের । মিতুদি নিজে তার সঙ্গে থেকে মোটমুটি সব ধরণের কাজই করিয়ে নেন। একেবারে গণ্ডগ্রামের সহজ, সরল  আর সেই সাথে একটু বোকাই বলা চলে  মেয়েটিকে।একদিন তাকে দিয়ে ঘরের ঝুল পরিস্কার করার পরে মিতুদি বললেন, – ফ্যানে খুব ময়লা জমেছে রে। বারান্দা থেকে মইটা নিয়ে আয় তো। মেয়েটি যখন মই নিয়ে এলো মিতুদি তাকে বললেন, – তুই মইয়ে চড়ে ভেজা কাপড়  দিয়ে ফ্যানগুলি মুছবি আমি নিচ থেকে তোকে কাপড়টা ময়লা হলে পরিষ্কার করে বার বার…

Read More

বাংলাদেশে যাবনা

বাংলাদেশে যাবনা

অনেকদিন পরে পশ্চিমবঙ্গে আমার ছোটো ভাই-এর বাসায় বেড়াতে গিয়েছি। বাসাটা রাস্তার ধারে। রোজ রাতে খাওয়া দাওয়ার পরেে হাসি আড্ডায় গল্প করতে করতে বেশ রাত হয়ে যায়। এরপরে গভীর রাতে যখন শুয়ে পড়ি ঠিক তার কিছুক্ষণ পরে রোজই শুনি কে যেন বাসার পাশ দিয়ে হেঁড়ে গলায় একটাই গানের কলি তাও আবার উল্টো পাল্টা ভাঁজতে ভাঁজতে যায়। গানটির মাথামুন্ডূ কিছুই বোঝার উপায় নেই। লোকটি গায় ”বজল নদীর জলে ভরা ঢেউ ছলছলে প্রদীপ ভাসাও কেন মরিয়া। ”  আমি দুই তিন দিন শোনার পরে এক সকালে আমার ভাইকে ব্রেকফাস্টের টেবিলে বসে জিজ্ঞেস করলম, :…

Read More

মিতুদি সিরিজ-১২

মিতুদি সিরিজ-৪

পরদিন মিতুদি এসে আমাকে বললো , খাবারটাতে এতই ঝাল দেয়া হয়েছে যে  মিতুদির ছেলে নাকি  খেতেই পারেনি।পুরোটাই ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে । হালিমাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে তো আকাশ থেকে পড়লো সে উল্টো বললো ,গুষ্ঠিশুদ্ধো কারো মুখে ঝাল লাগে নাই শুধু আপনের পোলার মুখে লাগছে? তারে ডাক্তার দেখান খালাম্মা। মিতুদি বললেন,  আমার ছেলে খাবারটা শুধু শুধু ফেলে দিয়েছে? হালিমার জবাব, হেইডা আমি ক্যামনে জানি?   এর মধ্যে আমার স্বামী সিলেট থেকে আসলো। ঘরে ধানের বস্তাগুলি না দেখে জিজ্ঞেস করলো ,ধানগুলি কোথায়? আমি যখন বললাম ওগুলি আমি ভাংগিয়ে চাল করে এনেছি। সে…

Read More

আমার বিজয়

আমার বিজয়

এই নাও মা সবুজ শাড়ি টিপ এনেছি লাল। মনে করে পোড়ো মাগো বিজয় দিবস কাল। বিজয় দিবস রোজই আমার বুকের ভেতর ওরে। সুর,অসুরের দড়ির সে টান ভুলবো কেমন করে? আমার সে টিপ উড়ে গিয়ে সেদিন ছিটকে গিয়ে দড়ির টানেই সেঁটে গেছে পতাকার ওই গায়ে। সেই থেকে ওই লাল টিপ টা পতাকার ওই বুকে। সাক্ষী হয়ে  পতাকাতেই আছে পরম সুখে।    

Read More

মিতুদি সিরিজ- ১১

মিতুদি সিরিজ-৪

চাল ঝাড়া শেষ হলে হালিমা বললো, আমরা তো আর খুদ খাবো না। কাজেই খুদগুলি তাকে দিয়ে দিতে। সে অনেকদিন নাকি বউখুদি রান্না করে খায় নি। মিতুদি শুনে বললো, বউ খুদি? তা তুই একাই খাবি নাকি ? আমাদের সবার জন্যে এখানেই রান্না করো। আমরাও খাবো।ঢাকা শহরে আমরাই বা খুদ কোথায় পাই যে বউখুদি রান্না করবো? হালিমার মুখটা একটু অপ্রসন্ন হয়ে উঠলো। সে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি বললাম ,হ্যাঁ রান্না করো , খেয়ে দেখি তোমার হাতের বউ খুদি?   হালিমা কি আর করে! রান্নাঘরে গিয়ে বাসন পত্রের ঝনঝনানি সংগীতের সাথে সাথে…

Read More

মিতুদি সিরিজ -১০

মিতুদি সিরিজ-৪

ধানগুলি ভাংগা হয়ে যাবার পর হালিমা ফিরে এসে তো অবাক। আমি ওকে বললাম , `তুমি না বলেছিলে ঢাকা শহরে ধান ভাংগার কোন দোকান নেই? আমাদের গলিতেই তো আছে। ঠিক আছে চালগুলি ভালো করে ঝেড়ে দিও।’ আমার ধানকল বের করাটা হালিমার মোটেই পছন্দ হয়নি, সে ছোট কাজের মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলো , `খfলাম্মারে কেডায় ধানকলের ঠিকানাটা দিছে জানস?’ মেয়েটা বললো, ` না ফুপু আমি জানি না।’ হালিমা ভেবেছিলো বনবেড়ালের চামড়াটা ফেলে দিয়েছি, রেডিওগ্রামটা ঘরে না রেখে রেগেমেগে বারান্দায় ঠেলে দিয়েছি, ধানগুলি নিয়েও হয়তো এমন কিছু একটা করবো। কিন্তু তার সে আশায় ছাই…

Read More

মিতুদি সিরিজ- ৯

মিতুদি সিরিজ-৪

কালই খবর নেবো বলে  সেই যে সে সকালে নিশ্চিন্তে হেড অফিসে যায় আর বাসায় ফিরতে ফিরতে  সন্ধ্যে গড়িয়ে যায়। জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয়, ‘অফিসের কাজের চাপের ব্যস্ততায় ধানকলের মতো তুচ্ছ ব্যাপার নাকি তার মাথায় থাকে না।’ রাতে ভাত খাবার পরে  রেডিওগ্রামটা নিয়ে  খুটুর খুটুর করে পরীক্ষা করতে থাকে  কেন সেটা চলছে না? সেটা সেই যে প্রথম দিন থেকেই বোবা হয়েই আছে। না রেডিও না গান  কিছুরই আওয়াজ বের হয় না তা থেকে। এই করতে করতেই একসময়ে তার  সিলেটে ফেরার দিন এসে গেলে  দিব্যি  সে তল্পিতল্পা গুছিয়ে নিয়ে সিলেটে চলে গেলো।…

Read More